• ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ভারত সিরিজ
  • " />

     

    • ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ভারত সিরিজ

    গেইলের 'শেষের মঞ্চে' নায়ক কোহলিই

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫ ওভারে ২৪০/৭

    ভারত ৩২.৩ ওভারে ২৫৬/৪ (ডিএল মেথডে ৩৫ ওভারে লক্ষ্য ২৫৫)

    ফলঃ ভারত ৬ উইকেটে জয়ী


    আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি বটে, তবে বিদায়ী মঞ্চে শেষ অভিবাদনটা পেয়ে গেলেন ক্রিস গেইল। দারুণ একটা ইনিংস খেলে শেষটা স্মরণীয় করে রাখবেন বলেও মনে হচ্ছিল। কিন্তু বেরসিক বিরাট কোহলি এসে পন্ড করে দিলেন সবকিছু। আরও একটা ম্যাচে সেঞ্চুরি পেলেন ভারত অধিনায়ক, বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৬ উইকেট হাতে রেখেই শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যটা টপকে গেল ভারত।

     

    সেজন্য অবশ্য নিজেদেরই দুষতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১১ রানের সময় ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন কোহলি। কিন্তু উইকেটকিপার শেই হোপ সেটা হাতে রাখতে পারেননি। কিমু পলের বলে ক্যাচটা নিতে পারলে ৪৫ রানে ২ উইকেট হারাত ভারত, ৩৫ ওভারে ২৫৫ রানের জন্য নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক বেশি ঘাম ঝরাতে হতো তাদের। কিন্তু কোহলি আর শ্রেয়াস আইয়ার মিলে পরে আর কোনো সুযোগই দেননি।

    শুরুতেই অবশ্য রোহিত শর্মাকে হারিয়ে ফেলেছিল ভারত ৫ বলে ১০ রান করে তৃতীয় ওভারেই ফিরে যান রোহিত, তাও আবার রান আউট হয়েছেন। শিখর ধাওয়ান ঠিক ৩৬ বলে ৩৬ রান করে আউট হয়ে যান ফাবিয়ান আলেনের বলে। ওভারপ্রতি তখন সাতের ওপরে রান তুলে ফেলেছে ভারত, জেতার জন্য সেই রান রেট দরকার ছিল তাদের। রিশভ পান্ট চার নম্বরে নেমে সুযোগ কাজে লাগাতে আরও একবার ব্যর্থ, কাল অ্যালেনের প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছেন। ৯১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত একটু কাঁপছিল।

    এরপরেই কোহলি আর আইয়ার মিলে ম্যাচটা বের করে নিয়ে যান। চতুর্থ উইকেটে দুজন ১২০ রান যোগ করেন ১৪ ওভারেরও কমে। ভারতকে পথটা আসলে দেখিয়ে দিয়েছেন আইয়ারই, পাঁচ ছয় ও তিনিটি চারে ৪১ বলে ৬৫ রান করেছেন এই সিরিজে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ২১২ রানে যখন আউট হয়েছেন, ভারতের জয় তখন নাগালেই। এর মধ্যেই আরেকটি সেঞ্চুরি পেয়ে গেছেন, ওয়ানডেতে যা তার ৪৩তম। এই দশকে সব ফরম্যাট মিলে ২০ হাজার রানের অবিশ্বাস্য একটা রেকর্ডও হয়ে গেছে, যে কীর্তি নেই আর কারও।  ৯৯ বলে ১১৪ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন।

    তার আগে গেইল আজ নেমেছিলেন জার্সিতে ৩০১ লেখা পড়ে। স্পেশাল সংখ্যা লেখা জার্সিতে পাওয়া যাচ্ছিল বিদায়ের বার্তা। গেইল প্রথমে স্লথ শুরুর পর খেলছিলেন তার মতোই, লুইসের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৭ বলেই তুলে ফেলেছিলেন ফিফটি। নিজে ৩০ বলে পেয়ে গেছেন ফিফটি, এর মধ্যে ছিল চারটি ছয়। সেঞ্চুরি যখন আর খুব বেশি দূরের নয়, ৪১ বলে ৭২ রান করে আউট হয়ে গেলেন। বেরিয়ে যাওয়ার সময় ভারতের সবাই এসে হাত মেলালেন তার সঙ্গে, নিজে ব্যাটটা হেলমেটের ওপর রেখে শেষের ইঙ্গিতও দিলেন।

    তার আগেই অবশ্য ২৯ বলে ৪৩ রান করে আউট হয়ে গেছেন লুইস। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগুচ্ছিল বড় কিছুর দিকেই। কিন্তু এরপরেই হেটমেয়ার আর হোপ আউট হয়ে গেছেন দ্রুত। আবার বৃষ্টি এসে অনেকক্ষন বাগড়া দিয়েছে ম্যাচে। আবার শুরু হওয়ার পর পুরানের ১৬ বলে ৩০ রানের ইনিংসে ২৪০ পর্যন্ত যেতে পেরেছে। সেটা অবশ্য যথেষ্ট হয়নি দিন শেষে।