• দলবদলের যত খবর
  • " />

     

    বার্সেলোনা 'বি', লিভারপুল 'এ+' : দলবদলে কারা কেমন করল?

    ইউরোপে দলবদলের সময় ফুরিয়ে গেছে। বড় দলগুলো দলবদলের বাজারে কেমন করল, কার কী প্রয়োজন ছিল, সেগুলো কতোখানি মেটাতে পার ক্লাবগুলো- তার ফিরিস্তি।


    বার্সেলোনা,  'সি' গ্রেড
    বার্সেলোনার দলবদলের বড় একটা সময় গেছে লিওনেল মেসিকে ধরে রাখতে গিয়েই। শেষ পর্যন্ত মেসি থেকেই গেছেন। তবে তিনি কতোখানি কার্যকরি হবেন, আর মেসিকে রেখে দিয়ে বার্সার কতোখানি লাভ হলো সে প্রশ্নের জবাব মৌসুম শেষেই পাওয়া যাবে।



    তবে ফিলিপ কৌতিনহোকে ফিরিয়ে এনে বার্সা যে কাজের কাজটা করেছে তা মৌসুমের অল্প কয়েকদিনে টের পাওয়া যাচ্ছে। নাম্বার টেন রোলে নিজেকে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান। নতুন আসা সার্জিও ত্রিনকাও, সার্জিনিয়ো ডেস্টও এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন। তবে রক্ষণের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে নতুন কাউকে দলে নিতে পারেনি বার্সা। সেই জেরার্ড পিকে, জর্দি আলবাদের ওপরই আরও একবার নির্ভর করতে হবে তাই। অন্তত একজন নতুন সেন্টারব্যাক দরকারই ছিল রোনাল্ড কোমানের। তিনি নিজেও সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন। ম্যান সিটি থেকে এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে শেষ মুহুর্তে চুক্তি সারা হয়নি। জানুয়ারি নাগাদ তার বার্সায় যোগ দেওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। তবে আর আগ পর্যন্ত রক্ষণে যুতসই খেলোয়াড় না ভেড়াতে পারাই দলবদলে বার্সার বড় ব্যর্থতা।

    রিয়াল মাদ্রিদ, 'বি' গ্রেড
    লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা মোটামুটি ঘোষণা দিয়েই এবার নতুন কারও সঙ্গে চুক্তি করেনি। ধারের মেয়াদ কমিয়ে মার্টিন ওডেগার্ডকে ফিরিয়েছে রিয়াল। গত ৪০ বছরের ভেতর এবারই প্রথম দলবদলে কোনো খেলোয়াড় ভেড়ায়নি রিয়াল। জিনেদিন জিদান বলছেন, স্কোয়াড তার যথেষ্টই বড়, নতুন কাউকে এনে দলভারি করতে চান না তিনি আর। সে কথায় সত্যতাও আছে। তবে এডেন হ্যাজার্ডের ফিটনেসহীনতা বড় একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন একে দিচ্ছে জিদানের কথার সামনে।

    দলের শক্তি না বড়ালেও দল খালি করতে পেরেছেন জিদান। সেটাও তার জন্য স্বস্তির কারণ। গ্যারেথ বেল আর হামেস রদ্রিগেজ জিদানের দলে ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন। এই দুইজনের ক্লাব ছাড়া আদতে দুই পক্ষের জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনার কথা।

    লিভারপুল, এ+ গ্রেড
    দলবদলের প্রায় বেশিরভাগ সময় নিষ্ক্রিয় থেকেও আক্ষরিক অর্থে এক দিনে সব কেনাকাটা সেরেছে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা। শক্তি বাড়াতে থিয়াগো আলকান্তারার মতো মিডফিল্ডার জরুরী ছিল লিভারপুলের জন্য। থিয়াগোকে পেতে মাত্র ৩০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে হয়েছে লিভারপুলকে। সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডে থিয়াগো হয়ে যেতে পারেন মৌসুমের সেরা সাইনিং।


    দিয়াগো জোতাকে দলে এনে আক্রমণেও ধার বাড়িয়েছে লিভারপুল। যদিও তার জন্য বেশ বড় অঙ্কের টাকাও খরচ করতে হয়েছে তাদের। তবে এই দুই চুক্তির টাকার অঙ্ক গড় ধরে হিসাব করলে লিভারপুল ওই দিনশেষে লাভবান হলো বেশি।

    ম্যানচেস্টার সিটি, 'বি' গ্রেড
    লিভারপুলের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে হবে সিটিকে। উলটো দলবদলের পর সেই দূরত্ব আরও বেড়েই গেল মনে হচ্ছে। নাথান আকে, রুবেন ডিয়াজ- দুই সেন্টারব্যাককে দলে আনতে আবার কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করেছেন পেপ গার্দিওলা। তবে দুইজনের কেউই সিটির রক্ষণের নড়বড়ে চরিত্র বদলাতে পারেননি, তেমন কোনো ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি মৌসুমের শুরুর ম্যাচগুলোতে। গ্যাব্রিয়েল হেসুস আর সার্জিও আগুয়েরো একসঙ্গে চোটে পড়ার পর একজন স্ট্রাইকারের অভাবও প্রকট সিটির খেলায়।  

    দলবদলে নতুন খেলোয়াড় দলে এনেও সিটি চেহারা বদলাতে পারেনি।  

    বায়ার্ন মিউনিখ,  'বি' গ্রেড
    থিয়াগো, কৌতিনহো, ইভান পেরিসিচরা দল ছেড়েছেন। তাদের জায়গায় বায়ার্ন মিউনিখ ডগলাস কস্তা, এরিক চুপো মোটিংদের দলে এনেছে। ট্রেবলজয়ী বায়ার্ন দলের শক্তি বাড়ানোর দিকেও তেমন নজর দেয়নি বলেই মনে হচ্ছে। সেটা হয়ত বুন্দেসলিগায় খুব বেশি ভোগাবে না বায়ার্নকে। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ ধরে রাখার মিশনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বায়ার্নের দলবদলে নিষ্ক্রিয়তা।

    জুভেন্টাস,  'এ' গ্রেড 

    আর্থারকে এনে শুরু করেছিল জুভেন্টাস। শেষ হয়েছে ফ্রেডেরিকো কিয়েসাকে দলে এনে। রক্ষণে তেমন একটা মনোযোগি হয়নি জুভেন্টাস। কিয়েলিনি, বনুচ্চিরা থাকার পর সেটা হয়ত প্রয়োজনও মনে করেননি আন্দ্রেয়া পিরলো। মূলত আক্রমণেই ধার বাড়িয়েছে জুভেন্টাস। এবার পিরলোর  কাছে অপশনও অনেকগুলো। আলভারো মোরাতার হোল্ড আপ প্লে দারুণ, আগের দফায় জুভেন্টাসে সফলও ছিলেন তিনি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর তাতে সুবিধাই হওয়ার কথা। কিয়েসা সম্ভবত শুরু থেকেই একাদশে নিয়মিত হবেন। তবে মিডফিল্ডের বাকি পজিশনগুলো নিয়ে খুব বেশি কাটাছেড়া করার সুযোগ নেই পিরলোর। ইয়ানকুসেভস্কি, ম্যাককিন- সবাই তরুণ। থিতু হতে খানিকটা সময়ই লাগার কথা তাদের।  


    অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, 'এ' মাইনাস গ্রেড
    বার্সেলোনার ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা লুইস সুয়ারেজকে দলে আনতে তেমন কোনো অর্থ কড়িই খরচ করতে হয়নি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে। তবে শেষদিনে থমাস পার্তে ক্লাব ছেড়েছেন, ডিয়েগো সিমিওনের জন্য এই খবর মোটেই ভালো কিছু নয়। অ্যাটলেটিকোর মিডফিল্ডে প্রাণ ছিলেন পার্তে। হোল্ডিং মিডফিল্ডার হলেও বক্স টু বক্স ভূমিকায়ও দারুণ তিনি। সিমিওনের দর্শনের জন্য একেবারে হাতেগড়া ফুটবলার বলা যায় পার্তেকে।

    আর্সেনাল শেষদিনে রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করে পার্তেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। বিপরীতে লুকাস তোরেয়েরাকে ধারে নিয়েছে অ্যাটলেটিকো। পার্তের রিলিজ ক্লজ ছিল ৫০ মিলিয়ন ইউরো। এই টাকা খরচ করার সামর্থ্য আর্সেনালের আছে সেটাই বোধ হয় বিশ্বাস করতে চায়নি অ্যাটলেটিকো। নইলে এই চুক্তির সঙ্গে আরও দুই, একটি শর্ত জুড়ে দিয়ে আরেকটু লাভবান হওয়ার চেষ্টা করতেই পারত তারা।


    চেলসি, 'এ' গ্রেড
    স্ট্রাইকার, মিডফিল্ডার, ডিফেন্ডার, গোলরক্ষক- সবগুলো পজিশনে নতুন খেলোয়াড় দলে এনেছে চেলসি। দলবদলে এবার সবচেয়ে খরুচে দলও তারা। বেন চিলওয়েল, টিমো ভার্নাররা প্রিমিয়ার লিগে ভালোই করার কথা, তবে এরই মধ্যে কাই হাভার্টজের সংযোজন নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। হাকিম জিয়েচ এখনও মাঠে নামতে পারেননি। রক্ষণ ছিল চেলসির মূল সমস্যা। থিয়াগো সিলভাকে বিনামূল্যে দলে এনেছে চেলসি। তবে আরও একজন সেন্টারব্যাকের প্রয়োজন ছিল বোধ হয় তাদের। মূল জায়গায় মনোযোগ কমিয়ে মিডফিল্ড আর আক্রমণে বেশি মনোযোগি চেলসির জন্য ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে সেটি।

    ম্যান ইউনাইটেড, 'ডি গ্রেড
    দলবদলের শু'রু থেকে শেষদিন পর্যন্ত এবার জেডন সানচোকে নিয়ে একের পর এক গুঞ্জন শোনা গেছে। সানচো থেকে গেছেন জার্মানিতেই। ইউনাইটেড শেষদিনে এডিনসন কাভানিকে কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। দলবদলে ইউনাইটেড বোর্ডের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়েছে এবার আরও।

    ডনি ভ্যান ডি বিককে কিনে অবশ্য বড় চমক দেখিয়েছে ইউনাইটেড। কিন্তু রেড ডেভিলদের দুর্দশা ঢাকা পড়ছে না তাতে। রক্ষণে একেবারেই ব্যর্থ ইউনাইটেড ডিফেন্ডাররা। অ্যালেক্স তেলেসকে শেষদিনে কিনেছে ইউনাইটেড, তবে তিনিও একজন লেফটব্যাক। একজন জাত সেন্টারব্যাক কিনতে ব্যর্থ ইউনাইটেডের দলবদলে তাই ছোট খাটো সাফল্যগুলো ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না।

    আর্সেনাল, 'এ' গ্রেড
    হুসেম আওয়ার আর থমাস পার্তেকে টার্গেট করেছিল আর্সেনাল। নিদেনপক্ষে একজন মিলেছে, তাতেই সন্তুষ্ট থাকার কথা মিকেল আর্টেটার। এর আগে গ্যাব্রিয়েল মাঘালেসও আর্সেনালের জন্য দুর্দান্ত এক চুক্তি ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দলবদলে ধারাবাহিক অদক্ষতার পর এবার কিছুটা স্বস্তিই মেলার কথা গানারদের।  

    টটেনহাম, 'এ+' গ্রেড
    হোসে মরিনহো কি এবার আর অভিযোগ করবেন? প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে আকর্ষনীয় চুক্তিটা এবার টটেনহামই সেরেছে গ্যারেথ বেলকে ফিরিয়ে এনে। ম্যাট ডোহার্টি, পিয়েরে এমিল হোসবার্গরাও ভরসাই যোগাবেন টটেনহামকে।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন