• ক্রিকেট

লিলিপুটরা যখন গালিভার হয়েছিল

পোস্টটি ২৭৪৫ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

নাইটওয়াচম্যানদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্ক আছে অনেক। বব উলমারের বিশ্বাস ছিল স্বীকৃত ব্যাটসম্যানই যদি আউট হয়ে যায় সেখানে নাইটওয়াচ ম্যান নামানো অর্থহীন। তবে উলমারদের মিথ্যা প্রমাণ করে এখন পর্যন্ত ৫ নাইটওয়াচ ম্যান করেছেন শতরান। এইসব লিলিপুটদের গালিভার হয়ে ওঠা নিয়েই এই লেখা।

 

জেসন গিলেস্পি

৭১ টেস্টে ১৮ গড়ে ১২১৮ রান, ১ টা শতক আর ২টা অর্ধশতক, এই পরিসংখ্যান কিছুতেই আপনাকে চেনাতে পারবে না ইতিহাসের সেরা নাইটওয়াচম্যানকে। নাইটওয়াচম্যান হিসাবে এই দীর্ঘদেহী ডানহাতি পেসারের পরিসংখ্যান ৯ ইনিংসে ৩২৭ রান, গড় প্রায় ৪১। ক্রিজে সময় কাটানোর দায়িত্ব পালন করেছেন ১০৪০ বল খেলে, প্রতি ইনিংসে খেলেছেন গড়ে ১১৬ বল। নাইটওয়াচম্যানদের একমাত্র ডবল সেঞ্চুরিও তার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০০৬ সালে চট্টগ্রামে শেষ বিকালে হেইডেন আউট হওয়ায় পন্টিংকে বাঁচাতে নামতে হয় তাকে। প্রথম দিন বিকালে নেমে পরের তিনদিনে ৪২৫ বল খেলে ২০১ রানে অপরাজিত থেকে গেলেন।এরপর আর কখনই টেস্ট খেলা হয়নি তার। শেষ টেস্টে ডবল সেঞ্চুরি করে করলেন আরেক রেকর্ড।

 

 

মার্ক বাউচার

দক্ষিন আফ্রিকার সর্বকালের অন্যতম সেরা এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে নাইটওয়াচ ম্যান বললে এখন হয়ত অনেকেই মানতে চাইবেন না, কিন্তু ১৯৯৯ সালে তাকে এই ভূমিকাতেই নামতে হয়েছিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ বিকালে ক্যালিসের সাথে ১০০ রানের জুটি গড়ে আউট ক্রনিয়ে। জন্টি রোডস আর ক্লুজনারকে বাঁচাতে নামলেও ইনিংস শেষে দেখা গেলো রোডস করেছেন ৪, ক্লুজনার ২৫ আর বাউচার ১২৫!! একমাত্র নাইটওয়াচ ম্যান হিসাবে দুই শতরানের কীর্তি এই প্রোটিয়ার। সেবছরই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফলোঅনে পড়ে ম্যাচ বাঁচানোর যুদ্ধে একপ্রান্তে যখন লড়ছেন কারস্টেন অপরপ্রান্তে শেষ বিকালে ২ রানের ব্যবধানে ফিরে গেলেন কালিনার, আর ক্রনিয়ে। ক্লুজনার, পোলকদের বাচাতে আবারো নামলেন বাউচার। ৬৪২ বল খেলে ২৭৫ রান করে কারস্টেন ম্যাচ সেরা হলেও, ম্যাচ বাচানোয় বাউচারের ১০৮ রানের ভূমিকাও কম ছিল না।

 

 

সৈয়দ কিরমানি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজের ষষ্ঠ টেস্টে টসে জিতে ব্যাট নিলেন গাভাস্কার। চেতন চৌহানের সাথে তার ১৯২ রানের উদ্বোধনী জুটির পর শেষ বিকালে ৩০ রানের মধ্যে আউট গাভাস্কার, চৌহান আর ভেংগসার। মহিন্দর অমরনাথ, কপিল দেবদের আগে পাঠানো হল কিরমানিকে। প্রথম দিন তো অপরাজিত থাকলেনই, ইনিংস শেষে ৮ উইকেটের পতনের পরও ১০১ রানে অপরাজিত কিরমানি !!!

 

 

টনি মান

১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারত। ১-০ তে এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া পার্থে ৩৩৯ রানের লক্ষ্যে চতুর্থ ইনিংসে নেমে ৩৩ রানেই নেই দুই ওপেনার। চতুর্থ দিন বিকালে ম্যাচ আর ব্যাটসম্যানদের বাঁচানোর গুরুদায়িত্ব নিয়ে নামলেন মাত্রই ২য় টেস্ট খেলতে নামা মান। বেদির বলে আউট হবার আগে তৎকালীন রেকর্ড রান তাড়া করে জেতা ইনিংসে করেছিলেন ১০৫। অবশ্য ৪ টেস্টেই ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ায় তার ব্যাটিং প্রতিভার আর পরিচয় পাওয়া যায় নি।

 

নাসিম-উল-গনি

১৯৬২ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামে পাকিস্তান। প্রথম সকালে ট্রুম্যান, কোল্ডওয়েলের পেস আর সুইং এ ১০০ রানেই শেষ পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের ৩৭০ রানের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে আবারো ৭৭ রানে নেই ৫ উইকেট। হানিফ মুহাম্মদ, মুস্তাক মুহাম্মদ সবাই প্যাভিলিয়নে। উইকেট রক্ষক ইমতিয়াজ আহমেদকে বাঁচাতে শেষ বিকালে নামতে হয় গনিকে। ১০১ রান করে দলকে ইনিংস পরাজয় থেকে বাঁচালেও ম্যাচ বাচাতে পারেন নি । ২৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে তার ওই একটিই শতক।

 

 

এদের মত সুখস্মৃতি না হলেও ইংল্যান্ডের হয়ে ১০ টেস্ট খেলা টিউডরও নাইটওয়াচ ম্যান হিসাবে নিজের একটা ইনিংস কখনই ভুলবেন না। ঐ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে  ৯৯ রানে অপরাজিত থাকার পর ক্যারিয়ারে তিনি যে আর কখনও ৫০ই করতে পারেন নি।