• টেনিস

ক্লে কোর্টেও প্রতিষ্ঠা হলো জোকোভিচ রাজত্ব

পোস্টটি ৭৯৫ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।
আমরা ছোট থাকতে স্টেফানি গ্রাফ ও মার্টিনা হিঙ্গিসের কথা খুব শুনতাম । পরে বড় হয়ে জানলাম স্টেফি গ্রাফকে নাকি টেনিসের রাণী বলা হতো । পিট সাম্প্রাস-আন্দ্রে আগাসী ক্ল্যাশও খুব শোনা যেত তখন ।
টেনিস এখনও যে খুব ভাল বুঝি তা না । তখন তো বোঝার প্রশ্নই উঠে না । তবু খেলার পাতা নিয়মিত পড়ার সুবাদে এইসব নাম, ক্ল্যাশ ভালো করে মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল একদম ।
আন্দ্রে আগাসী ও স্টেফি গ্রাফের টেনিসের বাইরে জুটি হওয়ার খবরও জানা হয়ে গিয়েছিল সে সময় ।
 
 
পরবর্তীতে হিঙ্গিস কোথায় যেন চলে গেলেন । এখন আবার মিক্সে দেখছি, ভারতীয় লিয়েন্ডার পেজের সাথে । শারাপোভাও অল্প বয়সে উইম্বলডন জিতে অনেক কিছু করবেন মনে হলেও, আহামরি তেমন কিছু আর করতে পারলেন কই !
 
টেনিসে সাধারণত খুব জমে যখন ক্ল্যাশ থাকে । ২০০৯ কি ২০১০ এর দিকে টেনিসের 'মম' কিম ক্ল্যাইস্টার্স জিতেছিলেন অস্ট্রলিয়ান ওপেন । সকালে ঘুম থেকে উঠে উত্তেজনা নিয়ে দেখেছিলাম ক্ল্যাইস্টার্স-সেরেনা সেই জমজমাট লড়াই । রাগে কাঁপতে কাঁপতে কোর্ট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস । মনে হয়েছিল এবার বুঝি একটা দৈরত্ব আসছে ফিমেল টেনিসে । কিন্ত না, আসেনি । সেরেনাই করে গেলেন একক রাজত্ব, কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন টেনিসের সেই 'মম' ।
মাঝে মধ্যে সেরেনা-রাজত্বে 'মুগুরুজা'র মতো কেউ কেউ হানা দিয়েছেন বটে, তবে বেশী কিছু করতে পারেননি ।
 
পুরুষ টেনিসে অবশ্য সবসময়ই ক্ল্যাশ ঠিকই ছিল । আগাসী-সাম্প্রাসের পর ফেদেরার-নাদাল হয়েছিল । নাদাল সব জায়গায় হারেন কিন্তু ক্লে কোর্টে তিনিই রাজা । ফেদেরার সব জায়গায় সেরা, কিন্ত ঐ লাল মাটিতে গিয়ে কি যেন হয়ে যায় ! পারেন না আর । তবু একবার জিতে পূরণ করেছিলেন ক্যারিয়ার স্ল্যাম । ফেদেরার-নাদাল ক্ল্যাশের যুগ গত হয়েছে বহুদিন । এখন চলছে জোকোভিচ-রাজত্ব । অনেকটা একক রাজত্বই বলা চলে ।
 
 
সেই নোভাক জোকোভিচ গত বছর সব জিতেছিলেন, জিতেননি কেবল ফ্রেঞ্চ ওপেন । কোথাকার কোন ওয়ারিংকা সব কিছু গোলমাল করে দিয়েছিলেন ।
এবার আর সেটা হলো না । মারে পারলেন না জোকোভিচ কে থামাতে । এতদিন ধরে পূর্ণ না হওয়া ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ হয়ে গেলো এবার । জোকোভিচ তাঁর রাজত্ব ছড়িয়ে দিলেন লাল মাটির কোর্টেও । গত বছরের উইম্বলডন থেকে এ বছরের ফ্রেঞ্চ ওপেন পর্যন্ত একটা চক্রও পূর্ণ হয়ে গেলো । টানা চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম !
 
এন্ডি মারে-নোভাক জোকোভিচ একটা ক্ল্যাশ টেনিসে আসলেও অবশ্য আসতে পারে । তবে স্কটিশ এন্ডি মারে, ইউনাইটেড কিংডম বা যুক্তরাজ্য কে প্রতিনিধিত্ব করার চাপ কতটা সামাল দিতে পারেন কে জানে !
 
সামনে উইম্বলডন, তারপর বছর শেষের ইউএস ওপেন তো আছেই । কে জানে এই বছরে বর্ষশুরুর অস্ট্রলিয়ান ওপেন জেতা নোভাক জোকোভিচ একবছরে চারটা গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের অনন্য রেকর্ডও করে ফেলেন কি না !
১৯৬৯ সালের পর পুরুষ এককে যে এই কীর্তি আর কেউ করতে পারেননি । তাও তো ঘটেছে মাত্র তিনবার, ঘটিয়েছেন দু'জন ।
 
নোভাক জোকোভিচ কি পারবেন ডন বাজ ও রড লেভারের পাশে নাম লেখাতে ? ১৯৩৮, ১৯৬২ ও ১৯৬৯ এর পাশে একই সমতলে ২০১৬কেও কি জ্বলজ্বল করাতে পারবেন ?
অপেক্ষা করতে হবে আরো মাস চারেক । সেপ্টেম্বরে বছরের শেষ ইউএস ওপেন পর্যন্ত । অবশ্য যদি এই মাসেই শুরু হতে যাওয়া উইম্বলডনটা না জেতেন জোকোভিচ, তাহলে আর অপেক্ষার দরকার পড়বে না ।
 
এখন প্রশ্ন হলো অপেক্ষাটা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারবেন তো জোকোভিচ ?