X
GO11IPL2020
  • ফুটবল

এফএ কাপ কোন রঙে রাঙাবে? লাল নাকি নীল?

পোস্টটি ৩২১ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

দ্যা এফএ কাপ (দ্যা ফুটবল এসোসিয়েশন কাপ) কে ২০১৫ সাল থেকে 'দ্যা এমিরেটস এফএ কাপ' বলা হচ্ছে তার মূল স্পনসরের নামানুসারে। এখন চলছে এফএ কাপের ১৩৯তম আসর। সেমিফাইনালে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্সেনাল। আরেকটি ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চেলসি। উভয় দলই তাদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে চলতি প্রিমিয়ার লিগে টেবিলের দশম স্থানে থেকে সিজন পার করা আর্সেনালের যেন ভাগ্য খুলে যায় এফএ কাপ এলেই। ২০০২ এবং ২০০৭ সালেও আর্সেনাল বনাম চেলসি খেলেছিল এফএ কাপের ফাইনাল ম্যাচ। উভয় ম্যাচেই জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্সেনাল। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দুইদলের মোট চারবার দেখা হয়েছে,  তিনটিতে জয় আর্সেনালের, একটিতে ড্র। 

এই দুইদলের সর্বমোট ২০০ বার সাক্ষাতে সর্বোচ্চ ৭৬ বার জয় পেয়েছে আর্সেনাল এবং বিপরীতে ৬৫ বার জয় পেয়েছে চেলসি। ড্র হয়েছে বাকি ৫৯টি ম্যাচ। আর্সেনাল চেলসির তুলনায় বেশি সংখ্যক শিরোপা জয় করলেও দলের সফলতার দিক দিয়ে এগিয়ে চেলসি। এফএ কাপে আসরে রেকর্ড ১৩টি শিরোপা আছে গানারদের দখলে। উভয় দলই পরস্পরের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী (রাইভাল)। তাদের ম্যাচকে সাধারণত 'নর্থ ওয়েস্ট লন্ডন ডার্বি' বলে আখ্যা দেওয়া হয়।   

                                       IMG_20200723_175630       

 

এই দুইদলের প্রথম খেলা হয় ১৯০৭ সালে, যেখানে চেলসি ২-১ গোলে জয়লাভ করে। সর্বশেষ খেলা হয়েছে এই বছরের জানুয়ারিতে, ম্যাচটি ২-২ গোলের ড্র হয়েছে। নতুন পুরাতন সব সমীকরণকে আপাতত তালাবদ্ধ করে দেখা যাক দলগুলোর বর্তমান অবস্থা। আগামী মৌসুমে ইউরোপা লিগে খেলতে আর্সেনালের ফাইনালে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের ছন্দ উত্থান-পতনের মাঝে খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থার বিষয়ে খেয়াল রাখছে দলটি। আর্সেনালের ডিফেন্স মজবুত করে রাখার দায়িত্বে আছেন ডেভিড লুইজ, তিয়েরনি, মারি, রব হোল্ডিং, ব্যালেরিনরা। তবে ঠিক গতমাসে ইউরোপা লিগ থেকে আর্সেনালকে ছিটকে দেওয়া অলিম্পিয়াকোসের কোচ পেদ্রো মার্টিনসের মতে, আর্সেনালের ডিফেন্সের সেট-পিস হচ্ছে মূল দুর্বলতা, যার সুযোগ তারা কাজে লাগিয়েছিল। গোলরক্ষক বার্নার্ড লেনো ইনজুরিতে থাকায় গোলপোস্ট সামলাচ্ছেন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তবে ফর্মে আছেন আউবামেয়াং, শাকার মতো খেলোয়াড়েরা। অন্যদিকে, চেলসির এনগলো কান্তে ফিরেছেন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে, কান্তেকে নামানো না হলে সুযোগ পাবেন স্কটিশ ফুটবলার বিলি গিলমোর। যথারীতি থাকছেন কোভাচিচ, আলোনসো, জর্জিনহো, জিরুড, উইলিয়ানরা। 

চেলসির দায়িত্বে আছেন ফ্র‍্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, আর্সেনালের দায়িত্বে মিকেল আরটেটা। উভয় ম্যানেজারই নিজেদের ফুটবল ক্যারিয়ারে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মগ্ন থাকতেন। নিঃসন্দেহে ১লা আগস্টেও ডাগ আউটে তাদের নীরব লড়াই একইভাবে চোখে পড়বে। সেই লড়াইয়ের প্রতিফলনকে ম্যাচে কাজে লাগিয়ে শিরোপা কার ঘরে যায়, সেটিই দেখার অপেক্ষায় আছে ফুটবলপ্রেমীরা।