X
GO11IPL2020
  • ক্রিকেট

বিগত বিশ্বকাপের হিরো

পোস্টটি ৪৯৩৮ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।
বিশ্বকাপ ১৯৭৫ (পার্ট ২) "গ্লেন মেইটল্যান্ড টার্নার" প্রথম বিশ্বকাপে শেষ দিকে প্রচন্ড দ্যুতিময় কারিশমা দেখিয়ে অন্যদের ম্লান করে দেন বাঁহাতি অসি পেসার গ্যারী গিলমোর। তার প্রভাবে ম্লান না হলে হলে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক গ্লেন টার্নারই হতেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়ার (যদিও তখন অফিসিয়ালি এটা ঘোষনা করা হয় নি)।গড় বিচারে নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা মার্টিন ক্রো ও তার নিচে (ক্রো - ৩৮.৫৫) (টার্নার -৪৭.০০) একদিনের ক্রিকেটে! আসলে টেষ্ট কিংবা ওয়ানডে নিউজিল্যান্ড থেকে যেসব সেরা খেলোয়ার এসেছে টার্নার তাদের তালিকায় বেশ উচুতেই আছেন।১৯৮৩তে টার্নার যখন প্রথম শ্রেনী ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তখন তার রান ৩৪,৩৪৬ শতক ১০৩টি (ক্রো-১৯,৬০৮ শতক ৭১টি)। আজকের প্রজন্ম টার্নার সম্পর্কে কম জানার কারন অবশ্যই মিডিয়া। কারন তখন তো খেলোয়ার-রা এতো মিডিয়া কভারেজ পেতো না। ১৯৭২/৭৩ সিরিজে ক্রাইষ্টার্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ডেব্যু হয় টার্নারের, ক্যারিয়ারের শেষ একদিনের ম্যাচটি ও খেলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে-ই ৮৩র বিশ্বকাপে । বিশ্বকাপের প্রথম আসরের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের ডেনিস এমিস যখন লর্ডসে ভারতীয় বোলারদের উপর চড়াও হচ্ছেন, বার্নিংহামে তখন পূর্ব আফ্রিকার উপর ব্যাটিং খড়গ হানছেন টার্নার। ৬০ ওভার শেষে দলীয় রান যখন ৩০৯-৫ টার্নার তখন ১৭১* (৮৩তে কপিল দেবের জিম্বাবুয়ের সাথে ১৭৫* ইনিংসটির আগ পর্যন্ত টার্নারের ইনিংসটি ই ছিলো বিশ্বকাপ তথা একদিনের ক্রিকেটের সেরা ইনিংস)।পূর্ব আফ্রিকা সেদিন একা টার্নারের ইনিংসটি ও ছুতে পারেন নি (১২৮-৮)। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে (১২) ব্যর্থ হলেও ভারতের বিরুদ্ধে আবার ঝলসে উঠেন। ভারতের করা ২৩০-১০ টপকাতে নিউজিল্যান্ডের খেলতে হয় ৫৮.৫ ওভার। টার্নার এদিন ও অপরাজিত থাকেন ১১৪ রানে,দল জেতে ৪ উইকেটে। সেমিফাইনালে জুলিয়েন, হোল্ডার, রবার্টসদের অগ্নিঝড়া বোলিংয়ে ১৫৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় কিউইরা ।হাওয়ার্থ এর ৫১ রানের পর টার্নারের ৩৬ ই ব্যক্তিগত সর্বাধিক রান। কলিচরনের ৭২রে ভর করে ৫ উইকেটে ই ক্যারিবিয়রা ১৫৮ টপকে ফাইনালে চলে যায়। চার ম্যাচে টার্নারের মোট রান ৩৩৩ দুটো শতকে গড় ১৬৬.৫০। পরবর্তী দুটো বিশ্বকপের মোট ১০টি ম্যাচ খেলেছিলেন।এতো সাফল্য না পেলে ও ২ ফিফটি তে করেন ১৭৯ রান।দুটো ফিফটি ই শ্রিলঙ্কার বিপক্ষে (৭৯তে নটিংহ্যামে ৮৩ এবং ৮৩তে ব্রিষ্টলে ৫০)।দূর্দান্ত খেলে ৮৩ বিশ্বকাপে অবসর নেন। টার্নার কে দূর্ভাগা ই বলা যায়,একেতো তখন বেশি ম্যাচ হতো না তার উপর ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতা ও চালু হয় নি। কে জানে এখন জন্মালে হয়তো কিউই এ ডানহাতি ওপেনার সর্বকালের সেরাদের তালিকায় থাকতেন। ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ার পর ও মাঠে ছিলেন বহুদিন।কখন ও ধারাভাষ্যকারের মাইক হাতে,কখনো বা গলফের কাপ হাতে। হ্যা , তিনি একজন ভালো গলফার ও ছিলেন।