• ক্রিকেট

প্রশ্নের উত্তর নেই

পোস্টটি ১২৯৬৯ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

প্রথম টেস্টে রীতিমতো বলে-কয়েই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।আগ্রাসী শ্রেষ্ঠত্ব ছিল ব্যাটিং-বোলিং এমনকি শরীরী ভাষা এবং কথার লড়াইতেও। প্রথম টেস্ট হারের পর অস্ট্রেলিয়াই ছিল চাপের মুখে।এককালের ‘মিনোস’ বাংলাদেশের কাছে ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাট টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হবার লজ্জায় পড়ার শংকায় ছিল অজিরা। কিন্তু গল্পটা কীভাবে যেন পাল্টে গেল দ্বিতীয় টেস্টে।এরকম পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরার বদলে উল্টো নিজেরাই ভেঙে পড়ল টাইগাররা। আক্রমণাত্নক মনোভাবকে বিদায় দিয়ে রক্ষণাত্নক খোলসে ঢুকে পড়ল বাংলাদেশ!

 

কেন বলছি রক্ষণাত্নক মনোভাবের কথা? এক্ষেত্রে প্রথমেই সামনে আনব উইকেটের আচরণ। প্রথম টেস্ট শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলেছিলেন যে দ্বিতীয় টেস্টে ড্র নয় জয়ের জন্যেই খেলবে বাংলাদেশ।কিন্তু প্রথমেই একাদশে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান নেয়া হল। আর উইকেটও ভিন্ন কথাই বলল।আগের টেস্টে প্রথম দিন থেকেই বল ঘুরেছে।খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।বাংলাদেশের মূল শক্তি স্পিন, স্পিন সহায়ক পিচ তো হবেই! কিন্তু চিটাগাং টেস্টে ওরকম টার্নিং পিচ দেয়া হল না। হয়ত এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি কারণ ছিল,

একঃ মিরপুরে নিজেদের ব্যাটসম্যানদের স্পিনে অস্বস্তি।

দুইঃ অস্ট্রেলিয়া দলে একজন বাড়তি স্পিনারের অন্তর্ভুক্তি।

তিনঃ ব্যাটিং গভীরতা বাড়িয়ে বড় রান করে ড্র করার চেষ্টা।

তারপরও যেভাবে ব্যাটিং কলাপস করেছে এরকম ফ্ল্যাট পিচে তাতে মনে হচ্ছে নিজেদের শক্তির জায়গায় জোর দিয়ে টার্নিং ট্র্যাক বানানোর রিস্কটা নেয়াই যেত।

 

দ্বিতীয় টেস্টের পিচে কোন স্পিন জুজু ছিল না।তবুও প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা নাথান লায়নের অফ স্পিনে খাবি খেয়েছেন, বলা ভালো উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। প্রথম ইনিংসে নাথান লায়ন যে ধরণের বলে উইকেট পেয়েছেন সেগুলো সবই আর্মবল ছিল।ব্যাটসম্যানরা বলের ডেলিভারির সময় বল বোঝার চেষ্টা না করে পিচ করার পর বল বোঝার চেষ্টা করেছেন।তাতে হয়েছে কি তাঁরা সব বল টার্ন করবে ভেবে খেলেছেন কিন্তু কয়েকটা বল টার্ন না করে সোজা ঢুকেছে, সেগুলিই বিপত্তি বাঁধিয়েছে।

 

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দলের প্রথম চার ব্যাটসম্যানই ছিলেন বাঁহাতি। অস্ট্রেলিয়া তাই দুইজন অফ স্পিনার খেলিয়েছে।তবুও বাংলাদেশ টিমের ব্যাটিং অর্ডার শাফল করা হয় নি।ফলাফল ব্যাটিং বিপর্যয়।দ্বিতীয় ইনিংসে দল যখন আবার ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে তখন এমনভাবে ব্যাটিং অর্ডার শাফল করা হল যা প্রশ্নবিদ্ধ।দলের সবচেয়ে টেকনিক্যালি সাউন্ড ব্যাটসম্যান মুমিনুলকে পাঠিয়ে দেয়া হল আট নম্বরে।লোয়ার-মিডলের নাসিরকে পাঠানো হল চারে।বাংলাদেশ তিন ওপেনার খেলিয়েছে, এক্ষেত্রে ইমরুলকে ওপেনিং এ খেলিয়ে সৌম্যকে নিচে খেলানো যেত।ইনফ্যাক্ট সৌম্যের ক্যারিয়ার শুরুই হয়েছিল সাত নম্বরে আর ইমরুল ওপেনিং করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তা তিনি নিজেই অনেকবার বলেছেন।এরপর মুশফিক আসতে পারতেন তিনে,মুমিনুল চারে।এখানে আরেকটা ফ্যাক্ট হচ্ছে মুশফিক নিজেই ওপরে খেলতে চান না।তিনি দলের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন।তাঁর কাছ থেকে সেরাটা পেতে হলে তাঁর উপরে খেলার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু অতীতের অনেক সময়ের মত এবারও ম্যাচ শেষে মুশফিক বলেছেন যে এত ওভার কিপিং করার পর ওপরে খেলাটা কঠিন।এটা তিনি বোঝেন,তবুও তিনি কিপিং ছাড়ছেন না।নিকট অতীতে কিপিং ছাড়ার পর কুমার সাঙ্গাকারা এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালাম কি করে দেখিয়েছেন তা সবাই জানে।প্রশ্নটা হচ্ছে মুশফিক নিজেকে কোন ভূমিকায় দেখেন? একজন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান নাকি স্রেফ একজন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান?

 

মুশফিকের আরেকটা ব্যাপার নিয়ে বলতেই হবে,সেটা হচ্ছে তাঁর অধিনায়কত্ব।মুশফিক টেস্টে প্রচন্ড ডিফেন্সিভ একজন অধিনায়ক।কোন ব্যাটসম্যান সেট হয়ে গেলেই অথবা শর্টের ফিল্ডার সরানোর জন্য মারতে শুরু করলেই তিনি ফিল্ডার সরিয়ে রান আটকানোর জন্য ওয়ানডে স্টাইলে ফিল্ডিং সাজান।প্রতিপক্ষের কোন জুটি দাঁড়িয়ে গেলেও কোন অপ্রথাগত বোলিং চেঞ্জ আনেন না।কিছু কিছু মুখস্ত ব্যাপার তিনি সবসময় ফলো করেন যেমন নতুন বলে পেসার ব্যবহার করতেই হবে।ক্ষেত্রবিশেষে যে এর পরিবর্তন করা উচিত তা তিনি আমলেই নেন না।

 

এবার মুমিনুলের কথায় আসি।মুমিনুলের টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল চার নম্বরে।এই পজিশনেই তাঁর ব্যাটিং গড় সবচেয়ে বেশি।কিন্তু ২০১৫ সালের খুলনা টেস্ট থেকে মুমিনুলের ব্যাটিং পজিশনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।তখন থেকেই তাঁর ব্যাট আর আগের মত কথা বলছে না।চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তাঁকে বহুদিন পর আবার চারে খেলানো হল বটে কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ঠেলে দেয়া হল সাব্বির-নাসিরেরও পরে আট নম্বরে। বলা হল ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দিতে রাইটহ্যান্ড লেফটহ্যান্ড কম্বিনেশন তৈরী করার জন্যেই নাকি এমনটা করা হয়েছে।প্রশ্ন হচ্ছে দল যখন বিপদে আছে তখন একজন টেকনিক্যালি স্ট্রং ব্যাটসম্যানই পারেন ঢাল হয়ে দাঁড়াতে, তবে কেন তুলনামূলক দুর্বল টেকনিকের ব্যাটসম্যানদের ওপরে ঠেলে দেয়া হল?

 

চট্টগ্রাম টেস্টের এই ঘটনাগুলো থাকলেও তাতে মিরপুরে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কীর্তি এতটুকু ম্লান হয়ে যায় না।টেস্টের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে ঘোষণা দিয়ে হারিয়ে দেয়াটা নতুন বাংলাদেশের শক্তির একটা প্রমাণ।নিজের দেশে নিজের শক্তি বুঝে সেই অনুযায়ী দল সাজিয়ে খেলাটা পরিণত বাংলাদেশকেই তুলে ধরে। উপমহাদেশের বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে ‘র‌্যাংক টার্নার’ বানানোর রেসিপি অনেক পুরোনো। তবে বিপক্ষ দলের পাশাপাশি বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরাও এ ধরনের পিচে ভূগছেন।এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেটেও টার্নিং পিচে ম্যাচ খেলানো।তাহলে সবদিক থেকেই ঘরের মাঠে বাংলাদেশ অজেয় হয়ে উঠবে।

 

এক রাশিয়ান ঈগলের গল্প
    অন্যান্য
এক রাশিয়ান ঈগলের গল্প
তুমি আসবে বলে.....!
    ক্রিকেট
তুমি আসবে বলে.....!
অস্ট্রেলিয়ার একুশ, আরেকবার
    ক্রিকেট
অস্ট্রেলিয়ার একুশ, আরেকবার
এল ক্লাসিকো - স্পেনীশ দ্রুপদী লড়াই
    ফুটবল
এল ক্লাসিকো - স্পেনীশ দ্রুপদী লড়াই