• ক্রিকেট

ক্রিকেটে বাংলাদেশের নেপথ্যে উত্থানের কারিগর (পর্ব- ৩)-নাজমুল আবেদীন ফাহিম

পোস্টটি ৩৭৬ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

সারাবছর ই তো পর্দায় ক্রিকেটার দের খেলা দেখে দেখে আমরা সময় কাটাই,কিন্তু আমরা কজন এদেশের ক্রিকেটারদের গড়ে উঠার পেছনে দেশীয় কোচদের দেশের ক্রিকেটে অবদান সমন্ধে জানি?দেশের ক্রিকেটের বর্তমান সাফল্যের  পেছনে কিন্তু তাদের ই অবদান। এদের বিসিবি না করে সঠিক মূল্যায়ন না করে আমাদের মিডিয়া না মূল্যায়ন পায় আমাদের থেকে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যখন সাধারনত নিজ দেশের স্থানীয় কোচদের মূল্যায়ন করা হয়, কারণ স্থানীয় কোচরা যেভাবে ক্রিকেটারদের পালস বুঝে সেরাটা বের করে আনেন।বাংলাদেশী কোচ রা বোর্ড থেকে পর্যাপ্ত সম্মানী পান না উল্টো অবহেলার শিকার হয়ে থাকেন।
তামিম সাকিব একটু ফর্ম হীন হলেই কোন বিদেশী কোচের দ্বারস্থ হন না।তারা তাদের দুর্দিনে দেশীয় কোচদের কাছে  দীক্ষা গ্রহণের জন্য চলে আসেন। কারণ তারা এসব কোচদের কাছে ক্রিকেটের হাতেখড়ি  পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের আজকের অবস্থানের পেছনে আমাদের দেশের কোচদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের  ক্রিকেটের আনসাং হিরোদের জানার জন্য এই প্রচেষ্টা।আসুন দেখে নেই যারা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ নাজমুল আবেদীন ফাহিম স্যরের অবদান নিয়ে জানি  -

 

লিটন দাসের ভাষ্যমতেঃ

এখন আমি বিপদে পড়লে নাজমুল আবেদিন ফাহিম স্যারের কাছে যাই। বিপদে-আপদে সবসময়ই তাকে পাশে পেয়ে থাকি..

বিপদে পড়লে এখনো সাকিব, তামিম, মুশফিক ফাহিম স্যারের কাছে এভাবেই ছুটে যান।

 

মুশফিকের সাথে আলাপচারিতায় প্রিয় ফাহিম স্যার।ছবি :ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত

বাংলাদেশের ক্রিকেট জগতে খুবই পরিচিত নাম নাজমুল আবেদীন ফাহিম ।ক্রিকেটারদের কাছে তিনি ফাহিম স্যার নামে পরিচিত। সাকিব মুশফিকের গড়ে  ওঠার পেছনে ফাহিম স্যার নামে খাত নাজমুল আবেদীন ফাহিমের অবদান কম নয়। তিনি দেশের ক্রিকেটের সাথে প্রায় ৩২ বছর ধরে সংযুক্ত । ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি বিকেএসপিতে  ক্রিকেট কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এরপর ২০০৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘকাল বিসিবির গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগে কাজ করে দেশের ক্রিকেটের পাইপলাইন সমৃদ্ধ করেছেন। আবেদীন ফাহিম। কোচ, কিউরেটর, ম্যানেজার, মেন্টর বিভিন্ন ভূমিকায় তাকে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন সময়ে।জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যখন কোন সমস্যায় কিংবা বাজে ফর্মে থাকে,তখন তারা ফাহিম স্যার এর শরণ নেন।বিশেষ তিনি করে তিনি মুশফিক তামিমের খুবই প্রিয় কোচ।



ক্রিকেটারদের টেকনিক্যাল ও মানসিক দিকগুলো তে উন্নতি সাধনের জন্য টোটকা দেয়ার জন্য বিখ্যাত । মুশফিকের প্রিয় কোচ বিকেএসপির সেই ফাহিম স্যার,একটু বাজে ফর্মে পড়লেই মুশফিক উনার কাছে চলে যান।   দুই বছর বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের দায়িত্বে ছিলেন। বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল সর্বপ্রথম এশিয়া কাপ জিতে তার অধীনেই। বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের পিচও তার হাতেই বানানো। দেশের ক্রিকেটীয় অবকাঠামোয় হাজার  সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও  পাইপলাইনে শত শত খেলোয়াড় বের করে আনা ফাহিম স্যারের ই মস্তিষ্কপ্রসূত।


দেশের ক্রিকেটে এত অবদান থাকা সত্ত্বেও বিসিবি তাকে সঠিক মূল্যায়ন করেনি। সঠিক মূল্যায়ন তো করেনি বরং তার কাজের সেক্টর সংকুচিত করে তাকে  অপমান অপদস্থ করে  বোর্ড।
'কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা  না থাকায়' তিনি  ২০১৯ এর শেষের বের হয়ে যান  বিসিবি থেকে। বের হওয়ার সময় বের হন একরাশ হতাশা নিয়ে।তার উক্তিটি দেশের বিসিবির কর্তাদের অবহেলার চিত্র প্রকাশ তুলে ধরবে

‘কাজের ক্ষেত্রটা যদি মনের মতো না হয়, সেটি উপভোগ করা যায় না। কাজ উপভোগ করা জরুরি। আমি ঠিক উপভোগ করতে পারছিলাম না। এ কাজ চালিয়ে যাওয়ার তাই যৌক্তিকতা নেই।’

দেশের ক্রিকেটে আবার অবদান রাখতে ফিরে গেছেন আপন নীড় বিকেএসপিতে '৫-৬ বছর' কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে।  দেশের ক্রিকেটার তৈরির কারিগরদের সাথে বোর্ডের এধরণের আচরণ সত্যিই উদ্বেগজনক।

অর্জন

  • ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি বিকেএসপিতে  ক্রিকেট কোচের দায়িত্ব পালন
  • ২০০৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিসিবির গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগে প্রধানের দায়িত্বে থেকে দেশের ক্রিকেটের পাইপলাইন সমৃদ্ধে অবদান

কোচদের অবমূল্যায়নের সর্বশেষ জঘন্য নজির দেখা যায় বিসিবির ফাহিম স্যারের সাথে। ফাহিম স্যারের ত্যাগ কিংবা প্রজ্ঞার নুন্যতম মুল্যায়ন করেছে বিসিবি? উল্টো প্রতি পদে পদে অপদস্থ করেছে ফাহিম স্যারকে।