• বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর
  • " />

     

    • বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর

    সাব্বির কি পারবেন রুবেল হতে?

       "টু ইনক্লুড সাব্বির, অর নট টু ইনক্লুড সাব্বির"- এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটি। এক মাস নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে এনে সাব্বির রহমানকে কেন নিউজিল্যান্ড সিরিজের দলে নেওয়া হলো- সেটি নিয়ে এখন তোলপাড়ই। তবে সাব্বির নিজের কাছেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা করবেন- তিন দানে এসে কি শিক্ষা নেবেন? বা আরেকটু ঘুরিয়ে প্রশ্নটা করা যায়, সাব্বির কি রুবেল হোসেন হতে পারবেন?

     

     

    সাব্বিরকে যেভাবে ফিরিয়ে আনা হলো, তাতে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটে তাঁর জায়গাটা একরকম ‘অটোমেটিক চয়েসই’ মনে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সেপ্টেম্বরে। সেই নিষেধাজ্ঞা ওঠার কথা ছিল ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু এক মাস আগেই সেটি কমিয়ে আনায় সাব্বির ঢুকে পড়ছেন নিউজিল্যান্ডগামী বিমানে।  নির্বাচকেরা অবশ্য বলটা ঠেলে দিয়েছেন অধিনায়ক আর শৃঙ্খলা কমিটির কোর্টে। অধিনায়কের জোরালো চাওয়াতে আর শৃঙ্খলা কমিটির সবুজ সংকেতের পরেই সাব্বির ফিরেছেন দলে। তবে অধিনায়ক সেটা পুরোপুরি মানেননি, নির্বাচকদের চাওয়ার কথাও বলেছেন জোর দিয়ে। আর শৃঙ্খলা কমিটি দাবি করেছে, তারা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টা জানেনই না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সাব্বিরকে নেওয়ার ব্যাপারে তিন পক্ষই এতোটা উদগ্রীব ছিল, নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারটা মাস খানেক এদিক সেদিক হওয়াটা ধর্তব্যেই আনেননি। পাঁচ বছর আগে সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে আনার ব্যাপারেও বোধ হয় এতোটা আন্তরিক ছিল না বোর্ড।

     

     

    সম্পূরক প্রশ্ন উঠতে পারে, সাব্বিরকে ছাড়া কি চলছেই না? বিশেষ করে সাত নম্বরে কি আর কেউ নেই? এখানে যুক্তি হতে পারে দুই পক্ষেই। সাব্বিরের ফর্ম যেমন কোনোভাবেই তাঁর পক্ষে নেই। গত ১৫ ওয়ানডেতে তাঁর ফিফটি নেই কোনো, ক্যারিয়ার গড়ের (২৪.৫১) চেয়ে নিউজিল্যান্ডের মাঠে গড় (২৮.২৫) ভালো হলেও সেটাও এমন আহামরি কিছু নয়। সাতে নেমে এমন ম্যাচ বদলে নেওয়া কোনো ইনিংসও নেই। তার ওপর বিপিএলের এক ৮৫ রানের ইনিংস ছাড়া ইদানীং বলার মতো রানও পাননি।

    তবে যুক্তির উলটো দিকটা হচ্ছে, সাতে বাংলাদেশের ভরসা করার মতো খেলোয়াড় কই? আরিফুল হক চরমভাবে ব্যর্থ, মোসাদ্দেক হোসেনও হারিয়ে খুঁজছেন। মিঠুন বা মাহমুদউল্লাহ ছয়-সাতে খেললেও সেখানে একজন বিকল্প দরকার। আপাতত বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেই বিকল্প নেই, সেটাই বাস্তবতা। সেজন্যই হয়তো সাব্বিরকে ফেরানোর এতো তোড়জোর।

    সাব্বিরকে ফেরানো উচিত হয়েছে কি না এটা নিয়ে তর্ক হতে পারে। তবে প্রক্রিয়াটা যে ঠিক হয়নি, এ নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই। এমন ঘটনার পর সাব্বির ধরাকে সরা জ্ঞান করলেও তাতে বলার কিছু থাকবে না। দুই দুই বার নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর ক্রিকেট ইতিহাসেই আর কোনো খেলোয়াড় এত দ্রুত দলে ফিরেছেন কি না, সেটা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। তবে যা হওয়ার সেটা হয়ে গেছে ধরে নিলেও সাব্বিরের সামনে ভালো কিছুর উদাহরণ হাতের কাছেই আছে।

    ২০১৫ সালের ওই সময়ে রুবেল হোসেনের কথা চিন্তা করুন। বিশ্বকাপের আগে হুট করে গ্রেপ্তার হতে হলো তাঁকে, সেই নারীঘটিত কারণে। বিশ্বকাপে দারুণ বল করলেন রুবেল, সেই কেলেঙ্কারিও ধামাচাপা দিলেন কোনোমতে। তবে শিক্ষাটা নিয়েছেন ভালোমতোই, নিজেকে শুধরেছেন মাঠের বাইরে। সেই প্রভাব মাঠেও পড়েছে, টেস্টে না পারলেও ওয়ানডেতে রুবেল বাংলাদেশের পেস আক্রমণের বড় ভরসা। এশিয়া কাপ ফাইনালেই সেই প্রমাণ দিয়েছেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে রুবেল হতে পারেন গোপন তির। তবে সেজন্য তাঁকে ব্যক্তি জীবনে সুশৃঙ্খল হতে হয়েছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিয়ে করাটাও বোধ হয় সেক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

    সাব্বিরের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে যদি টিম ম্যানেজমেন্ট এতোটাই নিঃসংশয় থাকে, তাহলে তাদের উচিত রুবেলের ঘটনা তাঁকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া। সাব্বিরের শরীরী ভাষায় মাঠে যদি তারা মুগ্ধ হন, মাঠের বাইরের সেই ভাষায় সময় মতো বিরামচিহ্ন দেওয়ার কাজও তাদেরই করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অন্য জায়গায়ও কীভাবে নিজেকে বদলাতে হয়, সেই উদাহরণও রুবেলের কাছেই আছে। তবে ম্যানেজমেন্টের আগে সাব্বিরকেই সেটা বুঝতে হবে আগে। যে সুযোগটা তিনি পেয়েছেন, সোনার চামচ মুখে করে জন্মানো অনেকেও তা পাননি, সেটাও বুঝতে হবে। যত শিগগির সেটা বুঝতে পারবেন, ততই দলের জন্য মঙ্গল। নিজের সঙ্গে অধিনায়কের মান রাখার দায়িত্বও যে এখন তাঁর!