• ফুটবল

ক্লপ, লিভারপুল ও ফুটবল রোমাঞ্চ।

পোস্টটি ৩৯১ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

সেদিন হুট করে আসলেন, খুব সাধারণ আয়োজন। প্রেস, মিডিয়া- ফটোগ্রাফারের ক্যামেরা তাক করে দাঁড়িয়ে;  অপেক্ষায় আছে তার। তিনি আসলেন, হেসে নিলেন এক গাল। অতঃপর বলতে শুরু করলেন, 'আমি স্পেশাল নই, খুব সাধারণ একজন!' 

 

শুরু হলো তার নিঁখুত পোয়েস্ট্রি। জগৎ সংসারে তীব্র অসুখী মানুষেরাই কেবল পারে এমন নিপুণ কবিত্ব। ক্লপ কি অসুখী মানুষদের একজন? 

 

তাহলে কিসের এতো ক্ষোভ? হেরে না যাওয়ার এতো তীব্র মনোভাব? ফুটবল মাঠে নিশ্চয়ই ম্যাজিক কাজ করে না। তাহলে কোন এক অদৃশ্য শক্তিবলে ক্লপের দল এতো জাদুকরী খেলে? 

 

ক্লপ কিভাবে একটা গোটা শহরের প্রাণকর্তা হয়ে উঠলেন? যে শহরের মানুষ ফুটবল গিলে, খায়, শুনে ও মনেপ্রাণে তা ধারণ করে ধর্মের মতো করে? 

 

ক্লপ কিভাবে একটা পুরো জেনারেশনকে মুগ্ধতায় মাতিয়ে রাখলেন তার ক্যারিশমাটিক ব্যক্তিত্ব দেখিয়ে? কি এক জাদুর ভরে ক্লপ ডাগআউটে থাকলে শান্তি পায় ভক্তরা? ডাগআউটে দাঁড়িয়ে না থাকলে খালি খালি লাগে সব! 

 

'পোয়েট' আসলেন, পুরো দলটাই বদলে দিলেন। কদিন পর তো ইতিহাসটাও বদলে দিলেন! যাদের দলে বেড়ালেন, তারা যেন শত বছরের আপন। ম্যাচ শেষেই দৌঁড়ে চলে যান প্লেয়ারদের কাছে। বুকে টেনে নেন। ট্রেডমার্ক সেলিব্রশনে আনন্দে মাতান পুরো স্টেডিয়াম। 

 

তারপর সব শেষ। 

যে স্বপ্নের জাল বুনতে সময় লেগেছে কত দীর্ঘ বছর। সে জাল ছিড়ে ফেলার কাজটাও সেরে ফেলা হলো। সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবিয়ে ক্লপ এনফিল্ড ছেড়ে যাচ্ছেন! যেন অকল্পনীয় কোনো গল্প পড়ে শোনালো কোনো পাঠক। 

 

শেষবারের মতো বললেন, 'ইংল্যান্ডের আর কোনো ক্লাবের ডাগআউটে আমাকে দেখবেন না।' ক্লপ, ইংল্যান্ডের কেনো- পৃথিবীর কোনো ক্লাবের ডাগআউটেই আপনাকে দেখতে চাই না আমি। এ ভীষণ অভিমান বুকে চেপে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে জানি; তবু ক্লপ আপনাকে ভীষণ ভালোবাসি! 

 

হুট করে আসা আগন্তুক হঠাৎ চল যাচ্ছেন। কেন যাচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন? এমন কি হলো ক্লাবের সাথে? নাকি আপনি সুস্থ নেই? জানিনা কিছুই জানিনা....

 

কত প্রশ্নের বনে হারিয়ে জড়িয়ে, বোঝে না তবু এ মন

শান্ত নিবিড় পথে হেঁটে কাটে সারাদিন সারাক্ষণ...

 

শাভি আলেন্সো, জিনেদিন জিদান, স্টিভেন জেরার্ড কিংবা জুলিয়ান নাগেলসম্যান- এক নতুন রোমাঞ্চ! 

 

কে আসবেন ডাগআউটে এই প্রশ্নের মিছিলে সবাই সামিল। এটাই বুঝি ফুটবল; মূহুর্তেই বদলে যায় ড্রেসিরুম। কাড়িকাড়ি টাকা আর মোহের লোভে সবাই যখন দৌঁড়ায়, একজন ক্লপ লয়ালিটি কি জিনিস তা বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন এতোদিন। 

 

আমার মন খারাপ হলো অন্য কারণে। 

 

মানুষ মা'রা যাওয়ার পর হয়ে যায় লাশ। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে কত দ্রুত সে লাশ'কে দাফন করবে। ক্লপ স্বেচ্ছায় ক্লাব ছাড়ছেন, আবেগময় সে বার্তায় তাকে মনমরা লেগেছে। অকপটে কত সহজে জানালেন তিনি আর পারছেন না। 

 

একজন ভক্ত হিসেবে তার এই সিদ্ধান্তকে আমাদের সম্মান জানানো উচিত। আমাদের কাপ্তান বলেছেন, এই মৌসুমটা হবে স্পেশাল। বাকি যতদিন তিনি আছেন, আসুন তার কোচিং উপভোগ করি। রিপ্লেসম্যান্ট কে আসবেন, সে হিসেব পরে করি। 

 

এনফিল্ডের ডাগআউট সবসময় ক্লপের জন্য স্পেশাল ছিলো, ক্লপ সে জায়গাটুকু ধরে রেখেছেন। তার প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা। 

 

ক্লপের পরে কেউ আসলে সেটা আলেন্সো আসুক। জিদান নাগেলসম্যান আসলেও দারুণ হবে। তবে ক্লপের সাথে প্লেয়ারের, দর্শকদের যে আত্মার সম্পর্ক- সেটা গড়ে তুলতে পারবেন কেউ? 

 

ক্লপকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। অমায়িক মানুষ। হ্যালো বস বলে ডাক দিতেই ফিরতি জবাব দিয়েছেন, হাই! 

 

ক্লপ সম্ভবত ১ বছর বিরতি নিবেন। তারপর দেখা যাক আবার ফিরে আসেন কিনা। ততোদিন নাহয় ক্লপের ফুটবল রোমাঞ্চ খুব করে মিস করা যাক...