• ফুটবল

আরও যা যা বাঁচাতে পারতেন ডি গিয়া!

পোস্টটি ২৮২৭ বার পঠিত হয়েছে

ওয়েম্বলিতে মার্কাস রাশফোর্ডের গোলে টটেনহাম হটস্পারকে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে রাশফোর্ড নয়, পাদপ্রদীপের প্রায় পুরো আলোটাই কেড়ে নিয়েছেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়া। পুরো ম্যাচে ১১টি দুর্দান্ত সেভ করে ম্যাচসেরাও হয়েছেন স্প্যানিশ ‘নাম্বার ওয়ান’। ভাবছেন হ্যারি কেইনদের সব ধরণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া ডি গিয়া আর কী কী বাঁচাতে পারতেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক...

 

১) বাংলা সিনেমার নায়িকাদের সম্ভ্রম

বছর দশেক বা তারও কিছু আগের সময়ে ফিরে যাই। ঐ সময়টায় বৃহস্পতিবারের দুপুর দুটোর এবং শুক্রবার বিকেল তিনটার সংবাদের পর পুরো পরিবার নিয়ে বাংলা সিনেমা না দেখা মানুষ খুঁজে পাওয়াই বেশ দুষ্কর। বাবা-মা, ছোট বা বড় ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সিনেমা দেখার আনন্দটা যেমন নির্মল ছিল, ঠিক তেমনি ঐ সময়টায় কিছু অপ্রীতিকর অবস্থাতেও পড়তে হত। ভিলেন বা তার সাঙ্গপাঙ্গরা যখন নায়িকাকে বিবস্ত্র করতে ব্যস্ত, তখন পপি, মৌসুমের ‘বাঁচাও! বাঁচাও!!’ চিৎকার আজও স্মৃতিতে হাতড়ে ফিরে হাসির খোরাক যোগায় অনেককেই। ডি গিয়ার মত একজন নায়ক থাকলে অবশ্য আলেকজান্ডার বো, ডিপজলরা হয়ত এমন কাজে সফল হতেন না কখনোই। সাকিব খানদের মত কাঁচ ভেঙ্গে উড়ে এসেই হয়ত পপি, মৌসুমীদের বাঁচিয়ে দিতেন ডি গিয়া।

২) বিএনপির নির্বাচন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জনমনে উৎসাহ-উদ্দীপনার অভাব ছিল না। ২০১৪-তে নির্বাচনে না যাওয়া বিএনপি এবার ফিরেছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে। আওয়ামী লীগের প্রতাপে একেবারেই প্রচারবিমুখ এক নির্বাচন কাটালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউবে বেশ সরব ছিল তারা। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দুটি ভিডিও বেশ সাড়া ফেলেছিল। কিন্তু শেষমেশ বিশাল ব্যবধানেই হার মানতে হয়েছে তাদের। রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা ঘরে তোলার মতই নির্বাচনেও জয়ের হ্যাটট্রিক’ করল শেখ হাসিনার দল। তবে ডি গিয়ার মত একজন প্রার্থী বা তাঁর পারফরম্যান্সের মত প্রচারমুখর হলে হয়ত ফলাফলটা অন্যরকমও হতে পারত এবার। ইউনাইটেডের সাথে বিএনপির নির্বাচনের আশার চাঁদটাকেও হয়ত বাঁচিয়ে রাখতে পারতেন তিনি।   

৩) আশরাফুলের ধরা খাওয়া

এককালের বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়’, বাঙ্গালিদের ‘চোখের মণি’ মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশের ক্রিকেটের একসময়ের একমাত্র আশার ফুল সেই আশরাফুল যখন ২০১৩-তে ম্যাচ পাতানোর দায় স্বীকার করে নিলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই সারাদেশের কাছে ভিলেন, বেঈমানেই পরিণত হলেন তিনি। প্রথমে অস্বীকার করলেও আকসুর তদন্তের কাছে হার মানতেই হয় তাকে। ডি গিয়ার মত একজন এজেন্ট বা ‘উইংম্যান’ থাকলে হয়ত আমাদের সাবেক অধিনায়কও বেঁচে যেতেন ইউনাইটেডের মত।

৪) আতাহার আলী খানের ‘আপিস’ ক্যাচ

বল ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লেগে হাঁটু সমান উচ্চতায় ভেসে উঠলেও সেই বলকে ‘আপিস’ হিসেবে অভিহিত করেন আমাদের প্রিয় ধারাভাষ্যকার আতাহার আলী খান। ‘আপিস’ শব্দটাকে রীতিমত শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি। তাঁর ‘আপিস বাট সেফ’, ‘ব্যাক টু ব্যাক’ যেন কানে লাগে ‘সুধা’র মত। গতানুগতিক ৯টা-৫টা ‘আপিস’ করা মানুষদেরও চেয়ে শব্দটি বেশি ব্যবহার করে থাকেন তিনি। কিন্তু ডি গিয়ার মত একজন ফিল্ডার থাকলে হয়ত আতাহার আলী খানের মুখ থেকে এই ‘আপিস’ শব্দের ফুলঝুরি ছুটত না। ফিল্ডার হিসেবে দাঁড়ালে হয়ত ব্যাটে লেগে বল আকাশে ভাসতেই নিজের ‘ট্রেডমার্ক’ উপায়ে শরীর ধনুকের মত বাঁকিয়ে তালুবন্দি করতেন ডি গিয়া। জনটি রোডসকেও সর্বকালের সেরা ফিল্ডারের ক্ষেত্রে একটা কম্পিটিশনও দিতে পারতেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক।

 

 

৫) স্মিথ-ওয়ার্নারের ক্যারিয়ার

চাকরি বাঁচাতে জুড়ি নেই ডি গিয়ার। লুই ভ্যান গাল, হোসে মরিনহোর চাকরি অনেকদিন ধরে টিকেছিল কেবল তার জন্যই। এমনকি গত কয়েক মৌসুমের বিচারে ইউনাইটেডের সেরা খেলোয়াড় তিনিই। ক্রিকেটে অঙ্গনে বিচরণ থাকলে হয়ত অস্ট্রেলিয়ার এই জুটিকেও বাঁচিয়ে দিতে পারতেন নিষেধাজ্ঞা থেকে।

৬) মিরপুরের যানজট

ঢাকা শহরে আর যা-ই বদলাক, মিরপুরের বিভিন্ন খানে যানজট আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। ফেসবুকের ‘হ্যাশট্যাগ কনস্ট্যান্ট’ ক্যাপশনে পাশে থাকা প্রিয় মানুষগুলোও অচেনা হয়ে যায়, কিন্তু আসল কনস্ট্যান্ট থেকে যায় মিরপুরের যানজট। এমনকি শুক্র-শনিবারও এর থেকে বিস্তার নেই। ডি গিয়ার মত একজন ট্রাফিক পুলিশ বা নগরপিতা থাকলে হয়ত এই সমস্যা থেকেও নিস্তার পেট ঢাকাবাসী।

৭) অঞ্জন দত্তকে পাড়ার দাদাদের মার থেকে

প্রিয়তমা রঞ্জনাকে এক ঝলক দেখতেও পাড়ার দাদাদের হুমকি খাওয়া অঞ্জন দত্তের ‘রঞ্জনা আমি আর আসব না’ গান আজও মুখে মুখে ফেরে এপার-ওপার দুই বাংলায়ই। কিন্তু ইউনাইটেডের দুর্বল রক্ষণভাগকে হ্যারি কেইন-এডেন হ্যাজার্ডদের মত ফরোয়ার্ড থেকে দুহাতে (কোনও কোনও ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ শরীর দিয়েই) আগলে রেখেছেন ডি গিয়া, ঠিক এমনই এক বন্ধু থাকলে হয়ত অঞ্জন-রঞ্জনার দেখা সাক্ষাৎ হত নিয়মিতই।

 

 

৮) জেরার্ডের হোঁচট খাওয়া

২০১৩-১৪ মৌসুমে আরেকটু হলেই প্রায় দুই দশক পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ঘরে তুলতে পারত লিভারপুল। কিন্তু চেলসির বিপক্ষে অ্যানফিল্ডে তখনকার অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ডের সেই ‘বিখ্যাত’ হোঁচটেই শেষমেশ লিগ হেরেছিল অল রেডরা। গোলপোস্টে যেমন শরীর হাওয়ায় ভাসিয়ে সেভ করে থাকেন, ঠিক সেভাবেই হয়ত জেরার্ডকেও হোঁচট খাওয়া থেকেও বাঁচাতে পারতেন ডি গিয়া।

৯) নেইমারের মাঠে গড়াগড়ির প্রবণতা

ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ডাইভ’ দেওয়ার কারণে বেশ সমালোচনা সইতে হয়েছে নেইমারকে। বিশেষ করে রাশিয়া বিশ্বকাপে মাত্রাতিরিক্ত অভিনয়কে রীতিমত শিল্পের পর্যায়েই নিয়ে গেছেন তিনি। জেরার্ডের মত নেইমারকেও এরকম ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃত হোঁচট থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারতেন ডি গিয়া।

১০) পান্ডিয়া-রাহুলের ক্যারিয়ার

সম্প্রতি করণ জোহারের ‘কফি উইথ করণ’ টিভি শোতে একাধিক বেফাঁস মন্তব্য করে নিজেদেরই বিপদ ডেকে এনেছেন হার্ডিক পান্ডিয়া এবং লোকেশ রাহুল। এরই মাঝে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ওয়ানডে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের। লুই ভ্যান গাল, হসে মরিনহোর চাকরি যেভাবে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন অনেকদিন ধরে, পান্ডিয়াদেরও ত্রাণকর্তা হয়ত হতেও পারতেন ডি গিয়া।

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।