• " />

     

    'গ্রাউন্ডসম্যান' থেকে 'গ্রেট' হবার পথে

    “পেশাদার বোলার হয়ে যেতে পারলে মন্দ হতো না!”; পাঁচ বছর আগে অ্যাডিলেড ওভালের নেটে জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের বল করতে করতে হয়তো এমনটাই ভাবছিল ২৩ বছরের তরুণ ছেলেটা। পরক্ষণেই কি এমন ‘আকাশকুসুম’ কল্পনাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছিলেন? সামান্য 'মাঠকর্মী' হয়ে পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছে? ওই রাজকীয় ব্যাগি গ্রিন মাথায় তোলার স্বপ্ন? লোকে শুনলেও তো লজ্জা দেবে!

     

    তবে সত্যি সত্যিই কেউ ছেলেটাকে অমন ‘কল্পনা’র জন্য লজ্জা দিয়ে থাকলে এক বছরের মাথায় নিজেই নিশ্চয়ই লজ্জা পেয়ে গিয়েছিলেন! সেই তরুণ মাঠকর্মী নাথান লায়ন যে ততদিনে অফ স্পিন বোলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পছন্দ! পাঁচ বছরে দাঁড়িয়ে গত সপ্তাহে খেলে ফেলেছেন ক্যারিয়ারের পঞ্চাশতম টেস্ট। অজিদের ক্রিকেট ইতিহাসে স্পিন বোলারদের মধ্যে এরচেয়ে বেশী টেস্ট খেলার রেকর্ড আছে আর মাত্র দু’জনের- দুই কিংবদন্তী শেন ওয়ার্ন (১৪৫) ও রিচি বেনো (৬৩)। তাঁর ১৭৫টি টেস্ট উইকেটও অস্ট্রেলিয়ার অফ স্পিনারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

     

    কিন্তু লায়নকে জিগ্যেস করে দেখুন, এতসব অর্জনের চেয়েও তাঁর কাছে দামী গত পাঁচ বছরে পাওয়া অজি ক্রিকেটারদের বন্ধুত্বগুলোই। এই ‘দামী’ বন্ধুদের মধ্যে লায়নের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আবার অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার মাইক হাসি। অ্যাডিলেড ওভালে লায়নের সাথে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিটা এখনও টাটকা হাসির মনে, “সেদিন আমরা ওকে রীতিমতো মাঠ মেরামতের মেশিনের উপর থেকে বগলদাবা করে এনে নেটে বল করতে নামিয়ে দিয়েছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ছিল আমাদের। গ্রায়েম সোয়ানের অফ স্পিন তখন রীতিমতো আতংকের নামান্তর। আমাদের আলোচনা শুনে ওখানকার লোকজনই বললো লায়ন নামের মাঠকর্মী ছেলেটা বেশ ভালো বোলার, আমরা চাইলে তাঁকে পরখ করে দেখতে পারি।”

     

    ওই পরখ করার সময়ও কি হাসি জানতেন ক’মাসের মাথায়ই এই শীর্ণকায় ছেলেটা তাঁর সাথে ড্রেসিং রুমে সময় কাটাবে? সেদিনের এক মাসের মধ্যে লায়নের অভিষেক হয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে। বিগ ব্যাশ টিটোয়েন্টির একটি ম্যাচে নেমেছিলেন সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে। নিউ সাউথ ওয়েলেসের বিপক্ষে সে ম্যাচটা তাঁর দল হেরে গেলেও মাসখানেক পরের ফাইনালে ওই একই দলকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছিল রেডব্যাকরা। গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নিয়ে সে জয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন লায়নও।

     

    বিগ ব্যাশের সে আসরে আরেক তরুণ প্যাট কামিন্সের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও ছিলেন লায়ন। এরপর কেবলই এগিয়ে যাওয়ার গল্প। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে জিম্বাবুয়ে সফরেও সপ্রতিভ পারফরম্যান্সের পর ডাক আসে অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলের হয়ে শ্রীলংকা সফরের।

     

    ওসব স্মৃতি এখনও স্বপ্নের মতো লাগে লায়নের কাছে, “শ্রীলংকায় গিয়েই রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক, ব্র্যাড হাডিনের মতো তারকাদের সাথে প্রথমবার  যাকে বলে সত্যিকারের সাক্ষাৎ হয়। মাস ছয়েক আগেও এই এঁদেরকেই আমি নেটে বল করতাম। কিন্তু প্রথমবার তাঁদের সাথে পরিচিত হই ওখানে টিম হোটেলে লিফটে ওঠার সময়। যাদের ছবি ঘরের দেয়ালে সাঁটিয়ে রেখে বড় হয়েছি, সেই তাঁদের সাথে এক দলে খেলা...এতো স্বপ্নের চেয়েও বেশী কিছু!”

     


    গলে-তেই ডাক পেয়ে গিয়েছিলেন অজিদের ৪২১-তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে; ব্যাগি গ্রিন টুপি নিয়েছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল থেকে। রূপকথার মতো টেস্টে করা প্রথম বলেই স্লিপে ক্লার্কের ক্যাচ বানিয়ে উইকেট পেয়েছিলেন শ্রীলংকান আরেক কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারার! 'বন্ধু' মাইক হাসি চড়ে বসেছিলেন লায়নের কাঁধে! 

     

    ক্যারিয়ারে অবশ্য দেখেছেন বেশ চড়াই-উৎরাই! ২০১৩ সালের ভারত সফরে খারাপ ফর্মের কারণে বাদ পড়েছিলেন দল থেকে; আবার পরের ম্যাচে ফিরে এসে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন (৭/৯৪) দিল্লীতে। সেবছরেরই অ্যাশেজ সফরে প্রথম দুই ম্যাচে জায়গা পাননি অ্যাশটন অ্যাগারের জন্য; পরের তিন ম্যাচে দেখিয়েছেন তাঁর কার্যকারিতা! এরপর থেকে অবশ্য আর বাদ পড়েননি কখনো দল থেকে! পরে লায়ন নিজেই বলেছেন, সেই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে দলে না থাকাটাই তাকে আরো ধৈর্যশীল আর পরিশ্রমী করেছে। আর, দিনে দিনে এই পরিশ্রমই নাথান লায়নকে করে তুলেছে অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট দলের অপরিহার্য অংশ! 

     

    সূত্রঃ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন