• আইপিএল ২০২০
  • " />

     

    ক্রিজের বাইরে চলে যাওয়া ফিঞ্চকে মানকাড না করে সতর্ক করলেন আশ্বিন

    রবি আশ্বিন-- মানকাডের পক্ষের অন্যতম সোচ্চার কন্ঠ-- সুযোগ পেয়েও মানকাড করেননি অ্যারন ফিঞ্চকে। আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিপক্ষে ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালস স্পিনার আশ্বিন সে দফা সতর্ক করে দিয়েছেন ফিঞ্চকে। 

    আবুধাবিতে রানতাড়ায় ব্যাটিং করছিল ব্যাঙ্গালোর, নিজের প্রথম ও ইনিংসের ৩য় ওভার করছিলেন আশ্বিন। চতুর্থ ডেলিভারিটি করতে গিয়ে অ্যাকশন প্রায় সম্পন্ন করেও বল ছাড়েননি তিনি, পরে রিপ্লেতে দেখা গেছে, ফিঞ্চ নন-স্ট্রাইক প্রান্তে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়েছেন ততক্ষণে। আশ্বিন চাইলেই রান-আউটের সুযোগ নিতে পারতেন। 


    ছবি/টুইটার


    এর আগে আইপিএলের গত আসরে রাজস্থান রয়্যালসের জস বাটলারকে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে রান-আউট করে আলোচনায় এসেছিলেন আশ্বিন। সেবার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে খেলছিলেন তিনি। ক্রিকেট আইন অনুযায়ী নন-স্ট্রাইক প্রান্তের ব্যাটসম্যান বেশি ‘ব্যাকিং-আপ’ করে বোলার বল ছোঁড়ার আগেই ক্রিজ ছেড়ে গেলে তাকে রান-আউট করতে বাধা নেই। এমসিসির ৪১.১৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নন-স্ট্রাইকারের ব্যাটসম্যান যদি বল ‘খেলায় আসার’ পর থেকে বোলারের সাধারণত প্রত্যাশিত সময়ে বল ছোঁড়ার সময়ের আগেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যান, তবে বোলার তাকে রান-আউটের চেষ্টা করতে পারেন। 

    তবে ক্রিকেটীয় চেতনার পরিপন্থী কিনা সেটি, সে নিয়েই হয় আলোচনা। সাধারণত বলা হয়, এমন রান-আউট করার আগে ব্যাটসম্যানকে ‘সতর্ক’ করা ক্রিকেটীয় চেতনার অংশ। তবে মিলিমিটার ব্যবধানে যখন বোলারের পা ক্রিজের বাইরে থাকলে নো ডাকা হয়, তখন এক্ষেত্রে কেন ব্যাটসম্যানকে ‘অন্যায্য’ সুবিধা নিতে দেওয়া হবে, সে নিয়েই বরাবর চলে বিতর্ক। 


    সাইফুল্লাহ্‌ বিন আনোয়ার : 'মানকাড' কি আসলেই ক্রিকেটের চেতনাবিরুদ্ধ?


    এবারের আইপিএল শুরুর আগেও আশ্বিন মানকাড নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। ব্যাটসম্যান আগেই ক্রিজ ছেড়ে বেড়িয়ে গেলে ব্যাটিং দলকে ‘পেনাল্টি’ দেওয়ার নিয়ম চালু করার কথা বলেছিলেন তিনি। তার মতে, ব্যাটসম্যান আগেই ক্রিজ ছেড়ে বেড়িয়ে গেলে বোলারকে সে বলটি ‘ফ্রি বল’ হিসেবে দেওয়া উচিৎ। 

    “এটাকে ফ্রি বল বানানো হোক বোলারদের জন্য। সেই বলে ব্যাটসম্যান আউট হলে ব্যাটিং দলের পাঁচ রান পেনাল্টি করা হোক। ফ্রি হিট ব্যাটসম্যানদের জন্য নাটকীয় হয়ে দাঁড়ায়, বোলারদেরও সে সুযোগ দেওয়া হোক”, আগস্টে টুইট করেছিলেন আশ্বিন। 

    অবশ্য দিল্লির কোচ রিকি পন্টিং বলেছিলেন, মানকাডের ব্যাপারে আশ্বিনের সঙ্গে ‘কঠোর আলোচনা’ আছে তার। আশ্বিন পরে জানিয়েছিলেন, পন্টিংয়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে তার, তবে পন্টিং যা বলেছিলেন, সেটি ঠিকভাবে সংবাদমাধ্যমে আসেনি। 
     


    এদিন আশ্বিন ফিঞ্চকে মানকাড করার বদলে সতর্ক করার পর ক্যামেরায় ধরা পড়েছিলেন ডাগ-আউটে বসে থাকা পন্টিং। তাকে সে সময় হাসতে দেখা গেছে। আম্পায়ার নিতিন মেননও হাসছিলেন, হাসছিলেন উইকেটকিপার ঋষভ পান্টও। 

    স্টারের কমেন্ট্রিতে থাকা তিনজন- সাইমন ডুল, মাইকেল স্ল্যাটার ও সুনীল গাভাস্কার একটু ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেছেন। ডুলের মতে, আশ্বিন বল না করে ঠিক কাজটাই করেছেন। বোলারের হাত থেকে বল না বেড়ুনো পর্যন্ত ব্যাটসম্যানের ক্রিজ ছাড়ার অধিকার নেই। স্ল্যাটারের মতে, আশ্বিন সতর্ক করে ঠিক কাজটাই করেছেন। আর গাভাস্কার বলেছেন, “ব্যাটসম্যান তো বোলারকে ছয় মারার আগে সতর্ক করে না!” 

    অবশ্য সে দফায় ফিঞ্চকে আউট না করলেও অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের অধিনায়ক বারকয়েক জীবন পেয়েও ১৪ বলে ১৩ রান করে ফিরেছেন। তার দল ব্যাঙ্গালোরকে ৫৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে দিল্লি। এবারের আসরের শুরুতেই কাঁধের চোটে পড়া আশ্বিন শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট।
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন