• ক্রিকেট

টি টুয়েন্টির নতুন রাজা পুরাতন ইংল্যান্ড

পোস্টটি ১৯৭ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

একটা সময় মনে হতো ইংল্যান্ড বোধহয় বিশ্বকাপ জিতবে না কখনো, তারা বিশ্বকাপে অংশ নেয় শুধু বিশ্বকাপের শোভা বাড়াতে!

২০১০ সালে টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলেও ওয়ানডে বিশ্বকাপটা অধরাই থেকে যায় তখনও ইংলিশদের জন্য। এর মাঝে কতো গ্রেট প্লেয়ার ইংলিশদের হয়ে খেলে গেল, কিন্তু বিশ্ব আসরে তাদের সাফল্য ধরা দিচ্ছিল না। ইংলিশদের লাল বলের ক্রিকেট খেলতে দেখতেই ভালো লাগতো, টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ড ছিল ঐতিহ্যগতভাবে অসাধারণ দল।

 

২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে যাওয়ার পর থেকেই আমূল-পরিবর্তন হয়ে যায় ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেট টিম। বিশ্ব ক্রিকেটে অপ্রতিরোধ্য এক দলে পরিণত হয় তারা। এর পরেই ২০১৯ সালে অধরা ওয়ানডে বিশ্বকাপটাও জিতে নেয় ইংল্যান্ড। মূলত গত দশক থেকেই ইংলিশরা সাদা বলে বিশ্ব আসরে ট্রফি জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, যা এই দশকেও চলমান। ২০১০ টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়, ২০১৩ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে রানার্সআপ, ২০১৬ টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রানার্সআপ, ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়, ২০২২ টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়।

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ২য় বারের মতো টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড। যোগ্য দল হিসেবেই তারা বিশ্বকাপ জিতেছে। এই ইংল্যান্ড দলের খেলতে নামা ১১ জন খেলোয়াড়ই বলা যায় ব্যাটসম্যান। তাদের ১১ নাম্বার ব্যাটার আদিল রশিদের ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটিং রেকর্ড দেখলেই সেটা নিশ্চিন্তে বলে দেওয়া যায়। প্রয়োজনে এদের দু তিনজন দাড়িয়ে গেলেই প্রতিপক্ষ বোলারদের অবস্থা নাকাল হতে যথেষ্ট। আর তাইতো, বেয়ারেস্ট্রো, রয়, জোফরা আর্চারদের মতো ক্রিকেটাররা না থাকলেও ইংল্যান্ডের জন্য প্রতিপক্ষকে টোটাল ডমিন্যান্ট করে জিততে মোটেও অসুবিধে হয়নি।

 

এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ক'জন ক্রিকেটার নিয়ে বলা যাক; বাটলার এমনিতেই বিশ্ব ক্রিকেটের একজন মারকুটে ব্যাটসম্যান । কিন্তু গত দুই তিন বছর ধরে সে এক্সট্রা অর্ডিনারী ব্যাটিং করতেছে। ব্যাটিং অর্ডারে উপরের দিকে ব্যাট করায় তার ব্যাটের ধার আরো কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি দলের অধিনায়কত্ব পেয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে সে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে।

হেলসের চলতি টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর খেলারই কথা ছিল না, সে প্রস্তুতি নিচ্ছিল পরিবার নিয়ে বেড়াতে, কিন্তু রয়, বেয়ারেস্ট্রোদের ইনজুরিতে তার জন্য সুযোগে তৈরি হয়ে যায়, আর সে সেই সুযোগটা যথাযথই কাজে লাগিয়েছে।

স্যাম কারান, গড়নে মিডিয়াম হলেও পারফর্ম করে হাই লেভেলের। তার অসাধারণ শর্ট বল গুলো দেখে বুঝার উপায় নেই তার উচ্চতা অন্য সব টল পেসারের মতো না। এই কারানই বর্তমানে ইংল্যান্ডের তিন ফরম্যাটেই একজন ম্যাচ উইনিং পারফর্মার হিসেবে সমানভাবে যোগ্যতার সাথে খেলে যাচ্ছে। বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারটাও জিতে নিয়েছে সে। ফাইনালের ম্যাচ সেরাও স্যাম কারান। 

স্টোকস, ২০১৬ সালের ইংল্যান্ডের কলকাতা ট্র‍্যাজেডির খলনায়ক। আর সেই বেন স্টোকসই বর্তমানে ইংল্যান্ডের বিগ ম্যাচের পারফর্মার বনে গিয়েছে। ১৬ সালের কলকাতা ট্র‍্যাজেডির পর স্টোকস ইংল্যান্ডের জন্য বড় ম্যাচ গুলোয় ত্রাতার ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড প্রথম বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতে ফাইনালে স্টোকসের সেই অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সের উপর ভর করেই। টেস্ট ক্রিকেটেও অসাধারণ সব পারফর্মেন্স দিয়ে ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছে, দিচ্ছে স্মরনীয় সব জয়। যার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কাপ্তানের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন সফলতার সাথে। আবারও বিশ্বকাপ ফাইনাল, আরো একবার স্টোকস তার ব্যাটে বলের পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেট কে দেখিয়েছেন তিনি ২০১৬ সালের পুনরাবৃত্তি আর হতে দিতে চান না। অতীত ভুলে এখন কেবলি এগিয়ে যাওয়া।

 

পাকিস্তানের ফাইনালে আসাটাই তাদের জন্য বড় কিছু। গ্রুপ পর্বেই তাদের বাদ যাওয়ার কথা। অদ্ভুৎ ভাবে সাউথ আফ্রিকা বাদ পড়ার তারা ফাইনাল অবধি আসতে পেরেছে। এই দলটার ওপেনিং আর পেস বোলিং ডিপার্টমেন্ট ছাড়া তাদের বাকী দিকগুলো বেশ দুর্বলই বলা যায়। শক্তিশালী মিডল অর্ডার পাকিস্তানের বর্তমান দলটায় সবচেয়ে বড় সমস্যা। ফাইনালে তারা শেষ ৩০ বলে মাত্র ৩১ রান করতে পেরেছিল, এতেই তাদের মিডল অর্ডারের দৈন্যদশা বেশ ভালোভাবেই স্পষ্ট হয়ে যায়। বর্তমান ইংল্যান্ড দলের সামনে ভারতের মতো দলও যেখানে খাবি খায় সেখানে অন্যদল গুলোতো রীতিমতো চুনোপুঁটি! আর তাই যোগ্যতম দল হিসেবেই টি টুয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। 

 

একসময় ট্রফি জিততে না পারা ইংলিশরা গত দশক থেকে ঠিকই ট্রফির ছোয়া পাচ্ছে। অপ্রতিরোধ্য ইংল্যান্ডের এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিশ্ব ক্রিকেটের অগ্রসরমান দেশগুলোও শিরোপা জয়ের অভ্যাস রপ্ত করুক।

 

অভিনন্দন জানাই ইংল্যান্ডকে।