• ক্রিকেট

মিকির ফিল্ডিং না দেখে টেনিস ম্যাচ দেখছিলেন তাঁর মা

মাত্র ৩০ মিনিটে তাঁর পুরো জীবনটাই বদলে গিয়েছে। কিছুদিন আগেও অন্য দশটা ছেলের মতো জীবনযাপন করা মিকি এডওয়ার্ডস বিখ্যাত হয়ে গেছেন রাতারাতি। ঝাঁকড়া চুলের এই তরুণ সিডনির মাঠে খেলা দেখতে এসে বনে গিয়েছিলেন দ্বাদশ খেলোয়াড়! ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে অজি অধিনায়ক স্মিথ, সবাই এই ঘটনায় দারুণ মজা পেয়েছেন। তবে এতকিছু যেখানে ঘটে গেলো, সেই ব্যাপারে কিন্তু কিছুই জানেতেন না মিকির মা-বাবা!

 

জানবেন কী করে? ছেলে তো বাসায় বলে গিয়েছিল সেদিন সে দোকানে কাজ করতে যাচ্ছে! মা সারাহ নিশ্চিন্তে ঘরে বসে টেনিস ম্যাচ উপভোগ করছিলেন। বাবা ফিলও নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হুট করেই স্টেডিয়াম থেকে ফোন আসলো, মিকি নাকি ফিল্ডিং করতে নেমেছে! ফিল সাথে সাথে স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বললেন, “তুমি কি কিছু জানো এই ব্যাপারে? টিভি খুলে দেখো তো!” সারাহ যখন টিভি খুললেন, ততক্ষণে অবশ্য ম্যাচ প্রায় শেষ।

ম্যাচ শেষ হলেও স্ক্রিনে বারবারই মিকির ফিল্ডিংয়ের দৃশ্যগুলো দেখাচ্ছিল। আর এতেই যারপরনাই খুশি সারাহ, “দারুণ ছিল ব্যাপারটা। মিকিকে এত খুশি হতে আগে খুব বেশিবার দেখিনি। বুঝতেই পারছিলাম সে দারুণ কিছু সময় কাটিয়েছে। আগের বছরটা তাঁর জন্য খুব একটা ভালো ছিল না। আশা করি নতুন বছর তাঁর জীবনে ভালো কিছুই বয়ে আনবে।”

 

অস্ট্রেলিয়ার ‘কাল্ট হিরো’ উপাধি পাওয়া মিকির ওই ঝাঁকড়া চুলও দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। লম্বা চুল নিয়ে অবশ্য মাঠেও কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিল তাঁর, "বাতাসে বারবার চুল চোখের সামনে চলে আসছিল আমার। একবার ভেবেছিলাম চুলটা বেধে নেবো। কিন্তু পরে আর সেটা করা হয়ে ওঠেনি। নাথান লায়ন ও জ্যাকসন বার্ড অনেকবার এসে আমার চুলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাও করেছিল সেদিন!"

যদিও তাঁর এই লম্বা চুল একেবারেই পছন্দ না সারাহর। এমনকি এই চুল কাটা নিয়ে প্রতিনিয়তই ঝগড়া লাগত দুজনের! তবে এবার তিনি ভাবছেন, ছেলের এই ‘বিখ্যাত’ চুল না কাটাই ভালো, “গত কয়েক মাস ধরে তো আমি তাঁর পিছনে লেগে ছিলাম এই চুল কাটানো নিয়ে! কিন্তু এখন তো সে এটা কাটবেই না। সে ছোটবেলা থেকেই এরকম লম্বা চুল রাখতে চাইত।"

‘ব্যাগি গ্রিন’ মাথায় দেওয়ার স্বপ্ন তো পূরণ হয়েই গিয়েছে। মা-বাবার এখন একটাই ইচ্ছা, ছেলে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলতে নামুক। মিকির প্রথমবার ফিল্ডিংয়ে নামা দেখতে না পারলেও অভিষেক ম্যাচটা কিন্তু স্টেডিয়ামে গিয়েই দেখতে চান তাঁরা।