• ক্রিকেট

২০২০ সালের সেরা টি টুয়েন্টি ম্যাচ!

পোস্টটি ২৮৯৪ বার পঠিত হয়েছে

অনেক দিন পর দারুণ একটি টি টুয়েন্টি ম্যাচ দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব আজ ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ৩য় টি টুয়েন্টি ম্যাচে।

জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। ৬ বলে ৯ রানের ইজি সমীকরণ মেলানো মোটেও কঠিন ছিল না নিউজিল্যান্ডের জন্য, কেননা উইকেটে ছিল ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন ও অভিজ্ঞ রস টেলর। উইলিয়ামসন ৯৫ রানে ব্যাট করতেছিল। ভারতের পক্ষে লাস্ট ওভারে বল করতে আসে মোহাম্মদ শামী।
তার করা প্রথম বলেই বিশাল ছক্কা হাকিয়ে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে আসে কিউইরা।
৫ বলে আর ৩ রান লাগতো তখন নিউজিল্যান্ডের। পরের বলে ১ রান নিয়ে ৯৫* তে ব্যাটিং করা অধিনায়ক উইলিয়ামসন কে ব্যাটিং ইন্ডে পাঠায় টেলর। ৪ বলে ২ রান। ব্যাটিংয়ে উইলিয়ামসন, সবাই যখন ভাবতেছিল উইলিয়ামসন কি সেঞ্চুরি করতে পারবে? টি টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তখন মোহাম্মদ শামী হয়তো ভাবতেছিল কিউইদের সহজ ম্যাচ জয়ের সমীকরণ কে কিভাবে কঠিন করা যায় তা নিয়ে।
শামীর করা ৩য় বলে উইকেটের পিছনে দারুণ এক ক্যাচে পরিণত হন ব্ল্যাকক্যাপস অধিনায়ক উইলিয়ামসন। সবাই এই ভেবে কষ্ট পাচ্ছিল যে টি টুয়েন্টি তে মেডেন সেঞ্চুরি হল না উইলিয়ামসনের। কিন্তু ক্রিকেট রোমাঞ্চ যে অন্য কিছু ভেবে রেখেছিল তা কি আর সবাই জানতো!

নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামলো সেইফার্ট। ৩ বলে ২ রান। সহজ সমীকরণ ৫ উইকেট হারানো কিউইদের জন্য। কেননা ৯ বলে ১৭ রান করে অভিজ্ঞ রস টেলর যে তখনো ক্রিজে আছেন। শামী তার ৪র্থ বলটি করলেন শট বল, নতুন ব্যাটসম্যান সেইফার্ট লাগাতেই পারলো না ব্যাটে। ডট বল। ২ বলে ২ রান প্রয়োজন ম্যাচ। এবার কিছুটা ভয় দেখা দিল ব্ল্যাক ক্যাপস সাপোর্টারদের মনে, জিতবে তো ম্যাচ টা? তার থেকে বড় কথা, রস টেসর যেতে পারবে তো ব্যাটিং ইন্ডে? কারণ সে যেতে না পারলে ম্যাচটা বোধহয় হারতেই হবে কিউইদের।
২০ তম ওভারের ৫ম বল নিয়ে আসলেন শামী, ব্যাটিং প্রান্তে ১ বল খেলে শূন্য রান করা সেইফার্ট। এবারের বলটি শামী করলেন বাউন্সার। না, এটিও লাগাতে পারেনি সেইফার্ট। তবে, তবে বল করার সাথে সাথেই দৌড় দিলেন বোলিং প্রান্তে থাকা রস টেলর। উইকেট কিপার রাহুল বল গ্ল্যাপস বন্ধি করেই থ্রো করলেন স্ট্যাম্প বরাবর, কিন্তু না,লাগাতে পারেনি সে, স্ট্যাম্পের গাঁ ঘেসে বল চলে যায়। নিউজিল্যান্ড বাই রান হিসেবে ১ রান পেয়ে যায়। দু দলের স্কোর সমান হয়ে যায়। সমীকরণ ১ বলে ১ রান লাগবে ম্যাচ জিততে হলে। ম্যাচ পুরোপুরি কিউইদের দিকে ঝুকে পড়ে, কারণ ব্যাটিং প্রান্তে এখন রস টেলর, যে ওভারের প্রথম বলেই বিশাল ছক্কা হাকিয়ে ম্যাচ কিউইদের করে নিয়েছিল প্রায়।
শেষ বলটি করলেন শামী, সপাটে মিড উইকেটের দিকে ব্যাট ঘুরালেন টেলর, কিন্তু!!
কিন্তু বল মিড উইকেটের দিকে না গিয়ে ইনসাইডেজ হয়ে স্ট্যাম্পে গিয়ে লাগে! ম্যাচ টাইড! ম্যাচ টাইড।
অবিশ্বাস্য! সহজ সমীকরণ মেলাতে পারেনি উইলিয়ামসনরা।

টাইড ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সুপার ওভারে ব্যাটিং করতে নামেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন ও মার্টিন গাপটিল।
ভিরাট কোহলি বল করার দায়িত্ব তুলে দেয় বুমরার হাতে।

বুমরার ১ম বলে ১ রান নিয়ে প্রান্ত বদল করেন উইলিয়ামসন। ২য় বলে গাপটিলও ১ রান নিয়ে প্রান্ত বদল করেন। ৩ বলে উইলিয়ামসন বিশাল ছক্কা হাকান, ৪র্থ বলে আবারো বাউন্ডারি মেরে দলের স্কোর ৪ বলে ১২ রানে নিয়ে যান কিউই দলপতি। ৫ম বলে ১ রান আসে বাই থেকে। সুপার ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হাকিয়ে স্কোর ১৭ রান করেন গাপটিল। বুমরার ১৭ রান দেওয়ার পর মনে হচ্ছিল সুপার ওভার জিতে ম্যাচটা বোধহয় উইলিয়ামসন গাপটিলরাই জিততে চলেছে। কিন্তু ক্রিকেট রোমাঞ্চ বলে একটা কথা আছে।
১৮ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নামে হিট ম্যান রোহিত ও কেএল রাহুল।

নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচ জিতানোর লক্ষে বল করতে আসেন কিউই পেস বোলার টিম সাউদি। প্রথম বলে ২ রান নেন রোহিত, ২ বলে ১ রান নিয়ে রাহুল কে ব্যাটিং প্রান্তে পাঠান। ৩য় বলে বাউন্ডারি হাকান রাহুল, ৪র্থ বলে আসে ১ রান। ৪ বলে ভারতের স্কোর ৮ রান। জিততে হলে ২ বলে ১০ রান প্রয়োজন। ব্যাটিংয়ে রোহিত শর্মা। ৫ম ও লাস্ট বলে বিশাল দুটি ছক্কা হাকিয়ে অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয় এক ম্যাচ জয় উপহার দেন রোহিত দ্য হিট ম্যান শর্মা। ভারতও পায় সুপার ওভারে তাদের প্রথম জয়।
নিউজিল্যান্ড ২ বলে ২ রানের সমীকরণ মেলাতে না পারলেও ভারতের রো হিট শর্মা সুপার ওভারে ঠিকই ২ বলে ১০ রানের সমীকরণ মিলিয়ে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ উপহার দেন। অসাধারণ ম্যাচ। তবে খারাপ লাগার বিষয়, উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরি না পাওয়াটা।

সংক্ষিপ্ত ম্যাচ সামারী
ভারত ১৭৯/৫ (২০ ওভার)
নিউজিল্যান্ড ১৭৯/৬ (২০ ওভার)
সুপার ওভার জিতে ম্যাচ জয়ী ভারত। ম্যাচ সেরা রোহিত শর্মা।

#πuπ

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।