X
GO11IPL2020
  • ক্রিকেট

চার্জে ভরপুর পেস ব্যাটারী

পোস্টটি ৮৪১ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

পাকিস্তানের আকিব জাভেদ কে চিনেন তো? ক্যারিবীয়ানের বিশাল দৈত্যকায় ইয়ান বিশপ কে খেলার মাঠে মাইক্রোফোন হাতে প্রায় দেখেন নিশ্চয়? এই বিশপ আর আকিবের মধ্যে একটা দুঃখজনক মিল রয়েছে, জানেন তো? এমনিতে দুজনার অনেক মিল। দুজনই দুরন্ত গতির ফাস্ট বোলার। সৃষ্টিকর্তার প্রদত্ত প্রতিভায় ভরপুর ছিলেন দুজনই। নিজ নিজ দলের পেস-আক্রমণ কে শাণিত ও সমৃদ্ধ করেছিলেন, নিজেদের যোগ্যতাবলেই। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো কি জানেন, দুজনের ক্যারিয়ারেই রয়েছে একরাশ হতাশা ও না-পাওয়ার গভীর হাহাকার!

 

 akib          ky

এই হাহাকার-আক্ষেপের জন্য, নিজের হতভাগ্য কপাল ছাড়া আর কাউকেই দোষ দেয়ার সুযোগ নেই তাদের। কারণ, তাঁরা ভুল সময়ে ভুল দলে জন্ম নিয়েছিলেন। আকিব জন্মেছিলেন, ওয়াসিম-ওয়াকারদের আমলে। আর বিশপ জন্মেছিলেন ওয়ালশ-এমব্রোসদের আমলে। তাই ব্যাটসম্যান ভড়কে দেয়া গতি, চমৎকার লাইন-লেংথ আর ঈর্ষণীয় সুইং থাকার পরও তাদের ক্যারিয়ার ততটা সমৃদ্ধ হয়নি, যতটা হওয়ার কথা ছিল। অবশ্য ইঞ্জুরিও তাদের ক্যারিয়ার কে বাঁধাগ্রস্থ করতে একটা ভূমিকা রেখেছিল।

সব মিলিয়ে আকিব-বিশপরা ক্রিকেটেরই এক চিরন্তন আক্ষেপের গল্প হয়ে আছেন।

 

বাংলাদেশে এই পর্যন্ত তেমন কোন আক্ষেপের গল্প জন্ম নিতে পারেনি। কারণ সেই ধরণের ফাস্ট বোলারের জন্মই যে হয়নি বাংলাদেশে। এক মাশরাফি তে ভর করেই প্রায় দেড় দশক পাড়ি দিয়েছে এই দেশের ক্রিকেট। সেই মাশরাফিও ইনজুরিতে বিধ্বস্ত হয়ে ফাস্ট বোলার থেকে হয়ে গেছেন মিডিয়াম পেসার!

মিডিয়াম পেসার অবশ্য বাংলাদেশে ছিল। তবে তাও যে ভূরি ভূরি ছিল ব্যাপারটা তা না। অনেক মিডিয়াম পেসার লেংথ আর সুইংয়ে আশার আলো দেখালেও, জাতীয় দলে থিতু হতে পারেননি। ভরসা দিতে পারেননি। রাসেল, নাজমুল, তারেক, তালহা, বৈশ্য... কত নাম! কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন তাঁরা, বাংলাদেশ পেস এ্যাটাককে তেমনই দীন-হীন রেখে!

বাংলাদেশ তাই সবসময়ই ভুগেছে পেসার সংকটে। ভালমানের ফাস্ট বোলারের জন্য হাহাকারটা বহুদিনের, এখানকার ক্রিকেট জনতার!

কিন্তু এখন বোধহয় সময় বদলাচ্ছে দ্রুতই। 'বাঁহাতি স্পিনারের খনি' নামে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশে উঠে আসছে একের পর এক দুর্দান্ত ফাস্ট বোলার। মুস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন হোসাইন, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, আবু হায়দার রনি, মোহাম্মদ শহীদ। বলের উপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণের সাথে, ন্যাচারাল সুইংয়ে যারা ব্যাটসম্যানদের বিপর্যস্ত করে তুলতে পারেন অনায়াসে।

r

 

একা হাতে ম্যাচ জেতানোর মতো ফাস্ট বোলার বাংলাদেশের ছিল না। একজন ওয়াসিম-ম্যাকগ্রা-ওয়ালশ না হোক, অন্তত জহির খানের মতো মাঝারি মানের বোলারের সার্ভিসও পাওয়া হয়নি অনেক ম্যাচে। এই পেসার সংকট কতটা যে ভুগিয়েছে, তা বোঝাতে চোখ রাখতে পারেন এ দেশের গত দেড় দশকের পরিসংখ্যানে।

সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে, মূহুর্তেই ম্যাচের রঙ বদলাতে সক্ষম তেমন পেসার মনে হয় আমরা পেয়ে গেছি। বাঁহাতি পেসের নানান বৈচিত্র নিয়ে একজন মুস্তাফিজ এখন আমাদের বোলিং এ্যাটাকে যুক্ত হয়েছেন। গতির সাথে দারুণ লাইন-লেংথ নিয়ে আছেন, তাসকিন। ডেথ-বোলিং বিশেষজ্ঞ আল আমিন দিচ্ছেন স্লগ ওভারের নির্ভরতা। পরিণত রুবেল দিচ্ছেন আরো শাণিত ও ক্ষুরধার বোলিংয়ের নিশ্চয়তা।

t

 

কামরুল ও রনির মতো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণেরা আগামী দিনে পেস-শূণ্যতা পূরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর এদের সাথে যোগ করুন 'ক্যাপ্টেন কিং' মাশরাফিকে। মাশরাফির সরাসরি তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠা এই তরুণেরা, বাংলাদেশ ক্রিকেটের আগামী দিনটাকে গতি-বাউন্স আর স্লোয়ার-সুইংয়ে ভরিয়ে দেবে না, তা কে বলতে পারে!

 

হ্যাঁ, মুস্তাফিজ, তাসকিন, রনির মতো সদ্য কৈশোর পেরোনো তরুণগুলো স্বপ্ন দেখাচ্ছে দারুণ একটা পেস ইউনিটের। 'ফ্যান্টাস্টিক ফোর' কিংবা 'ত্রাসের ত্রয়ী' হয়ে ব্যাটসম্যান নাচানোর মতো পেসার যেন মজুদ এখানে। এই তরুণ তুর্কীদের সাথে রুবেল-আল আমিনদের যোগ করুন। চমৎকার একটা বোলিং ইউনিট দাঁড়িয়ে যাচ্ছে না?

এদের ব্যাক আপ হিসেবে কামরুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, রবিউল হোসাইন, মোহাম্মদ শহীদ, আবুল হাসানদের মতো বোলাররা আছেন, এদের নির্ভার রাখতে। এঁরা নিজেরাও নিজেদের পরীশীলিত করছেন, নিজেদের আরো শাণিত করছেন। এবার বলুন তো, বাংলাদেশের পেস-আক্রমণের সাইড বেঞ্চটাও কেমন দুর্দান্ত হয়ে উঠছে না?

এদের সাথে সুখে-দুখে, সুসময়-দুঃসময়ে মাথার উপর ছাতা হয়ে আছেন 'ক্যাপ্টেন কিং' মাশরাফি। যিনি যে কোন পরিস্থিতিতে বড় ভাইয়ের মতো আগলে রাখতে সিদ্ধহস্ত। নির্দেশনা দিতে আছেন তাদের বোলিং গুরু, হিথ স্ট্রীক। কি সৌভাগ্য দেখুন ছোট ছোট ছেলেগুলোর!

 

 

বয়স ভিত্তিক দলগুলো থেকে উঠে আসছে আরো কত তরুণ তুর্কী। মুস্তাফিজ-রুবেলে উদ্বুদ্ধ হয়ে, ফাস্ট বোলিংকেই লক্ষ্য ঠিক করছে কত কিশোর-প্রাণ! 'বাঁহাতি স্পিনারের খনি' বাংলাদেশ তাই 'অদম্য পেসারের উৎপত্তিস্থল' হতে পারে, অচিরেই।

আজ থেকে বছর পনের পরে তাই আকিব-বিশপের মতো কোন বাংলাদেশী পেসারের আক্ষেপের গল্প লিখতে গিয়ে কিছুটা হতাশা গ্রাস করলেও, তাতে যে কিছু পুলক লুকিয়ে থাকবে না, তা কে বলতে পারে!

 

(পূর্বে অন্যত্র প্রকাশিত)