• ফুটবল

দ্বিগুন পরিশ্রম করেই আমি মামুনুল হয়েছি

পোস্টটি ৬০৫ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

দেশের ফুটবলে গত  এক যুগে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম তার। একাধিকবার করেছেন কর্ণার থেকে সরাসরি গোল। দক্ষিণ এশিয়ার ( ভারত বাদে) প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন আইএসএলে। ফুটবল ক্যারিয়ারই আছে প্রায় ১৫ বছরের , লম্বা ক্যারিয়ার। এই পর্যায়ে আসতে তাকে করতে হয়েছে সবার চাইতে দ্বিগুন পরিশ্রম, ছিলো তার পরিবারের সাপোর্ট। প্যাভিলিয়নের ব্লগার এহসান ফারুকী মুঠোফোনে নিয়েছেন তার সাক্ষাৎকার   

প্রশ্ন : করোনার জন্য লম্বা সময়ের ধরে অনুশীলন এর বাহিরে ছিলেন পাশাপাশি হাতের ইঞ্জুরি ও ছিলো আপনার। সব মিলিয়ে মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচে আপনার ভক্ত - সমর্থকেরা খুশী নন। আগের ফিটনেস কি ফিরে আসবে?

মামুনুল : আসলে লম্বা সময় ধরে ম্যাচ না খেলার জন্য মাঠে আমাকে মোটা দেখা গিয়েছে। আমি কাতারে দলের সাথে হাতের ইঞ্জুরি নিয়ে ও যতটুকু সম্ভব ততটুকু ট্রেইনিং করেছি এবং সবগুলো সেশনই শতভাগ করেছি। জাতীয় দলের ক্যাম্প এবং ক্লাব সব জায়গাতেই আমি সেশনগুলো শেষ করেছি শতভাগভাবেই। মূলত লম্বা সময়ের ধরে ম্যাচ খেলার অভাবে এমন হয়েছে। আশা করছি আর ক'টা ম্যাচ খেললে আগের অবস্থায় ফিরে আসবো।

প্রশ্ন : মার্চ মাসে একটি এবং জুনে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশ দল কেমন খেলবে বলে আপনার বিশ্বাস?

মামুনুল : আশা করি ভালো খেলা উপহার দিবে বাংলাদেশ।

প্রশ্ন : তিনটি খেলাই হোম ম্যাচ। হোম ম্যাচের ফায়দা কতটুকু নিতে পারবে বাংলাদেশ দল? 

মামুনুল : দর্শক যদি থাকে তাহলে এটা হবে আমাদের জন্য বোনাস পয়েন্ট। আর তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি আমার আস্থা আছে।

প্রশ্ন : ২০১৯ সালে কাতার ম্যাচ এরপর কলকাতার সল্ট লেকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর দেশের তরুণ - তরুণীদের মনে দেশের ফুটবল আলাদা ভাবে জায়গা পেয়েছে ব্যাপারটি কেমন লাগছে আপনার?

মামুনুল : অবশ্যই ভালো লাগছে। আমাদের একসময় একটা জেনারেশন ছিলো এখন পুরোনোদের সাথে তরুণ রাফি, রহমত, সুফিলদের একটা জেনারেশন চলছে।

প্রশ্ন : জাতীয় দল, ক্লাব ক্যারিয়ার অর্থাৎ যেখানেই আপনি খেলেছেন সেখানেই দলের মূল খেলোয়াড় ছিলেন। ছিলেন দেশের সেরা ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান বিকেএসপির ছাত্র। সেখান থেকে জাতীয় দলে আসা কিভাবে এবং কার মাধ্যমে?

মামুনুল : আমি শুরুতেই আমার পরিবারের কথা বলবো। তাদের সাপোর্ট ছাড়া এ সব কিছুই অসম্ভব। আমার মা - বাবা, মামা সবারই অনেক সাপোর্ট ছিলো পাশাপাশি আমার পরিশ্রম আর ইচ্ছা ছিলো অনেক। আমি বিকেএসপিতে ভর্তি হই ক্লাস ফাইভে তখন আমি জিমনাস্টিকে ছিলাম পরে সেখান থেকে ক্লাস এইটে ফুটবলে আসি। তখন বিকেএসপি ফুটবল দলের একাদশে আমার বন্ধু এমিলি, জাহিদ ওরা খেলতো। সেখান থেকে আস্তে আস্তে ক্লাস ৯-১০ এ আমি বিএকেএসপির মূল একাদশে সুযোগ পাই আর পিছনে শুধুই ছিলো আমার সাধনা, এবং অন্যদের চাইতে দ্বিগুন পরিশ্রম। শুধু সাধনা নয় করতে হয়েছিলো অনেক কষ্ট, প্রতিযোগিতা ছিলো বেশ। যখনই আমি যেখানে সুযোগ পেয়েছি সেখানেই নিজের শতভাগ উজাড় করে দেয়ার চেষ্টা করেছি। আসলে কষ্ট করা, দ্বিগুণ পরিশ্রম এটার চাইতে বড় কথা হলো আমি আমার খেলা ধরে রেখেছিলাম, নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলাম এত বছর ধরে। এক কথায় বলবো আমার পিছনে আমার পরিবারের সাপোর্টই সবচেয়ে মুখ্য বিষয় ছিলো। আর পাশাপাশি আমার বাবা ফুটবলের সাথে জড়িত ব্যাক্তি ছিলো, মামা দ্রুততম মানব ছিলো আর ও দুই মামা ফুটবলার ছিলো বিএকেএসপিতে ভর্তি হতে তারা অনেক সাহায্য করেছিলো৷

প্রশ্ন : গত ১ যুগে ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন আপনি এটার অনূভুতি কেমন?

মামুনুল : আসলে জনপ্রিয়তা কতটুকু এটা আমি বলবো না৷ আমি বলবো আপনারা জানেন আমি ২০০৭ সাল থেকে এখন যদি ২০২১ ধরি এখন ও আমি জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়। লম্বা ক্যারিয়ার প্রায় ১৫ বছর। আসলে আমি যেখানেই খেলেছি সেখানেই নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছি৷ আর আমি ফুটবলের বাহিরে কোনো কিছুই চিন্তা করি নাই। অন্যান্য কাজ, ইন্টারনেট এসব থেকে ছিলাম দূরে৷ আর সব সময় চেষ্টা করেছি মাঠ এবং মাঠের বাহিরে সব জায়গায় সবার সাথে ভালো ব্যবহার করা।

প্রশ্ন : আইএসএল এর প্রথম সিজনে ভারত বাদে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ডাক পেয়েছিলেন সেখানে৷ সেখানকার সেরা মুহূর্ত কোনটি?

মামুনুল : সবচেয়ে সেরা মুহূর্ত ছিলো আইএসএলের প্রথম আসরেই আমার দল এটিকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো৷ আর আমি সেই ইতিহাসের সাক্ষী ছিলাম এটাই আমার সেরা মুহূর্ত।

প্রশ্ন : তরুণ অনেক ফুটবলার আপনাকে আইডল মানে তাদের জন্য আপনার কোনো পরামর্শ?

মামুনুল : তরুণদেরকে আমি একটা কথাই বলবো কে কি বললো, কে কি করলো সেটার দিকে মন না দিয়ে মন দিতে হবে মাঠে, করতে হবে কষ্ট,পরিশ্রম। কষ্ট আর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। আর এখন সবকিছুই ইন্টারনেটে আছে ফুটবলার হতে হলে কি কি করতে হবে সে ব্যাপারে ও সবকিছুই আছে ইন্টারনেটে। তবে নিজের ফোকাস রাখতে হবে মাঠে।

প্রশ্ন : চট্টগ্রাম থেকে অনেক ফুটবল জাতীয় পর্যায়, চ্যাম্পিয়নশীপ, ১ম বিভাগ ঢাকার মাঠে খেলে থাকে৷ ভবিষ্যৎ এ নিজ এলাকার জন্য ফুটবলের স্বার্থে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে? মামুনুল : আসলে এ বাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেই নি আমি। এটা ফুটবল ছাড়ার পর পরিকল্পনা করবো। কারণ, আপনারা জানেন আমি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে চাকরি করি পাশাপাশি আমার পরিবার আছে। দেখা যাক, ফুটবল ছাড়ার পর কি করি।