• ক্রিকেট

ভুলে ভরা সিরিজ!

পোস্টটি ২৪৫ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

এবারের নিউজিল্যান্ড সফর বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক দুঃস্বপ্ন হয়েই থাকবে।বাংলাদেশ দল দেশ ছাড়ার আগে যে আশার কথা শুনিয়েছিল, মাঠে তার প্রতিফলন ঘটেনি একটুও। বরংচ তারা যে হার উপহার দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের,তা যেন কোনভাবেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়।নিউজিল্যান্ডের সাথে আমাদের জয়ের হিসেবটা একেবারেই শুন্যের ঘরে হলেও,এবারের হিসেবটা কি অন্যরকম হতে পারত না? ভুলে ভরা এক দুঃস্বপ্নের সফর ছিল এবারের নিউজিল্যান্ডের সফর।খাতা-কলমে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের থেকে সবদিক থেকেই অনেকাংশে এগিয়ে।যখন শক্তিশালী একটা দলের সাথে আপনি খেলবেন,তখন আপনার মানসিক অবস্থার যে দৃঢ়তা থাকা দরকার,সেটা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল।গড্ডলিকায় গা ভাসিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দলের সাথে আপনি জয়ের চিন্তা করবেন,এটা একধরনের দিবাস্বপ্নের মত। এবারের সিরিজে যতগুলো ক্যাচ বাংলাদেশ দল মিস করেছে,সেগুলো যে কোন দলের জন্যই হুমকির। ক্যাচ মিসের এই মহড়া বোলারদের যেমন উইকেট থেকে বঞ্চিত করেছে,তেমনি বাংলাদেশের হার নিশ্চিত করেছে।একটা উইকেট বোলারের আত্নবিশ্বাসকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়;যা তার পরবর্তী উইকেট শিকারে সহায়ক হয়।কিন্তু,বাংলাদেশ এই সুবিধা থেকে যেমন বঞ্চিত হয়েছে,তেমনি বিপক্ষ দলের উপর চাপ প্রয়োগে সম্পুর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।বোলারদের আক্ষেপের গল্প উঠে এসেছে তাসকিন আহমেদের অকল্যান্ডে টেলিভিশনে দেয়া তাঁর একটি সাক্ষাৎকারে।সেখানে ম্রিয়মাণ কণ্ঠে তাসকিন বলেছেন, "মাঠে এত ভুল করে নিউজিল্যান্ডের মতো একটা বিশ্বমানের দলকে হারানো যাবে, এটা চিন্তা করা বাতুলতা, ‘আমরা মাঠে অনেক ভুল করেছি। অনেক ক্যাচ ফেলেছি। যখন কোনো দল নিউজিল্যান্ডের মতো একটা বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে খেলতে নামবে, তখন ওই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। ক্যাচ ফেলে কখনোই নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে হারানো যাবে না।" শুধু কি ক্যাচ মিস? সহজ রান আউট মিস করে বাংলাদেশ দল যেন নিউজিল্যান্ডকে জয়টা ঘরে তুলে দেয়ায় সাহায্য করেছেন।ক্রিকেটে এত বছরে অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের এমন পরিস্থিতি সত্যিই দুঃখজনক।

ব্যাটিং ব্যার্থতা বাংলাদেশ ক্রিকেটের পুরাতন একটি ব্যাধি হলেও,এবারে এই ব্যাধিটা যেন একটু বেশিই ভুগিয়েছে।কখনো ওপেনিং ব্যর্থতা,আবার কখনো মিডল অর্ডার! যাদের উপর ব্যাটিংয়ের ভিত্তিটা অনেকটাই দাঁড়িয়ে থাকে,বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।শুরুর ধাক্কাটা সামলানোর মত শক্তিশালী মিডল অর্ডারও খুঁজে পাওয়া যায়নি পুরো সিরিজ জুড়ে।সামান্য যা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছিল,সেটা ম্যাচ জেতানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।ক্রাইশচার্চের ম্যাচ ছাড়া আর কোন ম্যাচেই বোলারদের উপর প্রভাব খাটাতে পারেনি বাংলাদেশ। 

বাজে ফিল্ডিং আর ব্যাটিংটা বাদ দিলে,বোলারদের হিসেবেটা হয়তো একটু মিললেও মিলতে পারে।তবে,শেষ টি-টোয়েন্টি বোলারদের এই হিসেবও গড়বড় করে দিয়েছে।নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং তোপে বোলারদ তথা বাংলাদেশ দলের লজ্জার বোঝাটা আরও ভারী করেছে।কারণ,আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ইনিংসে খরুচে বোলিং করার সবার শীর্ষে থাকার তকমাটা যে এখন বাংলাদেশেরই।যে মেহেদী মিরাজ কয়েকদিন আগেই আইসিসি র‍্যাঙ্কিয়ে নিজের সেরা অবস্থান দখল করলেন,সেই মিরাজ বল হাতে উইকেট শুন্য!মোস্তাফিজুর রহমান ঘরের মাঠে চমৎকার বোলিং করলেও,নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিজের দ্যুতিটা ছড়াতে পারেনি মোটেই।

প্রতিটি ম্যাচ শেষে অধিনায়কের সেই একই উত্তর,আমরা আশানুরূপ খেলতে পারিনি।আগামী ম্যাচে ভুলগুলো শুধরে নেব।কিন্তু,ভুলের বোঝাটা হালকা করার বদলে প্রত্যেকবারই বেড়েছে।

এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক মহা শিক্ষা। এই শিক্ষাটা যদি বাংলাদেশ নিতে না পারে,তাহলে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা।

লড়াই করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাংলাদেশ জয় ছিনিয়ে আনুক;নয়তো অন্তত লড়াকু মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরুক বিশ্বের দরবারে।আমরা বিশ্বকে চিনিয়ে দিতে চাই,আমরা বীরের জাতি;'অসহায় আত্নসমর্পণ" নামক কোন শব্দ আমাদের অভিধানে নাই। আগামী শ্রীলঙ্কা সিরিজে বাংলাদেশ অনেক ভালো খেলা উপহার দিবে এই কামনা করছি।