• ফুটবল

Real Madrid's UCL Three-Peat : The Factors Behind The Story

পোস্টটি ৩৮৬ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

ফুটবল আর পাঁচটা খেলার মতো টিপিক্যাল একটা খেলা। কিন্তু এ খেলার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা একে অন্যদের থেকে আলাদা একটা আসন করে দিয়েছে। সারা বিশ্বব্যাপী হাজারো ফুটবল দল, লক্ষ লক্ষ ফুটবলার, আর কোটি কোটি ভক্তরা প্রতিদিন ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয় সবখানে।

ফুটবলের প্রাণকেন্দ্র ইউরোপ। সেই ইউরোপের বুক চিরে গড়ে উঠেছে ছোট বড় কত শত ফুটবল ক্লাব। প্রতিটি ক্লাব প্রতিনিয়ত মাঠে নামছে। ফুটবল আবেগ ছড়িয়ে দিচ্ছে সবখানে। কিন্তু এই শত সহস্র ক্লাবের ভীড়ে কিছু ক্লাব সবাই কে টক্কর দিয়ে বসছে সেরাদের সেরার আসনে।

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের, আরও স্পষ্ট করে বললে বিশ্ব ফুটবলেরই সবচেয়ে বড় আসর ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ৷ ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ মর্যাদার সম্মান বহন করে এ টুর্নামেন্ট। আর বিশ্বের বড় বড় সব ক্লাব কে হারিয়ে সেরাদের সেরারা প্রতিবছর এ শিরোপা হাতে তুলে নেয়। তাই এ শিরোপার সম্মান যেমন আকাশচুম্বী, জয় করাটাও তেমনি দুঃসাধ্য। কত ক্লাব যুগের পর যুগ ধরে এ শিরোপা ছুঁয়ে দেখার লক্ষ্যে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যায়, বাঘা বাঘা খেলোয়াড় দিয়ে স্বপ্নের মতো দল সাজায়, কিন্তু এটি ছুঁয়ে দেখার সাধ্য হয়না।

অথচ ক' বছর আগের কথা, একটি দল সেই আরাধ্য শিরোপা গুনে গুনে টানা তিনবার জয় করে নেয়! বিশ্বের সব কটি ক্লাবের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কিভাবে রাজকীয়তা বজায় রাখতে হয়৷ আরও একবার সবার সামনে প্রমাণ করে দেয় কেন তাদের বলা হয় সর্বকালের সেরা ক্লাব।

সেরাদের সেরা সে দলটির নাম রিয়াল মাদ্রিদ, যারা শুধু আজ নয়, বিশ্ব ফুটবলে তারা রাজত্ব করে যাচ্ছে একশোরও বেশি বছর ধরে। কিন্তু এবার তারা এমন এক কীর্তি গড়ে, যা এর আগে কেউ হয়তো কল্পনাও করেনি।

image_search_1661954309859
তবে বলতে যত সহজ লাগছে, মাদ্রিদের এ যাত্রা মোটেও তেমন সহজ ছিলোনা। লড়াইটা ছিলো অসম্ভব কে সম্ভব করার, এমন কিছু করার যা এর আগে করতে পারেনি কেউ।

শুরুতেই বলে নি, আজ আমরা মাদ্রিদের টানা তিনটি ইউসিএল জয়ের যাত্রা নিয়ে কথা বলবোনা। সেটি নিয়ে ইতোমধ্যে বহুজায়গায় বহুবার বহুভাবে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা আজ কথা বলবো ঠিক কিভাবে তারা এটিকে সম্ভব করলো, তাদের এ অর্জনের পেছনে কি কি ফ্যাক্টর ভূমিকা রেখেছে সবচেয়ে বেশি এবং সেসবের কোনটির অবদান কতটা।

সর্বপ্রথম যে ফ্যাক্টরটির কথা উল্লেখ না করলেই নয়, তা হলো ভাগ্য। এ ফ্যাক্টর টা আমরা বরাবর বিভিন্ন ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাই এবং সেটার পেছনে অবশ্য যথেষ্ট যৌক্তিক কারণও আছে। কিন্তু এখানে এটির উল্লেখ করছি সেটার পেছনেও অবশ্যই যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ আছে।

ভাগ্য মাদ্রিদ কে টানা তিনটি ইউসিএল জিতিয়ে দেয়নি, কিন্তু এ যাত্রায় তাদের বহুবার বহুভাবে বিভিন্ন ক্রুসিয়াল মোমেন্টে সাহায্য করেছে। আর যদি ভাগ্যকে প্রধান ফ্যাক্টর হিসেবে ধরা হয়, তাহলে বরং লস ব্লাঙ্কোসদেরকেই এ অসাধারণ অর্জনের কৃতিত্ব থেকে বঞ্চিতই করা হয়। আবার ভাগ্য মাদ্রিদের বিরুদ্ধেও কাজ করেছে অনেক সময়। যেমন আয়াক্সের বিপক্ষে রিটার্ন লেগে ম্যাচের শুরুতেই ইঞ্জুর্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন মাদ্রিদের অন্যতম সেরা এটাকার ভিনিসিয়াস জুনিয়র। এবং প্রায় একই সময়ে মাদ্রিদ সেন্টার ব্যাক রাফায়েল ভারানের একটি দারুণ হেডার বারপোস্টে লেগে ফিরে আসে৷

প্রতি সিজনেই প্রতি টা দলের ভালো বা খারাপ পারফর্মেন্সে ভাগ্যের কিছুটা অবদান থাকেই। ভাগ্য হলো একটি সার্বজনীন ফ্যাক্টর। কিন্তু ভাগ্য কখনোই কৃতিত্বের দাবিদার হতে পারেনা। তাই সহজ ভাষায় বলা যায়, মাদ্রিদের এ কৃতিত্বের পেছনে সার্বজনীন সে ভাগ্য বা নিয়তি ভূমিকা রেখেছে ঠিকই, কিন্তু এর জন্য ভাগ্য কে দায়ী করা বা মূখ্য উপাদান মনে করা নিতান্তই অমূলক।

image_search_1661954050482
আরেক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর এবং বলতে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর ছিলো ফ্রেঞ্চ কিংবদন্তি তৎকালীন মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন ইয়াজিদ জিদান। তাঁর প্র‍্যাগমাটিক ফুটবল স্টাইল ছিলো একদমই বিশেষ কিছু। তাঁর ফুটবলে অনন্য বৈশিষ্ট্য খুব বেশি ছিলোনা। তাঁর ফুটবল নতুন কোনো ফুটবল ধারণারও জন্ম দেয়নি। কিন্তু সাধারণ ফুটবল দিয়েই অসাধারণ খেলা উপহার দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ফুটবলের বৈশিষ্ট্য ছিলো একটাই, নব্বই মিনিটের মাঝে জয় তুলে নেওয়া এবং এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখা।

তবে সেসময় মাদ্রিদের দলটি ছিলো তারকায় ভরপুর। সব পজিশনেই ছিলো পিক ফর্মে থাকা ওয়ার্ল্ড ক্লাস প্লেয়ার। আর সেজন্য অনেকেই জিদান কে তেমন একটা কৃতিত্ব দিতে চান না। কিন্তু কোচ যদি ঠিকমতো ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সব কটি পজিশনে যতই সেরা প্লেয়ার থাকুক না কেন, সে টিম এগিয়ে যেতে পারবেনা।

টিমের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে টিম কম্বিনেশন, ব্যালেন্স ও প্রোপার টিম প্লে। আর এটি তৈরির প্রধান দায়িত্ব থাকে কোচের হাতে। বিশেষভাবে যখন টিমে ওয়ার্ল্ড ক্লাস প্লেয়ার তুলনামূলক ভাবে বেশী থাকে, তখন সে টিম সামলানোটাও আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আর জিদান ছিলেন এখানে শতভাগ সফল। তিনি অসাধারণভাবে টিম ওয়েল ব্যালেন্সড ও কম্বিনেশন ঠিক রেখে প্রোপারলি খেলা পরিচালনা করতে সক্ষম হন। আর এটি ছিলো তাঁর সাফল্যের অন্যতম বড় চাবিকাঠি।

জিদান যখন প্রথম দায়িত্ব নেন, তখনও মাদ্রিদে তারকার কমতি ছিলোনা। কিন্তু যেটা ছিলো তা হলো টিম কম্বিনেশন এর ঘাটতি, আর ফলস্বরূপ সাফল্যও আসছিলোনা। আর জিদান দায়িত্ব নিয়েই টিম একদম পার্ফেক্ট কম্বিনেশনে নিয়ে আসেন। খেলার সামঞ্জস্য তৈরি করেন। দলের মানসিকতা বদলে দেন। সবার থেকে নিজের সেরাটা বের করে আনেন। ফলাফল, অতি দ্রুতই ধরা দেয় সাফল্য।

জিদান এমন এক দল তৈরি করেন, যা ছিলো যেকোনো পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম। এছাড়াও ক্রুসিয়াল মোমেন্টে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ট্যাকটিক্যাল চেঞ্জে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। ২০১৭ সালে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ইউসিএল ফাইনালে বা ২০১৮ সালে পিএসজির বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনের ফার্স্ট লেগে তার ট্যাকটিক্যাল চেঞ্জ বিরাট ইম্প্যাক্ট ফেলে।

image_search_1661954492316
এর পরের যে বড় ফ্যাক্টর, তা হলো আত্মবিশ্বাস এবং এটির জোরে বহু "জুজু" কে পরাজিত করা। আর এটির পেছনেও ছিলেন জিদান। তিনি টিমে সবার মধ্যে এমন এক মানসিকতা তৈরি করেন, যেন তারা সবকিছু করতে সক্ষম হয়, যেন অসম্ভব কে সম্ভব করতে পারে।

এবং এর জোরে তারা আগের বছরগুলোর বেশ অসংখ্য জুজু কে পরাজিত করে। যেমন, মাদ্রিদের জন্য বড় এক "জুজু" ছিলো ইতালি। ইতালির মাটিতে তারা জয় পেতোনা। কিন্তু জিদান তাঁর প্রথম সিজনেই রোমা কে তাদেরই মাঠে ২-০ গোলে হারিয়ে সে জুজু দূর করেন। এটির মাধ্যমে আট সিজন পর ইতালির মাঠে জয় পায় মাদ্রিদ।

তাদের আরেকটি জুজু ছিলো ফার্স্ট লেগে পিছিয়ে পড়লে মাদ্রিদ কামব্যাক করতে পারতোনা। কিন্তু জিদানের মাদ্রিদ এটিও দূর করে এবং ভল্ফসবুর্গের বিপক্ষে প্রথম লেগে পিছিয়ে থেকেও পরের লেগে কামব্যাক করে জয়লাভ করে।

মাদ্রিদের আরেক জুজু ছিলো জার্মান প্রতিপক্ষ। লা ডেসিমা জয়ের আগে জার্মান ক্লাবগুলোর বিপক্ষে ২৬ বারের দেখায় মাত্র দুইবার জয়ের দেখা পেয়েছিলো মাদ্রিদ। অপরদিকে টানা তিন ইউসিএল জয়ের যাত্রায় জার্মান দলগুলোর বিরুদ্ধে দশ ম্যাচের ছয়টিতেই জয়ের দেখা পায় তারা, পরাজিত হয় মাত্র একটিতে। বায়ার্নকে টানা ছয় ম্যাচে হারায় তারা। এছাড়াও তেরতম ইউসিএল জয়ের পথে গত ষাটের দশকের পর প্রথমবারের মতো জুভেন্টাস কে তাদেরই মাঠে হারায় রিয়াল মাদ্রিদ।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটি মাদ্রিদের এ যাত্রায় বড় ভূমিকা রেখেছে তা হলো তাদের অ্যাওয়ে রেকর্ড। ইউসিএলে অপনেন্টের মাঠে জয়লাভ সবসময় বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর এখানেই মাদ্রিদ প্রমাণ করে তারা কতটা টাফ একটা দল। ২০১৭ সালে বায়ার্ন মিউনিখের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় তাদের টানা ১৬ ম্যাচ জয়ের অবিশ্বাস্য রেকর্ডের অবসান ঘটিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জোড়া গোলে তাদের পরাজিত করে লস ব্লাঙ্কোসরা। এছাড়া জুভেন্টাসকেও তাদের ঘরের মাঠে হারানোর মাধ্যমে তুরিনের বুড়িদের হোম গ্রাউন্ডে টানা ২৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডের অবসান ঘটায় মাদ্রিদ। এ রেকর্ডগুলো আসলে এটাই প্রমাণ করে যে মাদ্রিদের সে দলটি কতটা অদম্য ছিলো।

image_search_1661954615013
মাদ্রিদের এ টানা তিন ইউসিএল জয়ে তাদের মোট ১৮ টি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, মাদ্রিদ এ ১৮ ম্যাচের মধ্যে ১১ টি তেই প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফেরে, অন্যদিকে পরাজিত হয় মাত্র তিনটিতে। সে ১১ টি জয়ের মধ্যে ৬ টিই আবার এসেছিলো নকআউট স্টেজে। এবং এ অবিশ্বাস্য অ্যাওয়ে রেকর্ড তাদের মিশনে দারুণ ইম্প্যাক্ট ফেলে। শুরুতে হোম ম্যাচে পিছিয়ে পড়লেই যেখানে সাধারণত সব দল মনোবল হারিয়ে ফেলে, সেখানে মাদ্রিদ বারবার সেকেন্ড লেগে জয় অর্জনের মাধ্যমে এক অপ্রতিরোধ্য মনোবল অর্জন করে, যা তাদের করে তোলে আরও দুর্জয়।

এবার তাদের ঐতিহাসিক থ্রিপিট অর্জনে যাত্রা তিনটির ওপর নজর দেওয়া যাক। থ্রিপিট সম্পন্নকরণে শেষ ইউসিএল জয়টা ছিলো সবচেয়ে বেশী নাটকীয়। সর্বপ্রথম ২০১৬ সালের ইউসিএল জয়টা তেমন নাটকীয় ছিলোনা। শুরু থেকে রিয়াল মাদ্রিদ ছিলো দুর্দান্ত ফর্মে আর সেটা সফলভাবে অব্যাহত রাখে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই। সেবারের যাত্রায় পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি ম্যাচে জয় বঞ্চিত ছিলো রিয়াল মাদ্রিদ।

পরের সিজনেও বিশ্বের সেরা টিম হিসেবেই যাত্রা শুরু করে মাদ্রিদ। তারা সেবার টানা ৪৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ে। সেই সাথে টানা ৭৩ ম্যাচে গোল করে লস ব্লাঙ্কোসরা, যার মধ্যে ছিলো ২০১৬-১৭ সিজনের সবকটি ম্যাচ। এটিও রেকর্ড। তবে আগেরবারের তুলনায় সেবার নক আউট স্টেজে প্রতিপক্ষ তুলনামূলকভাবে কঠিন ছিলো। এবার তাদের মুখোমুখি হয় ডর্টমুন্ড, নাপোলি, বায়ার্ন, আতলেটিকো ও সবশেষে ফাইনালে উড়তে থাকা জুভেন্টাস।

তবে সর্বশেষ যাত্রাটা মাদ্রিদের মোটেও সুখকর ছিলোনা। সেই সিজনে শুরু থেকেই নানারকমভাবে হোঁচট খেতে থাকে তারা। বেশ কিছু অতি প্রয়োজনীয় খেলোয়াড়দের বিদায় জানালেও তাদের প্রোপার রিপ্লেসমেন্ট সাইন করাতে ব্যর্থ হয় মাদ্রিদ। যেটার জন্য স্কোয়াড ডেপথ ভঙ্গুর হয়ে পড়ে ও মাদ্রিদ একের পর এক অঘটনের শিকার হতে থাকে। আনবিটেন রেস শেষে ২০১৭-১৮ সিজনে নয়টি হারের দেখা পায় তারা।

বাজেভাবে শুরু করার পর আবারও আগের ফর্মে ব্যাক করার প্রচেষ্টা চালাতে শুরু করে জিদানের দল। ফ্রেঞ্চ মাস্টারমাইন্ড আবারও পূর্বের সেসব খেলোয়াড়দের ঠিক সেভাবে খেলানো শুরু করেন যেভাবে তারা জয় করে আগের দুটি ইউসিএল। এবং এ ফর্মুলা দারুণভাবে কাজে দিতে শুরু করে। আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় মাদ্রিদ, সেইসাথে ফেরে জয়ের ধারায়।

image_search_1661954452162
সিজনের দ্বিতীয়ার্ধে মাদ্রিদ যেন আবার নিজেদের স্বরুপ ফিরে পায়। আবার ফিরে আসে ভয়ডরহীন রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এবারও নক আউট পর্বে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো কঠিন এক পথ। সে যাত্রায় তাদের একে একে হারাতে হয় ডর্টমুন্ড, স্পার্স, পিএসজি, জুভেন্টাস, বায়ার্ন মিউনিখ ও সবশেষে ফাইনালে ক্লপের পরাক্রমশালী লিভারপুল কে।

এবং আরও একবার মাদ্রিদ তাদের অদম্য আত্মবিশ্বাসের জোরে জিতে নেয় সবকটি ম্যাচ। উঁচিয়ে ধরে চ্যাম্পিয়নস লিগের রূপোলী ট্রফি। আরও একবার অসম্ভব কে সম্ভব করে। আরও একবার প্রমাণ করে কেন তারা পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ক্লাব।

এ অর্জনের পেছনে প্রধান কারিগর ফ্রেঞ্চ মাস্টারমাইন্ড জিনেদিন জিদান বলেন, "এ ক্লাব নিয়ে তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়, এটি সত্যি অসাধারণ।" লিভারপুলের বিপক্ষে ফাইনাল জয়ের মাধ্যমে থ্রিপিট পরিপূর্ণ করার পর বলেন, "আমরা পুরোপুরি আন্দাজও করতে পারছিনা এইমাত্র আমরা কি অর্জন করলাম। আমরা এখন এ মূহুর্তটাকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করবো।"

ব্যালন ডি'অর জয়ী রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ বলেন, "এটি অবিশ্বাস্য, এটি ঐতিহাসিক। আমি জানিনা ভবিষ্যতে কেউ এটির পুনরাবৃত্তি করবে কিনা। দুইবার (ইউসিএল জয়) ছিলো আশ্চর্যজনক, আর এটি ঐতিহাসিক।"

তিনি আরও বলেন, "শিকাগো বুলস, লেকার্স, বোস্টন সেলটিকস প্রভৃতি বাস্কেটবল টিম নিয়ে গতকাল আমরা একটি মুভি দেখছিলাম এবং দেখছিলাম কিভাবে তারা টানা তিনবার বা চারবার এটি জয় করে। তারা এটিকে বলে 'ডিনেস্টি'। তারা আমাদেরও ডিনেস্টি বলতে পারে। মনে হতে পারে যে এখানে আসা বা এটি জয় করা খুব সহজ। কিন্তু এটি দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রমের ফসল। আমার মনে হয়না কেউ এটির পুনরাবৃত্তি করবে।"

image_search_1661954180763
রিয়াল মাদ্রিদ যা করেছিলো, তা এককথায় অপূর্ব, অবিশ্বাস্য, অতুলনীয় ও অসাধারণ। তারা এ যাত্রায় যেমন অসম্ভব কে সম্ভব করে, তেমনি বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দেয় কিভাবে সফল হতে হয়। তাদের সে যাত্রা ছিলো সফলতার আদর্শ। কঠোর পরিশ্রম, সঠিক নেতৃত্ব, পার্ফেক্ট টিম কম্বিনেশন, হার না মানা মানসিকতা, অটল আত্মবিশ্বাস, নিজেদের সম্পূর্ণ নিংড়ে দেওয়া, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরাজয়ে ভেঙে না পড়া, লক্ষ্যে অবিচল থাকা, পরিস্থিতির সাথে যথাযোথ ভাবে মানিয়ে নেওয়া, প্রয়োজনে স্ট্র‍্যাটেজি পরিবর্তন করা...এসবই ছিলো মাদ্রিদের এ ঈর্ষণীয় সাফল্যের পেছনে প্রধান চাবিকাঠি।

উল্লেখ্য যে, জিদান অন্য অনেক বিখ্যাত কোচদের মতো ফুটবলের নতুন কোনো স্ট্র‍্যাটেজি নিয়ে আসেননি। তিনি সাধারণ ফুটবল সাধারণ ভাবেই খেলেছেন এবং এভাবেই তিনি একে অসাধারণ রূপ দিয়েছেন। সবসময়ই তার লক্ষ্য ছিলো দুটি, জয়...এবং জয়। এবং এর মাধ্যমেই মাত্র তিন বছরে তিনি গড়েছেন অবিশ্বাস্য এক ইতিহাস, নিজেকে নিয়ে গেছেন সর্বকালের সেরা কোচদের কাতারে।

ভবিষ্যতে কেউ এটার পুনরাবৃত্তি করতে পারুক আর না পারুক, রিয়াল মাদ্রিদের এ অবিশ্বাস্য যাত্রা ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।