• অন্যান্য

ইউএফসি: আ মাস্ট সি স্প্যাকটেইকল ?

পোস্টটি ২১২৬ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

এই শতকের শুরুতে fastest-growing sports হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিগণিত হয় মিক্সড মার্শাল আর্টস(এমএমএ) । গত কয়েক বছরে এটি প্রথম সারির স্পোর্টস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে । মানবজাতি ফাইট গেইম পছন্দ করে । আরবানাইজেশন এর সাথে তিনটি জিনিসের খুব ঘনিষ্ঠতা দেখা যায় । র্যাপ কালচার, গ্যাং কালচার আর স্ট্রিট ফাইট কালচার । 

পুঁজিবাদী সমাজের বিনোদনের প্রধান দুটি মাধ্যম হলো "প্লেয়িং দ্যা ক্যাসিনো গেইম" আর "ওয়াচিং দ্যা ফাইট গেইম"। আর পুঁজিপতিদের পুঁজি বৃদ্ধির অন্যতম উৎস হলো ক্যাসিনো আর ফাইট গেইম গুলোতে বিনিয়োগ করা (সহজ ভাষায় বললে বাজি ধরা)। 

গত শতকের ত্রিশ-চল্লিশের দশকেই সারা দুনিয়ার ফাইটারদের স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠে ইউএসএ । অ্যামেরিকার দ্রুত ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এতে ভূমিকা রাখে । সেই সময়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অবাধে প্রবেশ করছিলো অ্যামেরিকায় বাস্তসংস্থানের আশায় । আর ফাইট গেইম ছিলো রোজগারের সবচে সহজ উপায় । 

মার্শাল আর্টসের অনেককটা ডিসিপ্লিনের মধ্যে তখন থেকেই সবচে বেশি জনপ্রিয়তা বক্সিং আর প্রো-রেসলিং এর । সেই সময়ে রকি মার্সিয়ানো, সুগার রে রবিনসন,  ফ্লয়েড প্যাটারসন আর তৎপরবর্তিতে সনি লিস্টন, মুহাম্মদ আলী আর জো ফ্রেজিয়ারের কালজয়ী বক্সারদের উপস্থিতি বক্সিংয়ের দর্শকপ্রিয়তায় যোগ করে নতুন মাত্রা।

images (4)

ইউএস, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড যেখানেই বক্সিং বাউট আয়োজিত হয়েছে সেখানেই টিকিট বিক্রি হয়েছে হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের মত। 

images (9)

নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের মত বিখ্যাত স্পোর্টস এরিনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে শতাব্দীর সবচে স্মরণীয় কিছু বক্সিং বাউট । 

দর্শকপ্রিয়তায় বক্সিংয়ের সাথে সমানতালে পাল্লা দিয়ে এগুলেও প্রো-রেসলিং কখনোই স্পোর্টস হয়ে উঠতে পারেনি পূর্বনির্ধারিত ঘটনাক্রম ও ফলাফলের কারনে । অর্থ্যাৎ এটি ঠিক বৈধ খেলা(legitimate sport) নয় । সবসময়ই এটি থেকে গেছে এন্টারটেইনমেন্ট শো হিসেবে । 

গত শতকের শেষ দশকে বক্সিং ইন্ডাস্ট্রির ভগ্নরুপ ক্রমাগত স্পষ্ট হচ্ছিল । সঠিক প্রমোশনের অভাব, তারকা সংকট এবং অনেকগুলো কম্পানিতে  বিভাজন এই ইন্ডাস্ট্রির পতন ত্বরান্বিত করছিল । 

এই সময়ই দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে মিক্সড মার্শাল আর্টসের । এমএমএ ফাইট গেইমে বক্সিংয়ের হারানো আকর্ষণ ফিরিয়ে আনে । একই সাথে প্রো-রেসলিং দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত বৈধতার ইমেজ অর্থ্যাৎ লেজিটিমেসি দান করে । মিক্সড মার্শাল আর্টস কে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছে মূলত UFC (আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়ানশিপ) । এটিই সারা দুনিয়ার মিক্সড মার্শাল আর্টিস্ট দের নিজেকে প্রমাণ করবার সব চে বড় প্ল্যাটফর্ম (Ultimate proving ground) । 

এমএমএ এবং ইউএফসি'র উত্থান মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না । অতি স্বল্পসময়ের মধ্যে ইউএফসি একটি নিষ্ঠুর ও পাশবিক মল্লযুদ্ধ থেকে কীভাবে সবচে আকর্ষণীয় খেলায় রুপান্তরিত হলো তার জন্যে আরেকটি ব্লগ লিখতে হবে । 

ইউএফসি ফাইটাররা আজ পশ্চিমা দেশ গুলোতে সব চে বড় স্পোর্টস আইকন হিসেবে গণ্য হচ্ছেন । ইউএফসি লাইটওয়েইট চ্যাম্পিয়ন "কনর ম্যাকগ্রেগর" সম্পর্কে বলা হচ্ছে, "This guy is probably the biggest star in the world today. 

610737896.0

গত এক দশকে ইউএফসি এটা প্রমাণ করতে সমর্থ্য হয়েছে যে এটা শুধুই একটা "ব্লাডি হিউম্যান ককফাইট" নয় । বরং একক খেলায় ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের শ্রেষ্ঠতম উদাহরণ । তারুণ্যের শক্তি কে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা আর দক্ষতা দিয়ে অসাধারণ কিছু মুহূর্ত সৃষ্টির খেলা এটি । মার খেয়ে ভূপাতিত হয়ে পড়ে না থেকে পুনর্বার উঠে দাঁড়ানোর খেলা । শত প্রতিকূলতায়ও হার না মানার শিক্ষা দেয় এই খেলা এবং এর তারকারা । 

এ কারনেই এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচে বড় পে-পার-ভিউ ইভেন্ট ইউএফসি । তো পাঠক, আপনারা যাঁরা এখনো ইউএফসি চেখে দেখেননি বা দেখলেও ভুরুকুঁচকে তাকিয়েছেন তাঁরা নতুন করে বসে যান টিভির সামনে আর উপভোগ করুন ফাইট গেইমের থ্রিল ।