• অন্যান্য

বিদায় নেতা মাশরাফি!

পোস্টটি ২১৮০ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

ক্রিকেট মাঠে সবাই যোদ্ধা। নিজ দেশের জন্য প্রাণপণে যুদ্ধ করে যান সবাই। কিন্ত তিনি সেই সব যোদ্ধাদের মতো হয়েও ছিলেন অন্যরকম এক যোদ্ধা। তিনি লড়ে গেছেন নিজ দেশের জন্য নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে, এক ধরনের পঙ্গু হয়েও। ক্যারিয়ারে ইঞ্জুরিতে পড়েছেন দশের অধিক সংখ্যক বার। তবুও দেশকে ভালোবেসেই লড়ে গেছেন, লড়েছেন ক্রিকেটকে ভালোবাসেন বলেই। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়কের দায়িত্বের ইতি টানলেন দেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হয়েই। 

পরিসংখ্যান ততটা ভারী না হওয়া সত্ত্বেও একজন মাশরাফিকে কেন মানুষ এত ভালোবাসে, ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সবাই।  যার বিদায়ের কথা শুনেই সবাই হাজির হয়েছিলো স্টেডিয়ামে। এর কারণের মধ্যে অধিকাংশ জায়গা জুড়েই থাকবে তাঁর নেতৃত্ব। আর সেই নেতৃত্বই আজ ছেড়ে দিয়েছেন মাশরাফি। এখন আর মাঠে নামবেন না নেতা মাশরাফি!

বিদায়টাও রাঙ্গিয়ে দিয়েছেন তাঁর সতীর্থরা। বাংলাদেশ ক্রিকেটে অধিনায়ক মাশরাফির অবদানের কথা ভুলে যাননি মুশফিক-রিয়াদরাও। তাইতো ম্যাচ শেষে সতীর্থরা সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে পরেছেন সামনে 'থ্যাঙ্ক ইউ ক্যাপ্টেন' আর পিছনে মাশরাফি লেখা ২ নাম্বার জার্সি। লিটন-তামিম দুটো সেঞ্চুরির পাশাপাশি উপহার দিলেন আরও অনেক কিছু। বাংলাদেশের হয়ে যেকোন উইকেটে সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ উপহার দিলেন এই দুজন। আর এই দুজনই ছিলেন মাশরাফির প্রিয় ক্রিকেটারদের তালিকায় সবার উপরে। লিটন-তামিম দুজনকেই খারাপ সময়ে সাহস জুগিয়েছেন। আর তাইতো লিটন-তামিমও নেতা মাশরাফিকে উপহার দিতে ভুললেন না এমন দৃষ্টিনন্দন শটে সাজানো অসাধারণ ইনিংস। খারাপ সময়ে তামিমের কাধে হাত রেখে ভরসা জুগিয়েছেন তিনি, তামিমও কাধে করে বিদায় দিলেন নেতা মাশরাফিকে। 

      mash 02

হয়তো আজই ছিল মাশরাফির বাংলাদেশের জার্সি গায়ে নামা শেষ দিন। যদিও অবসর নেননি তিনি, আজ (৬ মার্চ) ছিল অধিনায়ক হিসেবে তাঁর শেষ ম্যাচ। কিন্ত হয়তো এটিই হবে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। হয়তো অবসর নেবেন মাঠের বাইরে থেকে। আর হয়তোবা ফিরে আসবেন আবারো জাতীয় দলে, আবারো ধস নামাবেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে। কারণ তিনি তো মাশরাফি!

তিনি তো এত সহজে হার মানার পাত্র নয়। যে মানুষ এত এত ইঞ্জুরি নিয়ে খেলতে পারে, সে কি এভাবেই বিদায় নিয়ে নেবে! হয়তো আবারো ফিরবেন বাংলাদেশের সেরা পেস বোলার হয়ে। কিন্ত তখন তিনি থাকবেন শুধুই মাশরাফি। কিন্ত আমি যে মাশরাফিকে শুধু মাশরাফি হিসেবে দেখতে চাই না। আমি তো শুরু থেকেই অধিনায়ক মাশরাফিকে দেখে আসছি, তাঁর শেষ ম্যাচটাও দেখতে চেয়েছিলাম অধিনায়ক হিসাবেই। 

মাশরাফি একজনই, মাশরাফি অতুলনীয়। অধিনায়ক মাশরাফিকে যেন বিদায় দিতে এসেছিলো পুরো সিলেট। ঢাকা থেকেও এসেছিলেন অনেক ম্যাশ ভক্ত। তবে যারা মাঠে গিয়ে প্রিয় মাশরাফিকে বিদায় দিতে পারেনি তাদের আক্ষেপ হয়তো থেকে যাবে সারাজীবনের জন্য; ইশ! গ্যালারীটা যদি আরেকটু বড় হতো! তাহলে হয়তো টিকিটটা পেতাম।

আর যারা দেখেছেন তারা তো সাক্ষী হয়ে গেলেন ইতিহাসের। আরও বছর দশেক পরে হয়তো তারা তাদের প্রিয়জনদের সেই গল্পই শোনাবেন কিভাবে তারা সেই ম্যাচের টিকিটের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন আর কিভাবে সিলেটের মানুষজন নেতা মাশরাফিকে বিদায় দিয়েছিলো।

               mash and athar ali

বিদায় দিতে না চেয়েও বলতে হচ্ছে 'বিদায় ক্যাপ্টেন মাশরাফি'। ধন্যবাদ নেতা মাশরাফি, ধন্যবাদ এত সব মধুর ও আনন্দময় স্মৃতি উপহার দেওয়ার জন্য। 

ওহ, হোয়াট অ্যা ক্যাপ্টেন! মাশরাফি বিন মর্তুজা!