• ক্রিকেট

ক্রিকেটে বাংলাদেশের নেপথ্যে উত্থানের কারিগর (পর্ব- ১)- সালাউদ্দিন

পোস্টটি ৮৯৪ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

সারাবছর ই তো পর্দায় ক্রিকেটার দের খেলা দেখে দেখে আমরা সময় কাটাই,কিন্তু আমরা কজন এদেশের ক্রিকেটারদের গড়ে উঠার পেছনে দেশীয় কোচদের দেশের ক্রিকেটে অবদান সমন্ধে জানি?দেশের ক্রিকেটের বর্তমান সাফল্যের  পেছনে কিন্তু তাদের ই অবদান। এদের বিসিবি না করে সঠিক মূল্যায়ন না করে আমাদের মিডিয়া না মূল্যায়ন পায় আমাদের থেকে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যখন সাধারনত নিজ দেশের স্থানীয় কোচদের মূল্যায়ন করা হয়, কারণ স্থানীয় কোচরা যেভাবে ক্রিকেটারদের পালস বুঝে সেরাটা বের করে আনেন।বাংলাদেশী কোচ রা বোর্ড থেকে পর্যাপ্ত সম্মানী পান না উল্টো অবহেলার শিকার হয়ে থাকেন।


তামিম সাকিব একটু ফর্ম হীন হলেই কোন বিদেশী কোচের দ্বারস্থ হন না।তারা তাদের দুর্দিনে দেশীয় কোচদের কাছে  দীক্ষা গ্রহণের জন্য চলে আসেন। কারণ তারা এসব কোচদের কাছে ক্রিকেটের হাতেখড়ি  পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের আজকের অবস্থানের পেছনে আমাদের দেশের কোচদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের  ক্রিকেটের আনসাং হিরোদের জানার জন্য এই প্রচেষ্টা। আজকের পর্বে জেনে নেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে সালাউদ্দিন স্যারের অবদান।

 

মাশরাফির ভাষায়

" বাংলাদেশের ইতিহাসে সালাউদ্দিনের মতো কোচ কখনও জন্মায়নি"

 

সালাউদ্দিন ।ছবি : বাংলা ট্রিবিউন

প্রয়ই জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা সালাউদ্দিন স্যারকে নিয়ে এভাবে প্রায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে থাকেন।

মাশরাফি সাকিব তামিম মুমিনুলের প্রিয় কোচ।দেশের অধিকাংশ ক্রিকেটারদের শেষ ভরসা। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ২৩ বছর বয়স থেকেই পার্ট টাইম কোচ হিসেব বিকেএসপিতে।ইনজুরির কারণে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার ২৩ বছর বয়সে শেষ হয়ে যায়। ভারতের পাতিলায়া ক্রিকেট একাডেমি থেকে  রেকর্ড সংখ্যক নম্বর পেয়ে কোচিং এ লেভেল সার্টিফিকেট পান। এরপর প্রথম পরীক্ষায় তিনি বাজিমাত করেন, ঢাকা প্রিময়ার লিগের দল ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের দায়িত্ব নিয়ে ২০০১-২০০২ মৌসুমে  চ্যাম্পিয়ন বানান। এরপর চলতে থাকে সালাউদ্দিনের দেশের ক্রিকেটে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা।দ্রুতই সাকিব তামিম, মুশফিকের মত প্রতিভা খুঁজে নেয় তার জহুরী চোখ।
সময়ের পরিক্রমায় ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন।সাকিব-তামিম-মুশফিকদের জাতীয় দলে আসার পেছনে সালাউদ্দিনেরও বড় ভুমিকা রয়েছে,ছিলেন বিকেএসপির কোচ। ঘরোয়া ক্রিকেটের অসংখ্য খেলোয়াড় সালাউদ্দিনের নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন।দেশের কোচদের মধ্যে সালাউদ্দিন অনন্যা কোচদের চাইতে যোজন যোজন এগিয়ে।বাংলাদেশী কোচদের মধ্যে সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল কোচ সালাউদ্দিন। ঘরোয়া ক্রিকেটে গত কয়েক বছর ধরে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া কোচ তিনিই। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী, গাজী ট্যাংকের দায়িত্ব নিয়ে শিরোপা জিতেছেন কয়েকবার। ঘরোয়া ক্রিকেটে সালাউদ্দিনের সাফল্যের পাল্লা অনেক ভারী।এই দেশি কোচের অধীনে দু'বার চ্যাম্পিয়ন হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ২০১৫, ২০১৭ সালে। ২০১৮ বিপিএল আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের প্রধান কোচ এবং ২০২০ বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ঢাকা প্লাটুনের প্রধান কোচ ছিলেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এ ছাড়া ২০১৪ সালে সিলেট সিক্সার্স ও ২০১৬ সালে চিটাগং ভাইকিংসের কোচ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলার রেকর্ড আছে তার। সিঙ্গাপুর জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

আজকে সাকিবের বিশ্ব সেরা হবার পেছনে এই সালাউদ্দিনের অবদান সব থেকে বেশি। শচীন টেন্ডুলকারের জীবনে রমাকান্ত আচরেকারের যে রকম ভূমিকা সেরকম সাকিবের ক্রিকেটে উত্থানের পেছনে এই ব্যক্তির অবদান সবচেয়ে বেশি।২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে সাকিবের অফ ফর্ম যাচ্ছিল,এমনকি আইপিএলে খেলার সুযোগ ও পাচ্ছিলেন না। সাকিব তার ফর্মের কামব্যাক করার জন্য সবসময়ের গুরু সালাউদ্দিনের শরানপন্ন হন।
 

সালাউদ্দিনের অধীনে বিশ্বকাপের আগে প্রায় দুমাসের মত নিবিড় অনুশীলন শুধু টেকনিক্যাল প্রস্তুতি নয়, মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি সারেন সাকিব।ফলাফল বিশ্বকাপে সাকিবকে আর পায়কে? সালাউদ্দিনের অধীনে হারানো আত্মবিশ্বাস আগুনের স্ফুলিঙ্গের বেগে ফিরে পান।সাকিব ব্যাট বলে যেন যেন সুপার হিউম্যান বনে যান।৬০৬ রান ও ১২ উইকেট নিয়ে তর্কাতীত ভাবে বিশ্বকাপের সেরা পারফর্মার ছিলেন। তাইতো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সাথে সেঞ্চুরির পর সাকিব গুরুকে ধন্যবাদ দিয়ে বার্তা পাঠান

‘থ্যাংক ইউ স্যার’


দেশের কোচিং জগতে সালাউদ্দিনকে প্রথম সারির যোদ্ধা বলা যায়,যেভাবে জাতীয় দল বা বাইরের খেলোয়াড়দের বাজে ফর্মকে  তুড়ি মেরে সেরাটা বের করে আনেন সেটা খুব কম কোচই পারেন। আজো জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা কিছু হলেই সালাউদ্দিনের শরণাপন্ন হন। ২০১৯ বিশ্বকাপে পর  সালে তিনি জাতীয় দলের কোচ হবার দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন,তবে রহস্যজনক কারণে তিনি কোচ হতে পারেন নি।

অর্জনঃ

  • জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচের কোচের দায়িত্ব পালন ২০০৫-১০ সাল পর্যন্ত।
  • বর্তমানে সিঙ্গাপুর জাতীয় দলের কোচ।
  • বিপিএলে ২০১৫ ও ২০১৭ সালে শিরোপা জয়
  • ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং কে দুইবার এবং গাজী ট্যাঙ্ক ক্রিকেটার্স এবং আবাহনীর হয়ে একবার করে শিরোপা জয়।

 

দেশের ক্রিকেটে সালাউদ্দিনের অবদান উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে বারবার।দেশের সেরা ক্রিকেটাররা যেকোন প্রয়োজনে সালাউদ্দিনের শরনাপন্ন হন ,বিসিবি কি পারেনা তাকে জাতীয় দলের দায়িত্বভার দীর্ঘসময়য়ের জন্য দিতে!