• ক্রিকেট

টেস্ট ইতিহাসের সেরা ম্যাচ!

পোস্টটি ৮৯৩১ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

বর্তমানে টেস্ট খেলে মোট ১০টি দেশ। দেশগুলোর মধ্যে যে টেস্ট সিরিজ হয় সেই সিরিজে টেস্টের সংখ্যা উঠানামা করে দুই থেকে পাঁচের মাঝে। এই টেস্ট সিরিজগুলোর গালভরা নামও আছে। যেমনঃ ভারত আর অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে যে সিরিজ হয় তার নাম বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি। আবার অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজের নাম চ্যাপেল-হ্যাডলি ট্রফি। তাহলে অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্টইন্ডিজের টেস্ট সিরিজের নাম কী? ‘দ্য ফ্রাঙ্ক ওরেল ট্রফি’। অন্য সব ট্রফির নাম দু’জনের নামে, তাহলে এই ট্রফির নাম শুধু একজনের নামে কেন? কারণটা অন্য এক লেখায় বিস্তারিত বলব। তবে এটুকু জানিয়ে রাখি যে ফ্রাঙ্ক ওরেল ছিলেন অসাধারণ একজন ক্রীড়াবিদ। আমরা সবাই ক্লাইভ লয়েডের নাম জানি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বীপরাষ্ট্রগুলোকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন যিনি। কিন্তু লয়েডেরও আগে প্রথম যে মানুষটি দ্বীপগুলোকে একত্র করতে পেরেছিলেন তাঁর নাম ফ্রাঙ্ক ওরেল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন বিখ্যাত ‘ডব্লু’র একজন। বাকি দুজনের নাম এভার্টন উইকস এবং ক্লাইড ওয়ালকট।


দ্য ফ্রাঙ্ক ওরেল ট্রফি শুরু হয় ১৯৬০ সাল থেকে। এর মানে কিন্তু আবার ভেবে বসবেন না যে তার আগে অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের মধ্যে ক্রিকেট খেলত না। অবশ্যই খেলত। কিন্তু তখন এই সিরিজের নাম দ্য ফ্রাঙ্ক ওরেল ট্রফি ছিল না। এই নাম দেয়া হয় ১৯৬০/৬১’তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অস্ট্রেলিয়া ট্যুরের সময়। চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে, যার নামে সিরিজের নাম সেই ফ্রাঙ্ক ওরেল তখন বহাল তবিয়তে টেস্ট খেলে যাচ্ছেন। আর শুধু খেলে যাচ্ছেন বলছি কেন, সেই সিরিজেই তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যাপ্টেনও মনোনীত হন, জেরি অ্যালেকজান্ডারকে সরিয়ে। নিজে অবসর নেয়ার আগেই তার নামে কোনও সিরিজের নামকরণ এবং সেই সিরিজে অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড সম্ভবত ১৩৯ বছরের টেস্ট ক্রিকেটেই আর কারও নেই।

২.
তো যা বলছিলাম। ৬০ সালের শেষের দিকে অস্ট্রেলিয়া গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। উদ্দেশ্য ৫ ম্যাচের একটা টেস্ট সিরিজ খেলা। অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেন ছিলেন তখন রিচি বেনো।


প্রথম টেস্ট ছিল ব্রিসবেনে। টসে জিতে ব্যাটিং নিলেন ওরেল। স্যার গারফিল্ড সোবার্সের সেঞ্চুরি, জো সলোমন আর ফ্রাঙ্ক ওরেলের হাফ সেঞ্চুরিতে একটা ভাল অবস্থানে পৌঁছে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৬৬ রানে ৮ম ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন আউট হলেন সনি রামাধিন, স্কোর তার আশেপাশেই থেমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা থামল না, আসলে থামতে দিলেন না জেরি অ্যালেকজান্ডার আর দশ নাম্বারে নামা ওয়েস হল। ৩৬৬ থেকে ৮৬ রানের জুটি গড়ে দলকে টানতে টানতে নিয়ে গেলেন ৪৫২’তে; হল এবং অ্যালেকজান্ডার দুজনেরই হাফসেঞ্চুরি হয়ে গেল। ৪৫২’তে হল আউট হওয়ার পরে আর বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না অ্যালেকজান্ডারও। স্কোরে আর ১ যোগ হতেই আউট হলেন তিনিও; ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হল ৪৫৩’তে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৫ উইকেট নিলেন অ্যালান ডেভিডসন। এই ভদ্রলোকের কথা মাথায় রাখুন দয়া করে। এই টেস্টের গল্পে ভদ্রলোকের একটা বড় ভূমিকা আছে।


অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে নামল। ম্যাকডোনাল্ডের ৫৭, বব সিম্পসনের ৯২, নরমান ও’নীলের ক্যারিয়ারসেরা ১৮১ রানের সাথে আরও ‘খুচরা’ কিছু রান যুক্ত হয়ে মোট সংগ্রহ দাঁড়াল ৫০৫। অস্ট্রেলিয়া লীড পেল ৫২ রানের। 


দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান স্যার গ্যারি গেলেন মাত্র ১৪’তে; কানহাই করলেন হাফ সেঞ্চুরি। ১২৭ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর ওরেল আর সলোমনের ৮৩ রানের পার্টনারশিপ সাহস যোগাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, ম্যাচ এখনও জেতা সম্ভব। ২৫৩ রানে নবম উইকেট পড়ার পরে বেনোবাহিনী যখন টার্গেট ২০০’র আশেপাশে হবে বলে ভাবছে তখনই আবার ওয়েস হল ম্যাজিক। প্রথম ইনিংসের মতো হাফসেঞ্চুরি করতে না পারলেও মহামূল্যবান ১৮ রান করে শেষউইকেট হিসেবে যখন আউট হলেন তখন দলের স্কোর ২৮৪। ডেভিডসনের পকেটে গেল ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার সামনে টার্গেট ২৩৩।

৩.

চতুর্থ ইনিংস হলেও ২৩৩ রান অস্ট্রেলিয়ার জন্য এমন কিছু না। তবে ‘এমন কিছু’ বানিয়ে দিল সময় আর বৃষ্টি। কারণ এই রান তুলতে হবে ৫ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে। এবং ওইদিন সকালেই বৃষ্টি হয়ে গেছে মুষলধারে। বৃষ্টির কারণে বাড়ি থেকে রোলার আনতে পারেনি কিউরেটর। খেলার বিরতিতে তাই রোলার চালানো যাচ্ছে না পিচে। 


কিউরেটরের কাছ থেকে এই কথা শোনার পরেও তেমন একটা ভাবান্তর হল না রিচি বেনোর। আরে, এত ভাবার আছেই বা কী! অস্ট্রেলিয়ার যা ব্যাটিং লাইনআপ তাতে কোনও সমস্যাই হওয়ার কথা নয়।


কিন্তু সমস্যা হল। কারণ সমস্যা সৃষ্টি করলেন স্যার ওয়েস হল। ডেভিডসন যেখানে শেষ করেছিলেন, স্যার ওয়েস যেন শুরু করলেন সেখান থেকেই। টুপটাপ বৃষ্টির মতো পড়তে লাগল উইকেট; অস্ট্রেলিয়া পরিণত হল ৫৭/৫’এ। হল কী পরিমাণ বিধ্বংসী ছিলেন তা বোঝা যাবে একটা তথ্যেই। ৫ উইকেটের ৪টিই ছিল তাঁর। 


গ্রীক মিথোলজিতে বর্ণিত আছে ‘একিলিস বনাম হেক্টরের’ যুদ্ধের কথা। এই ম্যাচ যেন হয়ে উঠতে লাগলো ‘হল বনাম ডেভিডসনের’ এক টুকরো লড়াই। অ্যালান কিথ ডেভিডসন যেন প্রতিজ্ঞা করলেন এই ম্যাচ তিনি একা হাতে জেতাবেন। কিন্তু তা বললেই তো হয় না। একজন সঙ্গী তো লাগেই। ৯২ রানে যখন ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে কেইন ম্যাকে যখন আউট হলেন, জয়ের জন্য তখনও লাগে ১৪১ রান। ব্যাট করতে নামছেন শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান রিচি বেনো।


শেষদিনের খেলার বাকি আর মাত্র ২ ঘণ্টা। রান লাগবে এখনও ১২৪। এই অবস্থায় যখন চা-বিরতিতে গেল দু’দল, ব্র্যাডম্যান রিচি বেনোর কাছে এলেন।
“কী করতে চাইছ তোমরা?” জিজ্ঞেস করলেন স্যার ডন।
“আমরা জয়ের জন্য খেলব।” উত্তর দিলেন রিচি বেনো।
“শুনে ভাল লাগল।” বললেন ডন।
কথা রাখলেন রিচি বেনো এবং অ্যালান ডেভিডসন। অসম্ভব এক জয়ের উদ্দেশ্যে ছুটতে লাগলেন তাঁরা। সপ্তম উইকেটে রেকর্ড ১৩৪ রানের এক অসাধারণ জুটি গড়ে দলকে নিয়ে গেলেন ২২৬ রানে। জয় মাত্র ৭ রান দূরে। হাতে আছে তখনও ৪ উইকেট।
এসময়ই কপাল পুড়ল ডেভিডসনের। স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে রিচি বেনো যখন ডেভিডসনকে কল করলেন, রেসপন্স করতে দেরি করে ফেললেন ক্লান্ত ডেভিডসন। স্কয়ার লেগ থেকে চিলের মতো ছোঁ মেরে উইকেট লক্ষ করে বল ছুঁড়লেন জো সলোমন; ডেভিডসন তখনও ক্রিজের বাইরে। এই আউটের ব্যাপারে ডেভিডসন কয়েকবছর আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেনঃ “আমি সেদিন উসাইন বোল্টের গতিতে দৌড়ালেও ক্রিজে ঢুকতে পারতাম না।” 
ম্যাচ তখনও হেলে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার দিকে। রান লাগবে মাত্র ৬। হাতে আছে ৩ উইকেট। তার চেয়েও বড় কথা ক্রিজে আছেন ক্যাপ্টেন রিচি বেনো।

৪.

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সময় তখন বিকাল ৫ বেজে ৫৬ মিনিট। দিনের আলো নিভে আসছে দ্রুত। শেষ দিনের শেষ ওভার করার জন্য ওরেল বল তুলে দিলেন হলের হাতে। 
নতুন কোনও ম্যাজিক কি বের করবেন জাদুকর ওয়েস ‘ডেভিড কপারফিল্ড’ হল?
তখন এক ওভার হত ৮ বলে। হল শেষ ওভার শুরু করতে যাওয়ার আগে সমীকরণ দাঁড়ালো এমনঃ
অস্ট্রেলিয়ার দরকার ৮ বলে ৬ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ৩ উইকেট।
অথবা ড্র।
শেষ ওভারের প্রথম বল। বল লাগল নতুন ব্যাটসম্যান ওয়ালি গ্রাউটের বুকে। ব্যথায় কোঁকাতে কোঁকাতে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক দিলেন বেনোকে। ৭ বলে দরকার ৫।
কয়েক ওভার আগে ওরেল হলকে বাউন্সার দিতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু অধিনায়কের কথা না শুনে বেনোকে বাউন্সার দিলেন তিনি। 
বেনো সেই মুহূর্তে একটা বোকামি করলেন। হুক করতে গেলেন বাউন্সার দেখে। ব্যাটেবলে ঠিকমতো তো হলই না, উল্টো ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে গেল উইকেটকিপার অ্যালেকজান্ডারের কাছে। 
ও বেনো, হোয়াট হ্যাভ ইউ ডান!!
অস্ট্রেলিয়ার দরকার ৬ বলে ৫। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই উইকেট।
নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে নামলেন ইয়ান মেককিফ। ওয়েস হলের তৃতীয় বল। 
ডট!!!!
৫ বলে ৫। দুই উইকেট।
চতুর্থ বল লেগ দিয়ে বের হয়ে গেল। উইকেটকিপার অ্যালেকজান্ডার ঝাঁপিয়ে পরে ধরে থ্রো করার আগেই বাই এক রান।
৪ বলে ৪। দুই উইকেট।
৫ম বলে গ্রাউটের ক্যাচ উঠে গেল স্কয়ার লেগে। কানহাই আর হলের ভুল বোঝাবুঝিতে ক্যাচ তো হলই না, উল্টে হয়ে গেল ১ রান।
৩ বলে ৩। দুই উইকেট।
স্নায়ুচাপ যে অস্ট্রেলিয়ানদের গলায় ফাঁস হয়ে এঁটে বসেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল পরের বলে। ৬ষ্ঠ বলে মেককিফ গায়ের জোরে ব্যাট চালালেন; বাউন্ডারি হয়েই যাচ্ছিল কিন্তু সীমানা থেকে বাঁচালেন কনরাড হান্ট। বল ছোঁড়ার সময় দুই ব্যাটসম্যান দুইবার জায়গা বদল করে ফেলেছেন। স্কোর সমান। ঝুঁকি নেওয়ার কোনই দরকার ছিল না। কিন্তু ‘সাহসীরা বোকা হয়’ অথবা ‘বোকারাই সাহসী হয়’ এটা প্রমাণ করার জন্যই যেন বল শূণ্যে থাকা অবস্থায় ৩য় রান নেওয়ার জন্য দৌড় শুরু করলেন গ্রাউট। বল উইকেটকিপার অ্যালেকজান্ডারের হাত ছুঁয়ে যখন বেল ফেলে দিল, উঠে গেল লেগ আম্পায়ারের তর্জনী। গ্রাউট ইজ আউট।
শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নামলেন লিন্ডসে ক্লাইন। বল করতে যাওয়ার আগে ওরেল হলকে বললেন, “হল, আর যাই করো, নো-বল দিও না। তাহলে কিন্তু আর বার্বাডোজে ফিরতে পারবে না।” মেককিফ এই চাপ নিতে পারছিলেন না আর। ৭ম বল যখন ক্লাইনের ব্যাট ছুঁয়ে স্কয়ার লেগে জায়গা করে নিতেই, মেককিফ ইশারা করলেন ক্লাইনকে, “দৌড়াও।” 
মিডউইকেট থেকে বল ধরার জন্য ছুটে আসছিলেন পিটার ল্যাশি। কিন্তু জো সলোমনের ‘মুভ, মুভ, মুভ’ শুনে থেমে পড়লেন তিনি। সলোমন দাঁড়িয়ে ছিলেন স্কয়ার লেগে; মাত্র ১২ মিটার দূরে। কিন্তু আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় ৩ উইকেটকে দেখছিলেন ১টা। 
পড়ন্ত বিকালের সেই মরে আসা আলোতে, ব্যাটসম্যান ছুটে আসছেন এমন অবস্থায় ‘মাত্র’ ১২ মিটার দূর থেকে ‘১’ উইকেট লক্ষ্য করে বাজের দক্ষতায় বল ছুঁড়লেন জো সলোমন।
মেককিফ যখন ক্রিজ থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে, বল যখন উইকেট থেকে বেল ফেলে দিল। 
অবিশ্বাস্য!!!!!
অবর্ণনীয়!!!! 
অবিস্মরণীয়!!!!
টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম টাই। টেস্টের জন্মের প্রায় ৮৪ বছর পরে; ১৪ ডিসেম্বর ১৯৬০ সালে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, মেককিফ আর ক্লাইন ভেবেছিলেন যে হেরে গেছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রাও ভাবছিলেন তারা জিতে গেছেন। বিপক্ষ দলের সব উইকেট যেহেতু পড়ে গেছে, সুতরাং ম্যাচটা ড্র নয় নিশ্চয়ই? এমনকি রেডিওতে ঘোষণাও করে দেয়া হল যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একরানে জয়লাভ করেছে। :D (টাই সম্পর্কে ধারণা না থাকলে যা হয় আর কি)
এক টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০০ রান এবং ১০ উইকেট নেয়ার কীর্তি সর্বপ্রথম গড়লেন অ্যালান ডেভিডসন। অভিনন্দন জানিয়ে স্যার ডন তাঁকে বললেন, “ইউ হ্যাভ মেইড হিস্টোরি।”

৫.

গল্পটা শেষ প্রায়। সবকিছু শান্ত হয়ে এলে যখন আসল রেজাল্টটা দুদলই জানতে পারল তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ড্রেসিংরুমের দিকে গেল অস্ট্রেলিয়ানরা। আনন্দে মেতে উঠল দু’দল; শ্যাম্পেনের বন্যা বয়ে গেল; নরমান ও’নীলকে জড়িয়ে ধরে ধেই ধেই করে একপাক নেচেও নিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ম্যানেজার জেরি গোমেজ। 
আহ জীবন!!! 
আহ ক্রিকেট!!!