• ফেডারেশন কাপ
  • " />

     

    ফেডারেশন কাপ : কোয়ার্টার ফাইনালে কার সম্ভাবনা কতোখানি?

    ফাঁকা গ্যালারি, হাড় কাঁপানো ঠান্ডা- ফুটবল শীতনিদ্রায় পাঠানোর সবরকম বাহ্যিক উপকরণই আছে। তবে এসবে তো আর থেমে থাকে না দেশের ফুটবল। আপন গতিতেই তাই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে চলছে ৩১ তম ফেডারেশন কাপ। উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচ, চোখ ধাঁধানো গোল, রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, ম্যাড়মেড়ে ড্র- সবকিছুই আছে, সবকিছুই দেখেছে গ্রুপপর্ব। তেরো দলের গ্রুপপর্ব শেষে  কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হচ্ছে ৩০ ডিসেম্বর থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালের কিছু ম্যাচ যে উত্তেজনা ছড়াবে সেটা এখনই চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়। গ্রুপপর্বের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কোয়ার্টার ফাইনালের ৪ ম্যাচের হিসাব-কেতাব! 


    আবাহনীর আক্রমণভাগ বনাম রহমতগঞ্জের রক্ষণ
    ঢাকা আবাহনী-রহমতগঞ্জ
    ৩০ ডিসেম্বর, বিকাল ৩.৩০

    ফেডারেশন কাপে এবারের চমকই বলা যায় রহমতগঞ্জকে। গ্রুপপর্বে সাইফ স্পোর্টিং ও শেখ জামালকে রুখে দিয়ে ২ পয়েন্ট নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে দলটি। এখন তাদের প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্ট ফেভারিট ও গতবারের চ্যাম্পিয়নস ঢাকা আবাহনী।

    মারিও লেমোসের দল এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দল। দুই ম্যাচে মোট ৯ বার প্রতিপক্ষকে গোল দিয়েছে আবাহনী, আর গোল হজম করেছে মাত্র ১টি। গোল করা আর করানোর দিক দিয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে ধানমন্ডির জায়ান্টরা। আক্রমণভাগে সানডে-বেলফোর্ট-জীবনদের সমন্বয় এই মৌসুমেও ছন্দময় শুরু করতে সাহায্য করেছে আবাহনীকে। সানডে আর জীবন দুই ম্যাচেই গোল পেয়েছেন। বেলফোর্ট এক গোল করার পাশাপাশি গোল করতেও সাহায্য করেছেন দুই ম্যাচেই।

    ফেডারেশন কাপের দুই ম্যাচে দুইরকম মিডফিল্ড খেলিয়েছেন আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ। কোয়ার্টার ফাইনালে অবশ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটার কথা নয় তার। তবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে যাদের খেলিয়েছেন তারা সবাই লেমোসের জন্য রহমতগঞ্জের বিপক্ষে একাদশ বাছাইয়ের কাজটা কঠিন করে রেখেছেন। এই আবাহনী আরও বেশি ভয়ঙ্কর রায়হান হাসান থাকায়। রায়হানের লম্বা থ্রো তো গোলের মূল উৎসই হয়ে দাঁড়িয়েছে আবাহনীর জন্য। রক্ষণও আপাতত স্বস্তিই যোগাতে পারে আবাহনীকে। নতুন আসা ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার  মেলসন আলভেজ একটি ম্যাচ খেলেছেন। তাতেই প্রমাণ রেখেছেন উড়ে আসা বলে রক্ষণের মতো আক্রমণেও ধারালো অস্ত্র হতে পারেন তিনি।

    রহমতগঞ্জ আর আবাহনীর ম্যাচটা অবশ্য এককেন্দ্রিক হতে পারে। আবাহনীর আক্রমণ বনাম রহমতগঞ্জের রক্ষণ। রহমতগঞ্জের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পেছনে দুই সেন্টারব্যাক রহমগঞ্জের ডিফেন্ডার আকপোপোভ আসারোভ আর ইউনুসা কামারার বড় অবদান। সেটপিস যেহেতু আবাহনীর শক্তি, তাই রহমতগঞ্জেরও সেই শক্তির সঙ্গে টেক্কা দেওয়ার অস্ত্র আছে।  ফিক্সচারটা একপেশে মনে হলেও মাঠের লড়াইটা তেমন নাও হতে পারে।

    প্রেডিকশন সেমিফাইনালে আবাহনী।

     



    লড়াইটা ডাগ আউটে
    চট্টগ্রাম আবাহনী-ঢাকা মোহামেডান
    ৩০ ডিসেম্বর, সন্ধ্যা ৬.১৫

    মারুফুল হক বনাম  শন লেইন। এই লড়াইটা আসলে ডাগ আউটেরই। যদিও শক্তির বিচারে চট্টগ্রাম আবাহনীর চেয়ে যোজন পিছিয়ে এই মোহামেডান। ফেডারেশন কাপ দিয়ে নতুন শুরু হয়েছে তাদের। মুক্তিযোদ্ধা, শেখ রাসেলের সঙ্গে এক গ্রুপে থেকেও কোয়ার্টার ফাইনল নিশ্চিত করা তাই লেইনের জন্য প্রাথমিক সাফল্য।

    কাগজ-কলমের হিসেবে মারুফুল হকের চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারানো কঠিনই হবে মোহামেডানের জন্য। চিনেদু ম্যাথু, চার্লস দিদিয়ের দিয়ে গড়া চট্টগ্রাম আবাহনীর আক্রমণভাগ বসুন্ধরা কিংসকে টপকে হয়েছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। বসুন্ধরার বিপক্ষে ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর জয়ের ব্যবধান বড় হতে পারত আরও। ওই ম্যাচ শেষে তো বসুন্ধরার কোচ অস্কার ব্রুজোন শিরোপার বড় দাবিদার হিসেবেই বিবেচনা করেছেন চট্টগ্রাম আবাহনীকে। শেখ কামাল আন্তজার্তিক ক্লাব কাপ থেকেই এই দলটার দায়িত্ব আছেন মারুফুল। অবশ্য সেই দল আর এই দলের পার্থক্য অনেক। এর পরও মারুফুলের নেতৃত্বে ছন্দ হারায়নি দলটি। লক্ষ্য যে শিরোপা জয় সেটাও পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন মারুফুল হক।

    প্রেডিকশন
    মোহামেডানকে হারাতে বেগ পেতে হবে না চট্টগ্রাম আবাহনীকে।

    এবার প্রস্তুত তো সাইফ?

    সাইফ স্পোর্টিং-বাংলাদেশ পুলিশ এফসি
    ৩১ ডিসেম্বর, বিকাল ৩.৩০

    শেখ জামালের বিপক্ষে নাটকীয় এক জয় দিয়ে গ্রুপপর্ব  পেরুতে হয়েছে সাইফ স্পোর্টিংকে। এর আগে রহমতগঞ্জের কাছেই আটকে গিয়েছিল জামাল ভুঁইয়ারা। প্রথম ম্যাচের তুলনায় দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য দলগতভাবে সাইফের উন্নতির গ্রাফটা ছিল স্পষ্ট। শেখ জামালের বিপক্ষে উইং ধরে ফুলব্যাকদের সঙ্গে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের সমন্বয়ও ছিল দারুণ। তবে গোলের সামনে কিছুটা রঙহীন সাইফ। ক্লাব কোচ মোহাম্মদ নিজাম দুইটি ম্যাচ শেষেই প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বারবার করে বলেছেন। সময় পেলে হয়ত আরও ভালো খেলার যোগ্যতা রাখে এই দল- তবে সেই সময়টা কই?

    সাইফের প্রতিপক্ষ প্রিমিয়ার লিগে প্রমোশন পাওয়া বাংলাদেশ পুলিশ এফসি বলেই হয়ত কিছুটা নির্ভার থাকতে পারেন নিজাম। তবে পুলিশ এফসিও চমকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আবাহনীর বিপক্ষে বেশ কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল নিকোলা ভিট্রোভিচের দল। সেগুলো প্রেরণাই যোগানোর কথা, আরামবাগের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা নিশ্চিত করে ফেলেছে কোয়ার্টার ফাইনালও। যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইকার সিডনি রিভেরাও এক ম্যাচ খেলে নজর কেড়েছেন।

    প্রেডিকশন
    কোয়ার্টার ফাইনালেই স্বপ্নযাত্রা থেমে যাওয়ার কথা পুলিশ এফসির।  

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভুল করল মুক্তিযোদ্ধা?
    মুক্তিযোদ্ধা-বসুন্ধরা কিংস
    ৩১ ডিসেম্বর, সন্ধ্যা ৬.০০

    মুক্তিযোদ্ধা ফুটবলাররা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এমন কিছু হয়ত চাননি! কোয়ার্টার ফাইনালেই তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাক্ষাৎ দৈত্যের। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের নাম যতোখানি ভারী শোনায়, এবারের পারফরম্যান্স কি ততোখানি উজ্জ্বল?

    দুই ম্যাচের বিচারে অবশ্য রায় দিয়ে দেওয়া কঠিনই বটে। তবে ফেডারেশন কাপে ১৮০ মিনিটের ফুটবলে বসুন্ধরা কিংস মন ভরানো ফুটবল খেলতে পেরেছে মাত্র ৪৫ মিনিট। ব্রাদার্সের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধটা বাদ দিলে বাকি সময়ে সাদা-মাটাই ছিল বসুন্ধরা পারফরম্যান্স। দ্বিতীয় ম্যাচে তো চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে হেরে নাজেহালই হলো ব্রুজোনের দল।

    যদিও চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় একাদশ নামিয়েছিলেন ব্রুজোন। লক্ষ্য ছিল মূল একাদশের খেলোয়াড়দের কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য বিশ্রাম দেওয়া। আসল পরীক্ষায় নেমে বসুন্ধরা খেই হারিয়ে ফেললে অবশ্য কিছুই বলার থাকবে না ব্রুজোনের। যদিও সে সম্ভাবনা কমই।

    গ্রুপপর্বে মাত্র এক গোল করতে পেরেছে বসুন্ধরা কিংস। একমাত্র গোলদাতা জালাল কেদু। তবে গোলের সামনে তার অধারাবাহিকতাও একটা দুশ্চিন্তার কারণ। দ্বিতীয় ম্যাচে বদলি হয়ে মাঠে নেমে তেমন কিছু করার সুযোগ পাননি। তবে প্রথম ম্যাচে খুঁত কমিয়ে আনতে পারলে হ্যাটট্রিক হাতছাড়া হয় না তার।

    রক্ষণও এবার কিছুটা এলোমেলো মনে হচ্ছে কিংসের। হাই ডিফেন্সিভ লাইনে যতখানি নির্ভুল হতে হয় ততোখানি নিখুঁত এখনও হয়ে ওঠেননি ইয়াসিন খানরা। চাপে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বল হারাচ্ছেন মিডফিল্ডাররা। নিচ থেকে খেলা বিল্ড আপেও দুর্বলতা ধরা পড়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে। সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে অবশ্য বসুন্ধরার সামনে ধোপেই টেকার কথা নয় মুক্তিযোদ্ধার।

    প্রেডিকশন

    মুক্তিযোদ্ধাকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে বসুন্ধরা কিংস।

    একটি আবেদন

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন