• উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    • উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ

    চ্যাম্পিয়নস লিগ : কেমন হলো দ্বিতীয় রাউন্ডের ড্র?

    চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ড্র হয়ে গেছে সোমবার। কেমন হলো ড্র? কার চেয়ে কে বেশি এগিয়ে আছে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে?  

    শালকে-ম্যানচেস্টার সিটি
    প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষই পেয়েছে। বুন্দেসলিগায় শালকের অবস্থাও ভালো নয়। পয়েন্ট তালিকার ১৩ নম্বরে আছে তারা। সিটিজেনদের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার রাস্তাটা তাই সহজই হওয়ার কথা। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার নক আউট পর্বে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল দুইদল। সেই স্মৃতিটা অবশ্য অনুপ্রেরণাই যোগানোর কথা পেপ গার্দিওলার দলকে। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে একমাত্র ইউরোপিয়ান শিরোপা জেতার পথে শালকেকে হারিয়েছিল ম্যান সিটি। 

    অ্যাটলেটিক মাদ্রিদ - জুভেন্টাস
    ডিয়েগো সিমিওনে বনাম মাসসিমিলিয়ানো আলেগ্রি। ট্যাকটিক্যাল দিক দিয়ে চিন্তা করলে দুর্দান্ত এক ম্যাচ অপেক্ষা করছে। তবে এই ম্যাচের শিরোনাম হতে পারে অন্যকিছুও। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ফিরবেন মাদ্রিদে। খেলবেন সাবেক ক্লাবের নগরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে। অ্যাটলেটিকো প্রতিপক্ষ হিসেবেও রোনালদোর জন্য পয়া। রোনালদোর ক্যারিয়ারের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোল অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষেই। সবশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগে যেবার অ্যাটলেটিকোর মুখোমুখি হয়েছিলেন, তখন করেছিলেন হ্যাটট্রিক। মাঠের খেলায় দুই কোচ যতই কৌশল খাটাক, শেষ পর্যন্ত রোনালদোই আরেকবার হয়ে যেতে পারেন এই ফিক্সচারের নায়ক। ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোতে অন্তত আরেকবার আসতেই চাইবেন রোনালদো। এই মাঠেই তো এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল! 

    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-পিএসজি
    ইউরোপে এই দুইদল মুখোমুখি হয়নি কখনোই। তবে ইউনাইটেডকে পেয়ে প্যারিসিয়ানদের মনে মনে খুশিই হওয়ার কথা। চ্যাম্পিয়নস লিগে শুরুটা ভালো না হলে সময়ের সাথেই দল গুছিয়ে নিয়েছেন টমাস টুখল। আক্রমণের সঙ্গে রক্ষণেও মনোযোগী হয়েছে পিএসজি। গ্রুপপর্বের শেষ দুই ম্যাচেও তারা ছিল দুর্দান্ত। দুই মাসের ব্যবধানে অনেক কিছুই হতে পারে। তবে এই ফিক্সচারে পরিষ্কার ফেভারিট পিএসজিই।


     

    টটেনহাম হটস্পার-বরুশিয়া ডর্টমুন্ড
    আগেরবার বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে দুইবারই হারিয়েছিল টটেনহাম। তবে এক বছর পর সেটার পুনরাবৃত্তি করা সহজ হবে না মারুসিও পচেত্তিনোর দলের জন্য। ডর্টমুন্ড গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই উঠেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। বুন্দেসলিগাতেও চলছে তাদের আধিপত্য। চ্যাম্পিয়নস লিগের অতীত সাফল্যের হিসেবেও এগিয়ে থাকছে ডর্টমুন্ড। তবে দুইদলের ম্যাচ নিয়ে আগেভাগে অনুমান করাটা একটু কঠিনই।

    অলিম্পিক লিঁও-বার্সেলোনা 
    বার্সেলোনার খেলার ধরনের সঙ্গে কিছুটা মিল আছে ম্যান সিটির। লিঁওর অনুপ্রেরণা ওই একটাই। সিটিকে গ্রুপর্বের দুই ম্যাচেই আটকে দিয়েছে তারা, জিতেছেও একবার। প্রতিপক্ষ যখন বার্সা তখন এর চেয়ে বেশি স্বস্তি খোঁজার উপায় নেই নাবিল ফেকিরদের। বার্সার নড়বড়ে রক্ষণ অবশ্য সেক্ষেত্রে একটা আশার আলো হতে পারে তাদের জন্য। তবে বার্সার জন্য কাজটা সহজই। দলের মান, খেলার মানের দিক দিয়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে তারা। নিজেদের খেলাটা ঠিকমতো খেলতে পারলেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কথা বার্সার। চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সাকে কখনোই হারায়নি লিঁও, হেরেছে ৬ বারই। ৬ ম্যাচ গোলও হজম করেছে ১৬টি।       
     
    রোমা-পোর্তো
    আগের চারবার রোমার মুখোমুখি হয়ে একবারও হারেনি পোর্তো। আর তাদের বিপক্ষে দুইবারই বাদ পড়েছে রোমা। সিরি আতেও ধুঁকছে রোমা। ইতালিয়ানদের বাদ করে দিয়ে পোর্তো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেলেও তাই অবাক হওয়ার মতো কিছুই হবে না। 

    আয়াক্স-রিয়াল মাদ্রিদ 
    ইউরোপিয়ান ফুটবলের ক্লাসিক লড়াই। আয়াক্স অবশ্য স্বর্নালী দিন পেছনে ফেলে এসেছে। আর রিয়াল মাদ্রিদ জিদান-রোনালদোকে হারিয়ে রঙ হারিয়েছে এই মৌসুমে। গ্রুপপর্বে দুই লেগেই বায়ার্নের বিপক্ষে দারুণ খেলেছিল আয়াক্স। রিয়ালের বিপক্ষেও নির্ভয়েই খেলার কথা তাদের। তবে বড় দলের তকমাটা রিয়ালের সঙ্গী। দুই মাস সময়ে সোলারিও রিয়ালকে পথে ফেরাতে পারলে কোয়ার্টারের পথে খুব বড় বাধা হওয়ার কথা না আয়াক্সের। 

    লিভারপুল-বায়ার্ন মিউনিখ 
    চ্যাম্পিয়নস লিগে কখনোই দুইদল মুখোমুখি হয়নি একে অপরের। ব্যাপারটা একটু অবাক করাই।  শেষ-১৬ এর সবচেয়ে জমজমাট ম্যাচ তাই ধরা হচ্ছে লিভারপুল-বায়ার্নকেই।  নক আউট পর্বের বাকি দুই ইংল্যান্ড-জার্মানির লড়াই নিয়ে অনুমান করা গেলেও এক্ষেত্রে কাজটা কঠিনই। বায়ার্নের নাড়ি নক্ষত্র ভালোভাবেই জানা লিভারপুল ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপের। আর নিকো কোভাচ সেই তুলনায় পিছিয়ে আছেন অনেকটাই। বায়ার্ন ম্যানেজারের পদটাই আসলে এখনও নড়বড়ে। বুড়িয়ে যাওয়া দলটাকে ঠিক সেভাবে শিরোপার দাবিদার মনে হচ্ছে না এখনও।