• অন্যান্য

গোলে শোরগোলে শৈশবে ফেরা!

পোস্টটি ২৪৮৯ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

সন্ধ্যা নেমেছে মাত্র, পাখিরা যখন নীড়ে ফিরে যাচ্ছে তখন রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে  ব্যাপক হৈহল্লা! ফ্লাডলাইটের আলোয় ফাইনাল হচ্ছে দুই বুড়ো দলের মধ্যে। একদল ২৬ বছর আগেই পড়াশোনার পাঠ চুকিয়েছেন এই প্রতিষ্ঠান থেকে, বিপক্ষ দলও বয়সে কম যান না, তাঁরা বিদায় নিয়েছেন দুই দশক আগে! কিন্তু বয়সের ভাড়ে ন্যুব্জ হলেও মনের তারুণ্যে দারুণ প্রাণবন্ত সবাই। মজার বিষয় হচ্ছে, দুই দলকে যেই কয়েকশত মুখ মাঠের চারপাশ থেকে সমর্থন দিচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই পৃথিবীর আলো দেখার আগেই তাঁরা বিদায় নিয়েছেন এই জায়গা থেকে। টানটান উত্তেজনায় ভরা ফাইভ-এ-সাইড এই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে কোন গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেও প্রথম ৩ শটে ২-২ সমতা। এবার, সাডেন ডেথ। সেখানে, ১৯৯০ ব্যাচ গোল করলেও মিস করে বসেন ১৯৯৬ ব্যাচের খেলোয়াড়। তাই একদিকে যখন উল্লাসে মাতোয়ারা '৯০ এর খেলোয়াড় এবং পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে তখন নিস্তব্ধ হতাশায় বন্দী '৯৬ ব্যাচ। 

বলছিলাম ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের অ্যালামনাই সংগঠন  ওল্ড রেমিয়ানস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন (ওরওয়া) আয়োজিত  'ওরওয়া ফাইভ-এ-সাইড ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১৬' নিয়ে। গত ৪ নভেম্বর দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে বসেছিল প্রাক্তন রেমিয়ানদের এই মিলনমেলা। সকালে কলেজ মাঠে বেলুন উড়িয়ে শুভ উদ্বোধন করেন কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হান্নান। সাথে উপস্থিত ছিলেন ওরওয়া'র বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান।

২৯টি ব্যাচের অংশগ্রহণে আয়োজিত এবারের আসরকে ভাগ করা হয়েছিল ৩টি পর্যায়ে। ১৯৬০-১৯৯৬ ব্যাচের দলগুলো শতদল লেভেলে, ১৯৯৭-২০০৫ ব্যাচ পল্লব লেভেলে এবং ২০০৬-২০১৪ ব্যাচ ছিল কিশলয় লেভেলের অন্তর্ভুক্ত। 

 

14997122_10153977756237967_286563621_n

 

সর্বমোট ২৯টি ব্যাচের ৪৪টি দল অংশ নেয় প্রতিযোগিতায়, একই সাথে বিশাল ক্যাম্পাসের ১২টি মাঠে একযোগে তিনটি লেভেলের খেলা চলে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে রাউন্ড রবিন লীগ। বিকেল তিনটায়  সেমি ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪.৩০ থেকে ক্রমানুসারে চলে তিন লেভেলের ফাইনাল ম্যাচ। 

কিশলয় গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয় ২০১১ ব্যাচ এবং রানার আপ হয় ২০১০ ব্যাচ। পল্লব গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয় যথাক্রমে ১৯৯৮ এবং ২০০২ ব্যাচ। আর প্রাণবন্ত বুড়োদের গ্রুপে সেরা হয় ১৯৯০ ব্যাচ এবং রানার আপ ১৯৯৬ ব্যাচ। 

পুরষ্কার বিতরণীতে কলেজ অধ্যক্ষ ও ওরওয়া সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশ বরেণ্য দুই সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ এবং জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। পুরো আয়োজন উৎসর্গ করা হয় কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক এবং জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত হকি এবং ফুটবল কোচ প্রয়াত আবদুস সালাম স্যারের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

 

14958787_10153977756222967_1303882062_n

 

''তোর কাছে বল পাসে, গোলে শোরগোলে শৈশবে হারাই'' - ট্যাগলাইনে আয়োজিত হওয়া এই বিশাল আসরে খেলার চেয়েও বড় কিছু ছিল বন্ধুত্ব আর ভাতৄত্ববোধের মেলবন্ধনটাই! দিনভর আড্ডা-গল্প আর মাঠের খুনসুটি-মাতামাতিতে সবাই যেন ফিরে গিয়েছিলেন শৈশবের সেই ফেলে আসা দিনগুলোতে!

এমন আয়োজন প্রতিবছর বজায় থাকবে এই আশাই পোষণ করেছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ। 

 

14958603_10153977756187967_679944971_n