• ক্রিকেট

শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক...

পোস্টটি ৮৮০২ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

শৈশবে যখন টুর্নামেন্টটির শুভ উদ্বোধন হচ্ছিল আমাদেরই দেশে, তখনও ক্রিকেটজ্ঞান হয়নি খুব একটা। কেবল মনে আছে, শুভ্র দেব-শাকিলা জাফরের দ্বৈত কন্ঠে ‘ক্রিকেট ক্রিকেট ভালোবাসি ক্রিকেট’ শুনতে বেশ ভালো লাগত। ঢুলু ঢুলু চোখে, তন্দ্রাচ্ছন্নতার বিপক্ষে কঠিন লড়াই করে, বসে থাকতাম আবুল হায়াত-ঈশিতার ‘নট আউট’ ধারাবাহিক দেখার জন্য।

প্রায় দুই দশক পরে, টুর্নামেন্টটির নবম আসরে, সেই টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখার জন্য, এই তরুণের এখনকার অধীর আগ্রহটা অবশ্যই সেই বালকের ‘নট আউট’ নাটক দেখার আগ্রহের চেয়েও অনেক বেশী। এতটাই বেশী যে, অনেকে সাবধান করে দেয়, অতি আহ্লাদ বলে! তা সে যা-ই হোক, আহ্লাদ বা আশাবাদ, এবার কিন্তু শিরোপা স্বপ্নটা ভালোই পেয়ে বসেছে।

 

স্বপ্নের নাকি থাকে না কোন সীমানা। ডানা মেলে ইচ্ছেমতো উড়ে বেড়ায় তা। সুবিশাল সাগর কিংবা সুবৃহৎ আকাশ, পুরোটা ছড়িয়েই যেন স্বপ্নের বসবাস।

আমাদের এই শিরোপা-স্বপ্নটা অতি যত্নে গড়া, অনেক অনেক দিনের অতৃপ্তি, অপূর্ণতার কামনা। সেই ক্যারিবিয়ান বিশ্বকাপে এক ভারত-বধেই দেখে বসেছিলাম, অসম্ভব এক স্বপ্ন। বাশারে খুঁজেছিলাম রানাতুঙ্গা, তামিমে জয়সুরিয়া, রফিকে মুরালী আর অন্তরালের গুরু ডেভ তো আছেনই। ব্যস, আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া ঠেকায় কে?

কিন্তু অচিরেই স্বপ্ন আর সক্ষমতার আসমান-যমীন ফারাক স্পষ্ট হয়ে ঠিক ধরা দিয়েছিল।

স্বদেশের মাঠে বিশ্বমঞ্চে আবারো দেখেছিলাম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ‘অবাধ্য’ স্বপ্নটা। শ্রীলংকাও নাকি নিউজিল্যান্ডকে দেশের মাটিতে হারিয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাস কয়েক পূর্বে। তাহলে বাংলাদেশ নয় কেন? '৫৮' ও '৭৮' এর দুটি লজ্জা সেই স্বপ্নটাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে রক্তাক্ত করলেও, আশাবাদী হওয়া থামেনি।

 

২০১৪তেও ভয়ংকর জেদী, একরোখার মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই অবিশ্বাস্য স্বপ্ন বুকে লালন করেই কবিতা গেঁথেছিলাম। যদিও দুঃসময় ও দুর্মুখদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ইচ্ছেটা সেবার যাচ্ছেতাই ভাবে মাঠে মারা গিয়েছিল।

 

ভেদাভেদ ভুলে,

সবাই মিলে,

দু’হাত তুলে-

নিমগ্ন প্রার্থনায়।

উঠবেই জ্বলে,

একতার বলে,

আগামীর কোলে-

ভাসাবে উন্মাদনায়।

বিশ্বাস আছে, তোমরাই পারবে

পেরেছিলে তোমরাই।

বিশ্বকাপের এই মহোৎসবে

শুভকামনা জানাই।।

 

পরাজয় শোকে,

জলভরা চোখে,

তোমাদের দেখে-

ভেঙ্গে পড়িনি হতাশায়।

দুঃসময় রেখে,

সুসময় ডাকে,

আগামীর বাঁকে-

বসে আছি জয়ের আশায়।

বিশ্বাস আছে, তোমরাই পারবে

পেরেছিলে তোমরাই।

বিশ্বকাপের এই মহোৎসবে

শুভকামনা জানাই।।

 

আমাদের মনে,

স্মৃতি জমা গোপনে,

বিজয়ের ক্ষণে-

তোমাদের সেই সুখীমুখ ছা-য়।

মরণপণ রণে,

হারজিত সনে,

পাশে আছি জেনে-

লড়ে যাও, হার না মানা প্রতিজ্ঞায়।

বিশ্বাস আছে, তোমরাই পারবে

পেরেছিলে তোমরাই।

বিশ্বকাপের এই মহোৎসবে

শুভকামনা জানাই।।

(শুভকামনা জানাই, ১৪/০৩/২০১৪)

 

বিভীষিকাময় ২০১৪ এর পরও তাসমান সাগর পাড়ে স্বপ্নের পাখনাটা চ্যাম্পিয়ন পর্যন্তই মেলে ধরেছিলাম। বারবার স্বপ্নযাত্রার নিষ্ঠুর সমাপ্তিতে আমাদের যেন একটুও ক্লান্তি নেই, হতাশা নেই। আমাদের যে অসম্ভব সব স্বপ্ন দেখতেই বড় ভালোলাগে!

263622.4

                                      আমাদের স্বপ্ন দেখতেই ভালো লাগে...

 

‘বাংলাদেশ ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে ছয় নম্বর, এটা কি কোনো দিন ভাবতে পেরেছিলেন?’

প্রশ্নকর্তাকে উলটো অবাক করে দিয়ে সাকিব বলে বসেন, “ভাবতে না পারার কি আছে? আমার তো মনে পড়ে, ২০০৭ বিশ্বকাপের সময়ই আমি বলেছিলাম, আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমরা ৫/৬ নম্বর টিম হবো। আমি, তামিম, মুশফিক আমরা সবাই এভাবেই চিন্তা করতাম।”

স্বপ্নটা আমাদেরও অনেক আগে তাঁরাই দেখেন, পরিকল্পনা করেন, বিশ্বাস করেন। তারপর আমাদেরও বিশ্বাস দেন যে, হ্যাঁ আমাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারো তোমরা। আমরা তাই স্বপ্ন দেখি, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার।

দ্য ওভালের সমাপনী মঞ্চে বাংলাদেশ অধিনায়কের হাস্যজ্জ্বোল ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সুখস্বপ্নে বিভোর হতে একটুও বাঁধে না আমাদের।

 

যদি স্বপ্নভঙ্গ হয়? বিশ্রী লজ্জা নিয়ে ফিরতে হয়?

একটু রাগ হবে। হতাশা আসবে। তারপর আবার স্বপ্নসারথিদের নিয়েই শিরোপা-স্বপ্নে মগ্ন হবো, নিশ্চয়। এই ক্রিকেটাররাই তো আগেও আমাদের সাফল্য এনে দিয়েছেন, তাহলে নিশ্চয় পরেও দেবেন। তাদের উপর ভরসায় তাই একটুও কার্পণ্য নেই, হবে না বিশ্বাসের কমতিও।

ব্যর্থ হলেই যদি ছুঁড়ে ফেলতে হয়, জ্বালা-যন্ত্রণা, ক্ষোভ সব উগরে দিতে হয় ক্রিকেটারদের উপর, তাহলে হয়তো স্বপ্ন দেখাটাই ঠিক হবে না। স্বপ্নের কখনো মৃত্যু নেই। একটু হোঁচট খেলেও, স্বপ্নের তো মৃত্যু হয় না। কিন্তু সব ছেড়ে ছুঁড়ে যদি একদম আশাহত হয়ে পড়ি, তাহলে তো স্বপ্নটাই মরে গেল চিরকালের জন্য। যারা স্বপ্ন দেখেন, তাঁরা তা কখনো করতে পারেন না।

প্রায় দেড়শ বছরের ক্রিকেটের পথচলায়, অভিজাত অবকাঠামোতে ইংল্যান্ড ক’টি ট্রফি জিতেছে? আমাদের বছর ত্রিশের পথচলা, ভঙ্গুর অবকাঠামোতে সব জিততে হবে কথা নেই। তবে স্বপ্ন দেখায়-ও তো দোষ নেই!

 

হাতে গোণা পাঁচটি ম্যাচ। কার্ডিফ-ওভাল-এজবাস্টনেই শেষ। সপ্তাহ তিনেকেরও কম সময়। দাঁতে দাঁত চেপে এই ক’টি দিন নিজেদের পক্ষে আনতে পারলেই তো কেল্লাফতে।

আমাদের উন্নতির গ্রাফটা বেশ উর্ধ্বমুখী। ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস জানান দিচ্ছে, সক্ষমতায় ওরাও কারো চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

তাহলে আমাদের এতদিনকার শিরোপা স্বপ্নটাতে এবার রঙ ধরুক, সোনারঙা ট্রফিটা ধরা দিক, সত্যি হোক আমাদের অনিরুদ্ধ লালিত শিরোপা স্বপ্ন।

8048-1496239669266-ss

                                                            শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক

 

আমাদের আশা ভাষা খুঁজে ফেরে

ঘুরে, ঘরে বাইরে, ধরণী পরে

দিনশেষে খুঁজে পেয়ে বলে একসুরে-

শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক।

শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক।

 

কঠিন সেদিন দেখেছি অনেক

বেদনা গদ্য লিখেছি শতেক

এবার বলে অবাধ্য আবেগ-

শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক।

শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক।

 

ছন্দেরা দল বেঁধে ছুটে ছুটে চলে

কাব্যরা ঝকমকিয়ে হেসে হেসে জ্বলে

গল্পেরা ভাব নিয়ে জোরে জোরে বলে-

শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক।

শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক।

 

করজোড়ে মিনতি উর্ধ্ব পানে

কোটি জনের এক চাওয়া এক প্রাণে

প্রার্থনায় বলে সবাই সাচ্চা মনে-

শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক।

শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক।

 

শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হবে নাকি আরেকটা স্বপ্নভঙ্গের আলেখ্য হবে, তা নিয়ে আপাতত না ভাবলেও চলে। বরং যতক্ষণ সুযোগ আছে ততক্ষণ কেবল আমরা জপে যেতে পারি, শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক। শিরোপা স্বপ্ন সত্যি হোক।

কে বলতে পারে, দিনশেষে সত্যিই তা 'সত্যি' হয়ে উঠবে না?