• ফুটবল

এসি মিলান আর হারিয়ে না যাক!

পোস্টটি ৪৮১ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এসি মিলানের প্রথম লীগ শিরোপা ছিলো ১৯০১ সালে। পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ বিভেদে নতুন ক্লাব সৃষ্টি হওয়া সহ বিভিন্ন কারণেই ১৯৫০-৫১ মৌসুম পর্যন্ত আর কোনও লীগ শিরোপা আসেনি। কিন্তু পরের দুই দশকে "রোজোনেরি" দের উত্থান শুরু; ৫ বার "স্কুডেট্টো",  ১৯৬৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা; পরবর্তীতে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত আরো ২ টি স্কুডেট্টো আর ১ টি চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা! 

 

ইটালি তথা ইউরোপীয় ফূটবলে এসি মিলানের উত্থানে অন্যতম ভূমিকা রাখেন ইটালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনি। ১৯৮৬ সালে ক্লাবের মালিকানা কিনে নেয়ার পরেই ক্লাব কে ঢেলে সাজান। কোচ আরিগো সাচ্চি, ডাচ কিংবদন্তি রুড গুলিত, মার্কো ফন বাস্তেন আর ফ্রাংক রাইকার্ড কে এসি মিলান সাইন করান, সাথে ছিলেন মালদিনি, রবার্তো ডোনাডুনি, ফ্রাংকো বারেসির মতো তারকারা। সেই সময়েই এসি মিলান "দ্যা গ্রেটেস্ট মিলান টিম" উপাধি পায়। কি ছিলোনা সেই দলে! ফ্রাংকো বারেসি, পাওলো মালদিনি, আলেসান্দ্রো কোস্টাকুর্তা, ফ্রাংক রাইকার্ড কিংবা কার্লো আনচেলত্তি, রুড গুলিত আর ডোনাডুনি, মার্কো ফন বাস্তেনের মতো তারকা! ফলাফল টানা ৩ টি লীগ শিরোপার সাথে ব্যাক টু ব্যাক চ্যাম্পিয়নস লীগ! ওয়ার্ল্ড সকার ম্যাগাজিন তো দেই দলকে সর্বকালের সেরা দল হিসাবেও আখ্যা দেয়।

 

পরবর্তী দেড় দশক এসি মিলান ইউরোপীয় ফুটবলে দাপটের সাথে পদচারণ ছিলো। সাচ্চির পর কোচ হয়ে আসেন ফ্যাবিও ক্যাপেলো, সে সময় আসে টানা তিন লীগ শিরোপার সাথে ১৯৯৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লীগ'ও! এরপরে কার্লো আনচেলত্তির দায়িত্ব নেয়ার পর মিলান জিতে '০৩ ও '০৭ সালের চ্যাম্পিয়নস লীগ, সাথে ছিলো ২০০৩-০৪ মৌসুমের সিরি আ শিরোপা। সেই সময়ের এসি মিলানের কথা মনে আছে?? গোলবারে দাঁড়াতেন দিদা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানোর দায়িত্ব ছিলো কাফু, আলেসান্দ্রো নেস্তা, জিয়ানলুকা জামব্রোত্তা আর কিংবদন্তী পাওলো মালদিনির৷ মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করতো ক্লরেন্স সিডর্ফ, জেনারো গাত্তুসো, আম্রোসিনি, আর তাদের এক সুতোয় বেঁধে রাখার দায়িত্ব ছিলো আন্দ্রে পিরলোর, প্রতিপক্ষের ডিফেন্স গুড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব ছিলো কাকা, শেভচেঙ্কো আর ফিলিপ্প ইনজাঘি! পরবর্তীতে রবিনহো, আলেকজান্দ্রার পাতো, ইব্রাহিমোভিচ, রোনালদিনহো, রোনাল্ডোর মতো তারকারাও এসেছেন মিলানে! 

 

অথচ ২০১০-১১ মৌসুমের পর থেকে এসি মিলান হারিয়ে যেতে থাকে, ইতালির অর্থনৈতিক ধস এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বেশ বাজে অবস্থায় চলে যায় এসি মিলান। অপরিকল্পিত খেলোয়াড় কেনা আর পরিকল্পিত ম্যানেজমেন্টের অভাব মিলানকে নিয়ে যেতে থাকে আরও অনেক দূরে! এমন একটা অবস্থা যেনো প্রজন্মের অনেকেই এসি মিলান নামটি চিনতে পারে না। অথচ একটা প্রজন্ম বড় হয়েছে এই এসি মিলানের সুন্দর ফুটবল দেখে, দেখেছে লাল-কালো জার্সির আভিজাত্য। 

 

অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা পেরিয়ে মিলান ফিরেছে ছন্দে, ২০২০/২১ সিজনটা ছিলো অনেকটা স্বপ্নের মতোই! সিজনের শুরুতে ১৫ ম্যাচ খেলে ১১টিতে জয় এবং ৪টিতে ড্র এসেছিলো, পরবর্তীতে কিছুটা ছন্দ হারালেও নানান নাটকীয়তা শেষে পয়েন্ট টেবিলের ২ এ থেকে সিজন শেষ করলো মিলান, সাথে পরের চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলার টিকিট! কিভাবে সম্ভব হলো এই টিকিট প্রাপ্তি, কিভাবে জায়ান্টদের সাথে লড়াই করে মিলানের ফিরে আসা, সেসব না হয় পরে আলোচনা করা যাবে! আপাতত না হয় ঐতিহ্যবাহী দলটির ফুটবলের মর্যাদাকর আসরে প্রত্যাবর্তনই উপভোগ করা যাক! 

 

এসি মিলান আর হারিয়ে না যাক, লাল কালো জার্সিতে অনেকে মিলান ভক্তদের চিৎকার বজায় থাকুক! ইতিহাসের স্বার্থে, ফুটবলের স্বার্থে! আরিগো সাচ্চির এসি মিলান হয়ে কিংবাকার্লো এনচেলত্তি বা মালদিনির মিলান হয়ে, কিংবা বুড়ো ইব্রাহিমোভিচ আর একগাদা তরুণ ফুটবলারের যুগলবন্দীর এসি মিলান হয়ে! 

 

এসি মিলান আর হারিয়ে না যাক৷ এসি মিলান আবারো এসি মিলান হয়ে ফিরুক। সান সিরো স্টেডিয়াম আবারো বিশ্বের সেরা প্লেয়ারদের পদচারণায় মূখর হোক। লাল-কালো জার্সি আবারো ফুটবল রোমান্টিকদের আলোড়িত করুক - সেই দিনের অপেক্ষায় থাকলাম।