• ফুটবল

রূপকথার কারিগরের মারাকানা দুর্গজয়

পোস্টটি ৪২৩ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।
মারাকানা।
৭১বছরে ২৬টি রক্ষখয়ী যুদ্ধের সাক্ষী এক অজেয় দুর্গ। আভিজাত্যের মাদকে আসক্ত হলুদ-নীলের সৈনিকেরা- শেষ বাঁশির সুরে শেষ হাসির উল্লাসের অপেক্ষায় প্রস্তুত। প্রায় নিশ্চিত বিজয়ের মোহে তাই শিল্পের নগরী প্যারিস থেকে উড়ে আসা সেনাপতির বিদ্রুপঃ "জয় আমাদেরই হবে!"
রূপকথার কারিগরের তাতে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।
প্রতিপক্ষের এই সেনাপতি হয়ত এখন প্রবীণ-কিন্তু বাঁ পায়ের জাদুমন্ত্র এখনো বিশ্বস্ত কান্ডারির মতনই আছে। বিশ্বসেরার মুকুট পেয়েও বিশ্বজয়ের পুরষ্কার খুব কাছ থেকে দেখে ফিরে আসার বেদনা ৭টা বছর পরেও ঠিক ততটুকু তাজা। তাই হ্যামস্ট্রিং নামের কোন এক অবুঝ পেশীকে কিংবা দানবের থাবার আঘাতে ফুলে ওঠা রক্তাক্ত গোড়ালিতে ভয় নেই জাদুকরের। ভয় নেই আর পরাজয়ের। রূপকথার শেষ নক্ষত্র আজ বসিয়ে নিবেই বিশ্বসেরার মুকুটের উপরে।
এরপর শুধুই রুপকথা তৈরির পালা।রক্ষণ আর আক্রমণের সুষম সমন্বয়, মধ্যমাঠের অক্লান্ত গ্ল্যাডিয়েটর ডি পল সূচনা করলেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের- প্রতিপক্ষ জেনারেল কাসিমিরোর বলয় ফাঁকি দিয়ে বল বাড়িয়ে দিলেন সামনের দিকে।যেন তীরন্দাজ নিপুণ দক্ষতায় ছুড়ে দিলেন বাণঃ মুহুর্তে বিভক্ত করে দিল মারাকানার সমস্ত অভেদ্য ইতিহাসকে,ভেঙে তছনছ করে দিল নীল-সাদার বিপরীতে গর্জন করা সমস্ত বেদনাতুর পরিসংখ্যানগুলোকে।
তারপর..
তারপর ধুমকেতুর মতন হঠাৎ ক্ষীপ্রতায় উড়ে এলেন ডি মারিয়াঃ আঘাতে জর্জরিত বারবার অন্তিম লড়াই এ বঞ্চিত রোজারিওর এক দুর্ভাগা সৈনিক।বাঁ পায়ের অপূর্ব শৈলিতে মুহুর্তেই বল নিয়ে এলেন শাসনে।
তারপর..
তারপর পাখির মতন বল উড়িয়ে দিলেন শেষ প্রতিরক্ষক এডারসনের দু হাতের নাগাল এড়িয়ে, পরাধীনতার শেষ খাঁচা পেরিয়েঃ শুভ্র পায়রার মতন স্বাধীন সতন্ত্র ছন্দে উড়ে গেল লক্ষের দিকে।২৮ বছর অপেক্ষায় থাকা ভালোবাসার আলিঙ্গনে ছুঁয়ে গেল প্রতিপক্ষের জাল।
পায়রার মতন নিষ্পাপ মুগ্ধতায় এলো প্রশান্তি।
সবার অলক্ষে হাসলেন পৃথিবীর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ রুপকথার কারিগর, রোজারিওর ক্ষণজন্মা রাজপুত্রঃ লিওনেল আন্দ্রেজ মেসি।চোখ থেকে মুছে ফেললেন জমে ওঠা আটলান্তিক।
তারপর..
তারপর বাজল শেষ বাঁশি।এক লয়ের আর কোন ধ্বনি এতটা মধুর হয়ে বহুকাল বাজেনি আলবিসেলেস্তের অতন্দ্র শুভানুধ্যায়ীদের কানে,হৃদয়ে!
এ কি মোহ ভানুমতী, এ কেমন মায়াবী ইন্দ্রজাল!!
মারাকানার দুর্গের অহংকার চুরমার করে অবশেষে সুবিচার আসল ডিয়েগোর সুযোগ্য উত্তরসূরীদের আঙিনায়।