• ফুটবল

ইউনাইটেডে কেমন করবেন মরিনহো

পোস্টটি ১৮৫২ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

3500বাংলায় খুব জনপ্রিয় একটি প্রবাদ আছে,“আগে দর্শনধারী,তারপর গুনবিচারী’।ফুটবলে কোচদের ক্ষেত্রে এই প্রবাদটা খুব বেশিভাবেই প্রযোজ্য হয়।জোসে মরিনহো যেমন প্রিমিয়ার লীগে কোচ হিসেবে  প্রথম প্রেস কনফারেন্স এ নিজেকে “স্পেশাল ওয়ান’ উপাধি দিয়েছিলেন এবং সেই নামেই তাকে এখন আপামর জনসাধারন চেনে।পরবর্তীতে মরিনহোর তৎকালীন চেলসির রক্ষনাত্মক খেলাকেই অধিকাংশ ফুটবলবোদ্ধা তার একমাত্র ফুটবল দর্শন হিসেবে গ্রহন করে নেন এবং নেতিবাচক কোচের তকমা লেগে যায় মরিনহোর গায়ে। বাস্তবতা কিন্তু এর চেয়ে অনেক বেশিই ভিন্ন।

রক্ষনাত্নক কোচ হিসেবে মরিনহোর এই সুনাম সম্পুর্ন অযৌক্তিক বলা যায়।কারন এই অভিযোগ যে ভিত্তিতে করা হয় তা হচ্ছে আকর্ষনীয়,আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলতে হলে কোন  দলকে দীর্ঘসময় বলের দখল রাখতে হবে।আর আক্রমনাত্মক ফুটবল এর এই দর্শন এখন যে খুবই প্রশ্নবিদ্ধ তা একজন সাধারন দর্শক ও জানেন।

এমনকি মরিনহোর সবচেয়ে বেশি রক্ষনাত্নক দল হিসেবে পরিচিত ,২০০৩-০৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ী পোর্তো এবং তার প্রথম বারের চেলসি যারা টানা দুই বার ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা জিতেছিল- অসম্ভব দ্রুত গতির কাউন্টারএটাক এ দুর্দান্ত সব গোল দিতে সিদ্ধহস্ত ছিল।আর তার সাথে ট্রফি জেতা যে ছিল তা তো বলাই বাহুল্য।

এরপর থেকে মরিনহো তার কোচিং দর্শনে অনেক পরিবর্তন আনেন।হয়ে উঠেন আরো দুঃসাহসিক।তার ট্রেবল জয়ী ২০০৯-১০ সালের ইন্টার মিলান দল নুক্যাম্পে বার্সার বিপক্ষে বাস পার্কিং এর জন্য বেশি বিখ্যাত হলেও,প্রথম লেগে সেই একই দল তাদের ইটালিয়ান লীগের আক্রমনাত্মক ফুটবল দিয়েই গার্দিওলার বার্সাকে ৩-১ গোলে ঘায়েল করেছিল।মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ ৩ মৌসুমের মধ্যে ২ মৌসুমেই বার্সার চেয়ে বেশি গোল দিয়েছিল।আর সর্বশেষ তার ২০১৪-১৫ সালের ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ জয়ী চেলসি দল এটাকিং থার্ডে অসম্ভব গতিময় কম্বিনেশন প্লে দেখায়,বিশেষত ক্রিসমাসের আগে।

সাধারনত মরিনহোর দল পুরো মৌসুমজুড়েই আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলে।কিন্তু বড় ম্যাচে বিশেষত ইউরোপে এবং মৌসুমের শেষভাগে তুলনামূলকভাবে রক্ষনাত্মক খোলসে চলে যায়।এই কৌশল ওল্ড-ট্রাফোর্ডে স্যার আলেক্স ফার্গুসানের কোচিং ক্যারিয়ারের শেষ দশকের দলগুলোর সাথে মিলে যায়।ম্যানইউনাইটেড তখন ইউরো্পিয়ান এলিট দলগুলোর সাথে আগে রক্ষন সামলাও,এরপর কাউন্টারএটাক  কৌশলেই খেলতো।আর বিগ ম্যাচগুলোতে তাদের সাফল্যের হার এই কৌশলের জয়গানই করে।

 

ইউনাইটেড সমর্থকরা যদি  এই কৌশলে আপত্তি না জানায়,  তাহলে মরিনহোর পক্ষে সাফল্যের এই রেসিপির পুনরাবৃত্তি করা কঠিন হওয়ার কথা নয়।

চেলসিতে প্রথমবার দায়িত্ব পালনের সময় মরিনহো দলের মাঝমাঠ ক্লডিও ম্যাকালেলের মতো নিখাদ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দিয়ে বোঝাই করে রাখলেও এরপর থেকে জাভি আলন্সোর মতো রেজিস্তাদের কেই তিনি দলে বেশি খেলিয়েছেন।চেলসিতে দ্বিতীয় মৌসুমে সেস ফেব্রেগাসের মতো “আক্রমনাত্মক কিন্তু রক্ষনে কাঁচা” মিডফিল্ডারকে তিনি অধিকাংশ ম্যাচে খেলিয়েছেন।যদিও বড় দলগুলোর সাথে খেলায় মরিনহো ফেব্রেগাসকে অনেকসময়ই বসিয়ে রেখেছেন দলের ডিফেন্সিভ কাঠামো বজায় রাখার জন্য।তাও এই থেকেই তার কোচিং দর্শনের যে পরিবর্তন তা স্পষ্ট বোঝা যায়।মেসুত ওজিল আর ওয়েসলি স্নাইডার এর মতো খেলোয়াড় কে মরিনহো বিশ্বসেরা নাম্বার-১০ বানিয়েছেন  তাদের কে  রক্ষনভাগে  কোন ভুমিকা রাখতে হবে না এই রোল দিয়ে।

ওয়াইড প্লেয়ার মানে উইঙ্গার দের ক্ষেত্রে ও মরিনহো একই কাজ করেছেন।ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর এডেন হাজার্ড কে তিনি বিপক্ষ দলের ফুলব্যাক কে ট্র্যাক করতে না দিয়ে এডভান্স পজিশনেই রাখতেন যাতে বিপক্ষ ফুলব্যাক আক্রমনে উঠতে না পারে।

মুলত ২ টি ফরমেশনে স্পেশাল ওয়ান তার দলকে অনুশীলন করান।ক্যারিয়ারের শুরুতে মিডফিল্ড ডায়মন্ড  পছন্দ করলেও এখন ৪-২-৩-১ এবং প্ল্যান বি হিসেবে ৪-৩-৩ ফরমেশনেই দল সাজান তিনি।ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ও এই দুই ফরমেশনেই সম্ভাব্য দল সাজাবেন মরিনহো।

সদ্য শেষ হওয়া প্রিমিয়ার লীগে যৌথভাবে সবচেয়ে ভালো ডিফেন্সিভ রেকর্ড ইউনাইটেড এর দখলে।বার্সেলোনায় ভন গলের সহকারি হিসেবে কাজ করা মরিনহো ভালোভাবেই জানবেন কীভাবে ইউনাইটেড কে ভন গল অনুশীলন করিয়েছেন।কিন্তু স্পেশাল ওয়ান নিঃসন্দেহে ভিন্ন খেলোয়াড় ডিফেন্সে ব্যবহার করবেন।

ভ্যালেন্সিয়া বা এশলে ইয়াং উভয়ই উইংগার হয়েও ভন গালের অধীণে ফুলব্যাক হিসেবে খেলছেন।মরিনহোর অধীনে তা অনুমিতভাবেই হবে না।দীর্ঘদিন ইঞ্জুরি তে থাকা লুক শাও দলের নিয়মিত লেফটব্যাক হবেন।ডারমিয়ান এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু ভিন্নই বলা যায়।ইউনাইটেড এ প্রথম মৌসুমে তাকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে তার পজিশনাল সেন্স।মরিনহোর অধীনে নিঃসন্দেহে তার এই ক্ষেত্রে পরিবর্তন হবে এবং ডারমিয়ান হয়ে উঠতে পারেন মরিনহোর অন্যতম বিশ্বস্ত সেনাপতি।আগের ক্লাবগুলোতে যেমন ছিলেন পাওলো ফেরেইরা এবং আলভারো আরবেলোয়া।এছাড়া গত মৌসুমে একাডেমি থেকে উঠে আসা টিমোথি ফসু মেনসাহ ভালো বিকল্প হতে পারেন রাইট ব্যাক এ।ডেলি ব্লিন্ড কে মরিনহো সেন্টার ব্যাক হিসেবে খেলাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে।কারন ব্লিন্ড প্রথাগত মরিনহো সেন্টার ব্যাক নন।খুব সম্ভবত মিডফিল্ডেই তাকে ফিরে যেতে হবে।

ব্লিন্ড অথবা শোয়েনস্টাইগারকে যদি মরিনহো মিডফিল্ড এ খেলান তাহলে সাথে একজন গতিময়,হোল্ডিং প্লেয়ারকে ও খেলাবেন যে ভূমিকায় আগে মরিনহোর অধীনে মাইকেল এসিয়েন আর স্যামি খেদিরা খেলেছেন।মরগান স্নেইডারলীন ও আন্ডের হেরেরা এই দুই জনকেই  এই ভুমিকায় খেলানোর  জন্য জোসে মুখিয়েই থাকবেন।

জেসে লিনগার্ড সেই সব খেলোয়াড়দের মধ্যে পড়েন যাদের মরিনহো ম্যাচে সুনির্দিষ্ট কোন দায়িত্ব পালনের জন্য অথবা প্রতিপক্ষের কোন খেলোয়াড়কে বিরামহীন ভাবে মার্কিং করার জন্য অথবা কোন ট্যাকটিকাল সুইচের জন্য ব্যবহার করবেন।ওয়েইন রুনি স্থায়িভাবে অ্যাটাকিং মিডফিল্ড এ আসতে পারেন।জুয়ান মাতা কে নিয়ে মরিনহো কী করবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।কারন মরিনহোর দলের দশ নাম্বার খেলোয়াড় হওয়ার জন্য যে গতিময়তা প্রয়োজন তা মাতার নেই।তবে মাতার পাসিং আর গোল করা এবং করানোয় সফলতা  চিন্তা করে মরিনহো তার কৌশলে পরিবর্তন ও আনতে পারেন।

উইং এবং স্ট্রাইকিং এ মরিনহোর জন্য জন্য অনেক অপশনই থাকবে।অ্যান্থনি মারসিয়াল ও মেম্পিস ডিপাই এর মতো গতিময় ফরোয়ার্ড দের খুবই কার্যকরি ওয়াইড ফরোয়ার্ড এ পরিনত করা যাবে যে ভুমিকায় রোনালদো আর হাজার্ড প্রতিপক্ষ ডিফেন্সে ত্রাস ছড়িয়েছেন।র‍্যাশফোর্ড এর চ্যানেল এ দৌড়ানোর সক্ষমতা আর আগুয়ান মিডফিল্ডার দের সাথে লিঙ্ক প্লে করা তাকে মরিনহোর স্ট্রাইকার হিসেবে প্রথম পছন্দই বানাবে।

ইউনাইটেড এর বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্য থেকেই মরিনহোর একাদশ বাছাই করা সম্ভব যা কিনা একই সাথে অনেক আক্রমনাত্মক,ভারসাম্যপুর্ন। যদি এর সাথে নতুন সাইনিং যুক্ত হয় তবে তা নিঃসন্দেহে ম্যানইউনাইটেড কে আবার সেই পুরনো রুপে ফিরিয়ে দিতে  মরিনহোকে সাহায্যই করবে।

মরিনহোর মাঠের বাইরের কার্যকলাপ তাকে স্বভাবতই খবরের শিরোনাম করবে।কিন্তু ট্যাকটিক্যালি ম্যানইউনাইটেড আর মরিনহো  সেই ধাঁধার মতোই যা এতদিন সমাধান হওয়ার অপেক্ষায় ছিল এবং এখন সবাই তা দেখার অপেক্ষায়।

এক রাশিয়ান ঈগলের গল্প
    অন্যান্য
এক রাশিয়ান ঈগলের গল্প
তুমি আসবে বলে.....!
    ক্রিকেট
তুমি আসবে বলে.....!
অস্ট্রেলিয়ার একুশ, আরেকবার
    ক্রিকেট
অস্ট্রেলিয়ার একুশ, আরেকবার
এল ক্লাসিকো - স্পেনীশ দ্রুপদী লড়াই
    ফুটবল
এল ক্লাসিকো - স্পেনীশ দ্রুপদী লড়াই