• ক্রিকেট

কবিতার একাদশ : দ্বিতীয় পর্ব (শেষাংশ)

পোস্টটি ৩৪২ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।
ক্রিকেট নিয়ে কবিতা লেখা হয় মাঝেমধ্যেই। এই প্যাভিলিয়ন ব্লগেই প্রথম পর্ব বা প্রথম একাদশ প্রকাশিত হয়েছিল। আমার সৌভাগ্য বলতে হয়, সেই কবিতার একাদশ নিয়ে কেউ আপত্তি জানায়নি। বরং শুভাকাঙ্খী কেউ কেউ উৎসাহিত করেছেন। ব্যস, উন্মাদকে আশকারা দিলে যা হয় আর কি! দ্বিতীয় পর্ব বা কবিতার আরো একটি একাদশ সাজানোর স্পর্ধা করে বসেছি।
অনুরাগী এবং অনাগ্রহী সকলের প্রশ্রয়পূর্ণ আশকারা-ই বরাবরের মতো প্রত্যাশা।
__________________________________________________________
ব্লগের শব্দসংখ্যা সীমাবদ্ধতার কারণে এই একটি একাদশ পূর্ণ করতে আমাদের তিনটি পর্বের প্রয়োজন পড়লো। প্রথম ও দ্বিতীয় অংশের পর এই শেষ অংশে পূর্ণ হচ্ছে দ্বিতীয় পর্বের এই একাদশ।
 
কবিতার একাদশ দ্বিতীয় পর্বের প্রথম অংশের লিংক
https://pavilion.com.bd/user/feeds/6431/details
কবিতার একাদশ দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় অংশের লিংক
https://pavilion.com.bd/user/feeds/6639/details
__________________________________________________________
 
ইংরেজ ক্রিকেট লিখিয়েরা বেশ কয়েকটা পোকা ঢুকিয়ে দিয়েছেন মাথায়। একটা হচ্ছে ক্রিকেট সাহিত্য। ক্রিকেট নিয়ে গল্প। আর অন্যটা হচ্ছে কবিতা। তো পোকাদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে বেশ কিছু কবিতা কিভাবে কিভাবে যেন লেখা হয়ে গেছে!এবং সেসব দিয়ে একাদশ একটি গিয়ে আরো একটি দাঁড় করানো যাচ্ছে। তবে এবারকার একাদশটি বোধহয় প্রথম একাদশের তুলনায় তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ। আগেরবার যেখানে উইকেট কিপারের অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো, রাহুল দ্রাবিড় কে দিয়ে কোনোমতে কাজ চালিয়ে নেয়া। এবার সেখানে উইকেট কিপারের খামতি নেই। গত একাদশে অলরাউন্ডার ছিল একগাদা, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অবস্থান হয়েছিল নয় নাম্বারে। মাশরাফি-বেন স্টোকস-ক্যালিস দিয়ে পেস এ্যাটাক দাঁড়িয়েছিল, এবার পেস আক্রমণে আছে নমস্য সব নাম। স্পিন আক্রমণে আছে অলটাইম গ্রেট, তিন-চার-পাঁচ খুব সম্ভব যেকোনো একাদশে পরম আকাঙ্খিত। একটাই সমস্যা সাঙ্গাকারা ওপেনিংয়ে। আগেরবার তিনটে ওপেনার পেয়েছিলাম, এবার সাঙ্গাকারাকে ওপেনিংয়ে না পাঠিয়ে উপায় নেই আমাদের। টপ ও মিডল অর্ডার আপনারা পেয়েছেন প্রথমাংশে ও দ্বিতীয়াংশে, এখানে আছে বোলিং ইউনিট বা টেইল এন্ডার।
 
তাহলে দেখা যাক পুরো একাদশটা কেমন দাঁড়ালো।
__________________________________________________________
 
 
বোলিং ইউনিট সামলাবেন তিন পেসার ও এক স্পিনার — শেন ওয়ার্ন, হেনরি ওলোঙ্গা, জেমস এন্ডারসন ও গ্লেন ম্যাকগ্রা
 
সেই বল
 
শ্বেত চুলের তরুণ, নাকে-ঠোঁটে চুন, বুক ধুকপুক
অ্যাশেজে এই প্রথমবার, হাতে বল লাল-টুকটুক।
আম্পায়ারের হাতে গছিয়ে স্যুয়েটার, হালকা ওয়ার্ম আপ
হেঁটে হেঁটে হেলে দুলে মেপে নেয়া বোলিং রান-আপ।
 
কি জানি কি হয়, কিছু ভয়, কেমন কেমন সংশয়
সাহসী তরুণ বোঝে ডর-নয় এ, শিহরণ বুঝি শরীর-সর্বময়!
 
বৃষ্টিভেজা দিনে শীতল বাতাসের দোল আঁচড় কাটে গা-য়
দেড় দশকের পোড় খাওয়া একজন ওদিকে ব্যাট-নিয়ে দাঁড়ায়,
বলের ঘূর্ণির চূর্ণিত দর্পিত ইতিহাস কত, ঝুলিতে জমা তাঁর—
চব্বিশের ছোকরা প্রস্তুত, হাতে তাঁর লালচে গোলাকার।
 
ডান কব্জীর মোচড় আর ডান হস্তের আঙ্গুল-গলে
টুকরো গোলক বেরিয়ে ছোটে বয়েসী ব্যাটার-পানে
কি তুকতাক, কি ছলাকলা, কে জানে কি মেশালো
বলটা হঠাৎ ডাঁ-দিক হতে ফুড়ুৎ-বেগে বাঁ-দিক বেঁকে গেল।
 
চক্ষের পলকে ছলকে উঠে অফ স্ট্যাম্পের বেল
লেগ স্টাম্পের বাইরের বল অতটা গেল, একি গোলমেল?
তরুণ তখনো জানে না, কি ঘটিয়েছে ঘটনা, অ্যাশেজ অভিষেকে
শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম বলটার মালিক হয়ে গেছে সে, মুহূর্তর ম্যাজিকে।
 
শত শত মুহূর্ত-ম্যাজিক, কত কত বিমূর্ত-ক্ষণ, সেই বলটির পরে
কাঠগোলকের এক জাদুকর, তারপর সবটা নজর নিল যে কেড়ে!
২৭শে জুন, ২০২০
 
রঙিন চুলওয়ালা
 
রঙিন জার্সির রং-বেরঙের চুলওয়ালা মানুষটিকে
আলাদা করে নজরে পড়ে, নামটা তার মনে থাকে।
 
সাদামাটা বোলিং, নেই চটকদার-ঝাঁঝালো কিছু
তবু কৌতুহলী চোখ স্বতঃস্ফুর্ত ছোটে তার পিছু,
দারুণ শৈশবের রঙিন বিস্ময় দখলে নেয় সে—
অবাক ভাবনার পুরোটা শুধুই তার এলোকেশে!
 
‘রুপসীর রেশমী চুলে...’ নোবেল-মৌয়ের বিজ্ঞাপন—
ধুচ্ছাই, রেশমী-চুল! বলি, রঙিন-চুলো, সে কেন অমন?
 
তখনো আসেনি লংকা-দ্বীপের অবাক-স্লিঙ্গা ছেলেটি
ক্রিকেট-মাঠের রঙিন-চুলো তখন শুধুই ওই একটি।
ক্রিকেট দুনিয়ার নব্য-শক্তি, আছে একঝাঁক উদীয়মান
বাহারী চুলের তরুণও একজন দারুণ প্রতিভাবান।
স্বদেশের ক্রিকেট মজবুত-কল্পে দাঁত-চাপা সংগ্রাম
স্ট্রীক-ফ্লাওয়ার-ক্যাম্পবেল আর আরো কত নাম।
 
বর্ণিল এলোকেশ, আর নিবেদন পরিশ্রম সঙ্গে
হেনরি ওলোঙ্গা, নামটি আছে জিম্বাবুয়ের-অঙ্গে।
নামটি আছে ক্রিকেট মাঠে এবং সবাক-প্রতিবাদে
স্বৈরশাসন নিপাত যাক, স্লোগান কালো-আর্মব্যান্ডে।
৪ঠা জুলাই, ২০২০
 
লালচে গোলকের রাজকুমার
 
যে চূড়ায় অবস্থান আপনার—
ভাবেনি কখনো কেউ, সেখানটায় পদচিহ্ন আঁকবে কোনোদিন কোনো পেসার!
দেড়যুগে দেড়শোরও বেশি টেস্ট ঝুলিতে পুরে ছুটে চলা অবাক রাজপুত্তুর
কে দেখেছে কবে, শিকারের নেশায় ক্লান্তিহীন, চালশের তাগড়া তরুণ পুরোদস্তুর!
 
ফ্রেড ট্রুম্যান চূড়াটার আধেক-উচ্চতা পেরিয়ে, শুনিয়েছিলেন ক্লান্তির সুর
অথচ দ্বিগুণ-পথ মাড়িয়েও আপনার উদ্যোমে ভাটা নেই, যৌবন ভরপুর।
যেন দাউদাউ করা আগুন, তেমনি তেজস্বী, যেনো-বা মধ্যহ্নের গনগনে রোদ
আপনাকে ‘বুড়ো’ ডাকে বা শেষের গান শোনায়, কোন সে আহাম্মক?
 
সুউচ্চ উচ্চতা পদাবনত; তবু যেন তৃষিত আরো উঁচুতে আরোহন অভিপ্রায়ে
নিঃসীম সাধনা, নিবেদন নিষ্ঠা, আর দেখি অধ্যাবসায়; অপলক বিস্ময়ে।
হেলায় ভুলেছেন কাঁড়ি কাঁড়ি মাল কড়ি, সাদা পোষাকে হয়েছেন উজার
বিত্ত না-চায় ভেঙেছেন বৃত্ত, আপনাকে ডাকি লালচে গোলকের রাজকুমার।
 
চিরশুদ্ধ আঙিনায় সবচেয়ে নিবেদিত-প্রাণ হে! আপনার জন্য ভালোবাসা—
পদ্যের ছত্রে কি ছাই লিখি বলুন, অধমের যে অসাধ্য আপনার প্রকাশ-ভাষা!
২৪শে আগস্ট, ২০২০
 
ঢ্যাঙা-দেহী এক পেসার
 
শত্রু-শিবিরে তেড়িয়ে তাকিয়ে ঠান্ডা ও খুনে স্বরে তাঁর নিশ্চিত ঘোষণা—
তোমাদের সবচে শক্তিমান পুরুষটিকে শুইয়ে দেবো; এ-ই আমার কামনা।
রাখ ঢাক নেই, চোখে চোখ রেখে হুঙ্কার দেওয়া এক জানবাজ লড়িয়ে
স্বদেশের জন্য সবটা ঢেলে দিতে সদা প্রস্তুত, ডরে না বীর পরাজয়ে।
 
লিকলিকে শরীর পেসার-উপযোগী নয়, বাছা, ভুলে যাও পেস বোলিং।
মাথায় জেদ চাপে, রোমাঞ্চিত হয়, নিজেকে প্রমাণ বরাবরই চ্যালেঞ্জিং।
তারপর সাড়ে ন’শো আন্তর্জাতিক উইকেট আর ত্রাসের ম্যাকগ্রা-ধরণ,
ক্রিকেটের ইতিহাসে সযতনে সাজানো কত-শত বিমূর্ত সোনালী ক্ষণ!
 
ক্রিকেট-পরিসংখ্যানের সুউচ্চ চূড়ায় বসবাস তাঁর, এক মহান কীর্তিমান
ফাস্ট বোলিংয়ের সুনিপুণ শিল্পী, নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খলতার চূড়ান্ত প্রমাণ।
বলের পর বল একটানা এক-ঢঙে করে যাওয়া, নড়চড় নেই কোনো
রক্তমাংসের মানুষ নয়, ভ্রম হয় কভু — বুঝি-বা বোলিং-মেশিন যেনো!
 
তিন-তিনটে বিশ্বকাপ, সর্বজয়ী দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, বা পরিসংখ্যা...
কতটা বোঝায় তাকে? চাক্ষুষ দর্শকই জানে, কেমন ছিল তাঁর জিগীষা!
সামর্থ্যের সীমা চাইলে ডিঙিয়ে যেতে পারো, হাল না ছাড়া জেদ যদি থাকে
ধুচ্ছাই প্রতিভা, পরিশ্রমই সব; ওই দিয়েই তো ঢ্যাঙা-তরুণ মুঠোয় পুরে বিশ্বটাকে।
১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১
 
 _________________________________________________________
এবারের কবিতার একাদশটা এক নজরে চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক—
 
তামিম ইকবাল, কুমার সাঙ্গাকারা, ডন ব্র্যাডম্যান, মোহাম্মদ ইউসুফ, এন্ডি ফ্লাওয়ার, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ আশরাফুল, শেন ওয়ার্ন, হেনরি ওলোঙ্গা, জেমস এন্ডারসন ও গ্লেন ম্যাকগ্রা।
 
কবিতার একাদশ-এর প্রথম পর্বের লিংক...
https://pavilion.com.bd/user/feeds/4646/details
_________________________________________________________