• ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
  • " />

     

    • ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯

    সুপার ওভার, রিজার্ভ ডে : বিশ্বকাপে কী থাকছে, কী থাকছে না

    কবে, কখন

    ৩০ মে থেকে বিশ্বকাপ চলবে ১৪ জুলাই পর্যন্ত। ইংল্যান্ডের ১০টি ও ওয়েলসের কার্ডিফে হবে মোট ৪৮টি ম্যাচ। টুর্নামেন্টের পুরো সূচি দেখুন এখানে। 

    ১০ দল কেন? 

    শেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলেছে ৮ দল, বিশ্বকাপে খেলছে এর চেয়ে মাত্র দুটি বেশি দল। ২০০৭ সালে ১৬টি দল খেলেছিল চার গ্রুপে ভাগ হয়ে, তবে প্রথম পর্বেই বাদ পড়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। ২০১৫ সালে ১৪টি দল খেলেছিল দুটি পুলে ভাগ হয়ে। আইসিসির মতে, ‘বেশি’ দলের টুর্নামেন্টে বেশ কিছু একপেশে ম্যাচ থাকে, সঙ্গে টিভি রেটিং-ও থাকে নিচের দিকে। টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করতেই এই ব্যবস্থা। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকা দলগুলি সরাসরি এসেছে বিশ্বকাপে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান পেরিয়ে এসেছে জিম্বাবুয়েতে হওয়া বাছাইপর্ব পেরিয়ে। 

    টেলিভিশনে কোথায় দেখানো হবে? 

    গত বিশ্বকাপ প্রায় ১.৫ থেকে ২.২ বিলিয়ন মানুষ দেখেছিল বলে ধারণা করা হয়। ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা শীর্ষ ১৫ স্পোর্টিং ইভেন্টের মাঝে যা আছে, এর থেকে এগিয়ে শুধু ফুটবল বিশ্বকাপ ও গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের কিছু আসর। এবার বিশ্বকাপ দেখা যাবে টেলিভিশন, অনলাইন সবখানেই। বাংলাদেশের জন্য অফিশিয়াল ব্রডকাস্টার বিটিভি, জিটিভি ও মাছরাঙা টেলিভিশন, অনলাইনে দেখা যাবে র‍্যাবিটহোলডটকমে। সঙ্গে উপমহাদেশের জন্য আছে স্টার স্পোর্টস। 

     

    লর্ডস, হোম অফ ক্রিকেট। পঞ্চম বিশ্বকাপ ফাইনাল হতে যাচ্ছে এখানে এবার।

     

    ফরম্যাট কেমন? 

    ১০ দলের প্রত্যেকে একটি করে ম্যাচ খেলবে অপরের সঙ্গে- রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে। এরপর শীর্ষ ৪ দল খেলবে সেমিফাইনালে, সেখান থেকে ফাইনাল। ১৯৯২ সালে হয়েছিল এমন ফরম্যাটেই বিশ্বকাপ, তবে সেবার দল ছিল ৯টি। 


    বিশ্বকাপে থাকুন প্যাভিলিয়নের সঙ্গে


    সেমিফাইনালের চারটি দল ঠিক হবে কিভাবে? 

     

     

    লিগপর্বে প্রতিটি জয়ের জন্য দল পাবে ২ পয়েন্ট, টাই বা পরিত্যক্ত হলে ১ পয়েন্ট, হারের ক্ষেত্রে পয়েন্ট নেই। এভাবে পয়েন্টের দিক দিয়ে শীর্ষ চার দল যাবে সেমিফাইনালে। সেখানে পয়েন্ট টেবিলের ১ নম্বর দল খেলবে ৪ নম্বর দলের সঙ্গে, অন্য ম্যাচে খেলবে ২ ও ৩ নম্বর দল। 

     

    তবে যদি একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়, তবে ক্রমান্বয়ে দেখা হবে নিচের বিষয়গুলি- 

    • লিগপর্বে যার জয় বেশি, সে যাবে পরের রাউন্ডে। যেমন- ধরা যাক বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ- দুই দলেরই পয়েন্ট ৮ করে। তবে বাংলাদেশ জিতেছে ৪টি ম্যাচ, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩টি জিতলেও একটি টাই ও একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় পেয়েছে মোট ৮ পয়েন্ট। এক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। 
    • জয়ের সংখ্যাতেও যদি ‘টাই’ হয়, তবে দেখা হবে নেট রান-রেট। সেক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা দল টেবিলেও এগিয়ে থাকবে। 
    • এরপরও যদি দলগুলিকে পজিশনের দিক দিয়ে আলাদা করা না যায়, তবে দেখা হবে মুখোমুখি লড়াই বা হেড-টু-হেডের ফল। সেখানে যে জিতেছিল, এগিয়ে থাকবে তারাই। 

    রিজার্ভ ডে আছে? 

    আছে, তবে সেটা শুধু সেমিফাইনাল ও ফাইনালের ক্ষেত্রে। লিগপর্বে নির্ধারিত সময়ের মাঝে খেলা না হলে হবে পয়েন্ট ভাগাভাগি। ওয়ানডে ম্যাচে কমপক্ষে ইনিংসপ্রতি ২০ ওভার হতে হয় ফল আনার জন্য। রিজার্ভ ডে-তে খেলা শুরু হবে আগেরদিন শেষ বলটা যে প্লেয়িং কন্ডিশনে হয়েছিল, সেসব ধরেই। যেমন ম্যাচ যদি ৩০ ওভারে নেমে আসার পর রিজার্ভ ডে-তে যায়, তবে রিজার্ভ ডে-র খেলাও হবে ৩০ ওভার ধরেই। 



    সুপার ওভার? 

    রিজার্ভ ডে-র মতো সুপার ওভারও আসবে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে। লিগপর্বে ম্যাচ টাই হলে সেটা সেখানেই শেষ, হবে পয়েন্ট ভাগাভাগি। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে সুপার ওভারে। ফাইনালে যদি দুই দিনই বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়, তাহলে যৌথ চ্যাম্পিয়ন হবে। 

    বল

    প্রতি ইনিংসে দুইদিক থেকে দুটি নতুন কুকাবুরা টার্ফ বলে হবে খেলা। তবে প্রথম ইনিংস শুরু হওয়ার আগেই ম্যাচ যদি ২৫ ওভার বা তার নিচে নেমে আসে, তাহলে প্রতি ইনিংসে থাকবে একটি করে নতুন বলই। 

    পাওয়ারপ্লে, ডিআরএস 

    গত বিশ্বকাপের পর থেকে বদলে গেছে পাওয়ারপ্লের নিয়ম। এখন প্রথম পাওয়ারপ্লেতে ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে থাকতে পারবেন সর্বোচ্চ দুজন ফিল্ডার, দ্বিতীয় পাওয়ারপ্লেতে থাকতে পারবেন ৪ জন, তৃতীয় পাওয়ারপ্লেতে থাকতে পারবেন ৫ জন। ১-১০, ১১-৪০, ৪১-৫০ ওভার পর্যন্ত হবে যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাওয়ারপ্লে। সংক্ষিপ্ত হয়ে আসা ম্যাচে পাওয়ারপ্লে নির্ধারিত হবে সেভাবেই। প্রতিটি ইনিংসে প্রতিটি দল পাবে একটি করে 'অসফল' রিভিউয়ের সুযোগ।