• ক্রিকেট

মিরাজ কি আসলেই অতটা আলোচনায় আসার যোগ্য?

পোস্টটি ৫৩০ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর খুলনা। ঢাকা, চট্টগ্রামের পরেই খুলনার অবস্থান। খুলনা শহরেই বাংলাদেশের  অনেক তারকা ক্রিকেটারের জন্ম। 

এই খুলনা শহরের খালিশপুরে মেহেদি হাসান মিরাজের জন্ম। বড় তারকা এখনো হয়ে উঠেননি। তবে,  বড় ক্রিকেটার হওয়ার সব গুণ তাঁর মধ্যে আছে। 

মিডিয়াতে নাকি মিরাজকে নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। অনেকে নাকি মিরাজকে 'মিডিয়া ম্যান' ডাকে? তাঁর যেরকম রেটিং পাওয়া উচিত, তার থেকে নাকি বেশি রেট করা হয়?

আসলে কি মিরাজ অতটা আলোচনায় আসার যোগ্য?  

টেস্ট দিয়ে শুরু করবো, না ওয়ানডে? নাকি টি-টুয়েন্টি?  

খুব স্বাভাবিক হয় টেস্ট দিয়ে শুরু করলে। টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক তাঁর। এই টেস্ট দিয়ে তো মূলত আলোচনায় এসেছিলেন। 

২০১৬ সাল। অক্টোবর।  ইংল্যান্ডের বিপক্ষে  অভিষেক হলো মিরাজের। তাঁর অভিষেকটা হলো  মনে রাখার মতো। 

কেন মনে রাখার মতো হলো শুনেন,  তাঁর প্রথম টেস্ট উইকেটটা ছিল বেন ডাকেটের। বেন ডাকেটও সে ম্যাচে অভিষিক্ত খেলোয়াড় ছিলেন। বিশ্বের সপ্তম এবং বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক টেস্টে পাঁচ উইকেট শিকার করেন মিরাজ। এরপর তো আরো কয়েকটা রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ বিশ্বের ষষ্ঠ  বোলার, যার ক্যারিয়ারের শুরুর দুই টেস্টে তিন বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট আছে।। বিশ্বের নবম খেলোয়াড় এবং বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড়ে হিসেবে অভিষেক টেস্ট সিরিজে 'ম্যান অব দ্য সিরাজ' নির্বাচিত হন মিরাজ। ঐ সিরিজে মিরাজ পেয়েছিলেন ১৯ উইকেট! 

তবে  সিরিজে তাঁর ব্যাটিং পারফরমেন্স ছিল বিবর্ণ।  ৪ ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৫ রান! তখনকার অধিনায়ক  মুশফিকুর রহিম তো বলেছিলেন,"এটা দিয়ে মিরাজের ব্যাটিং সামর্থ্যকে বিচার করা যাবে না।মিরাজ একজন ভালো ব্যাটসম্যান। মিরাজ একদিন  গ্রেট অলরাউন্ডার হবেন"। সে আলোচনা তোলাই  থাক।  

ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে দলে ঢুকলেও, তাঁকে বানিয়ে দেওয়া হয় পুরোদস্ত্বর বোলিং অলরাউন্ডার।   তাঁর ডিফেন্স,  তাঁর শট মেকিং,  তাঁর হ্যান্ড থ্রু দ্য লাইন,  তাঁর বডি, হেড, এপ্রোচ সবই দারুণ।  তাঁর সামর্থ্যের গভীরতা,  ব্যাটসম্যানশীপের উচ্চতা তো আমরা দেখেছি গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। 

তাঁর  আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে একটা জায়গায় এতোদিন ছিল শূন্যের রাজত্ব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে সেই আক্ষেপটাও ঘোচালেন। স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেই  মিরাজ নিজেকে আরো চূড়ায় নিয়ে যেতে পারবেন এতে কোনো সন্দেহ নেই।  

২৪ ম্যাচে পেয়েছেন ১০০ উইকেট।যা বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম। 

বোলার মিরাজ দেশে যেমন বিধ্বংসী; বিদেশি যেন ঠিক তার বিপরীত। ক্যারিয়ারে ১০০ টেস্ট উইকেটের মধ্যে বিদেশে পেয়েছেন ১১ ম্যাচে মাত্র ২৯ উইকেট!  একটা উইকেট নিতে খরচ করেছেন প্রায় ৫৮ রান। ক্যারিয়ারে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন সাতবার।  এরমধ্যে বিদেশের মাটিতে মাত্র একবার! 

সাকিব আল হাসানের  বড় অস্ত্র আর্মার।  এই আর্মার গুলা শক্তিশেল হয়ে বিঁধে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের বুকে।উইকেট থেকে সুবিধা না পেলেও,  এই আর্মার দিয়ে উতরে গেছেন অনেক বার। মিরাজের বলে এরকম আলাদা অস্ত্র নেই বললে চলে। বর্তমান ক্রিকেটে ঠিকে থাকতে হলে,  বোলিং যে আলাদা বৈচিত্র্য আনতে হবে এটা মিরাজের ভালো বুঝার কথা।  

গ্রেট অলরাউন্ডারের কথা তোলাই থাক কেন বললাম। মুশফিকের কথা সত্য প্রমাণিত করতে  হলে মিরাজকে যে  ব্যাটে-বলে  অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

টেস্টের মিরাজ  আলোচিত হতেই পারে। অন্তত এটা বলা যায়।  

IMG_20210304_225546

ওয়ানডেতে মিরাজ কী রকম?  কিংবা টি-টুয়েন্টিতে? আমার মনে হই, ওয়ানডেতে মিরাজকে নিয়ে একটু বেশি কথা হয়। অতটা হয়তো মিরাজ ডিজার্ব করে না।  বছর চারেকের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে রান মাত্র ৩৯৩! গড় মাত্র ১৭. ৮৬! পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস মাত্র একটা। অনেকে বলতে পারেন, নিচের দিকে ব্যাটিং করেছেন। তাঁর জায়গায় ব্যাটিং করেও তো অনেকে রানের দেখা পেয়েছেন। ব্যাটিং সামর্থ্য থাকার পরও সেভাবে একদিনের ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। বোলিংটাও অতটা ভালো বলা যাবে না! ৪৪ ম্যাচে মাত্র ৪৭ উইকেট! পাঁচ উইকেটের দেখা পান নাই এখনো। সর্বশেষ,  উইন্ডিজ সিরিজে এক ম্যাচে ২৫ রানে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন। এটাই একদিনের ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং।

বিশ ওভারের কথা অল্প একটু বলি।টি-টুয়েন্টিতে  গোটা ক্যারিয়ার মিলিয়ে রান ১০০ পেরোতে পারেনি। ১৩ ম্যাচে ৯৪ রান মাত্র!  গড় ১০.৪৪! উইকেট সংখ্যা ৪টা!  

অভিষেক সিরিজে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পারফরমেন্সটাই  হয়তো মিরাজের সেরা পারফরমেন্স। এটা বাদ দিলে বলার মতো বড় কিছু থাকে? 

মিরাজকে কাটাছেঁড়া করার সময় হয়তো এখনো আসেনি। কিন্তু,  তাঁকে নিয়ে এতো মাতামাতি করার মতো তেমন কিছুই এখনো হয় নাই। এটা বললে কি ভুল বলা হবে? 

মিরাজের ক্যারিয়ার হয়তো আরো দীর্ঘ হতে পারে।   পারফরমেন্স না করলে, সেটা থেমেও যেতে পারে। 

মিরাজকে নিয়ে এতো আলোচনা-সমালোচনা। এতো প্রত্যাশার চাপ।অদূর ভবিষ্যতে মিরাজ কি পারফরমেন্স দিয়ে সেটার জবাব দিতে পারবেন? নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন? নাকি শুধু আলোচনায় থাকবেন?