• ক্রিকেট

ক্রিকেটার সাদমান যখন খামারি!

পোস্টটি ৩২১ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

 

ক্রিকেট মাঠের সাদমান শান্ত-শিষ্ট স্বভাবের। মাঠের বাইরে কেমন ? তা আমার জানা না থাকলেও, এতটুকু জেনেছি — মাঠের বাইরে সাদমান একজন সফল খামারি। তাই কুরবানীর ঈদের আগে সবাই যখন ব্যস্ত গরু ক্রয় করতে, সাদমান ব্যস্ত গরু বিক্রিতে। 

রাজধানীর ডেমরায় আড়াই বিঘা জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে 'সাদমান অ্যাগ্রো ফার্ম।' সাদমানের নামেই নামকরণ করা হয়েছে বোধহয় জনপ্রিয়তা লাভের আশায়। কুরবানির ঈদেই মূল ব্যবসার মৌসুম। তাই জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরে সাদমান পুরোদমে মনযোগ দিয়েছেন খামারে।

করোনা মহামারিতেও মানুষের কুরবানী প্রস্তুতি চলছে৷ আর সেই প্রস্তুতিকেই কাজে লাগাচ্ছেন খামারিরা। খামারি হিসেবে সাদমানও এর ব্যতিক্রম নন। নিয়মিত এখন খামারে সময় কাটান। পরিচর্যা করেন গরুগুলোর। দিনকয়েক বাদেই যাদের কুরবানীর উদ্দেশ্যে বিদায় জানাতে হবে, তাদের ঘিরেই আপাতত ব্যস্ত সময় কাটছে সাদমানের।

খামারি হওয়ার পেছনে গল্পটা অনেক পুরোনো। জাতীয় দলে অনেকেই ব্যবসার সাথে জড়িত। তাই সাদমানের জড়িত থাকার বিষয়টা অবাক করেনি। অবাক করেছে ব্যবসায়ের ধরনে। বংশীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই এই ব্যবসায় তার আগমন। দাদা-নানারা প্রথম হাল ধরেছিলেন এ ব্যবসায়ের। এরপর সাদমানের বাবার হাত বদল হয়ে, ব্যবসায়ের ভার এসেছে সাদমানের কাঁধ পর্যন্ত।

প্রতিটা গরুকেই আদর করে যত্মসহকারে লালন-পালন করে বড় করে তোলা হয়েছে ঈদকে কেন্দ্র করে। তাই, এতে সাদমানের পরিশ্রমও কোনো অংশে কম নয়। নিজ হাতে ঘাস, লতা-পাতা তুলে দেন সাদমান গরুর মুখে। হাত দিয়ে গলা চুলকে আদরের পরশ বুলিয়ে দেন পশুর অন্তরে। ভালোবাসার দারুণ দৃষ্টান্তও বলা চলে এটাকে। 

আপাতত সাদমানের ক্রিকেটীয় ব্যস্ততা নেই। টেস্ট ম্যাচ না হলে সাদমান আলোচনায় থাকেনা। তাই অবসরকে পুরোদমে কাজে লাগাচ্ছেন খামারে সময় দিয়ে। এতে কিছুটা ঝামেলাও পোহাতে হয় তাকে। ঝামেলাটা মূলত আবেগের। কেননা, পালিত পশুর প্রতি একটা ভিন্ন আবেগ ও ভালোবাসার অনুভূতি জন্ম নেয় সবার। সাদমানও তো রক্ত-মাংসের মানুষ।  আবেগানুভূতি তাকেও ভর করে পছন্দের গরু খামার ছেড়ে চলে গেলে।

একইভাবে নাকি সাদমানের ভাইয়েরও মন খারাপ হয়। কেঁদেও দেন কখনো কখনো। প্রতিটা গরুকে খাইয়ে, আদর করে সুস্থ-সবলভাবে বড় করে তোলার পেছনে যে পরিশ্রম তাতে আবেগের ব্যপ্তিটা অনেক বড় হওয়াই তো স্বাভাবিক। সাদমান নিয়মিতই গরু গুলোর দেখভাল করছেন বর্তমানে। বেশিরভাগেরই বিক্রি শেষ। বাকি কেবল ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া ঈদের আগে।

এরপর আবার খা খা করবে খামার। পছন্দের সব গরু পাড়ি জমাবে অচিন ঘরে। ব্যবসার খাতিরে, খামারে আসবে নতুন গরু। শুরু হবে নতুন যুদ্ধ, নতুন করে রকমারি সব গরু লালন-পালন করে গড়ে তোলার যুদ্ধ। খামারকে ঘিরে এভাবেই চলে খামারির জীবনচক্র। খামারে পোষা পাখী ও কুকুরও রয়েছে। যাদের দেখভাল করেও সময় কাটে সাদমানের।

একই খামারে ব্যক্তিগত অবসর যাপনের ব্যবস্থাও করে রেখেছেন সাদমান। ঈদের ব্যস্ততায় এখন সুযোগ নেই খামারের বাইরে যাওয়ার। তাই তার বন্ধুরাই তার খামারে এসে তাকে সঙ্গ দেয়। আলাদা করে ঘর রাখা হয়েছে নিজের বন্ধুদের নিয়ে, চায়ের কাপে গল্প-গুজবের আড্ডায় সময় কাটানোর। এতেই স্পষ্ট খামারকে ঘিরে কতোটা নিবেদিত সাদমানের প্রাণ।

বাইশ গজ দাপিয়ে এবার ব্যবসার মাঠ জয় করতে নেমেছেন বাঁ-হাতি সাদমান। সদ্যই টেস্টে শতক হাঁকানো সাদমানের বর্তমান ব্যস্ততা কেবলই 'সাদমান অ্যাগ্রো ফার্মের পালিত গরুদের নিয়ে।' কুরবানীর মৌসুমে অন্যান্য খামারিদের মত সাদমানেরও তাই চলছে সমপরিমাণ ব্যস্ততা। তাই প্রশ্ন হলো — সাদমানের প্রথম ঘর যদি হয় আপন নিবাস তবে দ্বিতীয় ঘর কোনটি ? হোম অব ক্রিকেট নাকি সাদমান অ্যাগ্রো ফার্ম ? 

 

থাম্বনেইল : ওমর ফারুক, আজকের পত্রিকা।