• আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    তামিম কি আসলেই বোঝা?

    খুব বেশীদিন আগের কথা নয় যখন তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দু’-তিনজন ক্রিকেটারের মধ্যেই ছিলেন। ক্যারিয়ারের মন্দা সময় এখন তাঁকে সম্পূর্ণ বিপরীত এক অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব সত্ত্বেও তামিম ইকবাল কেনো দলে টানা সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন, এমন প্রশ্ন অনেকেরই। পরিসংখ্যান ঘেঁটে সে প্রশ্নের যৌক্তিক জবাব খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে।


     

    ২০০৭ বিশ্বকাপ। ১৭ মার্চের কুইন্স পার্ক ওভাল দেখলো তারুণ্যদীপ্ত বাংলাদেশের কাছে তারকাখচিত ভারতের শোচনীয় পরাজয়। ব্যাট হাতে সামনে থেকে সে ইতিহাস লিখলেন আঠারো ছুঁই ছুঁই এক তরুণ। জহির খানকে পরপর দু’ বলে সীমানাছাড়া করে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে ছয় হাকালেন, ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে ইথারে ভাসল ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তী ইয়ান বিশপের বিস্ময়মাখানো মুগ্ধতা, “ওহ হোহ হো, লুক অ্যাট দ্যাট! ইট বিলাইজ এ সেভেনটিন ইয়ার্স ওল্ড রিয়েলি! শোয়িং ভেরি লিটল রেসপেক্ট টু দি এল্ডার স্টেটসমেন...।”

    ২০১২ এশিয়া কাপ। ফর্মহীনতায় স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়া ছেলেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দলে ফিরে টুর্নামেন্টের চার ম্যাচের সব ক’টিতে করলেন অর্ধশতাধিক রান, নিন্দুকদের উদ্দেশ্যে গুনে গুনে তাঁর চার আঙ্গুল তোলার ছবি এখনও ঘুরে ফেরে অন্তর্জালের পাতায় পাতায়।

     

     

    তামিম ইকবালের সাথে বাংলাদেশের সুখস্মৃতির গাঁটছড়ায় এমন টুকরো অতীতের তালিকাটা খুব ছোট নয়। ভক্তরা ভালোবেসে নাম দিয়েছিলেন ‘টর্নেডো তামিম’। সেই টর্নেডো একসময় বেগ হারাতে শুরু করলো, তামিমের ব্যাটে হাসিটা বড্ড অনিয়মিত হয়ে যেতে লাগলো। ফেয়ারনেস ক্রিমে মেয়ে পটানো কিংবা গুড়ো দুধের গুণগানে শতক হাঁকানোর গল্প...মাঠের ব্যর্থতায় বিরক্তির কারণ হল সবই। গুণগ্রাহীর সংখ্যা কমে ভারি হল নিন্দুকের পাল্লা। ব্যাটে রানখরা হাওয়া দিতে লাগলো সমালোচনার ঝড়ে। প্রশ্ন উঠলো সামর্থ্য নিয়ে, প্রকট হল দলে তাঁর ‘পাকাপাকি’ অবস্থানের পিছনে স্বজনপ্রীতির মতো গুরুতর অভিযোগও। এই মুহূর্তে এ দেশের সিংহভাগ ক্রিকেটপ্রেমীর ধারণা বাংলাদেশ দলে তামিম ইকবালের প্রয়োজন ফুরিয়েছে।

     

    আসলেই কি তাই? বাংলাদেশ ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কি সত্যিই ফুরিয়ে গেছেন? যদি তাই হয়ে থাকে তবে তাঁর যোগ্য বিকল্প তৈরি হয়েছে তো? পরিসংখ্যানের আলোয় এসব প্রশ্নের উত্তরই এখানে খোঁজার চেষ্টা করা হবে। তবে তার আগে একটু অংক কষে চোখ বুলানো যাক ক’জন আন্তর্জাতিক তারকা ওপেনারের ক্যারিয়ারে।

     

    বিশ্ব ক্রিকেটে এই মুহূর্তের সবচেয়ে মারকুটে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের নাম নিতে বলা হলে ব্র্যান্ডন ম্যাককালামকে আপনি কত নম্বরে রাখবেন? বলতে দ্বিধা নেই অনেকের তালিকাতেই কিউই ক্যাপ্টেন শীর্ষস্থানটির দখল নেবেন। অথচ ২৪৬টি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ম্যাককালামের ইনিংসপিছু রান তোলার গড় কত জানেন? ৩০.৬৭! ক্যারিয়ারের প্রথম ওডিআই অর্ধশতকটি পেতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় ২১টি ইনিংস। আর শতক? ম্যাককালাম প্রথম শতরানের দেখা পেয়েছিলেন ১১০তম ইনিংসে। প্রায় আড়াইশ ইনিংসে ব্যাট করে তাঁর শতক ও অর্ধশতকের সংখ্যা যথাক্রমে ৫ ও ৩০। সর্বশেষ ৩০ ইনিংসের ১৬টিতেই তাঁর রান কুড়ির ঘরে যায় নি।

     

    ২০১৩ সালের মাঝামাঝিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরপর দু’ ম্যাচে শতরান করেছিলেন ম্যাককালামের সতীর্থ ওপেনার মার্টিন গাপ্টিল। সর্বশেষ গত ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেন ১০৫ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস। মাঝের ৩৩ ইনিংসে ১টি শতক ও ৫টি অর্ধশতক থাকলেও ১৮টিতেই তাঁর রান কুড়ির কম।

    আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে ক্রিস গেইলও কারও কারও প্রথম পছন্দ হয়ে থাকবেন। চলতি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অতিমানবীয় ২১৫ রানের ইনিংসটি খেলার আগে বিগত প্রায় দু’ বছরে ১৯টি ইনিংসে কেবল ১ বার অর্ধশতাধিক রান পেয়েছিলেন, গড় নেমে এসেছিল ১৪.৪২-এ! এই ক্যারিবিয় কিংবদন্তী এ যাবৎ খেলা ২৬৩টি ইনিংসের ১১৬টিতেই আউট হন ২০ রানের কম করে!

    একদিনের ক্রিকেটে ইনিংস উদ্বোধনটাকে যারা রীতিমতো শৈল্পিক মাত্রা দিয়েছিলেন লঙ্কান কিংবদন্তী সনাথ জয়সুরিয়া তাঁদের একজন। ক্যারিয়ারের ৪৩৩টি ওডিআইতে তিনি কতবার কুড়ি রানের কমে সাজঘরে ফেরেন জানেন? ২০২ বার!

    ২০১৩ সালে টানা তিন শতক হাঁকিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার কুইন্টন ডি কক। এ পর্যন্ত খেলা ৪২টি একদিনের আন্তর্জাতিকে ৬টি শতক, ৪টি অর্ধশতক...বাকি ৩৪ ইনিংসের ২৮টিতেই এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান ত্রিশের বেশি রান করতে পারেন নি, ১৪টিতে পৌঁছতে পারেন নি দুই অংকেই। চলতি বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচ থেকে তাঁর মোট সংগ্রহ ৫২ রান!

     

    খুঁজতে গেলে বর্তমান ছাড়িয়ে নিকট কিংবা দূর অতীতে এমন পরিসংখ্যান বিস্তর বের করা যায়। না,অংক কষে তামিম ইকবালকে জয়সুরিয়া, ম্যাককালাম বা ক্রিস গেইলের সাথে তুলনা দেয়ার দুঃসাহসী চেষ্টা করা হচ্ছে না। তবে যে প্রশ্নটা এখান থেকে উঠে আসে সেটা হল, তামিমের মতো কিংবা তারচেয়েও অধারাবাহিক হওয়া সত্ত্বেও প্রথম সারির দলগুলোয় কিভাবে তাঁরা ধারাবাহিকভাবে সুযোগ পেয়ে গেছেন বা যাচ্ছেন? এর দুটো উত্তর হতে পারে; এক, সামর্থ্যের জোরে একদিন তাঁরা বাজে সময়টা কাটিয়ে উঠবেন- এই ব্যাপারে তাঁদের উপর দলের কর্তা ব্যাক্তিদের যথেষ্ট আস্থা কিংবা দুই, তাঁদের যোগ্য বিকল্পের অভাব।

     

    আলোচনাটা যেহেতু তামিম ইকবালকে নিয়ে তাই তাঁর ব্যাপারে এ দুইয়ের কোনটা সত্যি বা দুটোই বাস্তবতা কিনা সেটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই জানার চেষ্টা করা যাক। প্রথমে এক নজর দেখে নেয়া যাক তামিমের ক্যারিয়ার সংক্ষেপ।

     

    ম্যাচ/ইনিংস মোট রান গড় সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট শতক অর্ধশতক
    ১৪০/১৩৯ ৪১০০ ২৯.৭১ ১৫৪ ৭৭.৩৮ ২৮

     

    প্রাসঙ্গিক মনে হলে দেখে নিতে পারেন ম্যাককালামের ক্যারিয়ার সংক্ষেপওঃ

    ম্যাচ/ইনিংস মোট রান গড় সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট শতক অর্ধশতক
    ২৪৬/২১৫ ৫৭৩৭ ৩০.৬৭ ১৬৬ ৯৩.৮৭ ৩০

     

    এই মুহূর্তে ৪১০০ ব্যক্তিগত সংগ্রহ নিয়ে সাকিব আল হাসানের পরে তামিম ইকবাল বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবে তামিমের সামর্থ্য কিংবা বাংলাদেশে তাঁর যোগ্য বিকল্পের অভাব যেটাই বলুন না কেন, এসব নিয়ে প্রশ্নের চমৎকার জবাব মেলে বিদেশের মাঠে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে। বর্তমান দলে তো বটেই, হয়তো পরবর্তী ম্যাচেই তামিম ইকবাল হয়ে যাবেন দেশের বাইরের মাঠে এ যাবতকালের সব বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

     

    দেশের বাইরে বাংলাদেশের সেরা পাঁচ ওডিআই পারফর্মার

     

    খেলোয়াড় ম্যাচ/ইনিংস মোট রান গড় সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট শতক অর্ধশতক
    মোহাম্মদ আশরাফুল ১০৫/১০২ ২১৩৭ ২২.৪৯ ১০৯ ৭৩.৬৩ ১২
    তামিম ইকবাল ৭১/৭১ ২১১৭ ২৯.৮১ ১৫৪ ৭৬.০৯ ১৫
    সাকিব আল হাসান ৭১/৭০ ২০৩৭ ৩৩.৯৫ ১৩৪* ৭৭.২১ ১৩
    মুশফিকুর রহিম ৬৬/৬০ ১৪৬৩ ২৭.০৯ ১০১ ৭০.৪০
    মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৫১/৪৭ ১২১০ ৩৪.৫৭ ১২৮* ৭১.৩০

     

    এই তালিকায় সেরা দশে আছেন কেবল আর একজন ওপেনার, শাহরিয়ার নাফীস (অষ্টম)। তাঁর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইনিংস উদ্বোধন করার অভিজ্ঞতা আছে এবং সে সুবাদে তামিমের বিকল্প হতে পারেন এমন রয়েছেন আরও পাঁচজনঃ এনামুল হক বিজয়, জুনায়েদ সিদ্দিক, ইমরুল কায়েস, শামসুর রহমান ও নাজিমউদ্দীন। তামিমের সাথে এই ছয়জনের ক্যারিয়ার সংক্ষেপ একটা ছকে এনে দেখা যাকঃ

     

    খেলোয়াড় ম্যাচ/ইনিংস মোট রান গড় সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট শতক অর্ধশতক
    তামিম ইকবাল ১৪০/১৩৯ ৪১০০ ২৯.৭১ ১৫৪ ৭৭.৩৮ ২৮
    শাহরিয়ার নাফীস ৭৫/৭৫ ২২০১ ৩১.৪৪ ১২৩* ৬৯.৪৯ ১৩
    জুনায়েদ সিদ্দিক ৫৪/৫৩ ১১৯৬ ২৩.০০ ১০০ ৬৮.২২
    এনামুল হক বিজয় ৩০/২৭ ৯৫০ ৩৫.১৮ ১২০ ৭০.৩৩
    ইমরুল কায়েস ৫৫/৫৫ ১৩৯৪ ২৫.৮১ ১০১ ৬৪.৫০ ১০
    শামসুর রহমান ১০/১০ ২৬৬ ২৬.৬০ ৯৬ ৭৬.০০
    নাজিমউদ্দীন ১১/১১ ১৪৭ ১৩.৩৬ ৪৭ ৬২.০২

     

    পরিসংখ্যান বলছে তামিমের চেয়ে রান গড়ে এগিয়ে আছেন কেবল শাহরিয়ার নাফিস ও এনামুল হক বিজয়। যেহেতু বিজয় তামিমের সহযোগী ওপেনার হিসেবে মোটামুটি নিয়মিতই মাঠে নামছেন তাই আলোচনা হতে পারে শাহরিয়ার নাফীসকে নিয়ে। বাস্তবতা হচ্ছে শাহরিয়ার নাফিসের ৪টি ওডিআই শতকের ৩টিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, বাকি ১টি বারমুডার বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩টি এবং শ্রীলংকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১টি করে অর্ধশতক বাদ দিলে তাঁর বাকি ৮টি অর্ধশতক জিম্বাবুয়ে (৩), আয়ারল্যান্ড (৩) ও কেনিয়ার (২) বিপক্ষে।

     

    বিপরীতে তামিম ইকবাল শতক পেয়েছেন নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি করে। তাঁর ২৮টি অর্ধশতক আসে জিম্বাবুয়ে (৬), ভারত (৫), পাকিস্তান (৪), নিউজিল্যান্ড (৩), শ্রীলংকা (৩), অস্ট্রেলিয়া (২), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২), দক্ষিণ আফ্রিকা (১), আয়ারল্যান্ড (১) ও স্কটল্যান্ডের (১) বিপক্ষে।

     

     

    উল্লেখ করা প্রয়োজন, আইসিসির সবক’টি পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অন্তত একটি অর্ধশতাধিক রানের ইনিংস তামিম ইকবাল ছাড়া বাংলাদেশের আর একজনেরই আছে, সাকিব আল হাসান।

    উপরের ছক বলছে, বাকিদের মধ্যে ব্যাটিং গড় কিংবা স্ট্রাইক রেট কোনদিক দিয়েই তামিমকে সরিয়ে জাতীয় দলে পাকা হওয়ার মতো যোগ্যতার প্রদর্শন অন্তত এঁদের কেউ দেখাতে পারেন নি।

     

    প্রশ্ন আসতে পারে, তামিমের এসব অর্জনে তাঁর অতি সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভূমিকা কতোটুকু? গত দু’ বছরের রেকর্ড বলছে ঘরের মাঠে খুব একটা সুবিধে তিনি অনেকদিন ধরেই করতে পারছেন না। তবে বাইরের মাঠে মোট রানের বিচারে মাহমুদুল্লাহ, মুশফিকের পর তামিমই এখনও বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান। আর রান গড় হিসেব গড়লে তামিম আছেন মুশফিকেরও ওপরে, তাঁর ওপরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নাসির হোসেন।

     

    গত দুই বছরে দেশের বাইরে বাংলাদেশের সেরা পাঁচ ওডিআই পারফর্মার

     

    খেলোয়াড় ম্যাচ/ইনিংস মোট রান গড় সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট শতক অর্ধশতক
    মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১৪/১৩ ৫৫৯ ৫০.৮১ ১২৮* ৮০.৭৮
    মুশফিকুর রহিম ১৪/১৩ ৪৩৬ ৩৩.৫৩ ৮৯ ৮৭.৫৫
    তামিম ইকবাল ১২/১২ ৪২৪ ৩৫.৩৩ ১১২ ৬৯.৯৬
    নাসির হোসেন ১১/০৯ ৩৪২ ৪৮.৮৫ ৭৩* ৯৩.৪৪
    সাকিব আল হাসান ৮/৮ ২৩৯ ৩৪.১৪ ৬৩ ১০১.২৭
     

     

    চমকপ্রদ আরেকটা তথ্য দিয়ে তামিমের সামর্থ্যের ফিরিস্তিতে ইতি টানা যাক। চলতি বিশ্বকাপে খেলছেন এমন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দেশের বাইরের মাঠের পারফরম্যান্স বিচারে তামিম ইকবাল আছেন পাঁচ নম্বরে! তাঁর উপরের চারটি স্থান যথাক্রমে ক্রিস গেইল, তিলকারত্নে দিলশান, হাশিম আমলা ও আহমেদ শেহজাদের।
     

    দেশের বাইরের পারফরম্যান্স বিচারে চলতি বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ ওপেনার

     

    খেলোয়াড় ম্যাচ/ইনিংস মোট রান গড় সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট শতক অর্ধশতক
    ক্রিস গেইল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ১৪৮/১৪৫ ৫৫০৬ ৪২.০৩ ২১৫ ৮৭.২৭ ১৭ ২৫
    তিলকারত্নে দিলশান (শ্রীলংকা) ৯৫/৯৪ ৩৯৪৫ ৪৫.৮৭ ১৬১ ৮৮.৩৯ ১২ ১৬
    হাশিম আমলা (দক্ষিণ আফ্রিকা) ৬৯/৬৮ ৩৪১৩ ৫৪.১৭ ১৫৯ ৮৯.৫০ ১১ ১৬
    আহমেদ শেহজাদ (পাকিস্তান) ৬৩/৬৩ ২১৯৮ ৩৫.৪৫ ১২৪ ৭২.৭০ ১২
    তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ) ৭১/৭১ ২১১৭ ২৯.৮১ ১৫৪ ৭৬.০৯ ১৫
     

     

    আর এ যাবতকালের সব উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের তালিকায়ও বিদেশের মাঠের পারফরম্যান্স বিচারে তামিম ইকবালের অবস্থানটা মন্দ নয়, ৩৪তম।

     

    এতো এতো অংকের হিসেবেও যদি তামিমের সামর্থ্যের প্রমাণ না মেলে তাহলে সম্ভবত সামর্থ্যের সংজ্ঞাটাই নতুন করে ভাবতে হবে। এসব পরিসংখ্যান এখানে বর্ণনার উদ্দেশ্য কেবল এটুকুই বোঝানো যে যতোটা হুট করে আমরা একজন তামিমকে দলের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাই, ততোটা চটজলদি আরেকজন তামিম তৈরি করার মতো অবস্থায় আমাদের ক্রিকেট কাঠামো এখনও পৌঁছয় নি। এ পর্যন্ত অনেকেই দলে এসেছেন, আবার হারিয়েও গেছেন...তাঁদের কেউ সামর্থ্যের অভাবে থিতু পারেন নি আর কাউকে বলি দিয়েছে আমাদের ধৈর্যের অভাব। যে কোন কারণেই হোক, তামিম যখন একটা লম্বা সময় পাচ্ছেন তখন সমর্থক হিসেবে একটু ধৈর্যের পরিচয় দিলে ক্ষতি কি?

     

    তবে হ্যাঁ, বিকল্প নেই বলে দলে জায়গা পাকা - তামিমের এমন নিশ্চিন্ত থাকার দিন হয়তো ফুরোচ্ছে বলে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় লীগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ সংগ্রহ, সর্বাধিক শতক - দুটো রেকর্ডই নতুন করে গড়েছেন রংপুরের ওপেনার লিটন দাস। টানা তিন শতকের (যার মধ্যে দুটো দ্বিশতক) নতুন কীর্তি গড়েছেন ঢাকার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রনি তালুকদার। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও একজন বাংলাদেশী ওপেনার, সাদমান ইসলাম।

     

    বলা বাহুল্য, তামিমের প্রতিদ্বন্দ্বীর তালিকাটা আচমকাই বুঝি দ্রুত বড় হতে শুরু করেছে। চাপটুকু যদি তামিম ইতিবাচকভাবে অনুভব করেন তবে ইনিংস উদ্বোধনের দুর্ভাবনা থেকে দীর্ঘস্থায়ী মুক্তিই পেতে পারে বাংলাদেশ।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন