• ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংল্যান্ড সফর ২০২০
  • " />

     

    ব্রডের দ্বিমুখী আঘাতে বিধ্বস্ত উইন্ডিজ

    ৩য় টেস্ট, ম্যানচেস্টার
    ২য় দিন, স্টাম্পস
    ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস ৩৬৯ অল-আউট (পোপ ৯১, বাটলার ৬৭, ব্রড ৬২, রোচ ৪/৭২, গ্যাব্রিয়েল ২/৭৭, চেজ ২/৩৬)
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস ১৩৭/৬* (ক্যাম্পবেল ৩২*, ব্রড ২/১৭, অ্যান্ডারসন ২/১৭)
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৩২ রানে পিছিয়ে 


    স্টুয়ার্ট ব্রড আবেদন তো দূরের কথা, পেছন ফিরেই তাকালেন না শুরুতে। উইকেটকিপার আর স্লিপ কর্ডন আবেদনে ব্যস্ত, ব্রড করছেন উদযাপন! উদযাপন শেষ করে পেছন ফিরে তাকালেন শুধু যেন নিশ্চয়তা পেতে, রসটন চেজকে এলবিডব্লিউ দিলেন কিনা রিচার্ড কেটেলবোরো। ইনিংসে ব্রডের এটি দ্বিতীয় উইকেট, ৭৩ রানে ৫ম উইকেট হারিয়ে ফলো-অনের শঙ্কা জাগালো তখন উইন্ডিজ। সে শঙ্কা পুরোপুরি যে কেটে গেছে, তা নয়। তবে সিরিজ হারের শঙ্কায় ঠিকই পড়ে গেছে তারা।  

    আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা আগেভাগেই শেষ হওয়ার আগে ১ম ইনিংসে ২৩২ রানে পিছিয়ে উইন্ডিজ, উইজডেন ট্রফি শেষবারের মতো ফিরে পেতে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন আরও ১৪ উইকেট। তবে সেক্ষেত্রে তাদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ম্যানচেস্টারের আবহাওয়া, পরের দুই দিনই আছে বৃষ্টির সম্ভাবনা, ২৭ তারিখ আবার প্রবল বর্ষণের শঙ্কা। 

    প্রথম ইনিংসে ৩০০-এর নিচে অল-আউট হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও ইংল্যান্ডের জেগেছিল এদিন সকালে। আগেরদিনের স্কোরের সঙ্গে আর ২১ রান যোগ করতেই ফিরেছিলেন দুই থিতু ব্যাটসমান ওলি পোপ ও জস বাটলারসহ ৪ জন। ২৮০ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর নামলেন ব্রড, করলেন ৩৩ বলে ফিফটি, শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৬২। ইংল্যান্ড গেল ২৬৯ পর্যন্ত। ১২ উইকেট পড়ার দিনে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডেরই দিন, তবে আরও নির্দিষ্ট করে বললে দিনটা তো ওই আউট পাওয়ার আগেই উদযাপন শুরু করে দেওয়া ব্রডের! 
     


    আগেরদিন নতুন বলে ৩.৪ ওভার খেলা হয়েছিল, সেটির ভূমিকা হয়ে দাঁড়ালো এদিন গুরুত্বপূর্ণ। এদিক-ওদিক পাওয়া সুযোগের সঙ্গে নো-বল, ক্যাচ হাতছাড়া করেও উইন্ডিজ সফল হলো শুরুতে, শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের সঙ্গে কেমার রোচের দারুণ বোলিংয়ে। সেঞ্চুরি থেকে ৯ রান দূরে থাকা পোপ শুরুতে ফিরলেন গ্যাব্রিয়েলের বল লেগসাইডে খেলতে গিয়ে মিস করে। সে রানেই জীবন পেয়েছিলেন, তবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা পাওয়া হয়নি তার। 

    গ্যাব্রিয়েলের পরের ওভারে জেসন হোল্ডারের দ্বিতীয় স্লিপে নেওয়া তীক্ষ্ণ ক্যাচে পরিণত হলেন বাটলার। এ দুজনের মাঝে ক্রিস ওকসকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারের ২০০ উইকেট পূর্ণ করেছেন কেমার রোচ, ৯ম ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলার হিসেবে এই কীর্তি হলো তার। রোচ এরপর দ্রুতই ফেরালেন আর্চারকেও। 

    কিন্তু স্বাগতিকদের শীঘ্রই অল-আউট করার আশা পূর্ণ হলো না তাদের। ইংল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসের যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি করলেন ব্রড, এর আগে ১২ ফিফটি ইনিংসের শেষটি যার এসেছিল ২০১৭ সালে। তার সঙ্গে ৭৬ রানের জুটিতে ডম বেসের অবদান ১৪ রান। চেজের লো-ফুলটসে ঘুরিয়ে খেলতে গিয়ে ডিপ-মিডউইকেটে ধরা পড়ে অবশেষে থামলেন ব্রড, এরপর শেষ উইকেটে আর ১৩ রান যোগ করল ইংল্যান্ড। 

    সেই ব্রডই আবারও আঘাত করলেন উইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের শুরুতেই। নিজের প্রথম ওভারেই ফেরালেন ক্রেইভ ব্রাথওয়েটকে, স্লিপে রুটের হাতে ক্যাচ দিলেন তিনি। এরপর ক্যাচ মিস হলো, রান-আউটের সুযোগ হাতছাড়া হলো, তবে ইংলিশ পেসাররা লাইন-লেংথ নিয়ন্ত্রণে রাখলেন দারুণভাবে। 

    জফরা আর্চারের আচমকা বাউন্সারে কাবু হলেন জন ক্যাম্পবেল, ইনিংসে ৩২ করে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তারই। শেই হোপ ও শামারহ ব্রুকস শিকার অ্যান্ডারসনের, একজন খোঁচা দিয়েছেন, আরেকজন ইনসাইড-এজড হয়ে ক্যাচ দিয়েছেন বাটলারের হাতে। এরপর ব্রড চেজকে ফেরানোর পর জেরমাইন ব্ল্যাকউড বোল্ড হয়েছেন পিচে পড়ে ঘুরে যাওয়া ওকসের ডেলিভারিতে। 

    শেষবেলায় বেশ ধুঁকেছেন শেন ডাওরিচ, তবে আঁধার নেমে যেন বেঁচে গেছেন তিনি। হোল্ডারের সঙ্গে তার ২৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন