• " />
    X
    GO11IPL2020

     

    ফুটবলার নাকি পর্বত ?

    প্রথম দর্শনেই তাঁকে দেখলে চমকে উঠবেন। ফুটবল মাঠে এই বিশালবপু গন্ধমাদন পর্বত কী করছেন ? আদেবাও আকিনফেনওয়া ফুটবলই খেলেন, খুব একটা খারাপও খেলেন না। ইংলিশ ক্লাব উইম্বলডনের ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার এমনিতে বিখ্যাত কেউ নন। লিভারপুলের সঙ্গে এফএ কাপ তৃতীয় রাউন্ডে সমতাসূচক গোলটি করেই চলে আসেন পাদপ্রদীপের আলোয়। তবে আকিনফেওয়াকে চিনতে জানতে হবে আরো বেশ কিছু তথ্য...

     

     

    ওজন ১০২ কেজি

    এই ওজন নিয়ে ফুটবল খেলাটাই একটা কঠিন ব্যাপার। এমনিতে আকিনফেনওয়ার উচ্চতাও খুব বেশি নয়, ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি। সেই তুলনায় ওজনটা অস্বাভাবিক রকম বেশিই। আকিনফেনওয়া নিজেই জানিয়েছেন, এই ওজন নিয়ে যে ফুটবল খেলেন সেটা অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না, “মানুষ বলে ফুটবল খেলার জন্য আমার শরীরটা একটু বেশিই বড়। একশ গোল করার পর আমি সেটা অস্বীকার করতেই পারি।“

     

    ওঠাতে পারেন ১৮৬ কেজি!

     

    ওজনটা বেশি যে শুধু তাই নয়, ওজন ওঠাতে পারেন তার চেয়েও বেশি। ১৮৬ কেজি, তার মানে নিজের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ওজন ওঠাতে পারেন ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। জিমে একটু বেশিই সময় কাটান, মাঝে মাঝে কোচ এসে নিরস্ত করতে হয় তাঁকে। কম্পিউটার গেমস ফিফা ১৫তে তাঁর শারীরিক শক্তিই সবচেয়ে বেশি, ১০০র মধ্যে ৯৭। রোনালদো-ইব্রা ধাক্কা খেলেও উড়ে চলে যাবেন!

     

    বর্ণবাদের শিকার

    ইংলিশ হলেও পেশাদার ফুটবলের শুরুটা হয়েছিল লিথুয়ানিয়ার এফকে আটলান্টাসে। কিন্তু সেখানে বর্ণবাদের শিকার হতে হয়েছিল। তবে আকিনফেনওয়া তারপরও হাল ছেড়ে দেননি, এক বছর ঠিকই খেলেছিলেন সেই ক্লাবে।

     

    লিভারপুল-ভক্ত

    লিভারপুলের সঙ্গে গোলটা উদযাপন করতে কি বাধো বাধো ঠেকছিল ? এই ক্লাবটি যে আকিনফেনওয়ার শৈশবের প্রেম। লিভারপুল কিংবদন্তি জন বার্নসের খেলা দেখতে দেখতেই বড় হয়েছেন, অনেকবার গেয়েছেন “ইউ উইল নেভার ওয়াক অ্যালোন”। ম্যাচের আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, জেরার্ডের জার্সিটা তাঁর চাই। কে তাঁর সাথে টক্কর দিতে আসবে!

     

    রাগবি খেলোয়াড়

    অনেকেই তাঁকে রাগবি খেলোয়াড় বলে ভুল করে। একবার এক পুলিশ অফিসারও তাঁকে আমেরিকান ফুটবল খেলোয়াড় বলে মনে করেছিলেন। অবশ্য যে শরীর, তাতে এমন ভুল হতেই পারে!

     

    নকল এডি মারফি

     

    হলিউড অভিনেতা এডি মারফি এমনিতে দোহারা গড়নের, তবে “দ্য নাটি প্রফেসর ” ছবিতে মোটা সেজেছিলেন। আকিনফেনওয়াকে প্রায়ই সেটা নিয়ে খোঁচা দেওয়া হয়। নিজেকে এডি মারফি মনে করতে আপত্তি নেই। তবে থলথলে নয়, পেশীবহুল।

     

    টুইটার বিপ্লব

    #বিস্টমুড এই হ্যাশট্যাগে টুইটারে কদিন ধরেই বেশ আলোড়ন তুলেছিলেন। শুধু লিভারপুলের সঙ্গে খেলার আগে পরে তাঁকে নিয়েই শুধু ৩৯ হাজার টুইট হয়!

     

    নিবেদিতপ্রাণ খ্রিস্টান

    বাবা ছিলেন মুসলিম, মা খ্রিস্টান। তবে আকিনফেনওয়া বেছে নিয়েছেন মায়ের ধর্মকেই।

     

    ভবঘুরে

    একরকম যাযাবর ফুটবলারই বলা চলে তাঁকে। ক্যারিয়ারে কোনো ক্লাবে ৩০ মাসের বেশি থাকেননি। গোলে রেকর্ডটা অবশ্য খারাপ নয়, ২৫১ ম্যাচে করেছেন ৯২ গোল। সেরা সময়টা কাটিয়েছেন নর্দাম্পটনে, তাদের হয়ে করেছেন ৭১ গোল।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন