• ফুটবল

'আ' তে আর্জেন্টিনা, 'আ' তে আবেগ

পোস্টটি ২১২১ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

পা দিয়ে বল লাথি মারা খেলাটার নাম যে ফুটবল এ ব্যাপারে আমার জ্ঞানটা বোধ হয় পাঁচ বছর বয়সে হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের আগে ফুটবল সংক্রান্ত কোন স্মৃতি মনে না পড়ায় অন্তত এরকম একটা অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছানই যায়। ফ্রান্সের সেই বিশ্বকাপের মহামারী আকারের স্মৃতি আমার অন্তরের অ্যালবামে আপলোড করা আছে- তেমনটাও না।


জিদানের হেড, গোল। ফাবিয়ান বার্থেজের বার বার ইচ্ছে করে পড়ে যাওয়া, বল হাতে শুয়ে থাকা, ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়, রোনালদোর সাথে পরিচয়, আর ওই বিশ্বকাপের মাস্কট সহ দু’ একটা দেশের নাম জানা- এসব খুঁটিনাটি ব্যাপারগুলোই মনে ধরেছিল ওই বয়সেও।

ওহ! আরেকটা ব্যাপার না বললে ভুল হবে। ফাইনাল ম্যাচের কথা। ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলার সময় কোমরের কিছুটা নিচে (বেশ নিচেই) ব্যাথা পান বার্থেজ। মাঠ ভর্তি দর্শকের সামনে প্যান্ট নামিয়ে ‘ওই’ জায়গায় স্প্রে করার দৃশ্যটা বড়ই বিনোদিত করেছিল আমাকে। ওই ভদ্রলোককেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নামক ক্লাবের গোলবারের নিচে দেখে বেশ টাশিকিও খেয়েছিলাম পরে, সে অবশ্য পরের ঘটনা।

যতদূর মনে পড়ে আর্জেন্টিনা নামটার সাথে সেবার আমার তেমন পরিচয় ঘটেনি। বার্গক্যাম্পদের সাথে আমার শত্রুতা ঘটনা ঘটে যাওয়ারও অনেক পরের ব্যাপার। ’৯৮ এর বিশ্বকাপে আমি কোন দলের সমর্থক ছিলাম- তা মনে করার চেষ্টার এক কথায় প্রকাশ্য হলে তার সমার্থক শব্দ হবে অরণ্যে রোদন। তবে ব্রাজিলকে হারতে দেখে মনে আনন্দের সীমা ছিল না ;এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। স্মৃতির অন্তত বিশ্মাসঘাতক হবার যোগ্যতা নেই।

আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত হওয়ার ‘সৌভাগ্য’ তার পরের বিশ্বকাপে। আগের বিশ্বকাপের সময় আমার স্কুল ছিল না। এবার ক্লাস থ্রি’র স্টুডেণ্ট। মে মাসের শেষের দিকে ক্লাসে তখন তুমুল উত্তেজনা। টিফিনের ঘণ্টা বাজলেই শুনি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার হাউ কাউয়ে মাতোয়ারা হয়ে যেত চারিপাশ। বাতিস্তুতা আর রোনালদো ঝগড়ার সাথে ম্যাগী নুডলস আর মেরিডিয়ান চিপসের গন্ধ মিলে মিশে একাকার যেত! আমি নাদান কোন দল যে করব ভেবেই পাই না।

বাসায় না বলে তো আর কিছু করা যায় না! রীতি মেনে বাসায় ফিরে একদিন মাকে জিজ্ঞেস করলাম- কোন দল করব? জননীর সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে গেলাম জনকের কাছে। তিনি জানালেন “আমি আর্জেন্টিনা”। আমি বললেন “তাইলে আমিও আর্জেন্টিনা”। আকাশী-সাদা রঙটা হলুদের চেয়ে কম হলেও চৌদ্দগুন সুন্দর। ঘরে প্রতিযোগিতার অভাব দূর করতে ছোট ভাইকে নিজ পরামর্শে হুকুম দিলাম “তুমি ব্রাজিল কর”।

ওই শুরু! চারবার বিশ্বকাপ জেতা দল বাদ দিয়ে দু’বার জেতা দলকেই বেছে নিলাম। বেছে নিলাম ম্যারাডোনা আর বাতিস্তুতার দল। ভোট দিলাম আবেগে, আর্জেন্টিনায়।

বিশ্বকাপ শুরু, শুভসূচনা। আমারে আর পায় কে? ভাবলাম জীবনে এর চেয়ে সুখের কিছু নাই। এরে ওরে যারে দেখি, জিজ্ঞেস করে বেড়াই। তুমি কি? আমি তো আর্জেন্টিনা।

পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছ হার। আরে ব্যাপার না, হতেই পারে। বুঝ দিলাম জগতের সবাইকে। শেষ ম্যাচে দরকার জয়। এখনকার ইব্রা ছাড়া তখনকার সুইডেন সেকেন্ড হাফে উল্টো গোল দিয়ে বসল। ক্ষোভে দুক্ষে তখন আমার কী মনে হয়েছিল তাও আমার মনে নাই।

জাপান-কোরিয়ার ওই বিশ্বকাপের সময় হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষা চলছিল, ক’দিন আগেই একখানা হাতঘড়ি কেনা হয়েছিল আমার জন্য। ঠিক খেলা শেষের পরই টিভি ছেড়ে স্কোর দেখব বলে ঠিক করে- টেলিভিশন দিলাম বন্ধ করে। ছোট্ট হৃদপেশীতে আর সইছিল না। বড় হয়েও অবশ্য সেই অবস্থান খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। আবেগ কী আর বদলায়!

খেলা শেষে টিভি ছেড়ে জীবনের প্রথম ছ্যাকাটা খেয়ে গেলাম ওই ক্লাস থ্রিতে থাকতেই। ১-১ গোলে ড্র করে বাদ আর্জেন্টিনা। পরের দিনের প্রথম আলোর প্রথম পাতার ডান কোণায় বাতিস্তুতার সেই ছবি! কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়ছেন বাতিগোল। রাতে এক ঘুম দিয়ে যাও একটু সামাল দিয়েছিলাম, সকালের পেপার খুলে তার সবটুকুই উধাও হয়ে গেল। সেদিনের সে পেপারটা সংগ্রহে ছিল বহুদিন। প্রায়ই খুলে দেখতাম। এ ব্যাপারে কবি বলেছেন “আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি, তাই তোমার কাছে ছুটে আসি”।

আর্জেন্টিনার হারে যতো না দুঃখিত হলাম, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয় সেটাও ছাপিয়ে গেল। আমার হৃদয় ভেঙে হয়ে গেল পাঁচ টুকরো। আর জার্মানির প্রতি প্রচণ্ড রাগ হল। এতো সমর্থন দিলাম, পুরো টুর্নামেন্টে কী অসাধরণ খেললো, কানের জালে নাকি বলই জড়ায় না, ক্লোসা তো ম্যালা গোল করে আর বালাকের যে নুরানি চেহারা - কোথায় কি! কি সব হাবিজাবি গোল হজম করে দিয়েই দিল বিশ্বকাপটা।

আমার সেদিনের সেই ক্ষোভটা বোধ হয় সরাসরি লেগেছিল জার্মানদের গায়ে। তা না হলে পরের তিন বিশ্বকাপে ওরাই কেন আমার স্বপ্নভঙ্গের কারন হবে? কি আজব এই দুনিয়া আর তাজ্জব তার লীলাখেলা! যখন পারার দরকার ছিল, তখন আত্মসমর্পণ করল আমার শত্রুর কাছে।

যাই হোক তার পরের কাহিনীটা শুধুই স্বপ্নভঙ্গের। আর প্রতিবার ওই জার্মানির কাছে হেরেই। প্রথমবার টাইব্রেকারে, পরেরবার লজ্জায়, আর শেষবার তীরের কাছে এসে। ২০০৬ এ কেঁদেছিলাম বাংলা সিনেমার নায়িকাড় ঢঙে। বালিশ চাপা দিয়ে, উপুর হয়ে শুয়ে। এক হালি হজম করে ওই রাতে বাড়ি ফেরেনি কিশোর। পরেরবার অধিক শোকে পাথর, রাগে রোজা হালকা হবার যোগাড়।

বিশ্বকাপ শেষের পর বেশ কয় রাত স্বপ্নে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ নিয়ে নাচানাচি করতে দেখে ঘুম ভাঙার পর ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছি। কী রকম এক অদ্ভূত শূন্যতা! ধাক্কা সামলে মেনেই নিলাম এক সময়। শোকে মারিও গোটযে নিয়ে আমার বিলাপ সময়ের সাথে নিয়ে গিয়েছি শিল্পের পর্যায়ে।

 আর ২০০২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ৪ খানি বিশ্বকাপের ভেতর ৩ কোপায় প্রতিবার সাফল্যের সাথে কোপ খাওয়া হয়ে গেছে। দুই খানা ফাইনালে ব্রাজিলের হাতে কোপ খাওয়া, আরেকটায় উরুগুয়ের কাছে উরুতে কোপ খাইয়া কোয়ার্টার হইতে বিদায় নেবার ভাগ্যও হইয়াছিল আমার।

আমার সিজিপিএ নিয়ে এর কানাকড়ি আফসোস থাকলেও স্ব-অবস্থার উন্নতি ঘটত- আর্জেন্টিনা জিতুক যাই হারুক।


যা হোক! চৌদ্দের দুঃখ সামাল দিয়ে পরের বারের রোজায় আবার কড়া নাড়ল কোপা। এইবার তো আমরাই ফেভারিট। আগেরবার আর্জেন্টিনাকে নিজ চৌক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলিতে দেখিয়া এরই মধ্যে প্রচুর আত্মবিশ্বাসের বাম্পার ফলন ঘটিল আমার হৃদয়ে। ফাইনালেও চলে গেল দেখতে দেখতেই। আগেরবার হয় নাই, অন্তত এইবার তো সান্ত্বনা পাওয়াটা আমার গণত্রান্ত্রিক অধিকার!

আগেরবারের রোজায় অতিরিক্ত সময়ের হার, এবার আরেকটু উন্নতি। এইবার সেহেরি শেষ করেও অনেকক্ষণ জাইগা থাকা লাগল। টাইব্রেকারে হারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবার তানারা।

 হতাশা ছিল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জিততে না পারার, ইচ্ছা ছিল সেই ক্ষত কিছুটা ঢাকার। তবু তো কিছু একটা হোক! হল না। এঁদের হয় না।

সেদিনের রাগ, দুক্ষ, হতাশা আরও বড়-সড় আকারের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে রুপান্তরিত হয়ে বায়ুমন্ডলের স্ট্রটোস্ফিয়ারেই বাঁধা পেয়ে ফিরে এসেছিল বুকে। মেসিদের আর্জেন্টিনার ট্রফি নিয়ে উল্লাস করতে দেখবার স্বপ্ন মহা পাপ!

রাগে ক্ষোভে দুক্ষে বাকীটা জীবন শুধু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড করে কাটিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম চিলির কাছে হারার দিনে। আর কতো সয়!

রোজার মূল অনুষঙ্গ সেহেরি, ইফতার। গত কয়েক বছর ধরে এর সাথে যোগ হয়েছে আর্জেন্টিনাও! এবারও আছে তারা আমার সাথেই। যদিও এবারের কোপার আগে তেমন কোন আবেগ-অনুভূতি কিছুই অনুভব করিনি! এ ঘটনাটা এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। পাকিস্থানের সাথে এশিয়া কাপের ফাইনালের হারার পর, ভারতের বিপক্ষে এক রানের হারটা সহ্য করার ক্ষমতা কিছুটা বেড়েছিল।

তবু চিলির বিপক্ষে খেলার দিন সকালে অ্যালার্মের দামামা বাজিয়ে আটটায় উঠে গেলাম। অথচ ক্লাস ধরার জন্য এভাবে সগৌরবে বিছানা ছাড়তে পারলে জরিমানা পরিশোধ করে পরীক্ষায় হাজির হতে হত না।

সকাল সকাল উনাদের খেলা দেখে অন্তরের তৃপ্তি, আত্মার প্রশান্তি কোনটাই আসেনি। আর্জেন্টিনা নামের দোহাই দিয়ে, কোপা নামের তকমাটা পুঁজি করে খেলা দেখতে বসা।

টাটা নামের লোকটার যে আর্জেন্টিনার মতো দলের দায়িত্ব নিতে নেই- সে কথাই প্রতিবার নতুন করে বুঝি আজকাল আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে বসলে। আলেসান্দ্রো সাবেয়ার সবচেয়ে বড় গুন ছিল তিনি ডিফেন্সটা ঠিক করতে পেরেছিলেন। সমণ্বয় ছিল মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ পর্যন্ত। সেই একই দল টাটার হাতে তুলে দিয়ে সাড়ে সর্বনাশ ডেকে আনা যেন আর্জেন্টিনার ফুটবলেরই নিয়তি। মাঠের খেলা দেখলে গুটিকয়েক খেলোয়াড় বাদে আর কারও চোখে জয়ের স্পৃহা খুঁজে পাওয়া যায় না।

চিলিকে হারানোর পরের খেলা পানামার সাথে। এই দলকে হারাতে বেগ পেতে হবে আর্জেন্টিনার? টাটা থাক আর ফাটা থাক। এঁদের যদি হারাতে না পারে! সকালে ইচ্ছে করেই দেরী করে অ্যালার্ম দিলাম দেরীতে। ৬০ মিনিটের সময় উঠে দেখলাম ১-০ গোলে এগিয়ে আছেন ‘ছোট্ট বন্ধুরা’। গোল করেছেন অটামেন্ডি।

মেসি মাঠে নেমেছেন কেবলই। এমন এক ‘লুথা’ দলের সাথেও নাকি এক ডিফেন্ডারে দেয়া গোলে এগিয়ে থাকতে হয় আর্জেন্টিনার। অথচ ষাট বছরের সিরিআর রেকর্ড ভাঙ্গা হিগুয়েইন, আর প্রিমিয়ার লিগের শিটি ক্লাবের ‘লিজেন্ড’ আগুয়েরোরা খেলেন কিন্তু এখানেই! রাগ করেই খেলা না দেখে ঘুমিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

একটু পরে দমকা বাতাস আর বৃষ্টিতে ঘুম ভাঙতেই মনে হল, দেখি তো সোনার ছেলেরা কী করেছে! ফেসবুকে ঢুকতেই দেখলাম মেসিতে সয়লাব দুনিয়া! পানামা হোক আর যাই হোক, ৬১ মিনিটে মাঠে নেমে আন্তর্জাতিক ম্যাচে হ্যাট্রিক করা তো চাট্টেখানি কথা না! আফসোসের আর সীমা থাকল না।

যা বুঝলাম যতো সামনে আগাবে আর্জেন্টিনা এঁদের নিয়ে মনের অজান্তেই আশা করে যাব আমি। আর উনারাও মনের সুখে হেরেই যাবেন হয়ত।

দরজায় যখন আরও একবার দুঃখ পাবার সুযোগ তখন আবারও ধরা খেয়ে যেতে সেই পুরোনো বন্ধু আবেগের কাছেই। এই কোপার কিছুই ঠিক নেই। না কনফেডারেশনস কাপে জায়গা হবে, না খুব আহামরি মুল্য এই প্রতিযোগিতা। তবু এই কোপাতেও অন্তত কোপটা হোক? তবু হোক। অঞ্জন দত্তের গানের মতো বলতে হয়, “এ মনটা তবু আশা করে যায়”।    
 

খেলা ভালো লাগে বা খেলা বুঝে আর্জেন্টিনা করা মানুষের সাথে আমার আজ পর্যন্ত সাক্ষাত হয়নি।  যে বয়সে কোনো কারন ছাড়াই ভালোবাসা যায় সেই ভালোবাসার তুলনা হয় না। আমরা 'আর জিতি না; আমাদের শিরোপা ভান্ডারেরও ধুলোর মোটা আস্তরণ, এক হালি খেয়েও কাঁদি, গোটযেও আমাদের কাঁদায়। হিগুয়েইনে আমাদের দীর্ঘশ্বাস। তবু নিখাদ সে ভালোবাসা।

কালের বিবর্তনে যত ব্রাজিল সমর্থককে স্পেন করতে দেখেছি, তাঁর অর্ধেক আর্জেন্টিনার মুরতাদ ও দেখি নাই। তার কারনটাও ওই 'আবেগ'।  

কিশোর প্রেমের কারন থাকে না, এই ভালোবাসারও কারন দরকার হয় না। এমনিতেই আবেগে ভেসে যাওয়া যায়। একে সস্তা আবেগ অবশ্য বলতেই পারেন আপনি। কারন আপনি তো আর্জেন্টিনা নন!

এই আবেগের তুলনা হয় না, কখনও পিছুও ছাড়েনা!