• ক্রিকেট

ঐতিহাসিক জয়। এরপর.......

পোস্টটি ৩৮২৪ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

নাক উচু করে আসা অতিথিদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো বাংলাদেশ, এখানে বাঘের উপরে কারো কথা চলে না। বলে ব্যাটে অজিদের চেয়ে ভালো পারফর্ম করেই আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি বলা কথা আমরা করে দেখাতেও যথেষ্ট পারঙ্গম। এ পর্যন্ত ঠিক ঠাক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছি তাদের ধবলধোলাই করার পথে। কিন্তু গুরুজনদের কথামত অতীত থেকে শিক্ষা নিলে আমাদের উচিত পরবর্তী ম্যাচে আরো ঢালাও ভাবে আমাদের পরিকল্পনা সাজানো এবং জেতা ম্যাচেরও খানাখন্দগুলি এরিয়ে না গিয়ে নিজেদের অস্ত্রের ধার গুলো আরো তীক্ষ্ণ করে নেয়া। কারন পিছনে ফিরে তাকালে দেখা যায় এই নাক উচু অস্ট্রেলিয়ানরা শুধুমাত্র এক গর্বিত ক্রিকেট জাতিই নয় খুব 'ফাস্ট লার্নার'-ও বটে। যেকোন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সাধারণত তারা খুব বেশী দেরী করে না। তাছাড়া তারা যথেষ্ট পরিমান 'হোম ওয়ার্ক' করেই এখানে এসেছে। যার নমুনার দেখা আমরা ইতোমধ্যেই পেয়েছি। তাই চলুন দেখে নেয়া যাক প্রথম ম্যাচে আমাদের কমতির কয়েকটি দিক-_20170831_115320

ব্যাটিংঃ   প্রথম ম্যাচের অনিয়মিত বাউন্স ও টার্ন ধারী উইকেটে কাট শট খেলা যে ভাগ্যদেবতার কাছে নিজেকে সম্পুর্ন সপে দেয়া তার একাধিক প্রমাণ আমরা গত চার দিনে দেখে ফেলেছি। তামিম, সাকিব, নাসির, হ্যান্ডসকোম্ব, ম্যাক্সওয়েল এমনকি স্মিথও এই কাট শট খেলেই আউট হয়েছেন। অন্যদিকে ওয়ার্নার তার দ্বিতীয় ইনিংসে দেখিয়েছেন কিভাবে কাট শটকে প্রাধান্য না দিয়ে, প্রতি আক্রমণে, এ উইকেটেও ঠিকে থাকা যায়। প্রথম ম্যাচের উইকেটের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও যে বল অসমান বাউন্স আর টার্ন করবে তা অনেকটাই অনুমেয়। তাই টাইগারদের উচিত হবে ওয়ার্নারের ইনিংস থেকে শিক্ষা নিয়ে, কাট শট এরিয়ে এবং অপেক্ষাকৃত নিরাপদ শটস খেলে উইকেটে নিজেদের স্থায়িত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা।_20170831_115248

বোলিংঃ   প্রথম ম্যাচের সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই গোটা ম্যাচের বোলিংয়ে সাকিবই সব আলো কেড়ে নিয়েছেন। যার ফলে অনেকটাই ছায়ায় পড়ে গিয়েছে নাথান লায়নের আগাগোড়া নিয়ন্ত্রিত, উইকেট উপযোগী বোলিং প্রদর্শনী। তার বোলিং এতটাই ছকবাধা ছিল যে বাংলাদেশের অপেক্ষাকৃত ভালো স্পিনের ব্যাটসম্যানদেরও তার বলে রান তুলতে ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে দেখা যায় তামিমের মরিয়া হয়ে 'ডাউন দা উইকেটে' মারা শটগুলো। যেখানে বলতেই হচ্ছে বাংলাদেশী বোলাররা অনেক বেশী ফুল ও শর্ট বল করেও প্রতিপক্ষের স্পিন ভয়ে আতঙ্কিত ব্যাটসম্যানদের উইকেট ছিনিয়ে নিয়েছেন। ফলশ্রুতিতে রানও তাদের কম দিতে হয়নি এবং অনেক সময় চাপে থাকা অবস্থায়ও ঢিলেঢালা বোলিংয়ের ফলে অসিরা রান তুলতে সমস্যায় পড়েনি।_20170831_115305

টেস্টে ব্যাটিং ও বোলিং উভয়ই যে সকল ফরমেটের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর মিরপুরের মত উইকেটে বলের ঘূর্ণি জাদুতে ব্যাটিংয়ে ধৈর্য ধরে রাখা আরো দুঃসাধ্য। তবে অস্ট্রেলিয়ানদের বহু দিনের অবজ্ঞার মোক্ষম জবাব দিতে এ সিরিজে বাংলাদেশের সামনে তৈরী হয়েছে উপযুক্ত পরিবেশ। আর অস্ট্রেলিয়ানরা যে এ লজ্জা এড়াতে আট ঘাট বেধেই পরের ম্যাচে দেখা দিবে তা নিঃসন্দেহে বলে দেয়া যায়। তাই সিরিজ ২-০ তে জিতে নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের নাম আবারো ঘোষনা করতে বাংলাদেশ একাদশের সবাইকে দিতে হবে নিজেদের সেরাটা।

পারবে তো বাংলাদেশ?