• ফুটবল

বদলে যাওয়া সোলশার, বদলে দেওয়া সোলশার

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলর ড্র দেখেছিলেন ঘরে বসে, ছেলের সঙ্গে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভাগ্যে যখন পিএসজি পড়লো তখন ছেলে জিজ্ঞেস করেছিল, পারবে তো ইউনাইটেড? বাবা ওলে গানার সোলশার জবাব দিয়েছেন, “নো ওয়ে!”

 

 

এর তিনদিন পর ম্যানচেস্টারে ফিরেছিলেন সোলশার, ইউনাইটেডের অন্তবর্তীকালীন ম্যানেজার হয়ে। যে কাজটা অসম্ভব মনে হচ্ছিল, তিন মাসের কম সময়ের ব্যবধানে দায়িত্ব নিয়ে সেটাই করে দেখিয়েছেন সোলশার। পিএসজিকে বিদায় করে দিয়ে ম্যান ইউনাইটেডকে ৫ বছর পর নিয়ে গেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে।

 

***

ওল্ড ট্রাফোর্ডে ২-০ ব্যবধানে প্রথম লেগ হেরেছিল ইউনাইটেড। ঘরের মাঠে দুই গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের পরের পর্বে যাওয়ার কোনো ইতিহাস ছিল না। দুই দলের পার্থক্যও আকাশ-পাতাল। পল পগবা তো নিষেধাজ্ঞার কারণে ছিলেনই না। তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল ইনজুরি সমস্যা। মূল দলের দশজনই নেই সোলশারের হাতে।  তবুও প্যারিসে সংবাদসম্মেলনে একবারের জন্য ‘কঠিন’ শব্দটাও উচ্চারণ করেননি সোলশার। বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন এখান থেকেও দারুণ কিছু সম্ভব।

প্রথম লেগের ফল, নিজের দল, প্রতিপক্ষের মাঠ- সবকিছু ছিল বিপরীতে। তবুও হার মানেন না সোলশার!

দ্বিতীয় লেগে দল নামালেন জোড়া তালি দিয়ে। আনকোরা মিডফিল্ডে সব রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলার। স্কট ম্যাকটমিন আর আন্দ্রেয়াস পেরেরার বয়স ২২ আর ২৩। ফ্রেড যা একটু বয়সে বড়, তাও তাঁর অভিজ্ঞতা কম।

রোমেলু লুকাকু অবশ্য কাজটা একটু সহজ করে দিলেন প্রথম আধঘণ্টার ভেতর দুই গোল দিয়ে। 'সহজ' শব্দটা কাগজে কলমেই শুধু। পিএসজির আক্রমণ সামলাতে তখনও হিমশিম খাচ্ছে ইউনাইটেড। সোলশার সিদ্ধান্ত বদলাতেও ভয় পেলেন না। এরিক বায়ি রাইটব্যাক পজিশনে সুবিধা করতে পারছিলেন না। হুয়ান বের্নাটের গোলে তার দায়টাই বেশি। ৩৬ মিনিটে বায়িকে তুলে নিয়ে ১৯ বছরের ডিয়েগো দালোকে নামিয়ে দিলেন। ৫ জনের ব্যাকলাইন পরিবর্তন করে তখন ইউনাইটেড ফিরল ৪ জনের ডিফেন্সে।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় পরীক্ষায় ইউনাইটেডকে ফেলল পিএসজি। অনুমিতই ছিল ইউনাইটেড নিজেদের রক্ষণ সামলে কাউন্টারে একটি গোল করার চেষ্টা করবে। ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্তও যখন পিএসজিকে আটকে রাখল ইউনাইটেডের রক্ষণ, তখন গোলের চিন্তাটাই করতে হলো সোলশারকে। কাকে নামাবেন? ১৯ বছর বয়সী তাহিত চংকে নামিয়ে দিয়ে বললেন পিএসজির মিডফিল্ডকে প্রেস করতে। আরও সাত মিনিট পর নামালেন আরেক ‘ছোকরাকে’। ১৭ বছর বয়সী গ্রিনউডের অভিষেক করিয়ে দিলেন প্যারিসে। গ্রিনউডকে আবার স্কুলে যেতে হয়েছে ম্যানচেস্টারে ফিরে। তখন অবশ্য ওসব মাথায় থাকার কথা নয়। যেটুকু সময় মাঠে থাকলেন চেষ্টা করে গেলেন।

গ্রিনউড, চংরা মাঠে নামার সাহস করতে পেরেছেন, ওই বয়সে ভয়-ডর কাজ করে না। কিন্তু যিনি তাদেরকে নামিয়ে দিয়েছেন তিনি তো আর সাহস দেখাতে যাননি ওই পরিণত বয়সে। তিনি শুধু স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

পার্থক্যটা শেষে গিয়ে গড়লেন মার্কোস র‍্যাশফোর্ড। ৯৩ মিনিটে স্নায়ু ধরে রেখে যে পেনাল্টি কিকে গোল করলেন, সেটাতেই টাই জিতেছে ইউনাইটেড। র‍্যাশফোর্ড এর আগে কখনও পেনাল্টি কিক নেননি। ওই সিদ্ধান্তটাও গেছে ডাগ আউট থেকেই।

এরপর “অ্যান্ড সোলশার হ্যাজ ওন ইট” হয়ে গেল “সোলশার হ্যাজ ডান ইট”।

১৯৯৯ এ বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে সোলশারের সেই বিখ্যাত গোলটাও ৯৩ মিনিটেই করা। সেবার মিরাকল ঘটিয়েছিলেন মাঠে থেকে, এবার ডাগ আউট থেকে- এই যা পার্থক্য। কি এমন ম্যাজিক করেছেন তিনি? যাতে বেমালুম বদলে গেল ইউনাইটেডের চেহারা?


 ***

সোলশার ইউনাইটেডে গিয়েছিলেন মরুর বুকে স্বস্তির বৃষ্টির হয়ে। এরপর যেন নির্মল বাতাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ হয়েছে ইউনাইটেড খেলোয়াড়দের।  
 
এই ক্লাবের নাড়ি নক্ষত্র ভালোমতোই জানা ছিল তার। কিন্তু সেটার ওপর ভরসা করে আর কতদিন? সোলশার যখন প্রথমদিকে জিততে শুরু করলেন তখন সেটা মনে হয়েছিল মধুচন্দ্রিমার মতো। দিনগুলো ফুরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল অল্পতেই। পিএসজিই মাটিতেই নামিয়ে এনেছিল প্রথম লেগে। কিন্তু সেটাকেই বরং এখন ‘অঘটন’ মনে করতে পারেন ইউনাইটেড সমর্থকেরা।

এই দল তো হারতে জানে না। সবকিছুর বিনিময়ে, রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জয়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়াও শিখে গেছে সোলশারের ইউনাইটেড।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে শেষ কবে এমন স্বস্তি ছিল? মিল খুঁজে পাচ্ছেন? স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের তত্ত্বটাই অনুসরণ করছেন সোলশার। ম্যান ইউনাইটেডের একটা আলাদা পরিচয় ছিল ফার্গুসনের আমলে। এরপর দিনে দিনে তাতে মরচে পড়েছে, একটা সময় লোকে ভুলতেই বসেছিল সেসব। বড় ম্যাচে হার এড়াতে পারলেই সেটাকে সাফল্য ধরে নেওয়ার অভ্যাসের দিকে এগুচ্ছিল সমর্থকেরা।

অথচ সোলশারের তেমন কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। ১১ বছর ইউনাইটেডে কাটিয়ে, দুই বছর দলের রিজার্ভ দলের কোচ ছিলেন। এরপর কার্ডিফ সিটির ম্যানেজার হয়ে দলকে রেলিগেশনে ফেলে চাকরিও হারিয়েছেন। ফিরে গিয়েছিলেন নরওয়েতে, সেখানে মোল্ডের ম্যানেজেরিয়াল দায়িত্ব পালন করছিলেন ইউনাইটেডে আসার আগ পর্যন্ত।

ডেভিড ময়েজ, লুই ফন গাল, হোসে মরিনহোরা একের পর এক ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন। এরপর সোলশার যখন এলেন, তখনই বোঝা গেল পার্থক্যটা। এই ইউনাইটেড তো স্যার অ্যালেক্সের হাতে গড়া। তার হালচাল ভালো বোঝেন যিনি, তিনিই তো সফল হবেন এখানে। ইউনাইটেডের যেমন সোলশারকে দরকার হয়ে পড়েছিল, সোলশারেরও নিজের ধ্যান ধারণা প্রয়োগ করতে ইউনাইটেডকেই দরকার ছিল।

স্যার অ্যালেক্সের আমলে ইউনাইটেডের আলাদা কোনো ব্রান্ড ছিল না ফুটবলে। জেতার জন্য যদি রক্ষণে মনোযোগী হতে হয়, তাহলে ইউনাইটেড সেটাই করত। যদি ৫ জন মিলে আক্রমণ করতে হত, তাহলেও সেটাই সই। ভিত্তি ছিল খেলোয়াড়দের ক্ষুধা, আর ফার্গুসনের ক্ষুরধার মেধা। সোলশার ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটাই পার করেছেন বদলি হয়ে মাঠে নেমে। সাইডবেঞ্চে ফার্গুসনের পাশে সবচেয়ে বেশি সময়ও তাই পার করেছেন তিনিই। ম্যাচের সময় মাঝেমধ্যে সোলশারের সঙ্গেও আলোচনাও করে নিতেন ফার্গুসন। ভিতটা ওখানেই তৈরি হয়ে ছিল সোলশারের। সেসবই এখন প্রয়োগ করে চলেছেন তিনি। যখন যেটা ভালো মনে করছেন, সেই সিদ্ধান্তটাই নিচ্ছেন। আর খেলোয়াড়দের পূর্ণ সমর্থন থাকায় তারাও উজাড় করে লড়াই করে যাচ্ছেন মাঠে।

অথচ সোলশার আসার আগে ইউনাইটেডের রক্ষণের অবস্থা ছিল পাড়ার দলের মতো। প্রায় প্রতি ম্যাচেই অন্তত দুইজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার খেলালেন সোলশার। রক্ষণের ওপরও চাপ কমলো একটু। তাতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেন ক্রিস স্মলিং আর ভিক্টর লিন্ডেলফরা। পরের জন তো বিপ্লবই ঘটিয়েছেন। সোলশারের অধীনে ১৭ ম্যাচে মাত্র ১৩ গোল হজম করেছে ইউনাইটেড। রক্ষণের চেহারা ফিরিয়ে আনতে লিন্ডেলফের অবদানটাই বেশি।

মিডফিল্ড তো বটেই দলের মূল ভরসায় পরিণত করেছেন পল পগবাকে। পগবাও প্রতিদান দিচ্ছেন প্রতি ম্যাচেই। এরই মধ্যে ক্যারিয়ারে লিগের এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোলও করা হয়ে গেছে তার। উন্নতি করেছেন অ্যান্ডার হেরেরাও। অথচ এই ফুবটলাররাই হোসে মরিনহোর সময়ে দলে নিয়মিত জায়গাই পেতেন না।   

তবে চোখে পড়ার মতো উন্নতি বেশি আরও আক্রমণভাগে। সোলশার আসার আগে লুকাকুর গোল ছিল ২২ ম্যাচে মাত্র ৬টি। এরপর সেটা ১৫ ম্যাচে হয়েছে ৯। র‍্যাশফোর্ডও ম্যাচ প্রতি গোল সংখ্যায় করেছেন উন্নতি।    

করেছেনটা কী সোলশার?


মোটা দাগে বললে, দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। যখন যেটা দরকার সেটাই করছেন। চেলসির বিপক্ষে ম্যাচের কথাই ধরা যাক। রক্ষণের দিকে মনোযোগী হওয়া দরকার ছিল ইউনাইটেডের। সোলশার দলকে খেলালেন কাউন্টার অ্যাটাকে। তাতেই ফল মিলল, এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালও নিশ্চিত হলো ইউনাইটেডের।

সোলশার সাহায্য নিয়েছেন গুরু স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের। ফিরিয়ে এনেছেন ফার্গির সাবেক সহকারি মাইক ফিলানকে। স্যার অ্যালেক্সের সময় তিনিই দলকে কোচিং করাতেন। আরেক সহকারি মাইকেল ক্যারিকের সঙ্গে একই দলে খেলেছেন। কোচিংয়েও দুইজনের রসায়নটা জমেছে বেশ। পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচশেষে ইউনাইটেডের ডাগ আউটের উল্লাস বলছে, এসব কিছুই একটা দলগত সাফল্য।  র‍্যাশফোর্ড, লুকাকুরা প্যারিসের ড্রেসিংরুমে ফেরার পর সেখানেও হাজির হয়েছিলেন স্যার অ্যালেক্স, ছিলেন আরেক কিংবদন্তী এরিক ক্যান্টোনাও। সোলশারের এই সিদ্ধান্তটাও ইঙ্গিত করছে, আধুনিক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভিত্তি যাদের ঘিরে তাদের সেই ফর্মূলাই অনুসরণ করছেন তিনি।

***
অবশ্য সোলশারের একটা আলাদা ফুটবল দর্শনও আছে। এদিক দিয়ে তিনি আবার কিছুটা পেপ গার্দিওলা ভক্ত। মোল্ডের ম্যানেজার থাকার সময় তার দলের খেলায় সেই ছায়াও খুঁজে পাওয়া যেত ভালোমতই।

কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতে ম্যান ইউনাইটেডের রিজার্ভ দলের দায়িত্বে ছিলেন সোলশার। তখন পগবা, লিনগার্ডদের দেখেছেন একেবারে কাছ থেকে। এরপর নরওয়েজিয়ান ক্লাব মোল্ডের দায়িত্ব নিয়ে ফিরেছিলেন নিজ দেশে। সেখানেও জাদু দেখিয়েছেন। প্রথম মৌসুমেই মোল্ডকে প্রথমবারের মতো লিগে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন, পরের বছর আবার সেটা ডিফেন্ডও করেছে মোল্ড।

২০১৪ এর জানুয়ারিতে অনেকটা হুট করেই কার্ডিফ সিটির দায়িত্ব পেয়ে যান। সেখানে অবশ্য ব্যর্থ হয়েছিলেন। ৯ মাস পরই বরখাস্ত হয়েছিলেন ক্লাব থেকে। কার্ডিফ ছিল প্রিমিয়ার লিগে, সেখান থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে নেমেও গিয়েছিল তারা সোলশারের অধীনে। বছর দুই পর আবার ফিরেছিলেন মোল্ডে। ইউনাইটেডের ম্যানেজার হয়ে আসার আগ পর্যন্তও সেখানেই ছিলেন তিনি।

মোল্ডে সোলশারের দলটার সঙ্গে অনেকে লিভারপুলের খেলার ধরণের মিল খুঁজে পান। আক্রমণ, গতি, প্রেসিং- এই তিনের সমন্বয়ে ছিল মোল্ডের মূলনীতি। ৪-২-৩-১, ৪-১-৪-১ ফর্মেশনে দল সাজাতেন সোলশার। এই ফর্মেশনে  আক্রমণে বড় ভূমিকা রাখতে হত ফুলব্যাকদের, হাফ স্পেস আর উইং দিয়ে ফুলব্যাকদের সঙ্গে উইঙ্গারদের আন্ডারল্যাপ আর ওভারল্যাপ ছিল সাধারণ দৃশ্য। রক্ষণের দিকে বেশি মনোযোগী হতে হলে, সেক্ষেত্রে ৪-৪-২ ফর্মেশন অনুসরণ করতেন সোলশার।

ইউনাইটেডেও দলকে ফেলেছেন একই ছাঁচে। এফএ কাপে চেলসির বিপক্ষে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ম্যাচটা সোলশারের অধীনে এখন পর্যন্ত ইউনাইটেডের সেরা পারফরম্যান্স বলা যায়। ওই ম্যাচে চেলসির ৪-১-৪-১ ফর্মেশন টেক্কা দিতে হুয়ান মাতাকে আক্রমণের কিছুটা পেছনে খেলিয়ে মিডফিল্ড ডায়মন্ডে ৪-৪-২ ফর্মেশনে খেলিয়েছিলেন দলকে। ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড় বলে শুধুমাত্র ম্যান ম্যানেজমেন্টের ওপর ভিত্তি করেই পার পেয়ে যাচ্ছেন না সোলশার, ট্যাকটিক্যালিও নিজের দর্শন প্রয়োগ করে যাচ্ছেন।

ফরোয়ার্ডদের প্রেসিং সোলশারের কৌশলের আরেকটি অংশ। শুরু থেকেই প্রেস করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ভড়কে দেওয়ার কাজটা তার অধীনে শুরু থেকেই করে আসছিল ইউনাইটেড। পিএসজির বিপক্ষে লুকাকুরা ফলটাও পেয়েছেন। প্রথম গোলে কেহরারের তড়িঘড়ি করে দেওয়া ব্যাকপাস তো র‍্যাশফোর্ডের  প্রেসিংয়ের কারণেই। দলের ফুলব্যাকদেরও উন্নতি হয়েছে চোখে পড়ার মতো। লুক শ অবশ্য এই মৌসুমে আগে থেকেই ভালো খেলছিলেন। আর ডিয়েগো দালো সুযোগ পেয়ে নিজেকে চেনাচ্ছেন ফুটবলের বড় মঞ্চে।

কার্ডিফ থেকে সোলশারকে বরখাস্ত করার সময়, দুই পক্ষের দর্শনের পার্থক্যের কথা বলা হয়েছিল জোরেশোরেই। সোলশারের সেটা প্রয়োগ করেছিলেন মোল্ডে, এরপর এক লাফে সেই ছাঁচে ফেলেছেন ইউনাইটেডকে।    

***

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে সোলশার ফিরিয়ে নিয়েছেন শেকড়ে। সংবাদ সম্মেলনে সোলশার কথা বলেন ক্লাবের ঐতিহ্য নিয়ে, সংস্কৃতি নিয়ে। কারণ সবার আগে তিনি একজন ইউনাইটেড সমর্থকও। তাই দলকে ক্লাবের মূল ভিত্তিগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াটাও তার জন্য সহজ কাজ। ইউনাইটেডের পুনর্জন্মের পেছনে টোটকাও এটাই। শীর্ষ চার যে দলের জন্য অসম্ভব মনে হচ্ছিল সেই দলকেই এখন শীর্ষ চারের জন্য এগিয়ে রাখছে সবাই। সোলশার আসার পর থেকে সময় হিসাব করলে ইউনাইটেডের চেয়ে বেশি পয়েন্ট পায়নি প্রিমিয়ার লিগের অন্য কোনো দল। টানা ৯ অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতেছে তারা। অথচ এই একই দল নিয়ে মরিনহো লিগের ৯ অ্যাওয়ে ম্যাচেই হেরেছিলেন ৪টিতে। পরিবর্তনটা শুধুমাত্র দলের খেলোয়াড়দের খেলাতেই নয়, ফলেও ছাপ পড়েছে ভালোভাবেই।

থিয়েটার অফ ড্রিমসে তাই নতুন স্বপ্ন। রাতারাতি ভাগ্য ফেরানোর জন্য সোলশারের চেয়ে ভাল আর কেই বা হতে পারতেন? ম্যাচ বুঝে সিদ্ধান্ত বদলাতে ভয় পান না, ক্লাবের ঐতিহ্যও রাখছেন অটুট, খেলোয়াড়েরাও তাকে নিয়ে খুশি।

চাকরিটা এখন স্থায়ীভাবে পেয়ে যাওয়ার অপেক্ষাতেই আছেন তাই সোলশার…

***
পিএসজির সঙ্গে প্রথম লেগ শেষে সোলশারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, দ্বিতীয় লেগে জন্য বাধাটা কি পাহাড়সমান হয়ে গেল কি না? সোলশার তখন জবাব দিয়েছিলেন, “পাহাড় তো আছেই অতিক্রম করার জন্য”।

এরপর প্যারিসের অপেরায় রোমাঞ্চকর এক ম্যাচশেষে জানালেন, "এটাই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আমরা এমনই, এটাই আমাদের কাজ..."

সেই পাহাড় সোলশার অতিক্রম করে দেখিয়েছেন, শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাসের জোর দিয়ে। হারার আগে হেরে না গেলে হয়ত চূড়াও অতিক্রম করে ফেলা যায়।