• ক্রিকেট

স্বপ্ন,সম্ভাবনা ও প্রত্যাশা

পোস্টটি ১০৫৬৪ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।
  1. সম্ভাবনা    

স্বপ্ন এবং সম্ভাবনা সঙ্গী করে কার্ডিফে এখন বাংলাদেশ।বৃষ্টির আনুকুল্যে পাওয়া এক পয়েন্টে হঠাতই টিকে আছে  টাইগারদের সেমিফাইনালের আশা। ১২ বছর আগে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবার আগে হারাবার কিছুই ছিল না।কিন্তু এই ম্যাচে অনেক কিছু হারাবার এবং পাবার আছে। বিরুদ্ধ কন্ডিশনে নিজেদের প্রমাণ করার এবং ইংল্যাণ্ড- অস্ট্রেলিয়া ম্যাচকে আমাদের কাছে অর্থবহ করে তোলার সুযোগ ৯ই জুনের এই ম্যাচ।এই কার্ডিফেই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ।সেই দলের মাত্র একজন মাশরাফি বিন মুর্তজাই আছেন এখনকার দলে।সেই কার্ডিফ এবং এই কার্ডিফ কি মিলবে একবিন্দুতে?

টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মাঝে জিম্বাবুয়ের পর সবচেয়ে বেশি জয় এসেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই।কিন্তু এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তেমন সুবিধা করতে পারে নি বাংলাদেশ।দুই ম্যাচ খেলে মাত্র তিন উইকেট নিতে পেরেছে টাইগাররা ।ব্যাটিং এ তামিম এবং মুশফিক ছাড়া কেউ আলো ছড়াতে পারেন নি।বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচে স্টার্ক-হ্যাজেলউডদের গতি এবং সুইং এর কোন উত্তর ছিল না টাইগার ব্যাটসম্যানদের কাছে।অন্যদিকে দুই ম্যাচ হারলেও দুইবারই প্রতিপক্ষকে অল আউট করেছে নিউজিল্যান্ড।ব্যাটিং এ কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন আছেন দুর্দান্ত ফর্মে।কিন্তু টাইগারদের প্রেরণা হবে কিউইদের সাথে অতীতের পারফরম্যান্স।

প্রেরণা

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ২২৩ রান করে সবার উপরে আছেন তামিম।সাথে ফর্মে আছেন মুশফিকও। হয়ত এই ম্যাচেই ফর্মে ফিরবেন সাকিব আল হাসান । কে না জানে একজন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন ফেরেন চ্যাম্পিয়নের মতোই,বড় মঞ্চে পারফর্ম করে সবটুকু আলো টেনে নেন নিজের দিকে ।মনে রাখতে হবে বাংলাওয়াশের ফিনিশিংটা রুবেলই দিয়েছিলেন।হয়ত বিধ্বংসী এক স্পেলে একাই গুড়িয়ে দেবেন কিউই ব্যাটিং লাইন আপ।নিখুত ইয়র্কারে আবার বাতাসে ডিগবাজি খাবে স্টাম্প।মনে আছে মুস্তাফিজের সেই পাচ উইকেট? কাটার আর ইয়র্কারে নাচিয়ে ছেড়ে ছিলেন নিউজিল্যান্ডকে।সেই মায়াবী জাদু ফিরতেই পারে কার্ডিফে। ২০১৫ বিশ্বকাপে এই কিউইদের বিপক্ষেই মাহমুদুল্লাহ তুলে নিয়েছিলেন সেঞ্চুরী। কিছদিন আগেই তরুন মিরাজের ফ্লাইটের উত্তর ইংলিশদের কাছে ছিল না।সেই ধুম্রজালে পথ হারাতেই পারে নিউজিল্যান্ড।সামর্থ্য আমাদের যথেষ্টই আছে শুধু সেটা মাঠে অনুবাদ করার অপেক্ষা। ১২ বছর আগের অস্ট্রেলিয়া ছিল সর্বজয়ী দল। সেইবার যদি জয় এসে থাকে এবারও আসবে।চাপ না নিয়ে উপভোগের মন্ত্র জপে নিজেদের খেলাটা খেলুক টাইগাররা ,জয় আসবেই।

এই ম্যাচটা জেতা সবচেয়ে বেশি ডিজার্ভ করেন মাশরাফি।দীর্ঘদিন ধরে নিজের সবটুকু দিয়েছেন দলকে।এলোমেলো সময়ে দলের হাল ধরে দলকে পথ দেখিয়েছেন।সমীহ জাগানিয়া এক দলে পরিণত করেছেন,তুলেছেন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। চ্যাম্পিয়ন ট্রফির মূল পর্বে কোনো ম্যাচ এখনো জেতে নি বাংলাদেশ।এই অতৃপ্তি নিয়ে অবসরে যাওয়াটা তাকে মানায় না। মাশরাফির জন্য হলেও এই ম্যাচে নিজের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে টাইগার বাহিনীকে।

গত ৬ই জুন ইংল্যান্ড বলতে গেলে উড়িয়েই দিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে।বাংলাদেশের সামনে সমীকরন খুব স্পষ্ট, নিউজিল্যান্ডের সাথে জিতলে এবং ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিলেই টাইগাররা সেমি ফাইনালে। তবে নিজেদের কাজটা আগে করতে হবে তারপর বাকিটা ভাগ্য।

ভরসা রাখুন

২০১৫ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের একশ্রেনীর সমর্থক তৈরী হয়েছে যারা আগে মূলত ভারত-পাকিস্তানের সমর্থক ছিল।এরা আশা করে প্রতিটা ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেবে বাংলাদেশ।কিন্তু খারাপ দিন সবারই আসে এটা ওরা মানতে চায় না।৪/৫ বছরে একবার সিমিং কন্ডিশনে খেলে ভালো করাটা খুব টাফ।  খেলোয়ারদের গালাগালি মূলত এই অবুঝ সমর্থকরাই করে ।তাদের উদ্দেশ্যে বলি,বাংলাদেশের ক্রিকেট একদিনে এ জায়গায় আসেনি।উন্নতি  হচ্ছে ,আরো উন্নতি হবে।পারলে খেলোয়ারদের চিয়ার করুন নতুবা চুপ থাকুন।আপনাদের মত সাপোর্টার না হলেও সাপোর্টারের অভাব হবে না।খারাপ দিনে যে পাশে থাকে না ,বিজয়ের উৎসবে শামিল হবার তার অধিকার নেই।