• ক্রিকেট

বঙ্গবন্ধু টি টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে এখনো অবধি সেরা ম্যাচ

পোস্টটি ১১৫৮ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

হোয়াট অ্যা ম্যাচ!

প্রথমে ব্যাট করে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী উড়ন্ত সূচনা পায় নাজমুল শান্ত ও আনিসুল ইসলাম ইমনের ব্যাটে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১৩১ রানের পার্টনারশিপ ভাঙ্গে ইমনের ৩৯ বলে ৬৯ রানের অনবদ্য ইনিংসের সমাপ্তির মাধ্যমে। কিন্তু অপর প্রান্তে থাকা অধিনায়ক নাজমুল শান্ত তখনো প্রতিপক্ষ বোলারদের পিটিয়েই যাচ্ছিলেন, থামলেন টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি করে। ৫৫ বলে ১০৯ রানের শতকটিতে ছিল ১১টি বিশাল ছক্কার মার। লাস্ট ওভারে আবার ফরচুন বরিশালের পেসার কামরুল রাব্বি হ্যাট্রিক করে বসলেন হ্যাট্রিকসহ নিলেন ৪ উইকেট।
২২১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ফরচুন বরিশাল শুরু থেকেই ছিল মারমুখী। বিশাল টার্গেট যে তারা চেজ করতেছে, তা মনেই হয়নি। ইনিংসের মাঝপথ থেকে তাদের রান রেট যে ১২ এর উপরে উঠেছে, তা আর নিচে নামেনি। 
সাইফ হাসান ও তামিম ইকবালের ওপেনিং পার্টনারশিপ বেশি বড় না হলেও শক্ত ভিত তারাই গড়ে দেয়। তামিম ৩৭ বলে ৫৩ রান করে আউট হলেও ৩ নাম্বারে নামা তরুন পারভেজ হোসেন ইমন ছিল অবিচল। মাত্র ৪২ বলে ১০০* রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে সে। সেই সাথে দেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যথেকে টি টুয়েন্টি তে দ্রুততম সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়ে।।
বরিশাল ১১ বল হাতে রেখে ২২১ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে। ৮ উইকেটের বিশাল জয় পায় তামিমের ফরচুন বরিশাল।
টুর্নামেন্টে আজকের (বরিশাল বনাম রাজশাহী) ম্যাচের আগে কোনো সেঞ্চুরি ছিল না। আজকে দুটো হল দুই দল থেকে।
টুর্নামেন্টে এই ম্যাচের আগে কোনো দলীয় ২০০+ স্কোর ছিল না। এই ম্যাচে দুই দলই ২০০+ স্কোর করলো।
টুর্নামেন্টে ছিল না কোনো হ্যাট্রিক। সেটাও এই ম্যাচে হয়ে গেল।
টুর্নামেন্টে এই ম্যাচ পর্যন্ত মোট ছক্কা ১৬০টি।
যার ২৮টিই হল আজকে!
রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা ১৮টি ছক্কা হাকিয়েছে। যার ১১টি আবার নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে।
অন্যদিকে বরিশালের ব্যাটসম্যানরা ছক্কা হাকিয়েছে ১০টি। যার ৭টিই হাকিয়েছে তরুণ ব্যাটসম্যান, সেঞ্চুরিয়ান পারভেজ ইমন।
অসাধারণ এক ম্যাচ।
সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হল, দেশের তরুণ ক্রিকেটার, যারা আগামীর ক্রিকেট ভবিষ্যৎ। তারা দারুণ পারফর্ম করছে/করতেছে।
বিশেষ করে নাজমুল শান্ত ও পারভেজ ইমনের কথা বলতে পারি, তারা যায়গায় দাড়িয়ে যেভাবে ছক্কা হাকিয়েছে, সত্যিই চোখের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। আজকের ম্যাচের সবগুলোই ওভার বাউন্ডারিই ব্যাটসম্যানরা যায়গায় দাড়িয়ে হিট করেছে। অথচ একটা সময় দেশের ক্রিকেটে এমনটা দেখা যেত না। ডাউন দ্য উইকেটে এসেও ছক্কা মারলে সেগুলো বাউন্ডারি লাইন পার করতো না। আর দু একটা ছক্কা হলেও মনে হতো অনেক জোড় খাটিয়ে তবেই বুঝি আমাদের ব্যাটসম্যানদের ছক্কা হাকাতে হয়।
যাইহোক, এই তরুণ ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও এভাবে খেলবে/খেলুক, সেটাই আশা করছি।
অসাধারণ ম্যাচ
অসাধারণ কিছু ইনিংস দেখলাম আজকের মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী ও ফরচুন বরিশালের ম্যাচে