• ক্রিকেট

আকবরে খুজি ধোনিকে!

পোস্টটি ৩০৩৫ বার পঠিত হয়েছে

২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় ভারত। এরপর থেকেই আর মাঠে নামেননি ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। হয়তো আবারো মাঠে নামবেন আইপিএলে, হয়তোবা খেলবেন ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যেদিন থেকে ক্রিকেট দেখা শুরু করেছি, তখন থেকেই ধোনির বিশাল ভক্ত আমি। এজন্য ক্রিকেট মাঠে খুব মিস করছি ধোনিকে। আর তাইতো আকবরের মাঝেও খুজে বেড়াই প্রিয় ধোনিকে।

আকবর ও ধোনি দুজনই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান, আবার দুজনের অধিনায়কত্বে দেশ জিতেছে বিশ্বকাপ। সেটা অনূর্ধ্ব-১৯ আর জাতীয় দলের বিশ্বকাপ যাই হোক না কেন। বিশ্বকাপ তো বিশ্বকাপই! ধোনি আর আকবরের মাঝে অধিনায়ক আর উইকেটকিপারের মিলটা সবার কাছেই দৃশ্যমান। কিন্ত এর বাইরেও তাদের মধ্যে আমি অনেক মিল খুজে পাই, হয়তো আপনিও পেয়েছেন।

ধোনি যেমন খুব চাপের সময়ে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাথা ঠান্ডা করে খেলে যান, আকবরের মাঝেও আছে সেই গুণ। তা তো আমরা দেখলামই ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে। ধোনি খেলেন ক্যালকুলেটিভ ক্রিকেট। মানে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে, সমীকরণ বুঝে খেলেন। আর আকবরও খেলেন ঠিক তেমনই। ফাইনালে বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল, আর তাই আকবর সবসময় নজর রাখছিলেন ডি-এল মেথডে স্কোরের দিকে। দেখছিলেন বাংলাদেশ এগিয়ে আছে নাকি পিছিয়ে, খেলেছেন সে অনুযায়ী। ডি-এল স্কোরে সবসময় বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখার চেস্টা করেছেন তিনি। তাইতো টানা ২০ বলের বেশি বল ডট দিয়েছেন, ছেড়েই দিয়েছেন প্রায় সব বল। কারণ উইকেট হারালে যে তখন ডি-এল মেথডে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়তো!

Akbar-Ali

আকবরের আরেকটা গুণ হচ্ছে সবকিছুকে সিম্পল রাখা। এই সিম্পল শব্দটা শুনলেই একজনের কথা মনে পড়ে, এমএস ধোনি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, অনেক প্রেশার সিচুয়েশনে খেলার পরেও ম্যাচ শেষে বলেছেন সবকিছুকে সিম্পল রাখার চেস্টা করেছেন। আকবর আলীও বললেন ঠিক তেমনটাই। আকবরের মতে তার প্লানও ছিল সিম্পল এবং সবকিছুকেই তিনি সিম্পল রাখার চেস্টা করেন।

ধোনিকে অনেকবার দেখেছি ট্রফি পাওয়ার পরেই তা সতীর্থদের কাছে দিয়ে তিনি চলে যেতেন। আর আকবর আলীও করলেন একই কাজ। বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়েই দিয়ে দিলেন সতীর্থদের। তিনিও ছিলেন তাদের সাথে উদযাপনে, তবে ট্রফি হাতে নয়।

ধোনি ক্যাপ্টেন কুল নামে পরিচিত, সেটা সবাই জানে। আমাদের আকবরকেও কিন্ত ক্যাপ্টেন কুল বলা যায়, ইয়ান বিশপের ভাষায় তো তিনি ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক। আকবর খেলছেন একপাশে আর অপরপাশে একজনের পর আরেকজন যাচ্ছিলেন প্যাভিলিয়নে, কিন্ত তিনি ঠিকই রকিবুলকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় খেলে ম্যাচ জিতিয়েছেন। ঠিক যেমন ধোনি করেন। ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের বোলাররা ছিল দারুণ আগ্রাসী ও আক্রমণাত্বক। ভারতের ব্যাটসম্যান আর বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে হয়েছিলো কথার খেলও। কিন্ত আকবর ছিলেন একেবারে ঠান্ডা, কুল। 

২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, আর ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন আকবর আলী।

আকবরকে ভবিষ্যৎ ফিনিশারের খেতাবটাও দেয়া যেতে পারে। ফাইনাল ম্যাচ যেভাবে শেষ করে মাঠ ছেড়েছেন তা ত এক কথায় অসাধারণ। আর ধোনি তো সেই কাজটাই করেছেন অনেকবার। 

এসব মিল থাকলেই যে আকবর ধোনি হয়ে যাবেন তা বলা যাচ্ছে না, আকবরের সবে তো শুরু। তাও বলা যেত, যদি না তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটার হতেন। কারণ বাংলাদেশে এভাবে অনেক আকবরই যে হারিয়েছেন। তবে আকবর হারাবেন এটা আমি কখনও বিশ্বাস করিনা। আকবর হয়তো একদিন ধোনিকেও ছাড়িয়ে যাবেন। অধিনায়কত্বে, উইকেটকিপিংয়ে, ব্যাটিংয়ে। সবকিছুতেই!

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।