• ফুটবল

স্মৃতির পাতায় আবাহনী, এএফসি কাপের সেই যাত্রা

পোস্টটি ৫৫০ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবনের কর্নারে বেলফোর্টের হেড থেকে মাসির হেড এবং গোল, ৯৩ মিনিটে আবাহনীর জয় ও চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেন আফগান ফুটবলার মাসি সাইঘানী। গোল করেই যেনো এই আফগান ফুটবলার দু হাত প্রসারিত করে গোল উৎযাপন করতে গেলেন ঢাকা আবাহনী দলের টিম ডাগআউটের সামনে।

আবাহনী সমর্থকদের কাছে আবাহনী ক্লাব শুধু একটা ক্লাবই নয়, শুধু তাদের ভালোবাসা নয়, রয়েছে আবেগ অনূভুতি জড়িয়ে৷ সেবার প্রিমিয়ার লীগে গোল হজম করার জোয়ারে যেন সমর্থকদের মন জয় করতে পারেনি আবাহনী লিমিটেড ঢাক। যদি ও তারা এএফসি কাপে ছিনিয়ে এনেছিলো এক বিরাট সাফল্য।

গ্রুপ পর্বে আবাহনীর প্রতিপক্ষ ছিলো মানাং মার্শিয়াংদি, ভারতের চেন্নাইয়েন এফসি এবং আরেক ভারতীয় ক্লাব মিনার্ভা পাঞ্জাব। মানাং মার্শিয়াংদির বিপক্ষে এওয়ে ম্যাচে হেড দিয়ে জয়সূচক গোলটি করেছিলো মাসিহ। বিপরীতে ঘরের মাঠে মার্শিয়াংদির বিপক্ষে পাঁচ পাঁচটি গোল করেছিলো আবাহনী। গোলের খাতায় নাম লিখিয়েছিলো জীবন, জুয়েল রানা, বেলফোর্ট, সানডে চিজোবা এবং মামুনুল ইসলাম মামুন। গ্রুপের অন্য একটি দল মিনার্ভা পাঞ্জাবের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছিলো আকাশী - নীল শিবিরেরা যদি ও এওয়ে ম্যাচে পয়সা উসুল করেছিলো আবাহনী৷ তখন ও আবাহনীকে রক্ষা করেছিলো ডিফেন্ডার মাসিহ। নিজেদের শেষ প্রতিপক্ষ ভারতের ক্লাব চেন্নাইয়েন এর সাথে এওয়ে ম্যাচে ধাক্কা খায় আবাহনী। যদি ও ঘরের মাঠেই কাম ব্যাক করে মারিও লেমোসের ছেলেরা। সেই ম্যাচে গোলের খাতায় নাম লিখিয়েছিলো হাইতিয়ান বেলফোর্ট, আফগান মাসিহ এবং মামুনুল ইসলাম এবং ৩-২ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী। ৬ ম্যাচে ৪ জয়, ১টি ড্র এবং ১টি হারে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিল টপার ছিলো আবাহনী লিমিটেড ঢাকা।

গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে আবাহনী ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আবাহনীর প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হয় এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইব ক্লাব। আন্তঃআঞ্চলিক সেমিফাইনালে আবাহনীর প্রতিপক্ষ এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ ক্লাবের পারফরমেন্স ছিল আরও দুর্দান্ত। ৬ ম্যাচে ৫ জয়ের বিপরীতে তারা ম্যাচ হেরেছে মাত্র একটি। ঘরোয়া লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কোরিয়ান ক্লাবটিতে নেই কোনো বিদেশি খেলোয়াড়। প্রথম পর্বে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬ গোল করেছেন স্ট্রাইকার কিম ইউ সং।

FB_IMG_15931909170009113

দেখতে দেখতে আগস্ট মাসের ২১ তারিখ এসে গেলো। ইতিমধ্যে আবাহনী সমর্থকদের কাছে ব্যাপারটা অনেক আনন্দের ছিলো৷ তো সেদিন ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে কয়েকশ আবাহনী সমর্থকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকেরা স্টেডিয়ামে আসে। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ চলছিলো, ম্যাচের ৩৩ মিনিটে জীবনের ব্যাক হিল থেকে সোহেল রানা ডি বক্সের বেশ দূর থেকেই দুর্দান্ত গোল করেন৷ সাথে সাথে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকেরা হাত তালি দিতে শুরু করে এবং এ গোলটি এএফসি কাপের সেরা গোলের মধ্যে অন্যতম হিসেবে ও নির্বাচিত হয়েছিলো। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে জীবনের গোলে ২ গোল দিয়ে বিরতীতে গিয়েছিলো আবাহনী। এরপর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় সানডে ম্যাজিক আবাহনীর ডিফেন্স থেকে লম্বা করে আসা বল এপ্রিল ২৫ ডিফেন্ডারদের একফোঁটা ও বুঝতে না দিয়ে ঠান্ডা মাথায় বোকা বানান সানডে চিজোবা।ম্যাচের ৬১ মিনিটে এপ্রিল ২৫ এর ৪ জন খেলোয়াড় এর ভিড়ে বেলফোর্ট সুন্দর করে সানডেকে খুঁজে নেন এবং সানডে ডি বক্সে দুই খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে গোল করলো, ৪-৩ গোলেই ১ম লেগে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লে ও ২য় লেগে এওয়ে ম্যাচে পরাজিত হয়ে স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় আবাহনীর। সে বার এএফসি কাপে আবাহনীর হয়ে ডিফেন্ডার মাসিহ করেন ৩ গোল, জীবন, সানডে চিজোবা, বেলফোর্ট এবং মামুনুল ইসলাম ২ টি করে গোল করেন এবং একটি গোল করেন জুয়েল রানা।

এমন স্মৃতি ফিরে আসুক বার বার, এমন স্মৃতির মুখোমুখি হোক আমাদের আবাহনী, আমাদের বাংলাদেশ।