• ফুটবল

ফুটবলের অস্বাভাবিক গোমরা মুখী একজন মানুষ!

পোস্টটি ৯৩৭ বার পঠিত হয়েছে

বলা হয়ে থাকে- তিনি রোবট মানুষ! স্বাভাবিক রক্তে-মাংসে গড়া মানুষের মতো আনন্দে তার মুখে হাসির রেখা ফুটেনা। কিংবা প্রচন্ড আবেগতাড়িত হয়ে দু'হাতে মুখ লুকিয়ে কেঁদে ফেলেন না। তার কাজ যেন মাঠে নামা, খেলা- ভালো পার্ফম করা। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়া। দীর্ঘ ফুটবলীয় ক্যারিয়ারে তার মুখে হাসির দেখা মিলেছে খুব কমই! ফুটবলাররা সাধারণত উল্লাস করতে ভালোবাসেন; ড্রেসিংরুম কি আউটফিল্ড, মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে, তারা হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসেন। বড় পরাজয় নিয়ে ম্যাচ ছিটকে শিরোপা হারানো প্লেয়ার'রাও এক-আধটু মন খারাপের পর হাসেন, উৎফুল্লতা দেখান। তিনি তার ব্যাতিক্রম! ফুটবল খেলাটা তার কাছে বিরক্তিকর মনে হতো কিনা- কে জানে!

কার্লো অ্যানচেলোত্তির মনে করেন, তাঁর মতো গতি, নিশানা আর বল দখলে রাখার ক্ষমতা খুব কম স্ট্রাইকারেরই আছে। বলছিলাম, ফুটবলের অস্বাভাবিক গোমরামুখী একজন মানুষ আনেলকার কথা। তার পুরো নাম 'নিকোলাস সেবাস্তিয়ান আনেলকা'।

১৯৭৯ সালের ১৪ মার্চ। উত্তর-কেন্দ্রীয় ফ্রান্সের লে -ডি-ফ্রান্স অঞ্চলের ইভেলিনস বিভাগের প্রাক্তন কমিউন লে-চেসনের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আনেলকা। মা ছিলেন স্থানীয় হাই-স্কুল সচিব। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে আনেলকার৷ তারই ফলস্রুতিতে বয়স পাঁচ পেরুবার আগেই যোগ দেন স্থানীয় ট্রাপেস সেন্ট কোয়েন্টিন ক্লাবে। বয়সভিত্তিক দলে তার পজিশন ছিলো একজন সলিড এটাকিং মিডফিল্ডারের মতো। আনেলকা তার প্রতিভা কাজে লাগাতে পেরেছিলেন বলেই স্থানীয় ক্লাবটির যুব দলের হয়ে দীর্ঘদিন সার্ভিস দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

টানা ১০ বছর ট্রাপেস সেন্ট কোয়েন্টিন ক্লাবে খেলানোর পর ১৪ বছর বয়েসী আনেল্কা যোগ দেন স্থানীয় আরেক ক্লাব 'ক্লাফারফন্টেনে'। সেখানে মাত্র ২ সিজন খেলে পাড়ি জমান ফরাসী জায়ান্ট 'প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন' এর যুব দলে৷ যুব দলে ১ সিজন কাটানোর পরে পিএসজির মূল দলে খেলার জন্য ডাক পান আনেল্কা। তবে পুরো সিজনে ১০ ম্যাচ খেলে একটি মাত্র গোল করেন তিনি৷ পরবর্তী সিজনেই মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালে পাড়ি জমান। তখন কোচ হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন সদ্য নিয়োগ হওয়া আর্সেন ওয়েঙ্গারকে। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে আর্সেনাল মূল দলে খেলা তার জন্য কিছুটা হলেও কষ্টকর হয়ে পড়ে৷ কিন্তু পরবর্তী মৌসুমে স্ট্রাইকার ইয়ান রাইট দীর্ঘমেয়াদি ইঞ্জুরিতে পড়লে কপাল খোলে আনেল্কার৷ তিনি দলে নিয়মিত হলেন এবং আর্সেনালের হয়ে পুরো সিজন অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। ১৯৯৭ সালের ননভেম্বরে ইউনাইটেডের বিপক্ষ ৩-২ গোলে জয়ের ম্যাচে আনেল্কা আর্সেনালের হয়ে প্রথম গোলটি করেন৷ অত:পর ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে অপ্রতিরোধ্য এক আনেল্কাকে দেখলো প্রিমিয়ারলীগ। ১৭ গোল করে 'পিএফএ প্লেয়ার অব দ্যা ইয়ার' নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু তার দল লীগ শিরোপা ও এফএ কাপ শিরোপা জয়ে ব্যার্থ হয়৷ অনুৎসাহিত ও আবেগহীন মনোভাবের কারণে আর্সেনাল দর্শক'রা তাকে 'লে সুল্ক' উপনামে ভূষিত করে। সিজনের ক্রান্তিলগ্নে, তার অসুস্থতার জন্য ব্রিটেনকে দায়ী করে তিনি ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গানার্স'দের জন্য তার ভাব ও সম্পর্কের কারণে তিনি বিশ্বাস করতেন, তিনি কখনোও আর্সেনাল ছেড়ে যাবেন না। এটি একটি ক্লাব যার জন্য তার ভালোবাসা আছে। অবশেষে, ২ আগষ্ট ১৯৯৯ সালে আর্সেনালকে বিদায় জানান আনেল্কা। গানার্সদের জার্সি গায়ে আনেল্কা ৯০ ম্যাচে ২৪ গোল করেন!

২ আগষ্ট ১৯৯৯ সাল থেকে আনেল্কা 'দ্যা অল হোয়াইট- গ্যালাক্টিকোস'দের একজন হয়ে যান। ২২.৩ মিলিয়ন ট্রান্সফার ফি'তে তাকে দলে ভেড়ায় স্পেনিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। অল হোয়াইটদের হয়ে প্রথম পাঁচ মাস ব্যার্থ ছিলেন আনেল্কা৷ রিয়ালের হয়ে তার প্রথম গোল আসে ক্লাব বিশ্বকাপে আল-নাসেরের বিপক্ষে৷ দুদিন পর এই একই প্রতিযোগিতায় করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে তিনি হ্যাট্রিক করেন! ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০০ সালে বার্সার বিপক্ষে তিনি প্রথম লা-লীগা গোল করেন। মার্চে কোচ ভিসেন্তে ডেল- বক্সের সাথে কোচিং করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্লাব সভাপতি লরেঞ্জো সানজ তাকে রিয়াল মাদ্রিদে স্থগিত ঘোষণা করেন। আবারো দলে ফেরার পর চ্যাম্পিয়নস লীগ সেমিফাইনালে বায়ার্নের বিপক্ষে দু'পায়ে জোড়া গোল করেন এবং দলকে শিরোপার কাছাকাছি নিয়ে যান। ফাইনালে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। ২০০০ সালের জুলাই মাসে রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় জানান নিকোলাস আনেল্কা।

জুলাইয়ের এক বিকেলে ২২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ৬ বছরের জন্য পিএসজির সাথে আবারো চুক্তিবদ্ধ হন আনেল্কা। আনেল্কা ২০০০-০১ মৌসুমে ফ্রেঞ্চ ডিভিশন ওয়ানে ভালো সূচনা করেন। দলের কাপ্তানের আর্মব্যান্ডও চলে আসে তার কাছে। কিন্তু পিএসজি দিনদিন খারাপ পার্ফমেন্স করতে থাকলে পয়েন্ট টেবলের নবম স্থানে চলে যায়৷ সেদানের বিপক্ষে ৫-১ গোলে হেরে যাওয়া ছিলো লজ্জার চেয়েও নিজেদের অস্তিত্ব হারানোর মাইলস্টোন স্বরুপ।।

আড়াই বছর পর ২০০১ সালের ডিসেম্বরে আনেল্কা আবারো ইংলিশ প্রিমিয়ারলীগে ফিরে আসেন। তবে এবার অলরেড খ্যাত লিভারপুলের জার্সি গায়ে, সিজনের শেষ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদী ঋণ চুক্তিতে। অত:পর, সিজন শেষ হওয়ার পর তার সাথে আর চুক্তি বাড়াতে চায়নি ক্লাবটি।

২০০৫ সালের ২৪ মে, ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফি'র বিনিময়ে আরেক ইংলিশ ক্লাব ম্যাঞ্চেষ্টার সিটিতে যোগ দেন নিকোলাস আনেল্কা। সিটিতে প্রথম মৌসুমেই বাজিমাত করেন তিনি। ক্লাবের হয়ে মৌসুমে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৪ গোল করেন আনেল্কা। ২য় মৌসুমে সিটিজেনদের হয়ে ২৫ গোল নিয়ে ২য় সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি ম্যাঞ্চেষ্টার সিটির হয়ে 
২ সিজনে সকল প্রতিযোগিতায় ৮৯ ম্যাচে ৩৭ গোল করেন নিকোলাস আনেল্কা।

২০০৫ সালে ম্যাঞ্চেষ্টার সিটি ঘোষণা করে আনেল্কা তুর্কিশ ক্লাব ফেরেঞ্চব্যাচের সাথে ৭ মিলিয়ন ট্রান্সফার ফি'র চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। তুর্কিশ ক্লাবটির হয়ে আনেল্কা তুর্কি সুপার কাপ শিরোপা জয় করেন৷

২০০৬ সালের ২৫ আগষ্ট রেকর্ড পরিমান ট্রান্সফার ফি'র বিনিময়ে আনেল্কাকে দলে ভেড়ায় বোল্টন ওয়ান্ডার্স ক্লাব। ৪ বছরের জন্য করা ট্রান্সফার ফি'র মূল্যে ছিলো ৪ মিলিয়ন পাউন্ড! সেপ্টেম্বরে ওয়াটফোর্ডের বিপক্ষে অভিষেক গোল দেয়ার পর টানা দশ ম্যাচ গোলবঞ্চিত থাকতে হয় আনেল্কাকে! ২০০৬-০৭ মৌসুমে বোল্টনের হয়ে সর্বোচ্চ ১০ গোল করেন তিনি। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে, আনেলকা বলেন, তিনি সাবেক ক্লাব আর্সেনালের ফিরতির জন্য বোল্টন ছেড়ে যেতে রাজি হবেন। যাইহোক, তিনি ২০০৭ সালের জুলাই মাসে বোল্টনের ম্যানেজার স্যামি লিয়ের সাথে কথা বলার পর তার ভবিষ্যত অঙ্গীকার করেছিলেন। আনেল্কা পরে বলেছিলেন, তিনি যদি ২০০৭-০৮ মৌসুমে বোল্টনের দারুণ সূচনা অব্যাহত রাখেন তবে ক্লাবটি ত্যাগ করার বিষয়ে অনিচ্ছুকভাবে বিবেচনা করবেন, তবে পরে ৩০ আগস্ট ২০০৮ সাল পর্যন্ত নতুন চার বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ২০০৮ সালের ১১ জানুয়ারিতে চেলসিতে যোগদান করেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমে আনেল্কা মোটামুটি ব্যর্থ ই ছিলেন। ২০০৮ চ্যাম্পিয়নস লীগের চূড়ান্ত পর্বে ম্যাঞ্চেষ্টার ইউনাইটেড গোলকিপার এড্যুইন ভ্যানডার স্যার আনেল্কার পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন; ম্যাচ শেষ আনেল্কা দাবি করেন- এর দায়ী কোচ! কারণ কোচ নাকি তাকে পর্যাপ্ত পরিমান সময় খেলতে দেননি এবং বিকল্প প্লেয়ার হিসেবে খেলাতেন। ২০০৮ সালের ৩ আগষ্ট মিলানকে ৫-০ গোলে হারায় চেলসি। ম্যাচে একাই ৪ টি গোল করেন নিকোলাস আনেল্কা।

২০০৮-০৯ মৌসুমের শুরুতে দিদিয়ের দ্রগবা ইঞ্জুরড হলে, দলের অগ্রভাগ সামলানোর দায়িত্ব পড়ে আনেল্কার কাঁধে৷ নভেম্বরে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৫-০ গোলে জয়ের ম্যাচে আনেল্কা চেলসির হয়ে প্রথম হ্যাট্ট্রিক করেন। ওয়ার্টফোর্ডের বিপক্ষে সে মৌসুমে আনেল্কা আরেকটি হ্যাট্টিক করেন। চেলসিতে বিভিন্ন আলোচনা-আলোচনা- সমালোচনার জন্ম দেন আনেল্কা। স্টেডিয়ামের বাইরে গাড়ি পার্কিং নিয়ে তিনি ক্লাব কর্তৃপক্ষের সাথে ঝামেলায় জড়ান। ড্রেসিংরুম থেকে তাকে আলাদা কক্ষে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। এবং সর্বশেষ, তাকে শাস্তিস্বরূপ- যুব দলের সাথে ট্রেইনিং করতে হতো। এ বিষয়ে আনেল্কা বলেন-

"যেহেতু আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তারা আমাকে যুবকদের সাথে রাখে। পেশাদারদের যে সব কিট ও সরঞ্জাম আছে তা পেয়েছি কিন্তু তারা আমাকে আলাদা আলাদা আলাদা ঘরে রেখেছে - এটি আপনার জন্য ফুটবল।"

চেলসির হয়ে ১৮৪ ম্যাচে মোট ৫৯ গোল করেন নিকোলাস আনেল্কা। অতপর বার্ষিক প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলারে যোগ দেন চীনা ক্লাব সাইংহাই শেনহওয়া ক্লাবে। সাংহাইয়ে অভিষেক গোলটি করেন ম্যাচ শুরুর মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মাথায়! ২৬ জানুয়ারি ২০১৩ সালে ৫ মাসের চুক্তিতে আনেল্কা যোগ দেন ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্তাসে। অতপর ০৪ জুলাই ২০১৩ তে আনেল্কা আবারো ফিরে আসেন ইংলিশ প্রিমিয়ারলীগে, ওয়েষ্ট ব্রোমিভিচ আলভিয়নের হয়ে খেলার জন্য। এবং বলেন- এখানেই তার ক্যারিয়ার শেষ করতে চান! ২২ আগষ্টে তিনি জানালেন- তিনি অবসর নেয়ার জন্য ক্লাব ছেড়ে যাচ্ছেন, স্টাফের একটি অধিবেশন থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এই বলেই! পরবর্তীতে ক্লাব তৎক্ষনাৎ প্রতিক্রিয়ায় জানায়, তার এজেন্টের মৃত্যুর সহানুভূতি স্বরুপ ১ ম্যাচ খেলতে পারবেন না এবং ১ সপ্তাহের জন্য তিনি ক্লাব থেকে ছুটিতে গেছেন!

আবারো ফিরে এসে আনেল্কা একটি গোল করেন এবং তা সেলিব্রেশনের সময় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করেন। ফলে তাকে ৫ ম্যাচের ব্যান দেয়া হয়। সাথে ৮০,০০০ ডলার জরিমানা ও শৃঙ্খলা শেখার কোর্স সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়। ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার জন্য আনেল্কা এবার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। কিন্তু ক্লাব জানায় তারা কোনো বিজ্ঞপ্তি পায়নি- তাই তাকে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ১৪ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে!

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে আনেল্কা ভারতের ক্লাব মুম্বাই সিটি ক্লাবের হয়ে চুক্তিবদ্ধ হন। মুম্বাইয়ে ১৩ ম্যাচ খেলে ২ টি গোল করেন তিনি।

★ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার-

১৯৯৭ ইউরো কাপে যুব প্লেয়ার হিসেবে ফরাসি অনুর্ধ-২০ দলের হয়ে অভিষেক ঘটে আনেল্কার। এবং ১৯৯৮ সালের ২২ এপ্রিল সুইডেনের সাথে তার সিনিয়র দলে অভিষেক হয়। কিন্তু ১৯৯৮ বিশ্বকাপ দলে আনেল্কা ডাক পাননি। ২০০০ ইউরো কাপে তিনি ফ্রান্সের হয়ে শিরোপা জিতেন। কিন্তু ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় আনেল্কা ফ্রান্স দলে তার জায়গা হারান।

২০১০ সালের বিশ্বকাপে মেক্সিকোকে ২-০ গোলে পরাজিত করার সময় অর্ধ-বারে ঢুকে পড়লে কোচ রেমন্ড ডোমেনেকে ডমেনচে তার অবস্থানের সমালোচনার করায় আনেলকা তাকে বলেছিলেন, " ভ ত ফায়ার একুলার, সেল ফিলস ডি পুট , অর্থ, "নিজেকে একজন বেশ্যার ছেলের কাছে নিয়ে যাও"। এই ঘটনার পরে প্রচার মাধ্যম এবং ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) সভাপতি জিন-পিয়ের এসকলেটসেরের নির্দেশে এটি করার জন্য জিজ্ঞাসা করার পরে তিনি ঘটনার জন্য জনসম্মুখে ক্ষমাপ্রার্থী হয়েছিলেন।

পরের দিন, আনেল্কার বহিষ্কারের বিরোধিতা করে প্রতিবাদে দলে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। আনেল্কাকে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ১৮ ম্যাচ নিষিদ্ধ করে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন! এফএফএফ তার কর্মকাণ্ডের শাস্তি হিসেবে কার্যকরভাবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেয়। ১৮ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় আনেল্কা পরে "হাসি দিয়ে মরে" বলে দাবি করেছিলেন, কারণ তিনি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক খেলা থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন!

তিনি বিয়ে করেছেন বেলজিয়ান নৃত্যশিল্পী বারবারা টাউসিয়া'কে। কাহিল ও কয়েজ নামে তার দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তিনি 'লি বুলেট' নামে একটি ফিল্মেও কাজ করেছেন।

© আহমদ আতিকুজ্জামান।

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।