• ফুটবল

৭-১ ট্রাজেডি এবং ২০ বছরের শুণ্যতার দায়

পোস্টটি ৩৭০ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

গল্পের শুরুটা হয়েছিল অনেক আগে; ব্রাজিলের হলুদ-নীল জার্সিতে খচিত পাঁচ তারকার গল্পটা শুরু হয়েছিল সেই ১৯৩০ সালে! গ্রহের প্রথম বিশ্বকাপে, একমাত্র দল হিসাবে বিশ্বকাপের সকল আসরে খেলা ব্রাজিলের যাত্রা থামে গ্রুপ স্টেজেই; এর পরের বিশ্বকাপেও প্রথম রাউন্ডেই ব্রাজিলের বিদায়ি সুর বাজে; আর বিশ্বযুদ্ধের আগের শেষ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাফল্য ছিল তৃতীয় স্থান অধিকার। এরপরের গল্পটা ছিলো, ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি'র, মারাকানা ট্রাজেডি'র। 

 

১৯৫০ বিশ্বকাপ। ১৬ জুলাই। দুই লাখ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে, ব্রাজিল বনাম উরুগুয়ে'র বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ চলছে। ফাইনালের আগের দুম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১১ গোল দেয়া ব্রাজিলের ফাইনাল জয়'ও ছিলো প্রায় নিশ্চিত, নিজেদের প্রথম বিশ্বজয় উদযাপনে পুরো ব্রাজিল প্রস্তুত উৎসবের রঙে নিজেদের রাঙানোর জন্য, পুরো ব্রাজিল ছিল প্রস্তুত সাম্বা নাচের জন্য। শুধু কি তাই, সারা দেশ ছিল কেবল ব্রাজিলের জয়োৎসব প্রস্তুতিতে। শিরোপা জয়ের সমীকরণ খুব সহজ, জয় নয়, ড্র করলেই ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন; পক্ষান্তরে শিরোপা জিততে উরুগুয়ের জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। পুরো ব্রাজিল সাম্বা নাচের জন্য প্রস্তুত। প্রায় ২ লাখ দর্শক ধারণ ক্ষমতার মাঠে খেলার ৪৭ মিনিটে ফ্রিয়াকার গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ৬৬ মিনিটে শিফিয়ানোর গোলে ১-১ এ সমতা আনে উরুগুয়ে। আর ৭৯ মিনিটে ব্রাজিলের গোলরক্ষক বারবোসার ভুলে গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন উরুগুয়ের ঘিঘিয়া। সেদিন থমকে গিয়েছিল ব্রাজিলের জনজীবন। নিঃশব্দে ডুবে যায় মারাকানার দুই লাখ ব্রাজিলিয়ান সমর্থক। ঠিক যেন পিনপতন নীরবতা।  “সাইলেন্স ইজ গোল্ডেন" এর পারফেক্ট উদাহরণ হয়ে জনসমুদ্রের গর্জন তখন ‘ঘিঘিয়া’ ঝড়ের পরে একদম নিস্তব্ধ। সঙ্গে পুরো দেশেও সেই একই অবস্থা। শেষ বাঁশি বাজার পর হার সহ্য করতে না পেরে অনেকেই লাফিয়ে পড়েছিল মারকানার ছাদ থেকে। কেউ কেউ আত্নহত্যাও করে বসে! পরের কয়েকদিন শহরের প্রতিটি ঘরের জানালা বন্ধ ছিল। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে চাপা কান্নার আওয়াজ শোনা যেত। যেনো, প্রত্যেক ব্রাজিলিয়ান তাদের সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে হারিয়েছে। সব সম্মান ভূলুণ্ঠিত হওয়ার নির্মম বেদনা কেউই সইতে পারেনি। উৎসবের মুখরতা থেকে ব্রাজিলিয়ানদের আশ্চর্য পতন ছুঁয়ে যায় পুরা দেশকে। একটা সময় শুরু হয় হতাশা কাটিয়ে নতুন করে শুরুর গল্প। একদিকে যেমন ছিল হতাশা, তেমনি ছিল নতুন করে সূচনা করার প্রত্যয়। শুরু হয় ব্রাজিলবাসীর নতুন মিশন। মারাকানার সেই ট্রাজেডি ভুলতে হবে, ব্রাজিলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি দেখতে হবে।

 

সেদিন কোটি মানুষের ভিড়ে ত্রিশ বছর বয়সী এক যুবক কাঁদছিলো; হাউমাউ করে কান্না, যে কান্না ছিলো সেদিনের ব্রাজিলের সবারই কান্নার প্রতিচ্ছবি ছিলো, নাম ছিলো তার ডোনডিনহো। ডোননডিনহো'র ছোট্ট ১০ বছরের ছেলে দেখলেন, তার বাবা আর বাবার বন্ধুরা শিশুদের মত কেঁদেই যাচ্ছেন, কেঁদেই যাচ্ছেন। ছেলেটি এক দৌড়ে গিয়ে বাবার কোলে মুখ গুঁজে কান্না শুরু করে দিলো নিজেও, আর শুধু বললো একটি কথা, “বাবা দেখো আমি একদিন ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতাবো।” দশ বছরের ছেলের মুখে এ কথা শুনে ডোনডিনহো কান্না ভরা মুখেও যেনো এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। আশায় বুক বাঁধলেন, কেউ না কেউ অবশ্যই একদিন ব্রাজিল কে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করবেন। শুধু ডোনডিনহো না, পুরা ব্রাজিলবাসীই ধিরে ধিরে এই স্বপ্নে নিজেকে স্বান্তনা দিতে থাকেন, মারাকানা ট্রাজেডি ভুলে একদিন না একদিন তারা বিশ্বকাপ জিতবেন।

 

এই দশ বছরের ছেলেটা কে ছিলো, জানেন?? ফুটবল বিশ্বের সর্বকালের সর্বসেরা মানুষটা, পেলে। যিনি কিনা সেই ছোট্টবেলায় বাবার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলেছিলেন, দেশ কে একদিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার কথা; তিনি একবার নন, বরং তিন তিন বার ব্রাজিলকে করেছিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ৫০ এর বিশ্বকাপে গোটা জাতি যেখানে পুড়েছিলো মারাকানা হারের যন্ত্রণায়, গোটা জাতি যেখানে থমকে গিয়েছিল, গোটা জাতি যেখানে শোকের কালো ছায়ায় ডুবে গিয়েছিল; তার ঠিক ২০ বছর পরেই সেই জাতিই ছিল বিশ্বের বুকে তিন তিনবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হউয়ার গৌরবে গৌরবমণ্ডিত এক নাম!

 

এরপর বলা যায়, ৮২ আর ৯৮'র বিশ্বকাপের কথা। ফুটবলের প্রায় সকল বোদ্ধার মতেই, ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল ছিলো ব্রাজিলের ১৯৮২ সালের দলটি। অথচ এই দলটাই কিনা পায়নি বিশ্বকাপের ছোঁয়া। ব্রাজিলের একজন বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ব্যারেটো তার চাকুরী জীবন শেষে বিদায়ী এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “তোমরা কি ভাবছো আমি কাঁদব এখন? বোকার দল। শেষ আমি কেঁদেছিলাম ১৯৮২ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে বাদ যাওয়ার পর।”  ইতিহাসের অনন্য সুন্দরতম এই দলটির বিশ্বকাপ বঞ্চিত থাকা আর বেদনাবিধুর সমাপ্তি বিচারে মারাকানা ট্র্যাজেডির চেয়েও কোন অংশে কম ছিলোনা। যা পুড়িয়েছে ফুটবলের আঁতুড়ঘর ব্রাজিলের মানুষকে অনেকদিন। সেই হারটি পেয়ে বসে ব্রাজিলকে, খেলোয়াড়ি জীবনের শিখরে থাকা ৮২’র ব্রাজিলের শিল্পের পাবলো পিকাসো 'জিকো সক্রেটিস' মিইয়ে যান, তাদের অনেকেরই আর সেই জৌলুশ আর থাকেনি। ব্রাজিলের ঘাড়ে যোগ হয় আরেকটি আক্ষেপের, জন্ম হয় আরেকটি আফসোসের।

 

 

যেই আক্ষেপ আর আফসোস ঘুটে ৯৪ এর বিশ্বকাপে। কার্লোস আলবার্তো পেরেইরার হাত ধরে চতুর্থবারের মত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। ১৯৯৮ সালে ঘটলো বিষ্ময়কর এক ঘটনা! পুরা টুনার্মেন্টে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করা রোনালদো'র ব্রাজিল, যে বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে এক শিল্পের মত করে হাজির করেছিলো, ফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্সের। ম্যাচ শুরুর আগে হুট করে খিচুনি দেখা দেয় রোনালদো ফেনোমেনোনের। কথিত আছে, ব্রাজিলের টিম চিকিৎসকের দেয়া অভারডোজের কারণেই এই সমস্যা হয় রোনালদো'র। যার ছাপ  কিনা পুরা ম্যাচেই দেখা যায় রোনালদো'র খেলার মাঝে, তার মতই মলীন ছিলো পুরা ব্রাজিল দল'ও। অভিজ্ঞ একজন ডাক্তার কেনো এই ভুল করেন, কি ছিলো সেই রহস্য, এই নিয়ে রহস্য চলেছে অনেকদিন, যার রেশ কাটেনি এখনও। সেই "Mysterious Final" এর ব্যাথা কে ভুলিয়ে ঠিক পরের বিশ্বকাপেই বিশ্ববাসী দেখে অন্য এক ব্রাজিল কে। অসাধারণ টিম প্লেয়িং দিয়ে নিজেদের ৫ নম্বর বিশ্বকাপ জিতে নেয় রোনালদো রোনালদিনহো রিভালদো'দের ব্রাজিল, যে দলটিকে কিনা বলা হয় ব্রাজিলের অন্যতম সেরা দল।

 

এতক্ষণ বলছিলাম, ইতিহাসের শুরু থেকে ব্রাজিলের অসম্ভব রকমের দৃঢ়তায় ঘুড়ে দাড়ানোর সব গল্প।

 

স্মৃতির পাতায় সবচেয়ে নিকটতম ক্ষত, ব্রাজিলের ৭-১ ট্রাজেডি। ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটি'র সবচেয়ে বড় লজ্জ্বা ২০১৪ সালের এই ট্রাজেডি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের জালে একের পর এক গোল দিচ্ছে জার্মানি, যা গিয়ে থামে ৭ এ, বেলো হরিজন্তের এই কস্ট পুর্বের কোন সাফল্যের মাঝেই চাপা ফেলানো যায়না। ব্রাজিলের যেই হার নিমিষেই যেনো ম্লানমুখ করে দিয়েছিলো ব্রাজিলের সকল রাজকীয় ইতিহাস। ফুটবলের সফলতা আর প্রাপ্তির সেরা নাম ব্রাজিল যেনো ডুবে যায় ৭-১ এর সেই ভয়ংকরতম অন্ধকারে। সারা বিশ্বে শুরু হয় সমালোচনা, রাইভেলদের পঁচানি, নিন্দা'র ঝড়। এই ৭-১ স্কোরলাইন একটা জুজু'র মত। আজ চারবছর পরেও হয়ত ব্রাজিল'কে দুঃস্বপ্নের মত করে তাড়িয়ে বেড়ায় এই ম্যাচটাই!

 

সেলেসাও'দের ইতিহাসই তো ঘুড়ে দাড়ানোর। এবার তো ব্রাজিলের পিঠ একদম দেয়ালে গিয়ে ঠেকে যায়। ঘুড়ে দাড়াতে হবে। নিজেদের সম্মান কে পুনুরুদ্ধার করতে হবে। সেলসাও'দের ইতিহাস'ই এমন। মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সুর্য হাসে। ফুটবলের জন্মলগ্ন থেকেই ব্রাজিল ঘুড়ে দাড়াতে জানে। ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটির সফলতার শুরুই তো খাঁদ থেকে উঠে দাঁড়ানো গল্পে, ভয়ংকর অন্ধকার ঠেলে আলোর দিশারী হয়ে নিজেদেরকে বারেবারে সেরা প্রমাণ করার গল্পে। খেলা হচ্ছে পৃথিবীর আদিম যুদ্ধকলার একটি শৈল্পিক রূপ। এখানে জেতার জন্যই সব আয়োজন। জিতলে সবাই বাহবা দিবে আর হারলে দুয়ো। যুগে যুগে ব্রাজিল এই দুয়ো থেকেই পেয়েছে জেতার প্রেরণা, সামনে এগিয়ে গিয়ে নতুন করে শুরু করার উদ্যমশীল মনোবল। আর সেই জন্যেই ফুটবল বিশ্বকাপের ৮৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলটি'র নাম ব্রাজিল।

 

২০১৪’র পরে প্রথমে দুংগার হাত ধরে উঠে দাড়ানোর চেস্টা ব্রাজিলের। কিন্তু ব্রাজিল যেনো আর পিছিয়ে যাচ্ছিলো। খাঁদ থেকে উঠতে গিয়ে যেনো বারেবারেই হোচট খেয়ে আবারো সেই খাঁদেই ব্রাজিল। পরপর দুই কোপা আমেরিকাতেই ব্রাজিল বাদ যায় নক আউট স্টেজেই। আহত বাঘের ভয়ংকরী প্রতিশোধময় আক্রমনের শুরু, অন্ধকার কেটে নিজেদের সোনালী সময় ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টার শুরুটা হয় বোধহয় রিও অলিম্পিকে। যার প্রাণভোমরা ছিলো নেইমার। ইতিহাসের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী দল, যার কিনা ছিলোনা কোন অলিম্পিক স্বর্ণপদক ; সেই দলকেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ঘরের মাঠে প্রথম স্বর্ণপদক জিতান নেইমার। আর একই সাথে জার্মানির বিপক্ষে সেই ফাইনাল জয়ের পর হয়ত, ৭-১ জুজু হতে একটুখানি বাড়াতে পারে ব্রাজিল। এরপর শুরু হয়, টিটে যুগ। টিটে শুরু করেন একদম শুরু থেকে, সুপরিকল্পিত ভাবে। অনেক আশার পরেও ১৮ তে আবারো হার! তবে তিতের উপরে ভরসা রেখেছিলো ব্রাজিল, ২০১৯ কোপায় তাই চ্যাম্পিয়ন হলো ব্রাজিল, বেল হরিজন্তে ট্রাজেডির পর প্রথম কোন শিরোপা, নামের ভারে একটুখানি শান্তির ছোঁয়া! কিন্তু বছরখানেক পরেই, রাইভাল আর্জেন্টিনার কাছে ঘরের মাঠে ফাইনাল হারা আবারো ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় ব্রাজিল'কে! ব্রাজিলের ঘাড়ে এখন পরাজয়ের দাগ, ২০ বছর হয় বিশ্বকাপের ছোঁয়া না পাওয়া, বেল হরিজন্তের মত গ্লানি, তবে ব্রাজিল ঘুড়ে দাড়াতে জানে, ফুটবল নামক শিল্পের পাবলো পিকাসো যে ব্রাজিল - তা বারেবারে প্রমাণ করতে, ফুটবল নামক সম্পদের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী দল যে ব্রাজিল - তা বারেবারে বিশ্বকে জানাতে। মেঘ আসে, সফলতাকে সাময়িক ঢেকে দেয় আঁধার কালোয়, মেঘ কেটে সূর্য হাসে, আবারো ধরা দেয় নতুন সব সাফল্য; এক এক করে এভাবেই হলুদ নীল জার্সিতে বসে পাঁচ তারকা। কে জানে, হয়ত আহত ক্ষুধার্ত সেই বাঘের দল এবারই আরো একটি তারকা যোগ করবে নিজেদের হলুদ নীল পরনে, আরো সমৃদ্ধ করবে নিজেদের ইতিহাস, ৭-১ নামক লজ্জ্বার ট্যাগ নয়, বিশ্বের সেরা সর্বসেরা দল ট্যাগে আরো একবার নিজেদের চেনাবে নতুন করে।

 

আমি বলছিনা, কাতার বিশ্বকাপ ব্রাজিল'ই জিতবে। তবে হলুদ জার্সির কোন এক সৈনিক হয়তো পূর্বসুরিদের পথ ধরেই বারবার গ্লানি থেকে তৃপ্তির স্বাদ এনে দিবেন, ব্রাজিল কে সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌছে দিবেন, নিয়ে যাবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে; আর তো হবেই, হতেই হবে! কেনোনা ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম করেই এই গ্রহের সবচেয়ে সফল দলটা এই ব্রাজিল! ইতিহাস পরাজিত সৈনিক'দের মনে রাখেনা, তবে পরাজিত হয়ে আবারো ঘুড়ে দাঁড়িয়ে যুদ্ধজয়ীদের মনে রাখে আলাদাভাবে। সেই ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা ও সমৃদ্ধশালী ফুটবল দলটির নাম ব্রাজিল।