• ফুটবল

ফ্যান্টাসি প্রিভিউ গেমউইক-২৩

পোস্টটি ২৩৯৮ বার পঠিত হয়েছে

১৭-১৮ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের অর্ধেকেরও বেশি শেষ হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা ঘরে তোলা প্রায় নিশ্চিত। আগামী মৌসুমে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার জন্য লড়ছে ম্যানচেস্টার  ইউনাইটেড, চেলসি, লিভারপুল, আর্সেনাল এবং টটেনহাম হটস্পার্স। ইউরোপা লিগের জন্য লড়াই করছে এভারটন, বার্নলির মত দলগুলো। প্রথম মৌসুমে নিজের প্রতি সুবিচার করতে না পারলেও এবার একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নিয়েই শিরোপার দিকে এগুচ্ছেন পেপ গার্দিওলা।

 

ইপিএল-এর চ্যাম্পিয়ন  প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও ফ্যান্টাসি প্রিমিয়ার লিগে উত্তাপটা এখনও আছে আগের মতই। বছরের শুরুতেই মৌসুমের দ্বিতীয় ওয়াইল্ডকার্ড হাতে পেয়ে ম্যানেজারদের অনেকেই ইতোমধ্যেই দল পালটে ফেলেছেন খোলনলচে। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা নিষ্প্রভ তারকারা জ্বলে উঠেছেন ঠিকই, সেই সাথে চমকেরও অভাব নেই এবার। চলুন দেখে নেওয়া যাক ইপিএল-এ কারা আছেন দারুণ ফর্মে এবং কাদের দলে ভেড়ালে লাভবান হওয়া যাবে সবচেয়ে বেশি।

 

এফপিএল-এও ডি গেয়ার জয়জয়কার:

মৌসুমের ২২ ম্যাচ শেষে মাত্র ১৬ গোল হজম করেছে ইউনাইটেড। হোসে মরিনহোর দলের জমাট রক্ষণের মূল কৃতিত্বটা নিঃসন্দেহে পাচ্ছেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডেভিড ডি গেয়া (৫.৯)। মাঠের পাশাপাশি এফপিএল-ও মাতিয়ে রেখেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক। ১১৪ পয়েন্ট নিয়ে গোলরক্ষকদের মধ্যে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়েছেন তিনিই। ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছেন সিটির গোলরক্ষক এডারসন মোরায়েস (৯৬)। ৫ মিলিয়নের চেয়ে কমদামী গোলরক্ষকরাও আছেন ফর্মে। বার্নির গোলরক্ষক নিক পোপের (৪.৮) সংগ্রহ ৯৩ পয়েন্ট, যা চেলসির গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার (৫.৫) সমান। এছাড়াও ৮৯ এবং ৮৮ পয়েন্ট নিয়ে সোয়ানসির লুকাস ফ্যাবিয়ান্সকি (৪.৬) এবং ব্রাইটনের ম্যাট রায়ানও (৪.৯) আছেন চাহিদার তালিকার শুরুর দিকেই। ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে পিছিয়ে নেই নতুন দল হাডার্সফিল্ডের কিপার ইয়োনাস লোসেলও (৪.৬)। দারুণ ফর্মে আছেন এই গোলরক্ষকদের প্রত্যেকেই। আক্রমণভাগে বেশী খরচ করতে চাইলে রায়ান, লোসেল, পোপদের কাউকে দলে ভেড়ানোটাই হতে পারে সর্বোৎকৃষ্ট সিদ্ধান্ত।

 

 

রক্ষণেও এগিয়ে 'বিগ ফোর'-এর ডিফেন্ডাররাঃ

মাঠে চেলসি, আর্সেনাল, সিটি, ইউনাইটেডের পাশাপাশি ফ্যান্টাসিতেও দারুণ করছেন 'বিগ ফোর'-এর ডিফেন্ডারেরা। ১২৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছেন চেলস্যার লেফটব্যাক মার্কোস আলোন্সো (৭.৩)। নিজের আকাশ্চুম্বী দামের প্রতি সুবিচারই করেছেন এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। ১১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন আলোন্সোর সতীর্থ সিজার অ্যাজপিলিকুয়েতা (৭.০)। গত মৌসুমে সিটির অন্যতম গড়পড়তা ডিফেন্ডার ছিলেন আর্জেন্টাইন নিকোলাস ওতামেন্ডি। কিন্তু এই মৌসুমে ১১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন তিনি (৬.৫)। আন্তোনিও ভ্যালেন্সিয়া (৬.৭, ৯৪), কাইল ওয়াকার (৬.৬, ৮৭), ফিল জোন্স (৫.৭, ৮৬) এবং হেক্টর বেলেরিন (৬.০, ৮৫) র' আছেন চাহিদার শীর্ষে। এছাড়া লেস্টার সিটির হ্যারি ম্যাগুইয়ার (৫.৪) এবং স্পার্সের ডাভিনসন সানচেজের (৫.৫) নামও আছেন ম্যানেজারদের পছন্দের তালিকায়। কম দামের মধ্যে ম্যানেয়ারদের প্রধান পছন্দ বার্নলির স্টিফেন ওয়ার্ড (৪.৮) এবং জেমস টারকওস্কি-কে (৪.৭)। এছাড়াও মায়া ইয়োশিদা (৪.৮), আহমেদ হেগাজি (৪.৫)। হাডার্সফিল্ড রক্ষণজুটি ম্যাথিয়াস জাঙ্কা এবং শিন্ডলারকেও (৪.৬) দলে নিয়েছেন অনেকেই। 

 

 

মধ্যমাঠে প্রথম পছন্দ উইঙ্গারঃ

সেন্ট্রাল, ডিফেন্সিভ বা অ্যাটকিং মিডফিল্ডারের চেয়ে উইঙ্গারদের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন ম্যানেজারেরা। ১৬৮ পয়েন্ট নিয়ে এবারের মৌসুমে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েছেন মোহাম্মাদ সালাহ (১০.১)। দ্বিতী সাথেন থাকা রহিম স্টার্লিংয়ের (৮.৯) পয়েন্ট ১৪৬। ১৭-১৮ মৌসুমে নিজেকে যেন ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে নেমেছেন কেভিন ডি ব্রুইন (১০.২, ১৩৭)। ১২৬ পয়েন্ট নিয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই লেস্টার মহাকাব্যের অন্যতম নায়ক রিয়াদ মাহরেজ। ১০৬ পয়েন্ট পেয়েছেন সিটির অন্যতম সেরা দুই মিডফিল্ডার ডেভিড সিলভা (৮.১) এবং লিরয় সানে (৮.৫)। স্পার্সের ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন (৯.৩, ১১৫), ড্যালে আলি (৯.০, ১০২), হিউঙ-মিন সন (৮.১, ৯৯), রিচার্লিসন (৬.৪, ৯৯) এবং প্যাসকেল গ্রস (৫.৯, ১০১)। ইউনাইটেডের জেসি লিনগার্ডের (৬.৩, ৮৬)  দিকেও ঝুঁকছেন ম্যানেজারেরা। লিনগার্ডের সমান সংখ্যক পয়েন্ট পেয়েছেন অ্যান্থনি মার্শিয়ালও (৮.০)  এবং ওয়াটফোর্ডের আব্দুলাই দুকুরে (৫.৩)।

 

 

সবার চেয়ে এগিয়ে কেনঃ

গত মৌসুমে ইপিএল-এর গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনিই। এবার শুরুটা ঠিক স্বভাবসুলভ না হলেও মৌসুমের ২২ রাউন্ডের খেলা শেষে আবারও ইংলিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেনই (১২.৯)। ১৩৪ পয়েন্ট নিয়ে ফরওয়ার্ডদের মধ্যে সর্বোচ্চ পয়েন্ট এখন তারই। ১১১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন সার্জিও আগুয়েরো (১১.৭)। গ্যাব্রিয়েল হেসুস ইনজুরিতে পড়ায় সিটির সামনের ম্যাচগুলোর প্রতিটিতেই খেলবেন আগুয়েরো- এমনটা আশা করাই যায়। ফরওয়ার্ডদের মধ্যে তৃতীয় স্থানে আছেন রবার্তো ফিরমিনো (৯.১, ১০৯)। মৌসুমের শুরুতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লুকাকু আছেন চতুর্থ স্থানে (১১.৭, ৯৯)। জেমি ভার্ডিও পিছিয়ে নেই খুব একটা (৮.৬, ৯৭)। চেলসির ফিক্সচার সহজ হওয়ায় আলভারো মোরাতার (১০.৫, ৯৬) দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। কম দামী স্ট্রাঈকারদের মধ্যে আছেন ওয়েইন রুনি ও  এভারটনের নতুন ফুটবলার তুরষ্কের চেঙ্ক তোসুন (উভয়েই ৭.৫)। এছাড়া ডমিনিক কালভার্ট-লেউইন এবং শিনঝি ওকাজাকির (উভয়েই ৫.৫) চাহিদাও আছে বেশ।

 

 

চেলসি, লিভারপুল, সিটি, ওয়েস্ট হ্যাম, স্পার্স- ফিক্সচার বিচারে এই দলগুলোর ফুটবলারদের দলে নেওয়াটাই শ্রেয় মনে হয় আমার কাছে। তবে ফ্যান্টাসি বাজির খেলা। হয়ত একদিন টেবিলের তলানীর দলের সাথে কেন জাল না-ও খুঁজে পেতে পারেন, আবার ওমনি হয়ত সোয়ানসির মত দলের বিপক্ষে ক্লিনশীটও হারাতে পারেন চেলসি বা সিটি। তাই অন্যের মতের ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভর না করে নিজের বিশ্বাস থেকেই দল গঠন করাটাই আমার চেয়ে ভাল বলেই মনে হয়।

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।