• আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫
  • " />

     

    স্যার ভিভ বললেন, যোগ্য দলের হাতেই উঠেছে বিশ্বকাপ

    স্যার ভিভ বললেন, যোগ্য দলের হাতেই উঠেছে বিশ্বকাপ    

    বিশ্বকাপ শেষে চলছে এর আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ। সাবেক-বর্তমান রথী-মহারথীরাও জানাচ্ছেন তাঁদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথা। আইসিসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তী স্যার ভিভ রিচার্ডস লিখেছেন তাঁর বিশ্বকাপের করচা।

     

     

    মাঠের বাইরের চোখে বেশীরভাগ মানুষ অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের মধ্য থেকেই এবারের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দেখছিলেন। দুর্দান্ত ছয়টা সপ্তাহের পর সেরা দুটো দলকে ফাইনালে পাওয়াটা স্বপ্নের মতোই ব্যাপার।

     

     

    দাপুটে পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া প্রমাণ করেছে যে পঞ্চমবারের মতো শিরোপাটির যোগ্য দাবীদার তাঁরাই ছিল। তবে নিউজিল্যান্ডের অনভিজ্ঞতাও একটা বড় বিষয় ছিল। প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলার চাপটা তাঁরা ঠিক নিতে পারে নি। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে।

     

     

    ব্যক্তিগতভাবে আমি ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের বিরাট ভক্ত। তাঁর পূর্ণোদ্দমের ব্যাটিং সবসময়ই আনন্দদায়ক। তবে কখনও কখনও আপনাকে দল আর পরিস্থিতির প্রয়োজন বুঝে রণকৌশল সাজাতে হয়। উইকেটে নেমেই সে যেভাবে তিনটা বল মোকাবেলা করলো সেটা চোখের জন্য স্রেফ পীড়াদায়ক।

     

     

    ৫০ ওভারের একটা ম্যাচ, মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচ। এসব পরিস্থিতিতে আপনার একাধিক পরিকল্পনা থাকতে হয়। কিন্তু ম্যাককালাম যেভাবে খেলছিল তাতে আদৌ তাঁর কোন পরিকল্পনা ছিল বলেই মনে হয় নি। হয় পরিস্থিতির চাপটা সে নিতে পারে নি অথবা সে পুরো টুর্নামেন্টে যেভাবে খেলে এসেছে সেভাবেই খেলতে চাইছিল। ফলে সে প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক হতে চাইল; কে বল করছে সেটা বিবেচনা না করেই, বোলারের প্রতি যথাযথ সম্মান না দেখিয়েই।

     

     

    বিপরীতে মিচে স্টার্ক আর তাঁর সতীর্থ অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের আক্রমণতা ছিল স্রেফ দুর্দান্ত। প্রথম বল থেকেই তাঁরা যেভাবে আক্রমণে গেল, মাঝেমধ্যেই যেভাবে উইকেটে আঘাত হানল...আমি রীতিমতো মুগ্ধ। তাঁদের একটা পরিকল্পনা ছিল এবং সেটা তাঁরা যথাযথভাবেই বাস্তবায়ন করেছে। লোকে বলতে পারে ম্যাচটা একতরফা ছিল, কিন্তু সেটা অস্ট্রেলিয়া পরিকল্পনামাফিক এগিয়েছিল বলেই। বোলিংয়ে আগ্রাসন আর স্ফুরণটুকুর কৃতিত্ব তাঁদের দিতেই হবে।

     

     

    ১৮৩ রানের পুঁজি নিয়ে জেতাটা আজকাল প্রায় অসম্ভবই। নিউজিল্যান্ডের জন্য একমাত্র সম্ভাবনাটুকু জাগিয়েছিল গ্র্যান্ট এলিয়ট আর রস টেলরের জুটিটা। টপ অর্ডারের বিপর্যয়টা তাঁরা বেশ ভালোভাবেই কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল। যদি তাঁরা স্কোরবোর্ডে আড়াইশ’ রান তুলে ফেলতে সক্ষম হত, ম্যাচটা জমেও যেতে পারতো। কিন্তু দ্রুত উইকেটের পতন বলছিল তাঁদের প্রথম সারির ব্যাটসম্যানরা চাপটা ঠিক নিতে পারে নি। কোরি অ্যান্ডারসনের মতো একজন নামী খেলোয়াড় শিরোপাটা তুলে ধরতে পারলো না। তাঁর আসল সামর্থ্যটা দেখানোর একটা চমৎকার সুযোগ ছিল। কিন্তু অজিদের আক্রমণের সামনে সে দাঁড়াতেই পারে নি। সেটার জন্য তাঁর প্রতিপক্ষকেও বাহবা দিতে হবে।

     

     

    সবমিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ দেখার এবং মনে রাখার মতোই ছিল। আলাদা করে মার্টিন গাপটিল আর ক্রিস গেইলের বিশ্বকাপের মাঠে প্রথম দ্বিশতক দুটোর কথা বলতেই হয়।

     

     

    তবে এটা একইসাথে ব্যাটবলের ভারসাম্যের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে। কর্তৃপক্ষকে বড় ব্যাট আর ছোট মাঠের ব্যাপারগুলো পুনঃবিবেচনা করে দেখতে হবে। টুর্নামেন্টের বেশীরভাগজুড়ে স্টার্ক, বোল্টের মতো বোলাররা এসবের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে নি।

     

     

    মাইকেল ক্লার্ক টুর্নামেন্টের সেরা না হলেও আমার চোখে অন্যতম সেরা ক্যাপ্টেন তো বটেই। বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়েই একটা ধোঁয়াশা ছিল। সে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে থাকবে কিনা সে নিয়ে ছিল সংশয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেভাবে সে নেতৃত্ব দিল, এককথায় অসাধারণ।

     

     

     

    দলগতভাবে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্স ছিল চমৎকার। তাঁরা তাঁদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করেছে। এবি ডি ভিলিয়ার্সের জন্য কষ্ট পেয়েছি। অসাধারণ একজন ক্রিকেটার সে। মরনে মরকেল, ডেল স্টেইনদের চোখের পানি বলছিল দেশের জন্য বিশ্বকাপটা জিততে তাঁরা কতোটা মরিয়া ছিল।

     

     

    সবশেষে আবারও বলতে চাই, চমৎকার একটা টুর্নামেন্ট শেষ হল যেখানে সেরা দুটো দলই ফাইনাল খেলল এবং সবচেয়ে সেরা দলটাই শিরোপা নিল। যদি নেতিবাচক কিছু থেকে থাকে তবে সেটা টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য। আমার মতে খেলাটা যারা ভালোবাসে তাঁরা কেউই বুঝতে পারে না একদিনের আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপ এতো বড় কেন হতে হবে। সমস্যা ছিল সূচিতেও। কোন দল দুই ম্যাচের মাঝে লম্বা ছুটি পেয়েছে, কোন দল পায় নি। এটা এমন একটা টুর্নামেন্টের ছন্দ নষ্ট করে দেয়; পারফরম্যান্সের দিক থেকে যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভবত এই বিষয়গুলো নিয়ে আয়োজকদের আরও ভাবতে হবে।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন