• ক্রিকেট

বিগ হিটিং আর অভিজ্ঞতার অভাব!!

পোস্টটি ৯৯০ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

টি টোয়েন্টি কম খেলায় টাইগাররা নাকি এ ফরম্যাটের মেজাজটা ধরতে ব্যর্থ। ম্যানগাউইং ওভালে কি সেটা বলা যায়? সাউথ আফ্রিকান বোলিং আক্রমণের মূল পাঁচ অস্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফাঙ্গিসো খেলেছেন ১৪ টি টোয়েন্টি। প্যাটারসন ৫, হেন্ড্রিক্স ৬, ফ্রাইলিঙ্কের তো অভিষেক, ফিলেকোয়ে খেলেছেন ৮টি। বিপরীতে রুবেলের ১৫, সফিউলের ১২, তাসকিনের ১৬ আর দলনেতা সাকিবের ৫৭। ঘরোয়া টি টোয়েন্টি সংখ্যাতেও পিছিয়ে ছিলেন না শফিউল, রুবেল, সাকিবরা। শফিউল, রুবেল দুজনেই খেলেছেন ৫০টির বেশি ঘরোয়া টি টোয়েন্টি।

 

 

তবে মাঠে অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা গেল সামান্যই। তাসকিন-শফিউলের চার ওভারে রান গুনতে হয়েছে ৫৪। ফ্রাইলিঙ্ক বা ফিলেকোয়ে যেখানে ১২০ বা ২৫ গতিতে বুদ্ধিমত্তা দিয়ে উইকেট তুলেছেন, সেখানে ৩৩ ভাগ শর্ট বল করে লেগ সাইডে ডি ভিলিয়ার্সদের শক্তি পরীক্ষা কতটা বুদ্ধির সে প্রশ্ন থাকছেই। ব্যাটসম্যানের ফুট মুভমেন্ট অনুসারে শেষ মুহূর্তে লেন্থ অ্যাডজাস্টমেন্ট খুব কি কঠিন?

 

টি টোয়েন্টি ব্যর্থতার আরেক কারণ বলা হতো বিগ হিটারের অভাব। এদিন মিথ্যা প্রমাণ হল সেটাও। সাউথ আফ্রিকার ২১ বাউন্ডারির বিপরীতে ২২ বাউন্ডারি হাকিয়েছেন সৌম্য, সাকিব, সাইফুদ্দিনরা। আফ্রিকানদের ৪ ছক্কার বিপরীতে লাল সবুজদের ৭ ছক্কা। কিন্তু এর সাথে ৪৫টি ডট বল খেললেন মুশফিক,সাব্বিররা। বিপরীতে প্রোটিয়াদের ডট বল মোটে ২২টি। ডি ভিলিয়ার্সদের ১৯ ডাবলের বিপরীতে টাইগারদের মোটে ৭টি। এতেই তৈরি হয়েছে পার্থক্য।

 

 

 

দারুণ শুরুর পরও মিডল অর্ডারে হাল ধরতে ব্যর্থ অভিজ্ঞ মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, সাব্বির। সাইফুদ্দিনের নিঃসঙ্গ লড়াই প্রমাণ করেছে, একজন টিকলেই জয় অসম্ভব ছিল না। ক্রিকেটের বেসিক নিয়মেই একজনকে শিট অ্যাংকর ভূমিকা পালন করতে হয়। মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, সাকিব কাউকেই এ ব্যাপারে আগ্রহী মনে হয়নি। চার-ছক্কার নেশাতেই সাব্বির, মুশফিকদের আত্মহনন। সাকিবও সমালোচনার বাইরে থাকবেন না, একই ওভারে দুই চারের পরও অমন উচ্চভিলাসী শট, কতটা প্রাসঙ্গিক? এমন ফ্ল্যাট উইকেটে অনভিজ্ঞ প্রোটিয়া বোলিংয়ের বিপক্ষে বেসিক ক্রিকেটটাই ভুলে গেলেন সাকিবরা। 

 

তবে, এ ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাওয়া সাকিবের অধিনায়কত্ব আর সৌম্যের ফর্মে ফেরা। আধুনিক ক্রিকেটে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ভালো করার সহজ রাস্তা শুরুতে ঝড় তোলা। দলের প্রয়োজনে নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং থেকে তামিম সরে আসায়, এই পজিশনে সৌম্যকে খুব বেশিই দরকার। আর সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকিব। প্রথম ওভারেই বোলিংয়ে এসেছেন,ব্যাটিংয়ে নিজেকে তুলে এনেছেন তিনে। এছাড়া বোলিং পরিবরর্তনেও দিয়েছেন বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।